খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা, হারাচ্ছে ইতিহাস, রক্ষায় নেই উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ ও এস.এম. মাসুদুর রহমান তরুন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা, হারাচ্ছে ইতিহাস, রক্ষায় নেই উদ্যোগ

মাতৃভাষা বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। এই আন্দোলনের বীর শহীদদের নাম—সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার—জাতীয়ভাবে স্মরণ করা হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য ত্যাগী ভাষা সৈনিক আজও অজানাই রয়ে গেছেন। তেমনি এক বিস্মৃত অধ্যায়ের নাম ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকরা। তাদের অবদান ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের স্রোতে, আর নতুন প্রজন্ম জানতেই পারছে না নিজ জেলার এই বীরত্বগাথা।

ফরিদপুরে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি হয়নি। স্থানীয় গবেষক, প্রবীণ নাগরিক ও সচেতন মহল বলছেন, সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগেই এখনো এই ইতিহাস সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে একসময় যারা ঢাকার রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন কিংবা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাষার দাবিতে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, তাদের স্মৃতিচিহ্ন আজ প্রায় বিলীন।

বিস্মৃতির আড়ালে ফরিদপুরের বীরেরা:

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি এখন মূলত শহরের দু-একটি সড়কের নাম, কিছু স্মৃতিফলক এবং জেলা জাদুঘরের কয়েকটি ছবির ফ্রেমে সীমাবদ্ধ। অথচ এই জেলার অনেক তরুণই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের সন্তান ডা. মোহাম্মদ জাহেদ ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি থেকেই ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। সে সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পরে ১৯৫২-৫৩ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

একইভাবে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর বাসিন্দা ডা. ননী গোপাল সাহা ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক সকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের আমতলায় ছাত্র-জনতার সমাবেশে যোগ দেন এবং মিছিলে অংশ নেন। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে বহু মানুষ আহত হন, শহীদ হন অনেকে। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন ফরিদপুরের আরেক কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. শামসুল বারী (মিয়া মোহন)।

তিনি নিজেও আহত হন, তবুও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শহীদ আবদুল বরকতকে কাঁধে তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। ভাষার জন্য জীবন বাজি রাখা এই সাহসিকতার গল্প আজ প্রায় বিস্মৃত।

জেলার আরও ভাষা সৈনিক:

ফরিদপুরের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ঘাঁটলে আরও অনেক নাম উঠে আসে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আবদুল গফুর, মহিউদ্দিন আহমেদ, ইমাম উদ্দিন আহমেদ, রওশন জামাল খান, এজহারুল হক সূর্য মিয়া, সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন, সামসুদ্দিন মোল্যা, মনোয়ার হোসেন, এস.এম. নুরুন্নবীসহ আরও অনেকে।

তাদের কেউ সরাসরি ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, কেউবা ফরিদপুরে সংগঠিত করেছেন প্রতিবাদ, মিছিল ও জনমত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের জীবনী, অবদান বা সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ কোনো দলিল আজও সংরক্ষিত হয়নি।

ফরিদপুরেও হয়েছিল প্রতিবাদ:

অনেকে মনে করেন ভাষা আন্দোলন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। সে সময় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা স্কুল হয়ে থানা রোড ও জেলখানার সামনে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং দু-একজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা যায়।

এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে, ভাষার দাবিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষ একযোগে প্রতিবাদে নেমেছিল। অথচ সেই ইতিহাস এখন পাঠ্যবই বা গবেষণায় খুব একটা জায়গা পায় না।

নতুন প্রজন্ম জানে না নিজেদের ইতিহাস:

ফরিদপুরের তরুণদের বড় একটি অংশ নিজ জেলার ভাষা সৈনিকদের নামই জানে না। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

ভাষা সৈনিক সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন রনি বলেন, “মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন বাজি রেখেছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ করা জরুরি। একুশে বইমেলায় তাদের স্মৃতিগাথা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পান্না বালা বলেন, “ঢাকার পাশাপাশি ফরিদপুরেও ভাষা আন্দোলনের জোয়ার ছিল। রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে সচেতনতা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাদের অবদান সেভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অনেকের নামে রাস্তার নাম থাকলেও সেখানে ‘ভাষা সৈনিক’ পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ডা. ননী গোপাল সাহার বাড়ির সামনে যে নামফলক ছিল, সেটিও এখন আর দেখা যায় না। আমরা যদি আমাদের বীর সন্তানদের ভুলে যাই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে কীভাবে?”

গবেষণা ও সংরক্ষণে ঘাটতি:

স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নিয়ে এখনও কোনো বিস্তৃত গবেষণা হয়নি। ফলে অনেক তথ্য হারিয়ে গেছে, অনেক নাম অজানা রয়ে গেছে।

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন জানান, নব্বইয়ের দশকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা শাখার উদ্যোগে কয়েকজন ভাষা সৈনিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পায়নি।

তার মতে, এখনই যদি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে খুব শিগগিরই এই ইতিহাস পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি:

বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও ভাষা সৈনিকদের স্মরণে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আবরার নাদিম ইতু বলেন, “আমরা আমাদের জেলার ভাষা সৈনিকদের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। তাদের নাম, ঠিকানা, অবদান—কিছুই সংরক্ষিত হয়নি। অথচ তাদের ত্যাগের কারণেই আমরা বাংলায় কথা বলতে পারছি।”

তিনি বলেন, “স্মৃতিফলক নির্মাণ, বইমেলায় বিশেষ স্টল এবং ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা জরুরি।”

শিক্ষার্থী জেবা তাহসিন বলেন, “শুধু সড়কের নামকরণে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল-কলেজে তাদের নিয়ে আলোচনা, কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। এমনকি শ্রেণীকক্ষ বা হোস্টেলের নামও ভাষা সৈনিকদের নামে রাখা যেতে পারে।”

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস সংরক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—

ভাষা সৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন

মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহ করে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে স্মৃতিফলক নির্মাণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা

একুশে বইমেলায় ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি তুলে ধরা

– গবেষণা ও প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ

ইতিহাস বাঁচানোর আহ্বান:

ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। সেই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবদানই এই সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছে। ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের অবদানও সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণ ও স্বীকৃতির অভাবে তাদের স্মৃতি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। এখনই যদি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানার সুযোগ হারাবে।

জেলাবাসীর দাবি—ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস নতুন করে তুলে ধরতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে এবং সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। কারণ, যে জাতি তার বীর সন্তানদের ভুলে যায়, সে জাতি কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

আবহমান গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, উৎসব আর প্রাণের উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। একই সঙ্গে বসবে গ্রামীণ মেলা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সুর আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠবে মালঞ্চ নদীর মোহনা সংলগ্ন বটতলার আষাঢ়ের বিল।

আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে অনুষ্ঠিত হবে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। খোয়াড় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণবন্ত আয়োজন। একসময় বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-খাল ও বিলাঞ্চলে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসত মানুষের মিলনমেলা। কালের পরিবর্তনে এবং নৌপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় এ আয়োজন এখন আর তেমন দেখা যায় না। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই স্থানীয়দের এ উদ্যোগ।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলায়ও থাকবে উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হবে আনন্দের মিলনমেলায়। মেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য, খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন। দর্শকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং উৎসবস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের আশা, নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল কয়েক হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগানে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে আবহমান বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।

​অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন আলফাডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব শান্তি, মানবকল্যাণ ও একটি নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

​পরবর্তীতে বেলা ১২টায় আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ছাত্রীদের অংশগ্রহণে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

​প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায়ও মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুন্সি বিল্লাল হুসাইন।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও মহানবীর শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও মানবতাবাদী শিক্ষা গ্রহণের শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ। রাসুল (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী প্রতিটি নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। তাই সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শ জীবন গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।”

আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। অনুষ্ঠানে উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), ফরিদপুরের সভাপতি শায়লা শারমীন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদ হাসান, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম নিবেদনের মাধ্যমে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানবী (স.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের ওপর আলোচনা করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ মহানবী (স.)-এর আদর্শ ও তাঁর অনুপম চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্বে বক্তারা মহানবী (স.)-এর আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তাঁর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

পরে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক কাজী দেলোয়ার হোসেন।