খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

শৃঙ্খলাভঙ্গে জিরো টলারেন্স বিএনপির, শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫, ১১:২১ এএম
শৃঙ্খলাভঙ্গে জিরো টলারেন্স বিএনপির, শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত

নেতা-কর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলায় রাখতে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থানে বিএনপি। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অভিযোগই বরদাশত করছে না হাইকমান্ড।

সাংগঠনিক প্রতিযোগিতার জেরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে যেন কোনো ধরনের মারামারি না হয় সেদিকে যেমন নজর রাখছে শীর্ষ নেতৃত্ব, তেমনি আর্থিক কোনো ঝামেলা বা কেলেঙ্কারিতে যেন কেউ না জড়ায় সে বিষয়েও দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কড়া বার্তা।

 

রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতিতে কেউ যেন কোনো উসকানি না ছড়ান বা বেফাঁস কিছু না বলেন, সেজন্য করা হচ্ছে হুঁশিয়ারি। এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে দেওয়া হচ্ছে শোকজ (কারণ দর্শানোর) নোটিশ। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের দল থেকে করা হচ্ছে বহিষ্কারও। ফলে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক যে পালাবাদল ঘটেছে, তাতে দেশজুড়ে বড় রকমের বিশৃঙ্খলার শঙ্কা দেখা দিলেও বিএনপির হাইকমান্ড কঠোর অবস্থান নিয়ে সে জায়গায় যেন লাগাম টেনে ধরেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনীতির মূল প্রেক্ষাপটে চলে আসে কয়েকবার সরকার গঠন করা অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি। এর আগে ১৬টি বছর দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত দমন-পীড়ন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। তাদের শীর্ষ নেতারাও আওয়ামী লীগের চক্ষুশূল হয়েছিলেন টানা আন্দোলনের কারণে। কিন্তু পট পরিবর্তনের পর কতিপয় নেতা-কর্মীর কারণে দলটি নেতিবাচকভাবে আলোচনায় আসে। জনরোষ থেকে বাঁচতে শেখ হাসিনার ভারতে পালানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের অপরাধ সাম্রাজ্যের অনেক মাফিয়া বা গডফাদার ও তাদের দোসররা পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়ে কতিপয় লোক। এদের অনেকে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হতে থাকে।

অভিযোগ পৌঁছে যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু তারপরও জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিবৃত করা যাচ্ছিল না বিধায় শোকজ ও বহিষ্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে থাকে হাইকমান্ড থেকে। এতেই থেমে থাকছেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সাম্প্রতিক এক ভার্চুয়াল সভায় ‘কঠোর সতর্ক বার্তা’ দিয়েছেন তিনি। তারেক রহমান জানিয়েছেন, শৃঙ্খলার স্বার্থে স্বার্থপর হবে বিএনপি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর হয় কেন্দ্র। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়েও অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনসহ দলের শত শত নেতাকর্মীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে বহিষ্কার ও অব্যাহতি দেওয়া হয় এক হাজার ৩১ নেতাকে। শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে এক হাজার ২০৩ নেতাকর্মীকে। যারা শাস্তির মুখে পড়েছেন, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। যারা শোকজ পেয়েছেন, তাদের বেশিরভাগ বেফাঁস মন্তব্য বা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পড়েছেন শাস্তির খড়গে।

যেসব অভিযোগের খবর পাওয়া যায়

হাসিনার ষোল বছরের শাসনকালে জমি, ফ্ল্যাট, মার্কেট দখল থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্যসহ সব অপরাধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন তার আশ্রিত গডফাদার ও মাফিয়া এবং দলের নেতা-কর্মীরা। হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে এরাও দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নেন।

তারপর অপরাধের এসব সিন্ডিকেট দখলে মরিয়া হয়ে ওঠে একটি চক্র। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ওঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভাগ, জেলা, উপজেলা ইউনিয়নের বাজার, বাসস্ট্যান্ড, বিভিন্ন নির্মাণাধীন স্থাপনা, সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁদা নিচ্ছেন—এমন খবর পাওয়া যায়।

যেমন ৫ আগস্টের আগে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি করতেন আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান হোসেন। ৮ আগস্ট থেকে বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব কারওয়ান বাজারসহ তেজগাঁও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচার হয়।

জানা যায়, পদধারী ও মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ তাদের কর্মী বাহিনী দিয়ে মাটি ভরাট করে নদীর জমি দখল করেছেন। একই পর্যায়ের বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। আবার কেউ কেউ ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে অর্থ আদায় করছেন এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে কেন্দ্রে গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

যদিও শোনা গেছে, ‘সিন্ডিকেটের’ আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় অনেক নেতা শাস্তি থেকে বেঁচে যাচ্ছেন। শীর্ষ নেতারা বলেছেন, দলের হাইকমান্ড চায় না নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ তুলে বিএনপিবিরোধী কেউ কোনো ফায়দা নিক।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযুক্ত উঠলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য মনোনয়ন কোন্দলেও নেতারা একে অপরকে নানা কারণে অপবাদ দিচ্ছেন। তাই ঢালাও ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তদন্ত হচ্ছে, সে হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও

আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে গুমের শিকার হয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে তার হদিস মেলে ভারতে। ৯ বছর ধরে মেঘালয়ের শিলং অবস্থান করছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ উৎখাত হওয়ার পর দেশে ফেরেন। তার বিরুদ্ধে আলোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের বিলাসবহুল গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করে বিএনপি। একই ঘটনায় চট্টগ্রামে বিএনপির দক্ষিণ জেলা শাখার আহবায়কসহ স্থানীয় তিন নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। সেই কমিটিও বাতিল করে দেয় বিএনপি।

২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট নাটোরে দলীয় আদর্শের পরিপন্থী বক্তব্যের অভিযোগ ওঠে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে। তাকে দল থেকে শোকজ করা হয়। এ অভিযোগের জন্য শাস্তিও পান দুলু। তিনি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে। পরে তাকে সরিয়ে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।

এছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে শোকজ করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের মতো নেতাদেরও। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগের খবর প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফকির গ্রুপের কাছে সুবিধা দাবির অভিযোগ মেলে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বায়রা ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় আবু আশফাক, শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটের কমিটি দখল; ঢাকা ও ফেনীতে চাঁদাবাজির ঘটনায় রফিকুল আলম এবং আবদুল মোনায়েমের বিরুদ্ধে পরিবহন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে।

হাসিনার পতনের পরপরই মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় দখল নিতে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের অন্তত ছয় কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। সেসময় ঘটনাটিতে বিতর্কিত গ্রুপ এস আলমের পক্ষে ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম ওরফে নয়নের বিরুদ্ধে।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কবির ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত। এ ঘটনার পেছনের কারণ ছিল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের অনুসারীদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ। পরে শামা ও বাবুলের দলীয় পদ স্থগিত করে দল।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করায় দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দল থেকে তার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়।

বরিশাল নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় বিরোধ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে পুকুর দখল ও ট্রাক দিয়ে বালু এনে সেটি ভরাটের অভিযোগ ওঠে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহানের (শিরিন) বিরুদ্ধে। পরে তার পদ স্থগিত করা হয়। যদিও বিলকিস দাবি করেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

এ ছাড়া বাগেরহাটে দলের কেন্দ্রীয় নেতা শামীমুর রহমান শামীম, কয়রা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবুল, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু মোল্লা, সদস্য ফেরদৌস মেম্বার, গাউস মোল্লা ও রবিউল ইসলাম লাকু, ফুলতলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আবুল বাশার ও সদস্য সচিব মনির হাসান টিটো, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা সভাপতি রুহুল আমিন দুলাল, আগৈলঝাড়ার ছাত্রদলের আহ্বায়ক মফিদুল মোল্লা, মেহেন্দীগঞ্জ ছাত্রদলের সদস্য সচিব জুবায়ের মাহমুদ, জেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ হাসান, সুনামগঞ্জ তাহিরপুরের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহপরান, মৌলভীবাজার যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জল, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশিম, বগুড়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাজেদুর রহমান সাজু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা এনামুল হক সুমন, জেলা বিএনপির সহকোষাধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বাকি, নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ, বদলগাছীর উপজেলা বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপির ১০ সাংগঠনিক জেলায় দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় হাইকমান্ড।

বিএনপির একটি সূত্র বলেছে, চাঁদাবাজি, দখল, হুমকি, দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে থাকবে দলটি। অবশ্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি প্রমাণিত না হলে ওই নেতা বা কর্মীর শাস্তি বাতিল হবে। এক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ নেই, কিন্তু প্রাথমিকভাবে তাকে বহিষ্কার বা পদ স্থগিত করা হয়েছিল সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির অবস্থান সাধুবাদযোগ্য। কারণ এহেন সব অভিযোগের পরও হাইকমান্ড যদি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এসব বিষয় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। কারণ এরই মধ্যে যেসব কর্মকাণ্ড ঘটেছে, তাতে ১৬ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীরাই উল্টো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। এর প্রভাব পড়তে পারে ব্যালট বাক্সে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির এখনই সময় নিজেদের ক্লিন ইমেজকে জনগণের সামনে তুলে ধরা। তবে এ সময়েই দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু অভিযোগ আসছে যা দুঃখজনক। বিএনপির উচিৎ, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। জনগণ এখন অনেক স্মার্ট। এ বিষয়টিকে ভালোভাবে বোঝা ও জনগণের পালস বোঝা দরকার। নয়ত, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মতো বিষয়গুলো বিএনপিকে বড় বিপদে ফেলে দেবে।

শৃঙ্খলাভঙ্গে ‘জিরো টলারেন্স’

যাদের বিষয়ে অভিযোগ, মিলছে তাদের ক্ষেত্রে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে। শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই নিশ্চিত হওয়া গেছে। নেতারা বলেছেন, দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যারা নিজস্ব সিদ্ধান্ত-স্বার্থ নিয়ে কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বহিষ্কার করা হবে। কোনো অপরাধের জন্য ছাড় দেওয়া হবে না।

নেতারা এও বলছেন, অভ্যুত্থানের আগে বিএনপিকে নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপসহীন আদর্শ ধরে রেখে গত ১৬ বছর পার করেছে দল। সেদিক থেকে দলের ভেতরে-বাইরে কারও কোনো অপরাধের বিষয়ে আপস হবে না।

বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে কথা বলে বাংলানিউজ। রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে। তবে নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত। যেসব ঘটনায় সত্যতা পাওয়া গেছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। কোনো ঘটনায় কারও নাম এলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই অন্যায়কারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। বিএনপি হাইকমান্ড কোনো অন্যায়ে জড়িত কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না।

 

Source : Banglanews24

ঈদযাত্রায় বাস ভাড়া নিয়ে ‘কড়া বার্তা’—ভাঙ্গায় মাঠে প্রশাসন

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
ঈদযাত্রায় বাস ভাড়া নিয়ে ‘কড়া বার্তা’—ভাঙ্গায় মাঠে প্রশাসন

পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকাগামী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন।

রবিবার (২২ মার্চ) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে ভাঙ্গা উপজেলা থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন বাসে ওঠে যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যাত্রীদের কাছে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি বাসের টিকিট যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাড়া সরকারি নির্ধারিত হারের মধ্যেই রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, যা যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি এনে দেয়।

এছাড়া বাস কাউন্টারগুলোতেও তদারকি করা হয়। কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়, যাতে ঈদের চাপকে পুঁজি করে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ফুয়েল পাম্পও পরিদর্শন করা হয়। পাম্পগুলোতে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের মজুত পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করা হয়। পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও যেন কোনো পাম্প অযৌক্তিকভাবে বন্ধ না রাখা হয়, সে বিষয়ে মালিক ও কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ লঙ্ঘনের দায়ে কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহীকে জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক নিয়ম অমান্য, কাগজপত্রে ত্রুটি ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে এসব জরিমানা আদায় করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ আদায় করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে বলেও জানানো হয়।

ফরিদপুরে পুলিশের ‘ডাবল হিট’: ফেন্সিডিলসহ আটক, বেরিয়ে এলো অস্ত্র রহস্য

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
ফরিদপুরে পুলিশের ‘ডাবল হিট’: ফেন্সিডিলসহ আটক, বেরিয়ে এলো অস্ত্র রহস্য

ফরিদপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ কলিন্স রায় ওরফে রাফসান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার ভাড়াবাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৫৮, তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬ অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামি রাফসানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেখানো মতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ৬ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৬০০ মিলিলিটার ফেন্সিডিল ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জ্যোতির্ময় মল্লিকসহ পুলিশের একটি দল। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রাফসান স্বীকার করেন, তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে ফরিদপুর শহরের তার বাসায় মজুদ রাখতেন এবং পরে তা খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে, ২১ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে রাফসানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তরিকুল ইসলাম জনি নামে আরেক ব্যক্তির দেখানো মতে একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জনি ও রনি নামে আরও দুইজনকে আসামি করে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

রবিবার (২২ মার্চ) বিকালে কোতোয়ালি থানার এসআই হিরামন বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা