খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে অর্থনীতি, ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় কী?

এম এম মাহবুব হাসান
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে অর্থনীতি, ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় কী?

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চাপে পড়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

মাত্র তিন মাস আগেও, অর্থাৎ জুন ২০২৫ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা তখনই মোট ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর মধ্যে ১৭টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫০-৯৯ শতাংশের শতাংশের বেশি, আর ছয়টি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে, যেমন— ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৯৬ দশমিক ২০ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৯৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, পদ্মা ব্যাংক ৯৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ৯১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এই চিত্র কেবল ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাই নয়, বরং আর্থিক শাসনব্যবস্থার গভীর সংকটকেই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

ঠিক বিপরীতে ১৭টি ব্যাংক রয়েছে যাদের খেলাপি ঋণ মাত্র ১০ শতাংশের নিচে এবং তাদের মধ্যে ৬টির খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশেরও নিচে। এ পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে, সুশাসন, কঠোর ঋণ মূল্যায়ন ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা থাকলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিপরীতে, অনিয়ম, প্রভাব খাটানো ও দুর্বল তদারকি ব্যাংককে দ্রুত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

খেলাপি ঋণ বলতে মূলত সেই ঋণকে বোঝায়, যা ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে কিংবা বাস্তব অর্থে আর আদায়যোগ্য নয়। এ ধরনের ঋণ ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে, প্রভিশনিংয়ের বোঝা বাড়ায় এবং মুনাফার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

এ খেলাপি ঋণের প্রভাব কেবল ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি পুরো অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। ব্যাংকগুলো যখন বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বোঝা বহন করে, তখন তারা নতুন ঋণ দিতে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, বাণিজ্য ও সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যায়।

বিনিয়োগ স্থবির হয়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রভিশনিংয়ের চাপ ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমিয়ে দেয়, যা আবার মূলধন শক্তিশালী করার সক্ষমতাকে দুর্বল করে। এর প্রভাব পড়ে আমানতকারীদের আস্থার ওপর এবং বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। খেলাপি ঋণের এ দীর্ঘস্থায়ী সংকটের পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ কাজ করছে।

প্রথমত, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা যাচাই না করেই বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে আর পরিশোধ হয়নি এবং খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ঋণ শ্রেণিকরণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সাম্প্রতিক সময়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করার সময়সীমা কমিয়ে আনার ফলে বহু ঋণ দ্রুত খেলাপি হিসেবে গণ্য হয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হঠাৎ বেড়েছে বলে মনে হলেও, বাস্তবে এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ঝুঁকিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

তৃতীয়ত, ঋণ আদায়ের আইনি কাঠামো অত্যন্ত ধীর ও জটিল হওয়ায় খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যত দুরূহ হয়ে পড়েছে। মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর লেগে যায়, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য এক ধরনের সুবিধা তৈরি করে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল সমস্যার স্বীকৃতি নয়, প্রয়োজন সুস্পষ্ট ও বাস্তবমুখী নীতিগত পদক্ষেপ।

প্রথমত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা ও তদারকি ক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবমুক্ত হয়ে যদি ঋণ-শৃঙ্খলা, শ্রেণীকরণ ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, তাহলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র গোপন করার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, ঝুঁকিভিত্তিক ঋণ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ঋণ দেওয়ার আগে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা ও বাজার ঝুঁকি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা ছাড়া বড় ঋণ অনুমোদনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তৃতীয়ত, ঋণ আদায়ের আইন ও বিচারব্যবস্থাকে দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে, যাতে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার বাস্তবসম্মত হয়।

একই সঙ্গে বড় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য আলাদা নজরদারি ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন। যারা বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করছে না, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া খেলাপি ঋণের লাগাম টানা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে পুনঃমূলধন ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির শর্তে।

সবশেষে বলা যায়, খেলাপি ঋণ আজ আর শুধু ব্যাংকিং খাতের একটি সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, কঠোর তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি ধারাবাহিকতা।

এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরবে, ঋণপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং অর্থনীতি আবারও গতিশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।

(লেখক : এমএম মাহবুব হাসান, ব্যাংকার ও উন্নয়ন গবেষক)

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২৩ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের মো. লিটন মোল্লা (৩৩), একই ইউনিয়নের কটুরাকান্দি গ্রামের সবুজ মোল্লা (২৩) ও টাবনী গ্রামের আলী শরীফ (২০)।

ভুক্তভোগী নারীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে মো. লিটন মোল্লার গত দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লিটন মোল্লা বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে সবুজ মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে লিটন, সবুজ ও আলী শরীফ ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে ওই তরুণী বাদী হয়ে ওই তিন ব্যক্তিকে আসামি মামলা দায়ের করেন। পরে বিকেলের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘

ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

শরিফুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

একসময় গ্রামবাংলার সন্ধ্যা ছিলো অন্যরকম এক পরিবেশ। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার নেমে এলে মানুষ একে একে জড়ো হতো কারও বাড়ির উঠোনে। শুরু হতো গানের আসর – কখনও ভাটিয়ালি, কখনও পালাগান, আবার কখনও মুর্শিদী গানে। আপন মুর্শিদের প্রতি আবেগে ঝড়তো চোখের জল।

সেই আসর ছিল না শুধু বিনোদনের জায়গা, বরং ছিল ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সংযোগস্থল। দিনভর ক্লান্তি, দুঃখ-কষ্ট, অভিমান – সব কিছু মিলিয়ে যেত একসাথে বসার আনন্দে।

আজ প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেক এগিয়েছি, কিন্তু সেই উঠোনভরা সম্প্রীতি যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুতের আলো আমাদের ঘর আলোকিত করেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মন যান্ত্রিক ও স্বার্থের আখরা বানিয়েছে । এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ মোবাইল বা টেলিভিশনের পর্দায় ডুবে থাকে; পাশের মানুষের সাথে কথা বলার সময়ও যেন কমে গেছে।

গ্রামের সেই সন্ধ্যার গান আমাদের শিখিয়েছে – সম্পর্ক গড়তে বড় আয়োজন লাগে না, দরকার শুধু আন্তরিকতা আর একসাথে থাকার ইচ্ছা। সমাজে ভেদাভেদ, হিংসা, দূরত্ব কমাতে আবারও দরকার এমন ছোট ছোট উদ্যোগ।

হয়তো আমরা পুরোপুরি সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু চেষ্টা করলে অন্তত মানুষের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারি।

লেখক: সাংবাদিক, ফরিদপুর

‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ দেশের সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কোর্সটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ‘ফেলো অব দ্য ক্যাপস্টোন কোর্স’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন, যা দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা কোর্সটির গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল এমডি ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নায়াব ইউসুফ জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত নেতৃত্ব, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিরাই বেশি থাকেন, ফলে এখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তব নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সটি মূলত দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কোর্স চলাকালে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, গ্রুপ আলোচনা, কেস স্টাডি এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান। এছাড়া নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নায়াব ইউসুফ এই প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন। সহপাঠী ও প্রশিক্ষকদের মূল্যায়নেও তিনি একজন মনোযোগী ও দক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নায়াব ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই নতুন অর্জন ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।