খুঁজুন
, ,

সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় আধুনিক পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কৃষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের মতে, এ উপজেলায় পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে শুধু কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে না, একইসঙ্গে বেকারত্ব হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জেলার প্রায় ৭৫ শতাংশ আবাদযোগ্য জমিতে পাট চাষ হয়ে থাকে। বার্ষিক উৎপাদন ২ লাখ টনেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়, যা ফরিদপুরকে দেশের শীর্ষ পাট উৎপাদন অঞ্চলের তালিকায় রাখে। এর মধ্যে সালথা উপজেলা পাট উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, উৎপাদিত পাটের বড় অংশ কাঁচামাল হিসেবেই অন্য জেলায় চলে যায়। যদি এ এলাকায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হয়, তাহলে কৃষকরা সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। পাশাপাশি পরিবহন খরচও কমে যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, সালথায় পাটকল স্থাপন হলে শুধু কৃষি খাত নয়, পরিবহন, ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্পসহ পুরো অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, সালথায় প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক সহজলভ্য। তুলনামূলকভাবে কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যাওয়ায় এখানে শিল্প স্থাপন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাটকল স্থাপিত হলে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও বেকার যুবসমাজের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

সালথার স্থানীয় যুবক ও সমাজকর্মী মো. মুরাদুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক আছে। পাটকল হলে তারা কাজের সুযোগ পাবে, বিদেশে যাওয়ার চাপও কমবে।”

এদিকে সালথার খোয়াড় গ্রামের কৃষক মিলু শেখ বলেন, “আমরা বছরের পর বছর পাট চাষ করি, কিন্তু অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাই না। যদি আমাদের এলাকায় পাটকল হয়, তাহলে আমরা সরাসরি ভালো দাম পাব এবং ক্ষতিও কম হবে।”

একই উপজেলার বেকার যুবক হান্নু মোল্যা জানান, “আমরা লেখাপড়া শেষ করেও কোনো স্থায়ী কাজ পাই না। যদি এখানে পাটকল হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক যুবকের কর্মসংস্থান হবে, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে পারব।”

সালথা উপজেলা যুবদল নেতা মো. মাহফুজ খান বলেন, “সালথার উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি, আর পাট এ এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। কিন্তু পর্যাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অসংখ্য যুবক কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এখানে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সকলেই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে স্থানীয় যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে দ্রুত পাটকল স্থাপনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

সালথা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, “সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে শুধু কৃষকরাই উপকৃত হবেন না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাটকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে উঠলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতে বাজারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, “সালথা উপজেলায় বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে একটি পাটকল স্থাপন করা হলে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে শিল্পায়নের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাই দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর বলেন, “সালথা পাট উৎপাদনের জন্য সারা দেশে সুপরিচিত। অথচ এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত পাটকল স্থাপনের দাবি জানাই।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “সালথায় পাটকল স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ও বেকার যুবকের স্বার্থে একটি আধুনিক পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “পাট বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। সালথা উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে পাট উৎপাদিত হয়। এখানে পাটভিত্তিক শিল্প বা পাটকল স্থাপন করা গেলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয় এবং সরকার এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা অচিরেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানাবো।”

ফরিদপুর জেলার পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী অঞ্চল। বিশেষ করে সালথা উপজেলায় উচ্চমানের পাট উৎপাদিত হয়। তবে, এ উপজেলায় কোনো পাটকল নেই। তাই এ উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ হবে। এছাড়া পাটভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাট খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ফরিদপুর, বিশেষ করে সালথা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাট উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে পাটভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা আধুনিক পাটকল স্থাপিত হলে কৃষকরা উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিষয়টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে এলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার বিষয়েও আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করব।”

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তারা ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা সম্ভব, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।

সদরপুরে দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
সদরপুরে দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গাবতলা ও সতের রশি এলাকার পৃথক দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

রবিবার (০২ আগস্ট) নির্মাণাধীন সড়ক দুটি পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসীর ‌সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দ্রুত এবং টেকসই ভাবে শুধু এই দুটি নয় সকল রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর আগামীতে এরচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হবে । এই এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি দূর করতে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হবে।

এছাড়া,জনগণের দুর্ভোগ লাঘব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি প্রত্যাশা করেন তিনি।

পরিদর্শন কালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সদরপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভাঙ্গায় বৃষ্টিভেজা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২০

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় বৃষ্টিভেজা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বৃষ্টিভেজা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ও নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রীদের ভাষ্য, বাসটি ঢাকা ধোলাইপাড় থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। যাত্রাপথের শুরু থেকেই চালক দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। ভাঙ্গার বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে বাসের ভেতরে থাকা একাধিক যাত্রী চালককে ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য অনুরোধ করেন। তবে তিনি সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

আহত যাত্রী দেবাশীষ ও খালেকসহ কয়েকজন জানান, টানা বৃষ্টিতে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যেই অতিরিক্ত গতিতে চলার কারণে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বাসটি সড়ক ছেড়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসের ভেতরে চিৎকার-আর্তনাদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে জানালার কাচ ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ৮ থেকে ১০ জনকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করলেও স্থানীয়দের সহায়তায় আরও বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া এবং দ্রুতগতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সালথায় পাটকল স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সালথায় পাটকল স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের ২০ জুলাই পাঠানো আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের আলোকে সালথায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। স্থানীয়ভাবে পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সবাই উপকৃত হবেন।”

সালথা দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী এলাকা। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ফরিদপুর জেলায় বছরে দুই লাখ টনের বেশি পাট উৎপাদিত হয় এবং এর বড় একটি অংশ আসে সালথা উপজেলা থেকে। কিন্তু এলাকায় কোনো পাটকল না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত পাট অন্য জেলায় পাঠাতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি অনেক সময় তারা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন।

স্থানীয়দের মতে, সালথায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপিত হলে কৃষকরা সরাসরি পাট বিক্রির সুযোগ পাবেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

এর আগে এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং নাগরিকদের দাবির পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার মাধ্যমে পাটকল স্থাপনের দাবি এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তাদের বিশ্বাস, সালথায় একটি আধুনিক পাটকল প্রতিষ্ঠিত হলে এটি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানই হবে না, বরং পুরো অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন গতি এনে দেবে এবং দীর্ঘদিনের বেকারত্ব সমস্যা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।