খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

হাশরের মাঠে আরশের ছায়া পাবেন যারা

মুফতি সাইফুল ইসলাম
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৩ এএম
হাশরের মাঠে আরশের ছায়া পাবেন যারা

হাশরের ময়দান যখন থাকবে লোকে লোকারণ্য। লোকদের দাঁড়ানোর জায়গা হবে অতি সঙ্কীর্ণ। সেখানে চল্লিশ হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। দশ হাজার বছরে বিচার করা হবে।

তারা এর মধ্যে কোনো কথা বলতে পারবে না। (তাফসীরে ইবনু কাসির ১৮/৮৩) সেদিন সূর্য থাকবে মাত্র এক মাইল উপরে। ওর তাপ এত তীব্র ও প্রকট হবে যে, মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে, যেমন প্রচণ্ড তাপের কারণে চুলার উপর রাখা হাঁড়ির পানি ফুটতে থাকে। সেই দিন সকল মানুষ নগ্নপায়ে, নগ্নদেহে খাতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত হবে।
সেই দিন হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন, নানা বিপদ-বিভীষিকাময় আপদে পরিপূর্ণ। এমন মহাবিপদসঙ্কুল দিবসে সূর্যের তীব্র ও প্রখর তাপ থেকে বাঁচার জন্য মানুষ ছায়া খুঁজবে কিন্তু কোনোই লাভ হবে না। তবে মহান আল্লাহ মাত্র সাত শ্রেণীর মানুষকে তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। নিচের হাদিসে সেই সাত শ্রেনির বিবরণ পেশ করা হয়েছে- 

 عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ إِمَامٌ عَادِلٌ وَشَابٌّ نَشَأَ بِعِبَادَةِ اللَّهِ وَرَجُلٌ كَانَ قَلْبُهُ مُعَلَّقًا بِالْمَسْجِدِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ حَتَّى يَعُودَ إِلَيْهِ وَرَجُلاَنِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ فَاجْتَمَعَا عَلَى ذَلِكَ وَتَفَرَّقَا وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ حَسَبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) অথবা আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আল্লা (কিয়ামত দিবসে) সাত প্রকারের লোককে তার (আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় প্রদান করবেন, যেদিন তার (আরশের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়াই (আশ্রয়) অবশিষ্ট থাকবে না।

(তারা হলো) 

(১) ন্যায়পরায়ণ শাসক,

(২) যে যুবক আল্লাহ্ তা’আলার ইবাদাতের মধ্যে বড় হয়েছে,

(৩) যে ব্যক্তি মাসজিদ হতে বেরিয়ে গেলেও তার অন্তর এর সাথে সম্পৃক্ত থাকে, যে পর্যন্ত না সে আবার সেখানে ফিরে আসে,

(৪) এমন দু’ব্যক্তি যারা আল্লাহ্ তা’আলার জন্য পরস্পর ভালোবাসা স্থাপন করেছে, এই সম্পর্কেই একত্র থাকে এবং বিচ্ছিন্ন হয়,

(৫) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহ্ তা’আলাকে স্মরণ করেছে এবং তার দুচোখ বেয়ে পানি পড়েছে,

(৬) এমন ব্যক্তি যাকে কোন অভিজাত পরিবারের সুন্দরী রূপসী নারী (অশ্লীল কাজে) আহববান করেছে কিন্তু সে তাকে এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছেঃ আমি আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় করি এবং

(৭) এমন ব্যক্তি যে এত গোপনে দান-খাইরাত করেছে যে, তার বাম হাতও জানতে পারেনি যে, তার ডান হাত কি দান করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯১)

হাদিসের ব্যাখ্যা

এই হাদিসে কিয়ামতের দিনের এক বিশেষ মুহর্তে  সাত শ্রেণির মানুষের আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করার কথা বলা হয়েছে। কিয়ামতের দিনকার পরিবেশ এমন ভয়াবহ হবে যে, মানুষের জন্য ছায়া, নিরাপত্তা ও প্রশান্তি হবে সবচেয়ে মূল্যবান অবলম্বন। সে দিনের প্রখরতা, দুশ্চিন্তা, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিচারভীতির মধ্যে আল্লাহ তাআলা এই সাত শ্রেণির মানুষকে বিশেষ অনুগ্রহে আচ্ছাদিত করবেন। সেই সাত শ্রেণি হচ্ছে-

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক

ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা শুধু শাসকের দায়িত্বই নয়; বরং তার ইমানদারিরও পরিচায়ক।

ক্ষমতা মানুষকে সহজেই অত্যাচার ও স্বার্থপরতার দিকে টেনে নেয়; তাই ক্ষমতার আসনে থেকেও ন্যায়পরায়ণ থাকা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। এখানে শাসক বলে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান বুঝানো হয়নি । বরং যেকোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যেমন শিক্ষক, জমিদার, নেতাসহ সকলেই যদি অন্যায না করে ন্যায় অনুসরণ করেন তাহলে তিনি এই মর্যাদায় অংশীদার হতে পারেন। 

২. যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে বড় হয়েছে

যৌবন হলো শক্তি ও প্রবৃত্তির সময়। এ বয়সে মানুষ সহজেই পাপের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই যে যুবক এই প্রলোভনের সময়ে, শক্তি ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর আনুগত্যে জীবন গড়ে তোলে; সে আল্লাহর বিশেষ প্রেমের অধিকারী। তার ইবাদত ও আনুগত্যের মূল্য আল্লাহর নিকট অনেক বেশি।

৩. যার হৃদয় মসজিদের সঙ্গে সংযুক্ত

এখানে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যার অন্তর মসজিদের প্রতি এমন আকর্ষণ অনুভব করে যে বাইরে থাকলেও সে মসজিদে ফেরার অপেক্ষা করে। এটি কেবল নামাজ পড়া নয়; বরং মসজিদকে জীবনের কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করা; আল্লাহর ঘরকে ভালোবাসা, সেখানে শান্তি পাওয়া এবং ঈমানের পরিবেশে নিজেকে সঁপে দেওয়ার মানসিকতার কথা বুঝানো হয়েছে।

৪. দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্য পরস্পর ভালোবাসে

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব স্থাপন করা এক বিশেষ ইমানীয় সম্পর্ক। এ ভালোবাসা স্বার্থ, বংশ, উপকার কিংবা লোভের উপর নির্ভর করে না। তারা একত্র হয় আল্লাহর জন্য, বিচ্ছিন্নও হয় আল্লাহর জন্য। এ ধরনের মানসিকতা মাহন আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। তাই তাদের এই আল্লাহর জন্য পারস্পরিক মহব্বত আখিরাতে অসাধারণ মর্যাদার কারণ হবে।

৫. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখের পানি ফেলে

এটি আন্তরিকতার সর্বোচ্চ প্রকাশ। গোপন অবস্থায়, নির্জনে, মানুষের দৃষ্টি ও প্রশংসার বাইরে আল্লাহকে স্মরণ করলে যে কান্না আসে; তা হৃদয়ের পরিশুদ্ধতার নিদর্শন। এ কান্নার মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। এটি সেই ভয়, প্রেম ও বিনয় যা কেবল সত্যিকারের মু’মিনের হৃদয়ে জন্মায়। সে জন্য এর প্রতিদান হিসেবে সে হাশরের ভয়াবহ সময়ে আরশের নিছে আশ্রয় পাবে।

৬. যে ব্যক্তি পাপের আহ্বান সত্ত্বেও আল্লাহ-ভীতিতে নিজেকে সংযত রাখে

এ শ্রেণির ব্যক্তির পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন। প্রলোভন যখন সম্মানী, রূপসী, উচ্চবংশীয় কারও মাধ্যমে আসে এবং সুযোগ যখন পুরোপুরি হাতের মুঠোয়; ইচ্ছে করলেই কোনো বাধঅ ছাড়া নিচের কামনা-বাসনা চরিতার্ত্র করা যায়। সেই মুহুর্তে ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’  বলে তা থেকে বিরত থাকা খুব বড় ইবাদত। যা নফস, প্রবৃত্তি, সামাজিক লোভ; সবকিছুকে পরাভূত করার নাম। এটি খূব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব। তার বিনিময়ে তার জন্য মিলবে এই মহাপ্রাপ্তি।

৭. যে ব্যক্তি এত গোপনে দান করে যে তার বাম হাতও জানতে পারে না ডান হাত কী দান করেছে

এটি দানের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা। তোষামুদ, প্রচার, ছবি তোলা, মানুষের প্রশংসা; এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যে ব্যক্তি গোপনে দান করে, সে সেই ইখলাস অর্জন করে যা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। তার দান অন্যের দৃষ্টির জন্য নয়; শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

হাদিসটি মানবজীবনের সাতটি আদর্শ চরিত্র তুলে ধরে; ন্যায়, আনুগত্য, মসজিদের প্রতি ভালোবাসা, নৈতিক বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা, পাপ থেকে দূরে থাকা এবং গোপন দান। হাশরের ময়দানের ভয়াবহতার সময়ে এ চরিত্রগুলো মানুষকে আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান দেবে; যা মানবতার সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

saofpas352@gmail.com

১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পিএম
১০ কেজি ধানের শীষ গায়ে ফরিদপুরে সেলিম, তারেক রহমান দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা

প্রথমবারের মতো ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমন ও বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুর জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগান, মিছিল আর পতাকায় মুখরিত পুরো জেলা।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় জনসভা। এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য শুনতে ও এক নজর দেখতে ভোর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন।

সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরের প্রবেশপথগুলোতে দেখা যায় খণ্ড খণ্ড মিছিল। কেউ হাতে দলীয় পতাকা, কেউ মাথায় পতাকা সংবলিত টুপি, আবার অনেকেই গায়ে জড়িয়ে নিয়েছেন বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ। সমাবেশস্থল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই ভিড়ের মধ্যেই সবার দৃষ্টি কেড়েছেন শরীয়তপুর থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সেলিম মন্ডল। তিনি পুরো শরীরজুড়ে প্রায় ১০ কেজি ধানের শীষ বেঁধে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। ব্যতিক্রমী এই উপস্থিতি মুহূর্তেই আকর্ষণ করে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি।

সেলিম মন্ডল জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা থেকে তিনি বুধবার ভোরেই ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখবেন এবং সরাসরি তার বক্তব্য শুনবেন—এই আশা নিয়েই কাকডাকা ভোরে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কয়েকবার সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ঢাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছি। এবার দলের নতুন কাণ্ডারী তারেক রহমানকে নিজ চোখে দেখতে চাই বলেই এত কষ্ট করে এসেছি।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠ ও এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

বিএনপি নেতারা আশা করছেন, ফরিদপুরের এই বিভাগীয় জনসভা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বড় ধরনের বার্তা দেবে। তারেক রহমানের বক্তব্য ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”