খুঁজুন
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৮ এএম
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও সাধারণ মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

একুশের ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ রাজধানীর নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে ডিএমপির ১৫ হাজার সদস্য। আর, পুলিশের পাশাপাশি সারাদেশে নিরাপত্তায় কাজ করবে র‍্যাবও।

এদিকে ১৯৫২ সালের এইদিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। তাদের মধ্যে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বার অন্যতম। তাই দিনটিকে শহীদ দিবস বলা হয়ে থাকে।

তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রথম ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এর চরম প্রকাশ ঘটে। ওইদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর নির্বিকারে গুলি চালায়। এতে কিছু ছাত্র শহীদ হন। এ ঘটনায় নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরা প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসেন।

তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়। যা কার্যকর করা হয় ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ থেকে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

 

ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর, শিশুসহ আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর, শিশুসহ আহত ৩

ফরিদপুর সদর উপজেলার শহরতলীর বাখুন্ডা এলাকায় জামায়াত কর্মীদের বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাংচুর এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন জেলা জামায়াতের নেতারা। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও দোকান ঘুরে দেখেন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা মো. আজিজুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জামায়াত কর্মী আলমগীর হোসেন ও সজিব আহত হয়েছেন। ভাংচুরের সময় জানালার কাচ ভেঙে সজিবের ঘুমন্ত সন্তানের ওপর পড়ে তার কানে আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

জেলা জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাখুন্ডা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালায়। তারা কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে এবং আলমগীর হোসেন ও তার সহকর্মী সজিবের বাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা আলমগীর হোসেনের ভাই আজিজুলকে ধাওয়া করে বাড়ির পাশের ফসলের জমিতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। একই সময় আলমগীর হোসেনকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের একজন গেরদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এলাকায় গণ্ডগোলের খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, একটি দোকানে বসা অবস্থায় জুয়েল নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব টেলিফোনে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিন, সেক্রেটারি প্রফেসর আব্দুল ওহাব, কোতোয়ালি থানা আমীর মো. জসীম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধ করা সম্ভব হবে।

ফরিদপুর-১: শপথ শেষে এলাকায় এমপি ইলিয়াস মোল্লা, ফুলেল বরণে উন্নয়নের অঙ্গীকার

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
ফরিদপুর-১: শপথ শেষে এলাকায় এমপি ইলিয়াস মোল্লা, ফুলেল বরণে উন্নয়নের অঙ্গীকার

ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা শপথ গ্রহণ শেষে নিজ এলাকায় ফিরে উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়েছেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় মধুখালী উপজেলায় পৌঁছালে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে ভরে ওঠে।

এমপি ইলিয়াস মোল্লা তার সফরের অংশ হিসেবে মধুখালী উপজেলার গাজনা ও রায়পুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেন এবং নানা প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মধুখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আলীমুজ্জামান, পৌর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নওশের চৌধুরী, পৌর সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা হেমায়েতুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেনসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া যুব বিভাগ ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “ফরিদপুর-১ আসনে অতীতে যারা সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তবে এখনও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বাকি রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সম্পদ রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি। রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য উন্নয়ন ও সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি বাস্তবমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিতে চান। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের আশা, নতুন এমপির নেতৃত্বে ফরিদপুর-১ আসনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন।

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সোহেল রানার জন্মদিন আজ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পিএম
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সোহেল রানার জন্মদিন আজ

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মাসুদ পারভেজ, যিনি সোহেল রানা হিসেবে চলচ্চিত্রপাড়ায় পরিচিত। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জীবনের ৭৯টি বসন্ত পেরিয়ে ৮০ বছরে পদার্পণ করেন তিনি।

১৯৪৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আজকের এই দিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সোহেল রানা। সিনেমার বাইরেও তার আরও একটি পরিচয়, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

জন্মদিন প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘মহান আল্লাহর অসীম রহমতে এবং দেশ-বিদেশে আমার বন্ধু-বান্ধব, ভক্ত সবার দোয়ায় আমি আজ ৭৯ পেরিয়ে আশিতে পদার্পণ করলাম।

আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। আগামীতেও আপনাদের দোয়ায় আমাকে স্মরণে রাখবেন এটুকুই আমার বিনীত আশা। শুভেচ্ছা এবং দোয়া দেশ-বিদেশের সবার প্রতি। মঙ্গল হোক আমার দেশ আমার জাতির।’

কিংবদন্তি এই অভিনেতার পৈতৃক নিবাস বরিশাল জেলায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬১ সালে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এই অভিনেতা।

স্বাধীনতার পর তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গে। প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে নিজের নাম মাসুদ পারভেজ ব্যবহার করলেও অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সোহেল রানা নামে।

প্রযোজক হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘পারভেজ ফিল্মস’। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই চাষী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় নির্মিত হয় বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। ১৯৭৩ সালে অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। ১৯৭৪ সালে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র মাসুদ রানা সিরিজের একটি গল্প অবলম্বনে মাসুদ রানা চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ হয় তার। একই সিনেমার মাধ্যমে তিনি মাসুদ পারভেজ নামে পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করা এ অভিনেতার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘লালু ভুলু’, ‘অজান্তে’ ও ‘সাহসী মানুষ চাই’।

অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং একবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এছাড়া আজীবন সম্মাননাসহ জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ভূষিত হয়েছেন রুপালি পর্দার জীবন্ত এই কিংবদন্তি। বর্তমানে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন তিনি।