খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বেকারত্ব থেকে স্বাবলম্বী জাকির, আমবাগানেই কর্মসংস্থান ৭ যুবকের

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কুঞ্জনগর গ্রামে এক ব্যতিক্রমী আমবাগান ঘিরে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। বেকারত্বের গণ্ডি পেরিয়ে আম বিক্রিকে কেন্দ্র করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকজন যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় যুবক জাকির হোসেন। জাকির একই উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। সে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে মাস্টার্স করছেন।

কুঞ্জনগর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখের প্রায় সাড়ে ৭ বিঘা জমির প্রকল্পের মধ্যে সাড়ে ৪ বিঘাজুড়ে রয়েছে আমবাগান। বাগানটিতে রয়েছে প্রায় ৩৯০টি আমগাছ। চলতি মৌসুমে পুরো বাগানের আম কিনে নিয়েছেন জাকির হোসেন। এরপর সরাসরি বাগান থেকেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন বিভিন্ন জাতের টাটকা আম।

বাগানটিতে হারিভাঙা, হিমসাগর, রুপালি, ল্যাংড়া, বারি-৪, মল্লিকা, রাজভোগ, গোবিন্দভোগ, আশ্বিনা-সহ প্রায় ১৩ জাতের আম রয়েছে। অনলাইনে প্রতি কেজি আম ৬০ টাকা এবং বাগানে সরাসরি এসে কিনলে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যা স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কম।

জাকির জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ মণ আম বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মণ আম বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতিদিন অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা বাগানে আসছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে এসে গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়ে স্বাদ পরীক্ষা করে তারপর কিনে নিচ্ছেন।

স্থানীয় চাকরিজীবী রতন শেখ বলেন, “বাজারে অনেক সময় কতদিন আগে পাড়া আম বিক্রি হয় তা জানা যায় না। কিন্তু এখানে সরাসরি গাছ থেকে পাড়া টাটকা আম পাওয়া যায়। দামও বাজারের তুলনায় কম। তাই আমরা পরিবার নিয়ে এসে আম কিনছি।”

জাকির হোসেন বলেন, “পড়াশোনা করেও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাচ্ছিনা। তখন চিন্তা করলাম মৌসুমি ফলের ব্যবসা করা যায় কি না। সেই ভাবনা থেকেই আমবাগানের আম কিনে নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। নিজের আয় যেমন হচ্ছে, তেমনি আমার সঙ্গে আরও ৫ থেকে ৭ জন যুবক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাকিরের উদ্যোগে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ফরমালিনমুক্ত ও টাটকা আম সহজে কিনতে পারছেন। ফলে বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে একটি জনপ্রিয় আম বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আধুনিক কৃষি ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণদের এমন উদ্যোগ বেকারত্ব দূরীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এবং অন্য যুবকদেরও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় আগ্রহী করে তুলছে।

নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রেজাউল করিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আম চাষ ও ফলভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাকির হোসেনের মতো তরুণরা কৃষিকে ব্যবসায়িকভাবে গ্রহণ করায় একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাগান থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে আম বিক্রি করায় ভোক্তারা টাটকা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন। কৃষিতে শিক্ষিত যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।”

সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সালথায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের সড়ক-আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলেই ব্যবস্থা

ক্লাস চলার সময়ে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাস্তাঘাট বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এমন কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সালথা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সালথা উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বা অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবককে উপজেলা প্রশাসনে বা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে উপযুক্ত মুচলেকা গ্রহণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

​উপজেলা প্রশাসন জানায়, এই নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থেই মূলত এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সালথা উপজেলা প্রশাসন।

সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
সালথায় জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের সালথায় ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

​বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিকেলে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মেহেরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​স্থানীয়রা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও ফসলি জমি নিয়ে মেহেরদিয়া গ্রামের মো. কালাম মুন্সীর সঙ্গে নুর ইসলাম মুন্সীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে কালাম মুন্সী তাঁর ফসলি জমির সীমানায় বেড়া দিতে গেলে নুর ইসলামের সমর্থকরা তাঁকে মারধর করেন।

​এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫টি বসতঘর ভাঙচুর করে সংঘর্ষকারীরা।

​এ ঘটনায় কালাম মুন্সী ও শাহজাহান মাতুব্বরসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

​সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’

​এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে চাকরিচ্যুত সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাবেক (চাকরিচ্যুত) দুই সদস্য রয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ডাকাতি হওয়া একটি ১৫০ সিসি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

​পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করার ছলে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার তদন্তে নেমে চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে চক্রের মূল হোতা সাবেক পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) ও তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার লিমন ও সাকার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে লিমন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। পরবর্তীতে ছিনতাই করা ইজিবাইকগুলো মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো। লিমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।

​পরে লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাবেক সেনা সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেফতার করে ডিবি। খুলনা সদর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বর্তমানে রঘুনন্দনপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

​অভিযানে তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় রূপগঞ্জে ডাকাতি হওয়া মোটরসাইকেলটি। পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বড় ধরনের ডাকাতি সংঘটিত করে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।