খুঁজুন
, ,

সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালে কত কিলোমিটার হাঁটা উচিত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৭:২২ পূর্বাহ্ণ
সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালে কত কিলোমিটার হাঁটা উচিত?

সকালের হাঁটা কেবল একটি সাধারণ রুটিন নয়, বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি। ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একটু দ্রুত হাঁটা আপনার শরীর ও মন উভয়কেই পুনরুজ্জীবিত করে এবং সারাদিনের জন্য একটি ইতিবাচক সুর তৈরি করে দেয়। তবে হাঁটার সুফলগুলো পুরোপুরি পেতে হলে আমাদের জানা প্রয়োজন ঠিক কতটুকু এবং কীভাবে হাঁটা উচিত।

কার জন্য কতটুকু হাঁটা প্রয়োজন?

শারীরিক সক্ষমতা ও লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে হাঁটার দূরত্বকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে :

শিক্ষানবিশ পর্যায়: আপনি যদি নতুন হাঁটা শুরু করেন বা অনেক দিন পর শরীরচর্চায় ফেরেন, তবে শুরুতে খুব বেশি চাপ নেবেন না। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কিলোমিটার হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এটি ধীরে ধীরে আপনার স্ট্যামিনা বা সহ্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

মধ্যম পর্যায়: যারা মোটামুটি শারীরিকভাবে সক্রিয় এবং ফিটনেস বজায় রাখতে চান, তাদের জন্য প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার হাঁটা আদর্শ। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

উন্নত পর্যায়: যারা আগে থেকেই ফিট এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে চান, তারা প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার হাঁটতে পারেন। এটি অধিক ক্যালোরি পোড়ানোর পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

হাঁটার আদর্শ সময় ও ধারাবাহিকতা

সকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত সময়টি হাঁটার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এই সময়ে বাতাস সতেজ থাকে, তাপমাত্রা সহনীয় থাকে এবং চারপাশে কোলাহল কম থাকে। তবে আপনি যদি সকালে সময় না পান, তবে দিনের যে কোনো সময় হাঁটতে পারেন; কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

সকালে হাঁটার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা

নিয়মিত সকালে হাঁটার নানাবিধ গুণাগুণ রয়েছে:

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: এটি রক্তচাপ কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত হাঁটা শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়িয়ে মেদ কমাতে সাহায্য করে।

মানসিক প্রশান্তি: হাঁটার সময় শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমায়।

হজম ও ভালো ঘুম: এটি হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং রাতে গভীর ঘুমে সাহায্য করে।

হাঁটার প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় টিপস

হাঁটার অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক ও নিরাপদ করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি।

সঠিক জুতো ও পোশাক: আরামদায়ক ও সঠিক মাপের হাঁটার জুতো ব্যবহার করুন এবং আবহাওয়া অনুযায়ী হালকা পোশাক পরুন।

ওয়ার্ম-আপ: হাঁটা শুরুর আগে কয়েক মিনিট শরীর স্ট্রেচিং বা হালকা ব্যায়াম করে পেশিগুলোকে প্রস্তুত করে নিন।

পানি পান: হাঁটার আগে এক গ্লাস জল পান করুন এবং সঙ্গে জলের বোতল রাখুন, বিশেষ করে গরমের দিনে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়েলনেস কর্নার

ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জনের হাম শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৫৬৯৩

ফরিদপুর জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

​স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

​এদিকে গত এক দিনে আক্রানদের মধ্যে জেলার ২৪ জন এবং বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন ৪৪ জনের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে মোট ৯৩ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ২৬ জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে মোট সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪৪৭ জনে।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২৫, সালথায় ২৩, চরভদ্রাসনে ১৭, সদরপুরে ১৪, ভাঙ্গায় ১২, মধুখালীতে ৬, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ এবং নগরকান্দায় ২ জন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরে ডুবে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুকুরের পানিতে ডুবে উৎস সরকার নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৭টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের সীতারামপুর দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত উৎস সরকার ওই গ্রামের উত্তম সরকারের একমাত্র সন্তান।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শিশু উৎসের মা ঘরের গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে পাশের বাড়ির একটি পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

​সন্তানকে ঘরে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশুটির স্যান্ডেল ভাসতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

​একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো দাসপাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদন করায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযান: সওজের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি উদ্ধার ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরাতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসময় কোটি টাকার সওজের জমি উদ্ধার করা হয়।

​মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে এই অভিযান শুরু হয়।

​অভিযানের সময় ভাঙ্গা-ফরিদপুর (গোয়ালচামট) সড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় পর্যন্ত সওজের আওতাধীন জায়গার অবৈধ দখল ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

​জেলা প্রশাসনের এনডিসি শাকিব রহমান আকাশের নেতৃত্বে এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতাল চত্বর ও মূল সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও দখলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগী, স্বজন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এই উচ্ছেদের ফলে এলাকায় পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি পথচারীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। হঠাৎ এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সওজের সরকারি জমি দখল ও যত্রতত্র অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছিল। উচ্ছেদ করা জায়গায় যেন নতুন করে কেউ দখল বা পুনরায় দোকানপাট বসাতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।