খুঁজুন
, ,

ফোন দিয়ে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় কেন জানতে চাচ্ছে পুলিশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফোন দিয়ে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় কেন জানতে চাচ্ছে পুলিশ?

রাজধানী ঢাকায় কর্মরত একাধিক সাংবাদিককে ফোন করে ও বাসায় গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লিংক-আইডি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদ্যুৎ বিলের কপিসহ ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইছে পুলিশ।

পুলিশের বিশেষ শাখা (সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ-সিএসবি) থেকে চিঠি পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত সাংবাদিকদের ফোন করে এমন তথ্য চাওয়া হচ্ছে মাঠ পুলিশের পক্ষ থেকে। অনেকক্ষেত্রে মুঠোফোনেই হুমকি, আক্রমণাত্মক সুরে কথা বলছেন তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়া সিটিএসবির মাঠ সদস্যরা।

সিটিএসবিতে কর্মরত পুলিশ সদস্য পরিচয়ে ফোন পাওয়া একাধিক সাংবাদিক এমন প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ, নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কিত বলে জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের পূর্ব বিভাগের পক্ষ থেকে মতিঝিল, তেজগাঁও, শাহবাগ, সূত্রাপুর, পল্টন ও সবুজবাগ জোন ইনচার্জদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সাংবাদিক ও ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের’ বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে নাম-ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংবাদিকতার বাইরে অন্য কোনো পেশা, পারিবারিক বৃত্তান্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকসহ নানা তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকা পোস্টের হাতে এমন একটি চিঠির কপি এসেছে।

এ নিয়ে ফোন পাওয়া, বাসায় গিয়ে পুলিশের তথ্য নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা বলছেন, রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা একজন সাংবাদিকের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইতে পারে না। এটি শুধু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থি নয়, বরং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। পুলিশ সদস্য পরিচয়ে প্রশ্ন করা, তথ্য চাওয়ার ধরনও অপেশাদার, হুমকিস্বরূপ। সরাসরি ফোন করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা জানতে চাওয়া, কেউ কেউ আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।

একটি বহুল প্রচারিত বেসরকারি টেলিভিশনের বিশেষ সংবাদদাতা বলেন, ‘আমাকে ফোন করে জানতে চাওয়া হয়েছে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, অতীতে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি কি না। প্রশ্নের ধরন ছিল জিজ্ঞাসাবাদের মতো। এতে আমি আতঙ্কিত বোধ করছি।’

তিনি বলেন, অতীতে অনেক ভিভিআইপি, ভিআইপি অনুষ্ঠান কাভার করেছি। পুলিশ যোগাযোগ করেছে, চা খাওয়ার কথা জানিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছে। কখনো এমন আক্রমণাত্মক, অপেশাদার আচরণ রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি।

সাংবাদিকদের কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘ভয়ংকর নজির’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এমন প্রশ্নের সম্মুখীন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বলেন, যিনি আমাকে ফোন করেছিলেন, আমি আমার তাকে অফিসে অথবা আমার সাংবাদিক সংগঠনে এসে দেখা করার কথা বললে তিনি বাড়ি/বাসা ছাড়া অন্য কোথাও কথা বলবেন না। সাথে বাসায় যাওয়ার আগে তার চাহিদা অনুযায়ী- এনআইডি, ছবি, বিদ্যুৎ বিলের কপি সংগ্রহে রাখতে বলা হয়।

ওই প্রতিবেদক বলেন, ‘তার ভাষ্য, প্রশ্ন ও তথ্য চাওয়ার ধরণ চরম অপেশাদার। মনে হচ্ছে তিনি অর্ডার করছেন, কখনো মনে হয়েছে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন।’

সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের ফোন পেয়ে অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আসিফ শওকত কল্লোল। তিনি মিরর এশিয়ার হেড অফ নিউজের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-সহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কর্মকাণ্ড ও ফোরামে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছেন।

তিনি বলেন, আমার ২৫ বছর সাংবাদিকতা জীবনের পুলিশের কাছ থেকে এমন প্রশ্ন কখনো শুনিনি। এটা ভয়াবহ ব্যাপার যে পুলিশ আমার সঙ্গে আমার বাসায় এসে আমার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইছেন। এটা পুলিশের এখতিয়ারে পড়ে না। আমিও বলতে বাধ্য নই। আমি সাংবাদিকতার বাইরে অন্য পেশা বা ব্যবসা করি কিনা সেটাও আমি বলতে বাধ্য নই। আমি যদি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যক্রমে যুক্ত থাকি, সেটা নিয়ে তারা তদন্ত করতে পারে। সেটা তাদের ব্যাপার। খোঁজ নিয়ে শুনতেছি  তিন থেকে সাড়ে তিন-শ’ সাংবাদিককে তালিকা করে এমন অপেশাদার ও হয়রানিমূলক প্রশ্ন করা হচ্ছে। যা সাংবাদিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় আঘাত বলে মনে করি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য তো সংশ্লিষ্ট তথ্য মন্ত্রণালয়ে আছে। তথ্য মন্ত্রণালয় চাইলে হাউজে বা সাংবাদিক সংগঠনের সহায়তা নিতে পারে। সেটা না করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এটা করছে? এটাকে ভালোভাবে নেওয়া সুযোগ নেই।

একটি ইংরেজি দৈনিকের তিনজনকে ফোন করে একইভাবে তথ্য পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই ইংরেজি দৈনিকের জ্যেষ্ঠ নারী সাংবাদিক বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম কাভার করা। সেটিকে রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ভবিষ্যতে হয়রানি বা নজরদারির হাতিয়ার হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয়, এনআইডি কার্ডের কপি চাওয়াটা তো ইতিবাচক কিছু হতে পারে না।

সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এই পন্থায় সাংবাদিকদের তথ্য চাওয়াকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ভয়-ভীতির মধ্যে ফেলার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, আমাকেও ফোন করা হয়েছিল। আমি ব্যস্ততার কারণে সাক্ষাৎ করিনি। তবে গতকাল ও আজ শুনছি আমার অনেক সহকর্মীকে ফোন করে রাজনৈতিক পরিচয়, এনআইডির কপিসহ নানা তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এটা কেন করা হচ্ছে? এটা সরকার জানে কিনা? জানলে কি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে তা কিন্তু স্পষ্ট নয়। আমরা ডিআরইউর পক্ষে জানার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, এখন একটি রাজনৈতিক নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ছেঁকে ছেঁকে দলীয় নেতাকর্মীদের পুলিশে নিয়েছে। প্রশ্ন: তাদের কেউ এটা করছে কিনা?

তবে সরকারের সৎ উদ্দেশ্য যদি থাকেও সাংবাদিকের রাজনৈতিক পরিচয়, এনআইডি, বিদ্যুৎ বিলের কপি কেন চাওয়া হবে? এটা তো হতে পারে না। সাংবাদিক কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারে। কিন্তু রাজনীতি করার সুযোগ নেই। যিনি রাজনীতিবিদ তিনি সাংবাদিক নন। এটাকে কেন এক করে দেখা হচ্ছে সেটাও ভাববার ব্যাপার।

তিনি বলেন, ‘সরকার বা পুলিশের যদি এখানে নেতিবাচক কোনো উদ্দেশ্য থাকে তাহলে অতীতের ন্যায় সদস্যসহ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ডিআরইউ প্রতিবাদ জানাবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, এটা তো ভালোভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটা নিয়ে কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে পরিপত্র জারি করবে, অফিসে ফরম দেবে। সেটা পূরণ করার বিষয়। কিন্তু বিশেষ সংস্থা থেকে সাংবাদিকদের ফোন করা, বাসায় গিয়ে ইন্টারভিউ, তথ্য নেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকরা নীতি নৈতিকতা মেনেই সাংবাদিকতা করেন। আমরা দক্ষতা পরিচয় দিয়েই কাজ করি। কিন্তু পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে আমাদের অনেক সহকর্মী ভীতসন্ত্রস্ত। আমি মনে করি, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকির কোনো কিছুই শুভকর নয়। সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয় সেটি দেখবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের এ পদক্ষেপ কর্তৃত্ববাদী আমল কেন, কুখ‍্যাত নাৎসিবাদি বা উত্তর কোরীয় স্বৈরতান্ত্রিক চর্চাকেও ম্লান করে করে দিয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতা, ভিন্নমত, মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, যা বাংলাদেশের সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন যেখানে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে, তা স্বৈরাচারী কায়দায় পদদলিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেভাবেই ব‍্যখ‍্যা করা হোক না কেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও অভীষ্ট এবং বিশেষ করে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকারের গঠনের পর মুক্তগণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক চর্চাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের যেসব অঙ্গীকার সরকার দেশবাসীকে শুনিয়েছে বা এখনও শুনিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ যদি সরকারের নির্দেশে বা সরকারের সম্মতি বা অনাপত্তি সাপেক্ষে হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদ পতনের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন হয়ে সরকার কী পতিত সরকারের আমলের শাসনব্যবস্থার চেয়ে বেশি স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পরিচালনার মাধ্যমে দেশে একচ্ছত্র রাজনৈতিক ভুবন প্রতিষ্ঠার অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত হতে চাইছে। সরকার কী এর মাধ্যমে এই বার্তা দিতে চায় যে কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণের বিবেচনায় তারা পতিত সরকারের চেয়ে বেশি পারদর্শী? আমরা আশা করতে চাই সরকারের বোধোদয় হবে এবং এ ধরনের আত্মঘাতী পথ থেকে সরে এসে এ সিদ্ধান্তের পেছনে যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।’

যদিও ভিভিআইপিদের অনুষ্ঠানের খবর সংগ্রহ বা প্রচার, কাভারেজে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের সম্পর্কে এমন তথ্য সংগ্রহ, তথ্য হাল নাগাদের জন্য সাধারণ নির্দেশনা দিয়ে থাকে পুলিশ সদর দপ্তর।

ঢাকার ক্ষেত্রে যা বাস্তবায়ন করে সিটিএসবি। তবে এজন্য সাংবাদিকদের ফোন করে তথ্য চাওয়ার নজির নেই বলে জানিয়েছেন সিটিএসবির একজন কর্মকর্তা।

তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এমনটি হওয়ার কথা না। মাঠ পর্যায়ে এমন তথ্য গোপনেই চেয়ে থাকে সরকার। সেটা গোয়েন্দা কার্যক্রমেই সংগ্রহ করে জানানোর নিয়ম। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কোনো এসবি সদস্য যদি সাংবাদিকদের ফোন করে তথ্যগুলো চান, অথবা বাড়ি বাড়ি গিয়েও চান, তা দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, এমনটি হওয়ার কথা না। তবুও খোঁজ নিচ্ছি। যদি কেউ এমনটি করে থাকেন তাহলে নির্দেশনা বুঝতে ভুল। বিষয়টি আবার নোটিশ করা হচ্ছে।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।

সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামে টয়লেট থেকে ফেরার পথে সাপের কামড়ে সরস্বতী মণ্ডল (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সরস্বতী মণ্ডল ওই গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের টয়লেট থেকে ফেরার সময় সরস্বতী মণ্ডল অসাবধানতাবশত একটি ইঁদুরের গর্তে পা দেন। এ সময় গর্তে থাকা একটি সাপ তাঁকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সকাল আটটার দিকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এ মৃত্যুর ঘটনায় পিসনাইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।