খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ছাদেই স্বপ্নের বাগান, মরুর গোলাপে সাফল্য

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাদেই স্বপ্নের বাগান, মরুর গোলাপে সাফল্য

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাড়ির তিনতলা ছাদে বাগান করেছেন আকাশ সাহা নামে এক তরুণ। তাদের ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট বাড়ির ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির বিভিন্ন রঙের মরুর গোলাপ অ্যাডোনিয়াম ফুল ফুটেছে। এ ছাড়া বিরল প্রজাতির বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছসহ অন্তত কয়েক হাজারের বেশি গাছ আছে। গাছটির আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব মরুভূমি হলেও এটি এখন বাংলাদেশে জন্মাচ্ছে। এর ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’।

সরেজমিনে জানা যায়, আকাশ সাহার ছাদ বাগানে ফুটেছে মরুর গোলাপ নামে খ্যাত অ্যাডোনিয়াম ফুল। সেখানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনসহ নানা রঙের অ্যাডোনিয়াম ফুল রয়েছে। এগুলোর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ সবাই। তার ছাদ বাগানে কাছে-দূরের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আকাশ সাহা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত প্রায় ৬ বছর আগে শখের বশে মাত্র ২০টি গাছ দিয়ে ছাদ বাগানের যাত্রা শুরু করেন। থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা গাছগুলোয় তার শুরুতে খরচ হয় ২-৩ হাজার টাকা। এরপর ৬ বছর ধরে তিনি তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন পুরো বাগান। এখন নিজেই একজন সফল উদ্যোক্তা। এখন তার ছাদ বাগানে আছে কয়েক হাজার গাছ। গাছ থেকে ফুল, ফুল থেকে বীজ এবং বীজ থেকে নিজেই চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদ বাগানে এখন প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের ও রঙের ফুল গাছ আছে। বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা দেখতে আসেন। প্রতি মাসে তিনি অ্যাডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুল গাছের চারা বিক্রি করে অন্তত ১৫-২০ হাজার টাকা রোজগার করছেন।

আকাশ সাহার স্ত্রী ঐশি সাহা বলেন, ‌‘আমাদের ছাদ বাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা আছে। আমরা এগুলো বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছি। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের গাছ ও ফুল আছে। আমরা সকাল-বিকেল পরিচর্যা করি। নিজেদের খুবই ভালো লাগে। মরুভূমির এসব গাছ ছাদে রোপণ করে মনের দিক থেকে প্রফুল্ল থাকি। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন মানুষ দেখতে আসে, চারা কিনতে আসে। এসব গাছে পানি কম লাগে এবং পরিচর্যাও কম করতে হয়। ফুলগুলো দেখতে খুবই চমৎকার।’

আকাশের মা সাধনা সাহা বলেন, ‘আমার ছেলে পাঁচ-ছয় বছর আগে গাছগুলো লাগিয়েছে। আমরা প্রথমে পছন্দ করিনি। পরে লোকজন বাইরে থেকে দেখতে আসছে। তা দেখে আমরা খুব খুশি হয়েছি। এখন আমাদের খুবই ভালো লাগে।’

গাছের চারা কিনতে আসা ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা স্বপন সাহা বলেন, ‘এখনে মরুভূমির এলাকার অনেক জাতের ফুল গাছ আছে। আমি অনলাইনের মাধ্যমে খোঁজ জানতে পেরে সরাসরি দেখতে এসেছি। দেখতে অনেক ভালো লেগেছে। আমি বেশ কিছু গাছ কিনতে এসেছি। আমিও ছাদ বাগান সাজাবো।’

ছাদ বাগান সম্পর্কে জানতে কথা হয় আকাশ সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম শুরু করি; আমার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনেরা অনেকটা পাগলামি বলতেন। শখ থেকে করলেও এখন বাণিজ্যিক আকারে রূপ নিয়েছে। অনেক পরিশ্রম, ভালোবাসা দিয়ে তিলে তিলে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এখন কাছের ও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে বাগান দেখতে, চারা কিনতে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে গড়ে ১৫-২০ হাজার টাকার গাছের চারা বিক্রি করে থাকি। নিজের গাছে বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়। আমার বাগানে এখন ১০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকার গাছও আছে। এ ছাড়া আছে বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ। এখন একটু ফুল কম হলেও গরম যত পড়বে, গাছগুলো তত ফুলে ফুলে ভরে থাকবে।’

আকাশ সাহা বলেন, ‘সারাবছরই ফুল থাকে। তবে শীতকালে গাছগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায়। সব পাতা ঝরে যায়। বৃষ্টি ও বেশি পানিতে ফুলগুলো নষ্ট হয়ে যায়। অ্যাডোনিয়াম গাছগুলোয় রিপোর্ট ও পুলিং করা হয়েছে। এ কারণে এবার প্রচুর ফুল আসবে। দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে অ্যাডোনিয়াম ভালোভাবে মিশে গেছে। এ কারণে প্রচণ্ড গরমে গাছগুলোয় প্রচুর ফুল ফুটবে।’

বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, ‘আকাশ সাহা তার ছাদ বাগানে মরুর গোলাপ চাষ করেছেন। যেটাকে আমরা অ্যাডোনিয়াম নামে চিনি। তিনি আড়াইশ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকারও বেশি দামে গাছ বিক্রি করছেন। তার ছাদ বাগানে বিভিন্ন ধরনের ফুল আমরা দেখতে পাই।’

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘এটি একটি ভালো খবর। মরুভূমি এলাকার গাছ আমাদের বোয়ালমারীতে চাষ হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সফল উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।’

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ভারতে পাচারের মামলায় জাহিদ শেখ (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি জাহিদ শেখ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। জাহিদ শেখ নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার এক নারীর সঙ্গে বিয়ে হয় জাহিদ শেখের। এর আগে পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন জাহিদ। বিয়ের কিছুদিন পর ভালো চাকরির প্রলোভনে ওই নারীকে ভারতের কেরালায় পাচার করে দেওয়া হয়। সেখানে কেরালা পুলিশ তাকে আটক করে। পরবর্তীতে আইনি সহায়তায় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

​এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৫ মার্চ ভুক্তভোগী নারীর মা বাদী হয়ে জাহিদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

​আদালত মানব পাচার দমন আইনের অপর একটি ধারায় জাহিদকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

​অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের দাবি

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে অতর্কিত হামলা চালানো ও গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত সৈয়দ শামস্ তাবরেজ (৫৫) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের (৪৫) বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করার অভিযোগ আনা হয়।

​এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সৈয়দা মোশায়রা মাহবুবা।

​তিনি সাংবাদিকদের জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ সৈয়দ শামস্ তাবরেজ ও তার স্ত্রী লোহার রড, বাঁশের লাঠি এবং কাঠের বাটাম দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন।

​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এই ন্যাক্কারজনক হামলায় তারা শারীরিকভাবে মারাত্মক জখম হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

 

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলাটিতে মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১৯১ জনে। আর এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাসেবা শেষে দুই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ জন।

​প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৩৬ জন ফরিদপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দা। বাকি ১৪ জন পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলা থেকে এসে ভর্তি হয়েছেন।

​বর্তমানে জেলাটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৮ জন হাম রোগী। এর মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন ভর্তি আছেন।