খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, চার মাস পর নার্স বীথির মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, চার মাস পর নার্স বীথির মৃত্যু

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার দীর্ঘ ছয় মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বিথী আক্তার (২৫) নামের এক ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

​নিহত বিথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দ। অপারেশনের মাধ্যমে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলায় বিথীর পেটের ভেতরে গজ রেখেই সেলাই দিয়ে দেওয়া হয়।

​অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটে ব্যথা ও শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় জন্ম দেওয়া নবজাতক সন্তানকেও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি তিনি। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর, গত ১৫ জুলাই আবারও তার পেটে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়।

​পরবর্তীতে অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। একপর্যায়ে গত ৪ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিথীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

​নিহতের স্বামী রাকিবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এখন এই দুধের শিশুকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? আর যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয় বা কেউ এমন অবহেলার শিকার না হন, তাই দোষী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”

​ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কিছুদিন আগে আমি নিজে এবং গত বুধবার জেলা প্রশাসক মহোদয় বিথীর সন্তানকে দেখতে গিয়েছিলাম। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

ফরিদপুরে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অপরাধে দু’জনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অপরাধে দু’জনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মাদক (ইয়াবা) সেবন ও বিক্রির অপরাধে দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের বিন্দুডাঙ্গী গ্রামের শেখ মোকলেসের মেয়ে রিমা আক্তার (২০) এবং একই ইউনিয়নের ব্যাপারিডাঙ্গী গ্রামের আবুল মৃধার ছেলে রাশেদ মৃধা (২৮)।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, রিমাকে ৬ মাসের ও রাশেদকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উভয়কে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা ও সাজা ঘোষণা করা হয়।

​অভিযান পরিচালনকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রিমা ও রাশেদের বাড়িতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাতেনাতে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। এ সময় রিমার কাছ থেকে ৪টি এবং রাশেদের কাছ থেকে ২টি ইয়াবাসহ সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

​তিনি আরও জানান, আটক দুইজনের মধ্যে রিমা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত।

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং পরবর্তীতে বিষাক্ত ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জিল্লুর মোল্যাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় আসামি জিল্লুর মোল্যা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

​দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লুর মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে।

​মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পরিবারিকভাবে জিল্লুর মোল্যার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেলে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে নিহতের স্বজনেরা জানতে পারেন যে, পারিবারিক কলহের জেরে দুপুর ১টার দিকে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

​সংবাদ পেয়ে নিহতের স্বজনেরা আসামির বাড়িতে গিয়ে উঠানে চৌকির ওপর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই ইমরান মোল্লা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন।

​মামলার তদন্ত এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে যে, ঘটনাটি আত্মহত্যা ছিল না। নিহতের শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে উচ্চমাত্রার নিকোটিনজাত বিষক্রিয়া পাওয়া যায় এবং চিকিৎসকের মতামতে এটিকে হত্যাজনিত মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন তদন্ত শেষে জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বিচারক দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। আদালতের এই কঠোর রায় সমাজে অপরাধ দমনে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।

সকালে হাঁটার সেরা সময় কোনটি, জানুন প্রস্তুতির নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
সকালে হাঁটার সেরা সময় কোনটি, জানুন প্রস্তুতির নিয়ম

কারও জন্য ভোরের সময়টি আরামদায়ক, আবার কারও জন্য সূর্য ওঠার পরের সময়টি বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তাই নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাঁটার সময় নির্ধারণ করাই ভালো।
ভোরের সময়

নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটতে পছন্দ করলে সূর্যোদয়ের আগের সময়টি বেছে নিতে পারেন। এ সময় সাধারণত চারপাশ শান্ত থাকে এবং যানবাহনের ব্যস্ততাও তুলনামূলক কম থাকে।

ফলে অনেকের কাছে এই সময়ের হাঁটা মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
তবে ভোরে বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে নির্জন রাস্তায় হাঁটা এড়িয়ে চলা উচিত।

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা

যারা খুব ভোরে উঠতে পারেন না, তাদের জন্য সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে হাঁটা সুবিধাজনক হতে পারে। এ সময় দিনের আলো পর্যাপ্ত থাকে এবং অনেক দিনেই তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকে।

সকালের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু হাঁটার সময়কে ভিটামিন ডি পাওয়ার প্রধান উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়; প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

অফিস বা অন্যান্য কাজে বের হওয়ার আগে এই সময়টুকু হাঁটার জন্য নির্ধারণ করা গেলে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা

যারা রাতে দেরিতে ঘুমান কিংবা সকালে তুলনামূলক দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন, তারাও দিনের শুরুতে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। খুব ভোরে উঠতে না পারলেও নিয়মিত হাঁটা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই।

যাদের ভোরের ঠান্ডা বা ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি বেশি হয়, তারা কিছুটা রোদ ওঠার পর হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন। তবে দিনের তাপমাত্রা বেশি হলে অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় হাঁটা এড়িয়ে চলা উচিত।

আরেকটি বিষয় হলো—ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই দ্রুত হাঁটতে বের হওয়া ঠিক নয়। খাবারের পর পর্যাপ্ত সময় রেখে হালকা হাঁটা তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।

হাঁটার আগে প্রস্তুতি জরুরি

ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত হাঁটা বা দৌড় শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় বিশ্রামের পর শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় করে নেওয়া দরকার। এ জন্য হাঁটার আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা ওয়ার্ম-আপ করা যেতে পারে।

প্রথমে ঘাড় ধীরে ডানে-বাঁয়ে হেলিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখতে পারেন। এরপর কাঁধ সামনে ও পেছনে বৃত্তাকারে ঘোরানো যেতে পারে। এতে শরীরের ওপরের অংশের জড়তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এক হাত মাথার ওপর তুলে শরীর সামান্য বিপরীত দিকে বাঁকানো যায়। একইভাবে দুই পায়ের পেশি প্রস্তুত করতে এক পা সামনে রেখে হালকা স্ট্রেচ করা যেতে পারে।

হাঁটার আগে গোড়ালিও কিছুক্ষণ ঘোরানো ভালো। এতে পায়ের গোড়ালি ও আশপাশের জয়েন্টগুলোকে নড়াচড়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়।

পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ

হাঁটতে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো অভ্যাস। ঘুম থেকে উঠে কিছুটা পানি পান করে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর হাঁটতে বের হতে পারেন। তবে কতটা পানি প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

হাঁটার সময়ও শরীরের সংকেতের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। মাথা ঘোরা, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা দুর্বলতা অনুভূত হলে হাঁটা বন্ধ করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত থাকা। একদিন অনেকক্ষণ হাঁটার চেয়ে প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। নিজের ঘুম ও কাজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপযুক্ত সময় বেছে নিয়ে হাঁটাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুললেই ধীরে ধীরে শরীর ও মন দুটিই সক্রিয় রাখার সুযোগ তৈরি হবে।