খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর পৌরসভায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনে পানি সংকট, দুর্ভোগে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর পৌরসভায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনে পানি সংকট, দুর্ভোগে মানুষ

ফরিদপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পুরোনো পাইপলাইনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় নিয়মিত পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও পানি খুব কম আসছে, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একেবারেই পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে সম্প্রতি বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরজুড়ে পানি সরবরাহের জন্য লোহার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও সেই পাইপলাইন এখনো পরিবর্তন করা হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে পাইপের ভেতরে জং ও আয়রনের স্তর জমে পাইপগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহ কমে গিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ট্যাংকে পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। বাধ্য হয়ে মোটর চালিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।”

ঝিলটুলী এলাকার গৃহিণী সেলিনা বেগম বলেন, “কয়েকদিন ধরে পানি খুব কম আসছে। রান্না, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেশি দুর্ভোগে আছি।”

টেপাখোলা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “পানি না থাকলে দোকান ও বাসার দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পৌরসভার উচিত দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।”

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে পানি উত্তোলন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে গভীর নলকূপ ও পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পানি সরবাহের জন্য ১৯৮০ দশকের পাইপ এখন জং ধরে ও আয়রণ পড়ে পানিপথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে, এতে অনেক এলাকায় পানি দিতে সমস্যা হচ্ছে ও কম পানি যাচ্ছে। তবে, বরাদ্দ না থাকায় পাইপগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

ফরিদপুুর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য হাসানউজ্জামান বলেন, ‘নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তন, পানি উত্তোলন কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার চুরি রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক নাগরিক আছেন নিয়মিত পানির বিল দিচ্ছেন কিন্তু একেবারেই তারা পানি পাচ্ছেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। পানির সরবরাহের ব্যাপারে জানতে চাইলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের সদুত্তর দিচ্ছেনা। এটা দুঃখজনক। আমরা বলবো, অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধানে পৌরসভাকে উদ্যোগী হতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয়নি। অনেক এলাকায় নতুন সংযোগ দেওয়া হলেও পুরোনো অবকাঠামোর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মকাল কিংবা বিদ্যুৎ সমস্যার সময় সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।’

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, ‘ফরিদপুরবাসী দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার সরবরাহ করা পানীয় জলের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। পানির লাইনগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা না করায় ময়লা আবর্জনা পানির সাথে প্রভাবিত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য দ্রুত পৌরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে। নাগরিক সুবিধার নিশ্চিত করতে এবং একটি এ গ্রেডের পৌরসভার আধুনিক সুবিধা ক্ষেত্রে এর কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিতাপের বিষয় পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ ব্যাপারে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা আশা করি পৌরসভা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং পৌরবাসীকে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি দেবে।’

এব্যাপারে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় ও সরকারি সফরে চীনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, “১৯৮০-এর দশকে স্থাপিত লোহার পাইপগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে জং ধরে ভেতরে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এতে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। পুরোনো পাইপ পরিবর্তন করা জরুরি হলেও বড় বাজেটের অভাবে এখনো তা সম্ভব হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে নতুন পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি শহরে বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর প্রভাব পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। এছাড়া কোনো এলাকায় পাইপলাইনের মেরামত কাজ চললে সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। তারপরও আমাদের কর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।”

শহরে বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে বলে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যের ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘চুরি রোধে রাতে ও দিনে আমাদের পুলিশের মোবাইল টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। এছাড়া চুরি বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।’

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ফরিদপুর শহরের পানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, চার মাস পর নার্স বীথির মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, চার মাস পর নার্স বীথির মৃত্যু

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার দীর্ঘ ছয় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বিথী আক্তার (২৫) নামের এক ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

​নিহত বিথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দ। অপারেশনের মাধ্যমে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলায় বিথীর পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই দিয়ে দেওয়া হয়।

​অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটে ব্যথা ও শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় জন্ম দেওয়া নবজাতক সন্তানকেও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি তিনি। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর, গত ১৫ জুলাই আবারও তার পেটে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

​পরবর্তীতে অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। একপর্যায়ে গত ৪ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

​নিহতের স্বামী রাকিবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এখন এই দুধের শিশুকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? আর যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয় বা কেউ এমন অবহেলার শিকার না হন, তাই দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”

​ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কিছুদিন আগে আমি নিজে এবং গত বুধবার জেলা প্রশাসক মহোদয় বিথীর সন্তানকে দেখতে গিয়েছিলাম। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

ফরিদপুরে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অপরাধে দু’জনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অপরাধে দু’জনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মাদক (ইয়াবা) সেবন ও বিক্রির অপরাধে দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের বিন্দুডাঙ্গী গ্রামের শেখ মোকলেসের মেয়ে রিমা আক্তার (২০) এবং একই ইউনিয়নের ব্যাপারিডাঙ্গী গ্রামের আবুল মৃধার ছেলে রাশেদ মৃধা (২৮)।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমাকে ৬ মাসের ও রাশেদকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উভয়কে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা ও সাজা ঘোষণা করা হয়।

​অভিযান পরিচালনকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রিমা ও রাশেদের বাড়িতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাতেনাতে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। এ সময় রিমার কাছ থেকে ৪টি এবং রাশেদের কাছ থেকে ২টি ইয়াবাসহ সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

​তিনি আরও জানান, আটক দুইজনের মধ্যে রিমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত।

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং পরবর্তীতে বিষাক্ত ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জিল্লুর মোল্যাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি জিল্লুর মোল্যা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

​দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লুর মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে।

​মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পরিবারিকভাবে জিল্লুর মোল্যার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিহতের স্বজনেরা জানতে পারেন যে, পারিবারিক কলহের জেরে দুপুর ১টার দিকে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

​সংবাদ পেয়ে নিহতের স্বজনেরা আসামির বাড়িতে গিয়ে উঠানে চৌকির ওপর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই ইমরান মোল্লা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন।

​মামলার তদন্ত এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে যে, ঘটনাটি আত্মহত্যা ছিল না। নিহতের শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার নিকোটিনজাত বিষক্রিয়া পাওয়া যায় এবং চিকিৎসকের মতামতে এটিকে হত্যাজনিত মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন তদন্ত শেষে জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বিচারক দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। আদালতের এই কঠোর রায় সমাজে অপরাধ দমনে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।