খুঁজুন
, ,

‘নিস্তব্ধ রাতের হুতোমপেঁচা’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ
‘নিস্তব্ধ রাতের হুতোমপেঁচা’

গভীর রাত। চারপাশে নেমে এসেছে এক রহস্যময় নিস্তব্ধতা। দিনের কোলাহল থেমে গেছে বহু আগেই। গ্রামের ছোট ছোট ঘরগুলো অন্ধকারে ডুবে আছে, শুধু কোথাও কোথাও কুপি বাতির ক্ষীণ আলো টিমটিম করে জ্বলছে। পাখিদের কিচিরমিচির নেই, নেই শিশুদের হাসির শব্দও। মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবী যেন ঘুমিয়ে পড়েছে এক অদ্ভুত শান্তির চাদরে।

দূরের বন থেকে হঠাৎ ভেসে এলো শেয়ালের দীর্ঘ হাঁক। শব্দটা রাতের নীরবতাকে আরও গভীর করে তুললো। ঝিঁঝি পোকার একটানা ডাক যেন রাতের বুক চিরে বয়ে চলেছে। বাতাসে লেবু ফুলের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে আছে চারদিকে। বাড়ির পেছনের পুরোনো লেবুগাছটার নিচে পড়ে আছে শুকনো পাতা। ঠিক তখনই কোথা থেকে একটি হুতোমপেঁচা ডানা মেলে উড়ে এসে গাছের মোটা ডালে বসলো। তার গোল গোল চোখ অন্ধকার ভেদ করে তাকিয়ে আছে চারপাশে।

রহিম মিয়া বারান্দায় বসে ছিলেন চুপচাপ। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, কিন্তু ঘুম এখন আর সহজে আসে না তার চোখে। কয়েক বছর আগে এই রাতেই তার স্ত্রী আয়েশা পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তারপর থেকে গভীর রাত হলেই তার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে।

হুতোমপেঁচার ডাক শুনে তার মনে পড়ে গেল সেই পুরোনো দিনগুলোর কথা। আয়েশা প্রায়ই বলতেন, “রাত যত গভীর হয়, মানুষের মন তত সত্য কথা বলে।” রহিম মিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন মেঘের ফাঁক দিয়ে আধখানা চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। চাঁদের আলো এসে পড়েছে উঠোনের ধুলো মাটিতে।

হঠাৎ হালকা বাতাস বয়ে গেল। লেবুগাছের পাতাগুলো কেঁপে উঠলো। রহিম মিয়ার মনে হলো, যেন আয়েশা খুব কাছে কোথাও দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি চোখ বন্ধ করলেন। বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টগুলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে এলো।

রাত আরও গভীর হলো। ঝিঁঝি পোকার ডাক, দূরের শেয়ালের হাঁক আর হুতোমপেঁচার নিঃশব্দ উপস্থিতি মিলে সেই নিস্তব্ধ রাত যেন রহিম মিয়ার একাকী জীবনের গল্প শুনতে লাগলো। আর তিনি চুপচাপ বসে রইলেন—স্মৃতি, ভালোবাসা আর হারিয়ে ফেলা মানুষটির মায়া বুকে নিয়ে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

কাঁঠালের বিচি খাচ্ছেন? জানুন, এটি ক্ষতিকর নাকি উপকারী

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
কাঁঠালের বিচি খাচ্ছেন? জানুন, এটি ক্ষতিকর নাকি উপকারী

গ্রীষ্মকালীন ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা সবখানেই। তবে সাধারণত আমরা কাঁঠালের কোষ খাওয়ার পর এর বিচিগুলো ফেলে দিই। অথচ জানলে অবাক হবেন, একটি কাঁঠালে ১০০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত ভোজ্য এবং পুষ্টিকর বিচি থাকতে পারে।

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই বিচিগুলো কেবল সুস্বাদুই নয়; বরং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি।

পুষ্টির পাওয়ার হাউস

কাঁঠালের বিচি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের চমৎকার উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রায় ২৫.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১.৫ মিলিগ্রাম আয়রন। এ ছাড়া এতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের অন্তর্গত থায়ামিন এবং রিবোফ্লাভিন এতে প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদনে এবং পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।

কেন খাবেন কাঁঠালের বিচি?

হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ: এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বিচি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: কাঁঠালের বিচিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন—ফ্ল্যাভোনয়েড ও স্যাপোনিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতি মেরামত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ‘জ্যাকালিন’ নামক উপাদানটি ক্যানসার বিরোধী হিসেবে পরিচিত।

জীবাণুনাশক গুণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ই-কোলাই এবং সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

কখন এটি ক্ষতিকর হতে পারে?

উপকারী হলেও সবার জন্য বা সব অবস্থায় কাঁঠালের বিচি নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (যেমন: অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিপ্লেটলেট বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য কাঁঠালের বিচি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধার গতি কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া কাঁচা কাঁঠালের বিচিতে ট্যানিন এবং ট্রিপসিন ইনহিবিটর থাকে, যা শরীরকে সঠিক পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়।

সঠিক প্রস্তুতিই সুস্থতার চাবিকাঠি

কাঁঠালের বিচি থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে এবং ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে এটি কখনোই কাঁচা খাওয়া উচিত নয়। তাপ প্রয়োগ করলে এর মধ্যকার ক্ষতিকর উপাদানগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

কীভাবে প্রস্তুত করবেন?

সিদ্ধ করা: ২০-৩০ মিনিট পানিতে সিদ্ধ করে নিয়ে সালাদ বা তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন।

রোস্ট করা: ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ২০ মিনিট বেক করে বা খোলায় ভেজে মচমচে স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়।

অন্যান্য ব্যবহার: এটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে আটা হিসেবে বেকিংয়ে ব্যবহার করা যায়, এমনকি স্মুদি বা হুমাসেও যোগ করা সম্ভব।

সুতরাং, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে কাঁঠালের বিচি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় একটি চমৎকার পুষ্টিকর যোগ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

কোয়ার্টারে যে প্রতিপক্ষ পেল আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
কোয়ার্টারে যে প্রতিপক্ষ পেল আর্জেন্টিনা

চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। সেখানে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা।

এদিকে, মিসরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ দিকে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর তিনি বলেছেন, ‘পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এ দল কখনো হাল ছাড়ে না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমরা ভাগ্যবান যে, গোলগুলো করেছি এবং ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি।’

লিওনেল মেসি বলেন, ‘আমরা আবারও ফিরে এসেছি। শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পেরে স্বস্তি লাগছে।’

নকআউট পর্বে দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এই নকআউট পর্বে দল যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমাদের উদযাপন মানুষ উপভোগ করতে পারছে, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিচ্ছে।’

কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল। বিশেষ করে আমরা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিলাম। এরপর আবারও ফিরে আসা, আবারও কষ্ট সহ্য করে জয় তুলে নেওয়া ছিল রোমাঞ্চকর। এটাই বিশ্বকাপ। এখানে প্রায় সব ম্যাচই একই রকম কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব দলই প্রায় সমান শক্তিশালী। তাই এ জয় এবং পরের পর্বে উঠতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি।’

ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবককে ধর্ষণ ও অপহরণ—এই দুটি ধারায় পৃথক দণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অপহরণের ঘটনায় তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একই সঙ্গে দুটি দণ্ড ভোগ করতে পারবেন। সে হিসেবে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করলেই চলবে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি প্রশান্ত কুমার মণ্ডলকে (৩৬) বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর আদালত তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রলারযোগে ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বালি বিক্রি করত ফরহাদ। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার একটি মুদি দোকান ছিল। ওই কিশোরী তার বাবাকে দোকানে সকাল ও দুপুরের খাবার দিয়ে যেত।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে ওই কিশোরী তার বাবার জন্য সকালের খাবার নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ওই কিশোরী বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আর বাড়ি ফিরে যায়নি। এর ১৯ দিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় ওই দুই ব্যক্তিকে আসামি করে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌমেন মৈত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ওই দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুইয়া বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ফলে সমাজে এ জাতীয় অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে।