খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

কম আঁচে রান্না করলে কি সত্যিই গ্যাস সাশ্রয় হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
কম আঁচে রান্না করলে কি সত্যিই গ্যাস সাশ্রয় হয়?

রান্নাঘরে গ্যাস সাশ্রয়ের প্রসঙ্গ এলেই একটি প্রচলিত ধারণা শোনা যায়—“কম আঁচে রান্না করলে গ্যাস কম খরচ হয়”। তবে বিষয়টি বাস্তবে এতটা সরল নয়। গ্যাস সাশ্রয় নির্ভর করে শুধু আঁচের ওপর নয়, বরং পাত্র, রান্নার ধরন, তাপ ব্যবহারের দক্ষতা এবং সময় ব্যবস্থাপনার ওপরও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসচুলায় কম আঁচ মানেই সবসময় কম গ্যাস খরচ—এটি পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ, কম আঁচে রান্না করলে খাবার তৈরি হতে সময় বেশি লাগে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চুলা জ্বলতে থাকায় মোট গ্যাস খরচ অনেক ক্ষেত্রে বেড়েও যেতে পারে।

তাহলে কম আঁচে রান্নার সুবিধা কোথায়?

কম আঁচে রান্নার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তাপ নিয়ন্ত্রণ। অনেক খাবার আছে যেগুলো উচ্চ তাপে দ্রুত পুড়ে যেতে পারে বা পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে। যেমন—ডাল, তরকারি বা দুধজাত খাবার ধীরে ধীরে রান্না করলে স্বাদ ও গুণমান ভালো থাকে।

কিন্তু গ্যাস সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো “তাপের দক্ষ ব্যবহার”। অর্থাৎ যতটা তাপ প্রয়োজন, ততটাই ব্যবহার করা।

কোন পদ্ধতিতে গ্যাস বেশি সাশ্রয় হয়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ অভ্যাস মানলে গ্যাস খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব—

রান্নার আগে সব উপকরণ কেটে প্রস্তুত রাখা;

পাত্র ঢাকনা দিয়ে রান্না করা;

প্রেসার কুকার ব্যবহার করা (বিশেষ করে ডাল ও মাংসে);

চুলার শিখা পাত্রের আকার অনুযায়ী ঠিক রাখা;

বারবার ঢাকনা খোলা-বন্ধ না করা।

সর্বোপরি, কম আঁচে রান্না করলে কখনো কখনো গ্যাস সাশ্রয় হতে পারে, তবে এটি কোনও নির্ভরযোগ্য নিয়ম নয়। বরং রান্নার পদ্ধতি, সময় ও তাপ ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলেই গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব।

সহজভাবে বললে—“কম আঁচ নয়, স্মার্ট রান্নাই গ্যাস বাঁচায়।”

আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস–২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আলফাডাঙ্গা মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত এই কংগ্রেসে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তুষার সাহা বলেন, কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নূর মৌসুমী। তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

কংগ্রেসে কৃষকদের সফলতার গল্প উপস্থাপন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন এবং আধুনিক কৃষি চর্চা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভুবেন বাইনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কংগ্রেস কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এটি কার্যকর অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরে কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গোখরা সাপের ছোবলে আহত হয়ে সাপসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন রিপন শিকদার (৩৫) নামের এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে নিজ দোকানে একটি বয়ামে হাত দেওয়ার সময় ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর গোখরা সাপ তাকে ছোবল দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পরপরই রিপন শিকদার আশপাশের লোকজনের সহায়তায় দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এসময় তিনি ছোবল দেওয়া সাপটিকেও সঙ্গে করে নিয়ে আসেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

রিপন উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দোকানদার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত রিপনকে দ্রুত সাপের বিষনাশক (এন্টিভেনম) প্রয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এফতেখার জানান, সময়মতো হাসপাতালে আনার কারণে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোকান বা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

ফরিদপুরের মধুমতি চরে চুরি গেল শ্যালো মেশিন, পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটক্ষেত

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতি চরে চুরি গেল শ্যালো মেশিন, পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটক্ষেত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা শ্যালো মেশিন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এক কৃষক। সেচের একমাত্র ভরসা হারিয়ে তার পাটক্ষেত এখন শুকিয়ে ফেটে চৌচির, সামনে দেখা দিয়েছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগর গ্রামের মধুমতি নদীর চরের ফসলের মাঠ থেকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কৃষক জহুর শেখ জানান, প্রায় ১০ একর জমি বর্গা নিয়ে তিনি পাট চাষ করেছেন।দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে জমিতে সেচের তীব্র সংকট দেখা দিলে তিনি একটি এনজিও থেকে ৯০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শ্যালো মেশিনটি কিনে মাঠে স্থাপন করেন। মেশিন বসানোসহ আনুষঙ্গিক খরচে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জহুর শেখ বলেন, “প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখি আমার মেশিন নেই। সব শেষ হয়ে গেল। পানির অভাবে পাটক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। এত কষ্ট করে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেল।”

তিনি আরও জানান, শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করেই পাটের সেচ দেওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে ওই জমিতে ধান চাষের পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু মেশিন চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন সেই পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে।

জহুর শেখের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। ঋণের কিস্তি হিসেবে প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে তাকে। আয়ের কোনো বিকল্প উৎস না থাকায় কিস্তি পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, মধুমতি নদীর চরাঞ্চলে প্রায়ই কৃষি যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটে। তবে নিরাপত্তা জোরদার না হওয়ায় কৃষকরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে এমন চুরির ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে না, বরং স্থানীয় কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত মেশিন উদ্ধার ও চোরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।