খুঁজুন
, ,

‘বসন্তের কোনো এক উদাস দুপুরে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
‘বসন্তের কোনো এক উদাস দুপুরে’

বসন্তের দুপুরগুলো কেমন যেন আলাদা হয়—না গরম, না ঠান্ডা; যেন বাতাসের ভেতরেও একটা নরম ক্লান্তি লেগে থাকে। রোদ থাকে, কিন্তু সেই রোদ ঝলসে দেয় না; বরং মাটির ওপর নরম করে হাত রেখে যায়। এমনই এক দুপুরে, গ্রামের এক প্রাচীন শিমুলগাছের ডালে বসে ছিল একটি কাঠঠোকরা পাখি।

গাছটা ছিল গ্রামের প্রান্তে, পুরোনো পুকুরটার ধারে। শিমুলগাছটি যেন নিজের মতো করে বসন্তকে সাজিয়ে তুলেছিল। তার ডালভরা লাল-কমলা ফুলগুলো দূর থেকে দেখতে আগুনের মতো লাগে। কাছে গেলে বোঝা যায়—ওগুলো আগুন নয়, ওগুলো জীবনের রঙ। আর সেই ফুলের মাঝেই কাঠঠোকরা পাখিটি ঠোঁট দিয়ে আলতো করে ফুল ছুঁয়ে দেখছিল, যেন ফুলের ভেতর লুকোনো মধুর স্বাদ খুঁজছে। এই দৃশ্যটা দেখছিল রাশেদ।

রাশেদ শহর থেকে এসেছে। ঢাকা শহরের কোলাহল, গাড়ির হর্ন, ধোঁয়া আর দৌড়ঝাঁপের জীবন থেকে সে কয়েক দিনের জন্য মুক্তি নিতে এসেছে তার দাদুর গ্রামে। ছোটবেলায় এখানে অনেকবার এসেছে, কিন্তু তারপর পড়াশোনা, চাকরি—সবকিছু মিলিয়ে এই গ্রাম যেন তার জীবনের বাইরে চলে গিয়েছিল।

কিন্তু এবার সে ফিরে এসেছে—কিছুটা ইচ্ছায়, কিছুটা বাধ্য হয়ে।

তার জীবনে যেন সবকিছু হঠাৎ করে থেমে গেছে। চাকরিতে সমস্যার পর সমস্যা, প্রেম ভেঙে যাওয়া, বন্ধুদের দূরে সরে যাওয়া—সব মিলিয়ে সে যেন নিজের ভেতরেই আটকে গেছে। শহরের ভিড়ে থেকেও সে একা হয়ে পড়েছিল। তাই হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নিয়েই সে চলে আসে এই গ্রামে।

দাদু তাকে দেখে খুশি হয়েছিল, কিন্তু খুব বেশি প্রশ্ন করেনি। শুধু বলেছিল, —“কিছুদিন থাক, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

রাশেদ তখন বুঝতে পারেনি—কীভাবে সব ঠিক হবে?

সেই উত্তর খুঁজতেই হয়তো আজ সে এই শিমুলগাছের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। পাখিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রাশেদের মনে হলো—পাখিটা যেন কিছু বলতে চায়। তার গায়ে হলুদ, কালো আর সাদা রঙের মিশেল; মাথায় লাল ঝুঁটি—অদ্ভুত সুন্দর। ঠোঁট দিয়ে সে বারবার গাছের ডালে ঠোকর দিচ্ছে, তারপর আবার ফুলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

—“তুই কী খুঁজছিস?” নিজের অজান্তেই বলে উঠল রাশেদ। পাখিটা যেন থেমে তাকাল। সত্যিই কি তাকাল, নাকি শুধু রাশেদের কল্পনা—সে বুঝতে পারল না। ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো, —“ওরা খাবার খোঁজে। গাছের ভেতর থেকে পোকা বের করে খায়।”

রাশেদ ঘুরে তাকাল। একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে—মাঝারি উচ্চতা, গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা, চোখে একটা অদ্ভুত শান্তি। হাতে একটা বাঁশের ঝুড়ি।
—“তুমি কে?” রাশেদ জিজ্ঞেস করল।
মেয়েটা হাসল, —“আমি মিতা। এই গ্রামেই থাকি। তুমি নতুন এসেছ, তাই না?”
রাশেদ মাথা নাড়ল, —“হ্যাঁ। অনেক বছর পর এলাম।”

মিতা শিমুলগাছটার দিকে তাকাল, —“এই গাছটা আমার খুব প্রিয়। বসন্ত এলে আমি প্রায় প্রতিদিন এখানে আসি।”
রাশেদ বলল, —“পাখিটা খুব সুন্দর।”
—“হুম,” মিতা বলল, “ওরা খুব পরিশ্রমী। সারাদিন গাছ ঠোকরায়, খাবার খোঁজে। কখনো থামে না।”
রাশেদ একটু হেসে বলল, —“আমাদের মতো না। আমরা থেমে যাই।”

মিতা তাকাল তার দিকে, —“তুমি থেমে গেছ?”
প্রশ্নটা এত সরাসরি ছিল যে রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল, —“হ্যাঁ, হয়তো। মনে হয় কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না।”

মিতা কিছু বলল না। শুধু শিমুলগাছের একটা ফুল ছিঁড়ে হাতে নিল। ফুলটার দিকে তাকিয়ে বলল, —“দেখো, এই ফুলগুলো কত সুন্দর। কিন্তু এরা খুব অল্প সময় থাকে। তারপর ঝরে যায়।”
—“তাই?” রাশেদ বলল।
—“হ্যাঁ। কিন্তু গাছটা কি দুঃখ পায়? না। আবার নতুন পাতা আসে, নতুন ফুল আসে।”

রাশেদ মৃদু হেসে বলল, —“গাছ তো মানুষ না।”
মিতা মাথা নাড়ল, —“কিন্তু মানুষ গাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে।”
সেদিনের পর থেকে রাশেদ প্রায় প্রতিদিন বিকেলে ওই শিমুলগাছের নিচে আসে। আর প্রায় প্রতিদিনই মিতার সঙ্গে দেখা হয়।

মিতা খুব বেশি কথা বলে না, কিন্তু তার কথা গুলো গভীর। সে গ্রামের মানুষ, কিন্তু তার চিন্তাগুলো যেন অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।
একদিন রাশেদ তাকে জিজ্ঞেস করল, —“তুমি পড়াশোনা করো?”
—“করতাম,” মিতা বলল, “কলেজ পর্যন্ত। তারপর আর হয়নি।”
—“কেন?”
মিতা একটু থেমে বলল, —“বাবা অসুস্থ। সংসার সামলাতে হয়।”

রাশেদ চুপ করে গেল। শহরে বসে সে অনেক স্বপ্ন দেখেছে—ক্যারিয়ার, টাকা, সফলতা। কিন্তু এখানে এসে সে দেখছে, জীবনের অন্য একটা রূপ আছে—যেখানে প্রতিদিন বেঁচে থাকাটাই একটা বড় অর্জন।
সেই দিনও কাঠঠোকরা পাখিটা গাছে বসে ছিল। রাশেদ তাকিয়ে বলল, —“ওটা কি প্রতিদিনই আসে?”
—“হ্যাঁ,” মিতা বলল, “ওর বাসা এই গাছেই কোথাও।”
—“ও কখনো ক্লান্ত হয় না?”

মিতা হাসল, —“হয়তো হয়। কিন্তু ও থামে না।”
একদিন দুপুরে হঠাৎ ঝড় উঠল। কালো মেঘে আকাশ ঢেকে গেল। হাওয়া বইতে শুরু করল জোরে। শিমুলগাছটা দুলতে লাগল, ফুলগুলো একে একে ঝরে পড়তে লাগল।

রাশেদ তখন গাছের নিচেই ছিল। সে ভেবেছিল আজ হয়তো মিতা আসবে না। কিন্তু ঠিক তখনই সে দেখল—মিতা দৌঁড়ে আসছে।
—“এই ঝড়ে তুমি এখানে কেন?” রাশেদ চিৎকার করে বলল।
—“গাছটা দেখতে!” মিতা বলল, “ঝড়ে অনেক ডাল ভেঙে যায়।” হঠাৎ একটা বড় ডাল ভেঙে পড়ে গেল মাটিতে। রাশেদ চমকে উঠল।

ঝড়ের শব্দের ভেতরেও সে একটা কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পেল। মাটিতে পড়ে থাকা ডালের পাশে একটা ছোট্ট পাখির বাচ্চা কাঁপছে।
—“দেখো!” রাশেদ বলল।
মিতা দৌঁড়ে গিয়ে বাচ্চাটাকে তুলে নিল, —“এটা কাঠঠোকরার বাচ্চা।”
রাশেদের বুকটা হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেল। সে উপরে তাকাল—গাছের ডালে সেই কাঠঠোকরা পাখিটা অস্থির হয়ে উড়ছে।

—“এখন কী করব?” রাশেদ জিজ্ঞেস করল।
মিতা বলল, —“ওকে আবার বাসায় তুলতে হবে।”
—“কিন্তু বাসা কোথায়?”
মিতা চারদিকে তাকাল। তারপর গাছের একটা ফাঁপা অংশ দেখিয়ে বলল, —“ওখানে।”
—“ওটা তো অনেক উঁচু!”
—“তবু চেষ্টা করতে হবে।”

রাশেদ কখনো গাছে ওঠেনি। শহরের মানুষ হিসেবে তার জীবনে গাছে ওঠার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু আজ সে দ্বিধা করল না।
মিতা নিচে দাঁড়িয়ে রইল, হাতে পাখির বাচ্চাটা। রাশেদ ধীরে ধীরে গাছে উঠতে লাগল। ঝড়ের হাওয়ায় গাছ দুলছে, হাত পিছলে যাচ্ছে, তবু সে থামল না।

একসময় সে সেই ফাঁপা জায়গাটার কাছে পৌঁছাল। ভেতরে তাকিয়ে দেখল—আরও দুটো বাচ্চা আছে।
—“এখানে দাও!” সে নিচে চিৎকার করল।
মিতা সাবধানে বাচ্চাটাকে উপরে তুলল। রাশেদ সেটাকে নিয়ে বাসার ভেতরে রাখল।
ঠিক তখনই কাঠঠোকরা পাখিটা তার কাছেই এসে বসে পড়ল। খুব কাছে। এত কাছে যে রাশেদ তার চোখ দেখতে পেল।

পাখিটার চোখে ভয় ছিল, উদ্বেগ ছিল—কিন্তু সেই সঙ্গে একটা বিশ্বাসও ছিল।
রাশেদের মনে হলো—সে যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে।

ঝড় থেমে যাওয়ার পর তারা দু’জন গাছের নিচে বসে রইল। চারদিকে ঝরে পড়া ফুল। লাল-কমলা রঙে ভরে গেছে মাটি।
মিতা বলল, —“তুমি আজ খুব ভালো কাজ করেছ।”
রাশেদ চুপ করে রইল। তার ভেতরে অদ্ভুত একটা শান্তি কাজ করছিল।

—“জানো,” সে বলল, “অনেক দিন পর মনে হচ্ছে আমি কোনো কাজ ঠিকভাবে করতে পেরেছি।”
মিতা মৃদু হাসল, —“তুমি সব সময়ই পারো। শুধু নিজেকে বিশ্বাস করতে হয়।”
দিনগুলো কেটে যেতে লাগল। বসন্ত ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোতে লাগল। শিমুলগাছের ফুল কমে আসতে লাগল, নতুন পাতা গজাতে শুরু করল।
একদিন বিকেলে রাশেদ গাছের নিচে এসে দেখল—মিতা নেই।
সে অপেক্ষা করল। কিন্তু মিতা এল না।
পরদিনও না।

তৃতীয় দিন সে খোঁজ নিতে গেল। গ্রামের মানুষদের কাছে জানতে পারল—মিতার বাবা হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাশেদের বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল—মিতাকে সে কতটা মিস করছে।
সেই রাতে সে অনেকক্ষণ ঘুমাতে পারল না। তার মনে হতে লাগল—এই গ্রাম, এই গাছ, এই পাখি—সবকিছু যেন মিতার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
পরদিন সকালে সে সিদ্ধান্ত নিল—সে শহরে যাবে।
হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে রাশেদের মনে হচ্ছিল—সে যেন আবার সেই পুরোনো জীবনে ফিরে এসেছে। চারদিকে দৌড়ঝাঁপ, উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা।
সে মিতাকে খুঁজে পেল একটা বেঞ্চে বসে।
—“মিতা,” সে ডাকল।
মিতা তাকাল। তার চোখ লাল, মুখ ক্লান্ত।
—“তুমি এখানে?” সে অবাক হয়ে বলল।
রাশেদ বলল, —“তোমার খোঁজ নিতে এসেছি।”
মিতা কিছু বলল না। শুধু মাথা নিচু করল।
—“চিন্তা করো না,” রাশেদ বলল, “সব ঠিক হয়ে যাবে।”

মিতা মৃদু হাসল, —“তুমিও তো একদিন এটাই বলেছিলে—সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন কি বিশ্বাস করো?”
রাশেদ একটু থেমে বলল, —“হ্যাঁ। এখন করি।”
—“কেন?”
—“কারণ আমি দেখেছি—ঝড়ের পরও গাছে আবার ফুল ফোটে।”
মিতা তাকাল তার দিকে। তার চোখে এবার একটু আলোর ঝিলিক।
কয়েকদিন পর মিতার বাবা কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেন। তারা গ্রামে ফিরে এল।
সেদিন বিকেলে আবার তারা শিমুলগাছের নিচে দাঁড়াল।
গাছটায় এখন আর আগের মতো ফুল নেই। কিন্তু নতুন পাতা এসেছে—তরতাজা সবুজ।
কাঠঠোকরা পাখিটা আবার এসেছে। এবার তার সঙ্গে তিনটা ছোট্ট পাখি—ওর বাচ্চারা।

রাশেদ হাসল, —“ওদের দেখো।”
মিতা বলল, —“ওরা উড়তে শিখছে।”
—“হুম,” রাশেদ বলল, “একদিন ওরাও উড়ে যাবে।”
মিতা বলল, —“সবাইকে একদিন উড়তে হয়।”
রাশেদ চুপ করে থাকল। তারপর বলল, —“আমাকেও যেতে হবে।”
মিতা তাকাল, —“শহরে?”
—“হ্যাঁ,” রাশেদ বলল, “আমার জীবনটা আবার শুরু করতে হবে।”
মিতা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, —“যাও। কিন্তু মাঝে মাঝে ফিরে আসবে?”
রাশেদ হাসল, —“অবশ্যই।”

বসন্ত শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু রাশেদের জীবনে যেন একটা নতুন ঋতু শুরু হয়েছে।
সে এখন আর আগের মতো ভেঙে পড়া মানুষ নয়। সে জানে—জীবনে ঝড় আসবে, ফুল ঝরে যাবে, কিন্তু আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করা যায়।
আর কোথাও না কোথাও—কোনো এক শিমুলগাছের ডালে—একটা কাঠঠোকরা পাখি তখনও ঠোকর দিয়ে যাবে, জীবনকে থামতে দেবে না।

বসন্তের সেই উদাস দুপুরটা তাই আর শুধু উদাস নয়—সেটা হয়ে উঠেছে নতুন শুরুর গল্প।

– লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফরিদপুরে বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাসে দুর্বৃত্তদের আগুন

ফরিদপুরে হাইওয়ে থানার পাশে পার্কিং করে রাখা একটি পরিত্যক্ত ও জব্দকৃত বাসে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার নতুন ভবনের সামনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বাসটির ভেতরের অধিকাংশ অংশ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। হঠাৎ থানার এত কাছে বাসে আগুনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন আগে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাসটি জব্দ করে করিমপুর হাইওয়ে থানার নতুন ভবনের সামনের সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা হয়েছিল। রাতে জনশূন্যতার সুযোগ নিয়ে কে বা কারা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ থানার সামনে পার্কিং করা বাসটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

​এদিকে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের প্রতিবাদে আগামী রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয়দের ধারণা, ২০ সেপ্টেম্বরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

​অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং মহাসড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফরিদপুর করিমপুর হাইওয়ে থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে রাতের টহলও।

ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রেখা বেগম (৪৫) নামে আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটে এ তথ্য জানানো হয়।

​প্রেস নোটে বলা হয়, গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা বেগম মারা যান। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

​জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৫২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৪৪১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

​এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।

সদরপুরে জনতার হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ব্যাগে মিলল ১ কেজি গাঁজা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে জনতার হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ব্যাগে মিলল ১ কেজি গাঁজা

ফরিদপুরের সদরপুরে এক কেজি গাঁজাসহ কালাম ফকির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর হাটবাজারে খোকন মৃধার চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আটক কালাম ফকির কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর দড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামের সালাম ফকিরের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কালাম ফকির কৃষ্ণপুর বাজার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার খোকন মৃধার চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তার কাছে মাদক রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোহসিন মুন্সী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কালাম ফকিরকে আটক করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ্ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক কারবারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।