খুঁজুন
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩

জেনায় লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা কবুল হয় কি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ
জেনায় লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা কবুল হয় কি?

শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মানুষ নিজেকে ভুলে গন্তব্য হারায়, বড় বড় পাপে লিপ্ত হয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই জেনার (অবাধ মেলামেশা বা ব্যভিচার) মতো ভয়াবহ পাপে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়।

এই পাপ করার পর যখন মনে অনুশোচনা জাগে, তখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, এই পাপের কি ক্ষমা আছে? আল্লাহ কি তওবা কবুল করবেন? কারণ জেনার মতো পাপে লিপ্ত হওয়ার পর যখন কোনো ঈমানদার ব্যক্তি অনুতপ্ত হন, তখন শয়তান তাকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করার চেষ্টা করে।

কিন্তু পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমতের আশা কখনো ছেড়ে দিও না, কখনো নিরাশ হবে না’। (সুরা জুমার: ৫৩)

আল্লাহ আরও জানিয়েছেন যে, তিনি বান্দার সকল গোনাহ মাফ করে দেবেন এবং পৃথিবীতে এমন কোনো পাপ নেই যা ক্ষমার অযোগ্য। এমনকি কেউ যদি শিরকের মতো ভয়াবহ পাপও করে থাকে এবং মৃত্যুর আগে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তাকেও মাফ করে দেন।

তাওবা কবুলের শর্তসমূহ

পাপ হয়ে যাওয়ার পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। জেনায় লিপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি আন্তরিকভাবে নিম্নোক্ত কাজগুলো করেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার গোনাহ মাফ করবেন:

নিজের পাপের গুরুত্ব বুঝতে পেরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

কৃতকর্মের জন্য মনে গভীর অনুশোচনা পোষণ করা।

ভবিষ্যতে আর কখনো সেই পথে পা না বাড়ানোর জন্য দৃঢ় সংকল্প করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আদম সন্তান হিসেবে মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, কমবেশি সবারই গোনাহ হয়। কিন্তু মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ভুল করার পর তওবা করেন, আত্মশুদ্ধি করেন এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসেন।

বর্তমানে তরুণ সমাজের মধ্যে আত্মহত্যার যে উচ্চ প্রবণতা দেখা যায়, তার মূলে রয়েছে আল্লাহর রহমতের ওপর আস্থার অভাব বা নৈরাশ্য। বৈষয়িক উন্নতি হলেও ঈমানি শক্তির অভাবে অনেকে মনে করেন যে তাদের বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই। কিন্তু একজন প্রকৃত ঈমানদার কখনো আশাহত হন না; দেয়ালের পিঠ ঠেকে গেলেও তিনি বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ তাকে হেফাজত করবেন।

মোটকথা, জেনা একটি জঘন্য পাপ, তবে আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত তার চেয়েও অনেক বড়। যদি কেউ আন্তরিকভাবে তওবা করে ফিরে আসতে চায়, তবে আল্লাহর রহমতের দুয়ার তার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। হতাশা নয়, বরং অনুশোচনা ও আত্মসংশোধনের মাধ্যমেই মুক্তি সম্ভব।

সূত্র: ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর বয়ান থেকে শ্রুতি লিখন

বিস্ফোরক মামলায় সালথা যুবলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বাবু আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
বিস্ফোরক মামলায় সালথা যুবলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বাবু আটক

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান বাবুকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নটখোলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মোল্যার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে দায়ের করা একটি মারামারি ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “২০২৫ সালের একটি মারামারি ও বিস্ফোরক মামলায় খায়রুজ্জামান বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় আধুনিক পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কৃষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের মতে, এ উপজেলায় পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে শুধু কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে না, একইসঙ্গে বেকারত্ব হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জেলার প্রায় ৭৫ শতাংশ আবাদযোগ্য জমিতে পাট চাষ হয়ে থাকে। বার্ষিক উৎপাদন ২ লাখ টনেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়, যা ফরিদপুরকে দেশের শীর্ষ পাট উৎপাদন অঞ্চলের তালিকায় রাখে। এর মধ্যে সালথা উপজেলা পাট উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, উৎপাদিত পাটের বড় অংশ কাঁচামাল হিসেবেই অন্য জেলায় চলে যায়। যদি এ এলাকায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হয়, তাহলে কৃষকরা সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। পাশাপাশি পরিবহন খরচও কমে যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, সালথায় পাটকল স্থাপন হলে শুধু কৃষি খাত নয়, পরিবহন, ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্পসহ পুরো অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, সালথায় প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক সহজলভ্য। তুলনামূলকভাবে কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যাওয়ায় এখানে শিল্প স্থাপন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাটকল স্থাপিত হলে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও বেকার যুবসমাজের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

সালথার স্থানীয় যুবক ও সমাজকর্মী মো. মুরাদুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক আছে। পাটকল হলে তারা কাজের সুযোগ পাবে, বিদেশে যাওয়ার চাপও কমবে।”

এদিকে সালথার খোয়াড় গ্রামের কৃষক মিলু শেখ বলেন, “আমরা বছরের পর বছর পাট চাষ করি, কিন্তু অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাই না। যদি আমাদের এলাকায় পাটকল হয়, তাহলে আমরা সরাসরি ভালো দাম পাব এবং ক্ষতিও কম হবে।”

একই উপজেলার বেকার যুবক হান্নু মোল্যা জানান, “আমরা লেখাপড়া শেষ করেও কোনো স্থায়ী কাজ পাই না। যদি এখানে পাটকল হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক যুবকের কর্মসংস্থান হবে, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে পারব।”

সালথা উপজেলা যুবদল নেতা মো. মাহফুজ খান বলেন, “সালথার উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি, আর পাট এ এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। কিন্তু পর্যাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অসংখ্য যুবক কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এখানে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সকলেই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে স্থানীয় যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে দ্রুত পাটকল স্থাপনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

সালথা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, “সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে শুধু কৃষকরাই উপকৃত হবেন না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাটকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে উঠলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতে বাজারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, “সালথা উপজেলায় বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে একটি পাটকল স্থাপন করা হলে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে শিল্পায়নের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাই দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর বলেন, “সালথা পাট উৎপাদনের জন্য সারা দেশে সুপরিচিত। অথচ এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত পাটকল স্থাপনের দাবি জানাই।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “সালথায় পাটকল স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ও বেকার যুবকের স্বার্থে একটি আধুনিক পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “পাট বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। সালথা উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে পাট উৎপাদিত হয়। এখানে পাটভিত্তিক শিল্প বা পাটকল স্থাপন করা গেলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয় এবং সরকার এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা অচিরেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানাবো।”

ফরিদপুর জেলার পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী অঞ্চল। বিশেষ করে সালথা উপজেলায় উচ্চমানের পাট উৎপাদিত হয়। তবে, এ উপজেলায় কোনো পাটকল নেই। তাই এ উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ হবে। এছাড়া পাটভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাট খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ফরিদপুর, বিশেষ করে সালথা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাট উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে পাটভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা আধুনিক পাটকল স্থাপিত হলে কৃষকরা উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিষয়টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে এলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার বিষয়েও আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করব।”

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তারা ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা সম্ভব, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।

পাকা আম কতটুকু পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
পাকা আম কতটুকু পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ?

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আম সাধারণত গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায়। আবহাওয়া ও জাতভেদে এই ফলের আগমন ও শেষ হওয়ার সময় কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে আমের মৌসুম শুরু হয় সাধারণত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে মে মাসে।

এরপর মে ও জুন মাসে বাজারে আমের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি থাকে। জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া গেলেও কিছু জাতের পাকা আম আগস্টের শুরু পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আম শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক পুষ্টি ডাটাবেজ ও স্বাস্থ্য গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ক্যালোরি শক্তি থাকে। এতে কার্বোহাইড্রেট থাকে ১৫ থেকে ১৭ গ্রাম, প্রোটিন ০.৫ থেকে ০.৮ গ্রাম এবং ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম, প্রায় ০.২ থেকে ০.৪ গ্রাম। পাশাপাশি ডায়েটারি ফাইবার থাকে প্রায় ১.৫ থেকে ২ গ্রাম।

ভিটামিনের মধ্যে আমে ভিটামিন সি থাকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন) থাকে ৫০০ থেকে ১০০০ আই ইউ , যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি৬ থাকে ০.১ থেকে ০.২ মিলিগ্রাম, ফোলেট বি৯ থাকে প্রায় ১৪ থেকে ২০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন ই এবং সামান্য ভিটামিন কে-ও এতে পাওয়া যায়।

এছাড়া, খনিজ উপাদানের ক্ষেত্রে আমে পটাশিয়াম থাকে প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ মিলিগ্রাম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া ম্যাগনেসিয়াম প্রায় ১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম প্রায় ১০ থেকে ১২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস থাকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম, আয়রন প্রায় ০.২ থেকে ০.৩ মিলিগ্রাম এবং অল্প পরিমাণে জিঙ্ক বিদ্যমান থাকে।

এছাড়া আমে প্রাকৃতিক শর্করা (ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও সুক্রোজ) এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ক্যারোটিনয়েড ও পলিফেনল থাকায় এটি শরীরের কোষ সুরক্ষায় সাহায্য করে। তবে বিভিন্ন সময়ে পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন, আম পুষ্টিকর হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।

আম কতটুকু খাওয়া নিরাপদ ?

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে গড়ে ১ থেকে ২টি মাঝারি আকারের আম বা প্রায় ২০০–৩০০ গ্রাম আম খেতে পারেন। এর বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি জমে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ আমে প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ) থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত— দিনে সর্বোচ্চ অর্ধেক থেকে ১টি ছোট আম খেতে পারেন তবে একবারে বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে ভাগ করে খাওয়া উচিত। খালি পেটে আম না খাওয়াই ভালো এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে না থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অতিরিক্ত আম খেলে যে সমস্যা হতে পারে

পুষ্টিবিদদের মতে, বেশি আম খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, হজমে সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিক ,ত্বকে অ্যালার্জি বা ব্রণ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কখন ও কীভাবে আম খাওয়া ভালো

একবারে বেশি না খেয়ে ভাগ করে খাওয়া, খাবারের পর বা স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া, আমের সঙ্গে দই বা বাদাম খেলে শর্করার প্রভাব কিছুটা কমে। সর্বোপরি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা উচিত।

যারা বেশি সতর্ক থাকবেন

ডায়াবেটিস রোগী ছাড়াও শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের ওজন বেশি—তাদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

আম পুষ্টিকর হলেও পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত— না হলে উপকারের বদলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।