খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০ চৈত্র, ১৪৩২

রোজ শ্যাম্পু করছেন? চুলের জন্য ভালো না ক্ষতিকর জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:০১ পিএম
রোজ শ্যাম্পু করছেন? চুলের জন্য ভালো না ক্ষতিকর জেনে নিন

চুলের যত্ন নিতে গিয়ে আমরা সবাই কিছু না কিছু করি—কেউ শ্যাম্পু করে, কেউ তেল দেয়, আবার কেউ নানা ধরনের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে। তবে অনেকের একটা অভ্যাস হলো, প্রতিদিন শ্যাম্পু করা।

বিশেষ করে যাদের বাইরে বের হতে হয়, ধুলা, দূষণ আর ঘামের কারণে তারা প্রায়ই মনে করেন—চুল প্রতিদিন শ্যাম্পু না করলে বুঝি পরিষ্কারই হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুলের উপকার হয়, না ক্ষতি?

প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে যেসব ক্ষতি হতে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চুল ও মাথার ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক, রুক্ষ এবং দুর্বল।

এ ছাড়াও দেখা দিতে পারে:

– চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া

– খুশকির সমস্যা বেড়ে যাওয়া

– চুল সহজে ভেঙে যাওয়া ও আগা ফাটা

– চুল পড়া বেড়ে যাওয়া, গোড়া দুর্বল হওয়া

– চুলের ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলা

শ্যাম্পুর মধ্যে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান (যেমন সালফেট, প্যারাবেন) এসব ক্ষতির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে নিয়মিত ব্যবহারে।

তাহলে কবে শ্যাম্পু করবেন?

– সাধারণত সপ্তাহে ২-৩ দিন শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট।

– যাদের চুল অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তারা চাইলে একদিন পরপর হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

– যারা চুলে স্প্রে, জেল বা অন্য স্টাইলিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন, তাদের শ্যাম্পু দরকার হতে পারে একটু বেশি।

– যারা অতিরিক্ত ঘামেন বা ক্যাপ/হ্যাট পরে থাকেন, তাদেরও চুল ঘন ঘন পরিষ্কার করা দরকার হয়।

তবে প্রতিদিন চুল ধুতে হলে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়াই ভালো—শ্যাম্পু না ব্যবহার করলেও চলে।

টিপস

– হালকা বা সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

– প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন

– খুব গরম পানি দিয়ে চুল না ধুয়ে হালকা গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন

– চুল ধোয়ার পর টাওয়েল দিয়ে জোরে ঘষবেন না, হালকা করে মুছে শুকাতে দিন

চুল পরিষ্কার রাখা জরুরি, কিন্তু সেটা সঠিকভাবে করতে হবে। প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে পরিষ্কার তো হয়, কিন্তু চুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে। তাই আপনার চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন, তাহলেই চুল থাকবে সুন্দর, শক্ত ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: হেল্থ শট

হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম
হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা

ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে দেহব্যবসা চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের একাধিক হোটেলে বাইরে থেকে নারী এনে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যদিও প্রশাসন এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত কিছু আবাসিক হোটেলে প্রতিদিনই এই ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া পুরো রাতের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে শহরের হেলিপোর্ট বাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেল, ব্রেইলি ব্রিজ সংলগ্ন কয়েকটি হোটেল এবং হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকার কয়েকটি হোটেলসহ অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব হোটেলের আশপাশে কিছু নারীকে প্রকাশ্যে ক্রেতা ডাকতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। তাদের দাবি, অনেক সময় অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ফলে অভিযান পরিচালনার সময় কাউকে পাওয়া যায় না, এবং অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে, প্রশাসন সেটা অস্বীকার করেছে।

এদিকে, অনুসন্ধানে কিছু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। গোয়ালচামট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে গিয়ে একজন ম্যানেজার নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন এবং একটি ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শামছুল আজম বলেন, “দেহব্যবসার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য দেন, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারব। কোনো অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, “প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন অভিযোগ সত্য নয়। বরং কিছু অসাধু চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যেই হোক না কেন। মাদক ও নারী আর হোটেলে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।”

সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

ঈদের সাত দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
ঈদের সাত দিনের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে সোমবার (২৩ মার্চ)। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এ থেকে ছুটি শুরু হয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।

ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ বাস, ট্রেন, লঞ্চে এবং ব্যক্তিগত বাহনে বাড়ি থেকে ফিরেছেন।

গত ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের পাঁচ দিন ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। পূর্ব ঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও ছুটির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে ঈদের ছুটি ছিল মোট সাত দিন।

গত ৫ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শবে কদরের একদিনের ছুটির পর ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করা হয়।

রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ায় ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল।

আর গণমাধ্যমকর্মীরা ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি পেয়েছিলেন পাঁচ দিন।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তেলের দাম কমে যাবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৭ এএম
ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তেলের দাম কমে যাবে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ইতি টানার মতো কোনো চুক্তি হলে তেলের দাম হুড়মুড় করে পড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা এবং এরপর ইরানের প্রতিশোধমূলক আঘাতে যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখার কারণে সে পথে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলছেন, আমাদের একটি চুক্তি হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে।

অবশ্য তিনি এ-ও যোগ করেন, কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই; আমি কোনো কিছুর নিশ্চয়তা দিচ্ছি না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য দুই দেশ ১৫টি দফা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন ‘এক, দুই ও তিন নম্বর’ দফা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলছেন, তিনি ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার বড় পরিবর্তন’ দেখতে চান।

এর আগে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ‘ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

সোমবার (২৩ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৈরিতা পুরোপুরি নিরসনের বিষয়ে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলমান বৈঠক ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে প্রতিরক্ষা বিভাগকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২২ মার্চ) ট্রাম্প তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হরমুজ প্রণালি সব জাহাজের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর জবাবে ইরান জানায়, প্রতিশোধ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার হুমকি দেয় তেহরান।

সোমবার ইসলামির রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সব অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

এ ছাড়া যেখানে আমেরিকার অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেসব অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হবে।

এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল সতর্ক করে বলেছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূল বা দ্বীপগুলোতে কোনো হামলা হলে উপসাগরীয় নৌপথ বিচ্ছিন্ন করতে সমুদ্রে মাইন পেতে দেওয়া হবে।