খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফোন দিয়ে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় কেন জানতে চাচ্ছে পুলিশ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফোন দিয়ে সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয় কেন জানতে চাচ্ছে পুলিশ?

রাজধানী ঢাকায় কর্মরত একাধিক সাংবাদিককে ফোন করে ও বাসায় গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লিংক-আইডি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদ্যুৎ বিলের কপিসহ ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাইছে পুলিশ।

পুলিশের বিশেষ শাখা (সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ-সিএসবি) থেকে চিঠি পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত সাংবাদিকদের ফোন করে এমন তথ্য চাওয়া হচ্ছে মাঠ পুলিশের পক্ষ থেকে। অনেকক্ষেত্রে মুঠোফোনেই হুমকি, আক্রমণাত্মক সুরে কথা বলছেন তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়া সিটিএসবির মাঠ সদস্যরা।

সিটিএসবিতে কর্মরত পুলিশ সদস্য পরিচয়ে ফোন পাওয়া একাধিক সাংবাদিক এমন প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ, নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কিত বলে জানিয়েছেন।

সম্প্রতি পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের পূর্ব বিভাগের পক্ষ থেকে মতিঝিল, তেজগাঁও, শাহবাগ, সূত্রাপুর, পল্টন ও সবুজবাগ জোন ইনচার্জদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সাংবাদিক ও ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের’ বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে নাম-ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংবাদিকতার বাইরে অন্য কোনো পেশা, পারিবারিক বৃত্তান্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকসহ নানা তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকা পোস্টের হাতে এমন একটি চিঠির কপি এসেছে।

এ নিয়ে ফোন পাওয়া, বাসায় গিয়ে পুলিশের তথ্য নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা বলছেন, রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা একজন সাংবাদিকের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইতে পারে না। এটি শুধু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থি নয়, বরং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। পুলিশ সদস্য পরিচয়ে প্রশ্ন করা, তথ্য চাওয়ার ধরনও অপেশাদার, হুমকিস্বরূপ। সরাসরি ফোন করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা জানতে চাওয়া, কেউ কেউ আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।

একটি বহুল প্রচারিত বেসরকারি টেলিভিশনের বিশেষ সংবাদদাতা বলেন, ‘আমাকে ফোন করে জানতে চাওয়া হয়েছে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, অতীতে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি কি না। প্রশ্নের ধরন ছিল জিজ্ঞাসাবাদের মতো। এতে আমি আতঙ্কিত বোধ করছি।’

তিনি বলেন, অতীতে অনেক ভিভিআইপি, ভিআইপি অনুষ্ঠান কাভার করেছি। পুলিশ যোগাযোগ করেছে, চা খাওয়ার কথা জানিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছে। কখনো এমন আক্রমণাত্মক, অপেশাদার আচরণ রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি।

সাংবাদিকদের কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘ভয়ংকর নজির’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এমন প্রশ্নের সম্মুখীন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বলেন, যিনি আমাকে ফোন করেছিলেন, আমি আমার তাকে অফিসে অথবা আমার সাংবাদিক সংগঠনে এসে দেখা করার কথা বললে তিনি বাড়ি/বাসা ছাড়া অন্য কোথাও কথা বলবেন না। সাথে বাসায় যাওয়ার আগে তার চাহিদা অনুযায়ী- এনআইডি, ছবি, বিদ্যুৎ বিলের কপি সংগ্রহে রাখতে বলা হয়।

ওই প্রতিবেদক বলেন, ‘তার ভাষ্য, প্রশ্ন ও তথ্য চাওয়ার ধরণ চরম অপেশাদার। মনে হচ্ছে তিনি অর্ডার করছেন, কখনো মনে হয়েছে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন।’

সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের ফোন পেয়ে অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আসিফ শওকত কল্লোল। তিনি মিরর এশিয়ার হেড অফ নিউজের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-সহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কর্মকাণ্ড ও ফোরামে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছেন।

তিনি বলেন, আমার ২৫ বছর সাংবাদিকতা জীবনের পুলিশের কাছ থেকে এমন প্রশ্ন কখনো শুনিনি। এটা ভয়াবহ ব্যাপার যে পুলিশ আমার সঙ্গে আমার বাসায় এসে আমার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইছেন। এটা পুলিশের এখতিয়ারে পড়ে না। আমিও বলতে বাধ্য নই। আমি সাংবাদিকতার বাইরে অন্য পেশা বা ব্যবসা করি কিনা সেটাও আমি বলতে বাধ্য নই। আমি যদি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যক্রমে যুক্ত থাকি, সেটা নিয়ে তারা তদন্ত করতে পারে। সেটা তাদের ব্যাপার। খোঁজ নিয়ে শুনতেছি  তিন থেকে সাড়ে তিন-শ’ সাংবাদিককে তালিকা করে এমন অপেশাদার ও হয়রানিমূলক প্রশ্ন করা হচ্ছে। যা সাংবাদিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় আঘাত বলে মনে করি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য তো সংশ্লিষ্ট তথ্য মন্ত্রণালয়ে আছে। তথ্য মন্ত্রণালয় চাইলে হাউজে বা সাংবাদিক সংগঠনের সহায়তা নিতে পারে। সেটা না করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এটা করছে? এটাকে ভালোভাবে নেওয়া সুযোগ নেই।

একটি ইংরেজি দৈনিকের তিনজনকে ফোন করে একইভাবে তথ্য পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই ইংরেজি দৈনিকের জ্যেষ্ঠ নারী সাংবাদিক বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাজই হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম কাভার করা। সেটিকে রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ভবিষ্যতে হয়রানি বা নজরদারির হাতিয়ার হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয়, এনআইডি কার্ডের কপি চাওয়াটা তো ইতিবাচক কিছু হতে পারে না।

সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এই পন্থায় সাংবাদিকদের তথ্য চাওয়াকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ভয়-ভীতির মধ্যে ফেলার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, আমাকেও ফোন করা হয়েছিল। আমি ব্যস্ততার কারণে সাক্ষাৎ করিনি। তবে গতকাল ও আজ শুনছি আমার অনেক সহকর্মীকে ফোন করে রাজনৈতিক পরিচয়, এনআইডির কপিসহ নানা তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এটা কেন করা হচ্ছে? এটা সরকার জানে কিনা? জানলে কি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে তা কিন্তু স্পষ্ট নয়। আমরা ডিআরইউর পক্ষে জানার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, এখন একটি রাজনৈতিক নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ছেঁকে ছেঁকে দলীয় নেতাকর্মীদের পুলিশে নিয়েছে। প্রশ্ন: তাদের কেউ এটা করছে কিনা?

তবে সরকারের সৎ উদ্দেশ্য যদি থাকেও সাংবাদিকের রাজনৈতিক পরিচয়, এনআইডি, বিদ্যুৎ বিলের কপি কেন চাওয়া হবে? এটা তো হতে পারে না। সাংবাদিক কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারে। কিন্তু রাজনীতি করার সুযোগ নেই। যিনি রাজনীতিবিদ তিনি সাংবাদিক নন। এটাকে কেন এক করে দেখা হচ্ছে সেটাও ভাববার ব্যাপার।

তিনি বলেন, ‘সরকার বা পুলিশের যদি এখানে নেতিবাচক কোনো উদ্দেশ্য থাকে তাহলে অতীতের ন্যায় সদস্যসহ সাংবাদিকদের সুরক্ষায় ডিআরইউ প্রতিবাদ জানাবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, এটা তো ভালোভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটা নিয়ে কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে পরিপত্র জারি করবে, অফিসে ফরম দেবে। সেটা পূরণ করার বিষয়। কিন্তু বিশেষ সংস্থা থেকে সাংবাদিকদের ফোন করা, বাসায় গিয়ে ইন্টারভিউ, তথ্য নেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকরা নীতি নৈতিকতা মেনেই সাংবাদিকতা করেন। আমরা দক্ষতা পরিচয় দিয়েই কাজ করি। কিন্তু পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে আমাদের অনেক সহকর্মী ভীতসন্ত্রস্ত। আমি মনে করি, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকির কোনো কিছুই শুভকর নয়। সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয় সেটি দেখবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের এ পদক্ষেপ কর্তৃত্ববাদী আমল কেন, কুখ‍্যাত নাৎসিবাদি বা উত্তর কোরীয় স্বৈরতান্ত্রিক চর্চাকেও ম্লান করে করে দিয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতা, ভিন্নমত, মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, যা বাংলাদেশের সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন যেখানে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে, তা স্বৈরাচারী কায়দায় পদদলিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেভাবেই ব‍্যখ‍্যা করা হোক না কেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও অভীষ্ট এবং বিশেষ করে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকারের গঠনের পর মুক্তগণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক চর্চাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের যেসব অঙ্গীকার সরকার দেশবাসীকে শুনিয়েছে বা এখনও শুনিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ যদি সরকারের নির্দেশে বা সরকারের সম্মতি বা অনাপত্তি সাপেক্ষে হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদ পতনের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন হয়ে সরকার কী পতিত সরকারের আমলের শাসনব্যবস্থার চেয়ে বেশি স্বৈরতান্ত্রিক শাসন পরিচালনার মাধ্যমে দেশে একচ্ছত্র রাজনৈতিক ভুবন প্রতিষ্ঠার অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত হতে চাইছে। সরকার কী এর মাধ্যমে এই বার্তা দিতে চায় যে কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণের বিবেচনায় তারা পতিত সরকারের চেয়ে বেশি পারদর্শী? আমরা আশা করতে চাই সরকারের বোধোদয় হবে এবং এ ধরনের আত্মঘাতী পথ থেকে সরে এসে এ সিদ্ধান্তের পেছনে যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।’

যদিও ভিভিআইপিদের অনুষ্ঠানের খবর সংগ্রহ বা প্রচার, কাভারেজে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের সম্পর্কে এমন তথ্য সংগ্রহ, তথ্য হাল নাগাদের জন্য সাধারণ নির্দেশনা দিয়ে থাকে পুলিশ সদর দপ্তর।

ঢাকার ক্ষেত্রে যা বাস্তবায়ন করে সিটিএসবি। তবে এজন্য সাংবাদিকদের ফোন করে তথ্য চাওয়ার নজির নেই বলে জানিয়েছেন সিটিএসবির একজন কর্মকর্তা।

তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এমনটি হওয়ার কথা না। মাঠ পর্যায়ে এমন তথ্য গোপনেই চেয়ে থাকে সরকার। সেটা গোয়েন্দা কার্যক্রমেই সংগ্রহ করে জানানোর নিয়ম। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কোনো এসবি সদস্য যদি সাংবাদিকদের ফোন করে তথ্যগুলো চান, অথবা বাড়ি বাড়ি গিয়েও চান, তা দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, এমনটি হওয়ার কথা না। তবুও খোঁজ নিচ্ছি। যদি কেউ এমনটি করে থাকেন তাহলে নির্দেশনা বুঝতে ভুল। বিষয়টি আবার নোটিশ করা হচ্ছে।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, দ্রুত ফাঁসির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, দ্রুত ফাঁসির দাবি

ঢাকার পল্লবীতে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্র শক্তি ফরিদপুর জেলা শাখা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে শহরের প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার মতো অপরাধ সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এসব অপরাধ দমনে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই। তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা রামিসা হত্যার বিচার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করে দোষীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম, সদস্য সচিব সজল, যুগ্ম-আহ্বায়ক বৈশাখী ইসলাম বর্ষা, মুখ্য সমন্বয়ক রাতুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জনি বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

“রাতজাগা ফরিদপুর রেলস্টেশনের নীরবতা”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
“রাতজাগা ফরিদপুর রেলস্টেশনের নীরবতা”

গভীর রাত। নিস্তব্ধ হয়ে আছে ফরিদপুর রেলস্টেশন। দিনের কোলাহল, মানুষের হাঁকডাক আর ট্রেনের তীব্র শব্দ যেন রাতের আঁধারের কাছে হার মেনে চুপ করে গেছে। চারদিকে শুধু অন্ধকারের বিস্তার। দূরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টগুলো ধিকিধিকি জ্বলছে, যেন ক্লান্ত প্রহরী হয়ে রাত পাহারা দিচ্ছে। সেই ম্লান আলো এসে পড়ছে রেললাইনের উপর, আর লোহার পাতগুলো চিকচিক করে উঠছে এক অদ্ভুত বিষণ্ন সৌন্দর্যে।

প্ল্যাটফর্মে কোথাও কোনো ভিড় নেই। নেই ব্যস্ত মানুষের ছুটে চলা, নেই চায়ের দোকানের কাপে কাপে ধোঁয়া ওঠা গল্প। শুধু হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে নীরবে। মাঝে মাঝে দূর থেকে ভেসে আসছে কুকুরের ডাক, আর তাতে নিস্তব্ধ রাত আরও গভীর হয়ে উঠছে। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ছোট ছোট জলকাদায় ল্যাম্পপোস্টের আলো পড়ে যেন ভাঙা আয়নার মতো ঝিলমিল করছে।

এই রাতের রেলস্টেশন যেন এক নিঃসঙ্গ কবিতা। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, জীবনের কত গল্প এই প্ল্যাটফর্ম চুপচাপ নিজের বুকে জমিয়ে রেখেছে। কত মানুষের বিদায়, কত প্রতীক্ষা, কত অশ্রু আর কত স্বপ্ন এই রেললাইন ধরে দূরে কোথাও হারিয়ে গেছে। দিনের ব্যস্ত শহর ঘুমিয়ে পড়লেও রেলস্টেশন যেন জেগে থাকে স্মৃতির পাহারায়।

ফরিদপুর রেলস্টেশনের এই নিরব রাত মানুষকে অদ্ভুত এক অনুভূতির ভেতর ডুবিয়ে দেয়। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ থেমে গেলেও কিছু অনুভূতি কখনো থামে না। অন্ধকারের মাঝেও মিটমিটে আলো যেমন জ্বলে থাকে, তেমনি মানুষের জীবনেও আশা নামের ছোট্ট আলোটি কখনো নিভে যায় না।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

কঠিন চাপের মুখে শান্ত থাকার ১০ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
কঠিন চাপের মুখে শান্ত থাকার ১০ উপায়

জীবন যখন এলোমেলো হয়ে যায়, তখন কেবল ‘শান্ত হও’ কথাটি শুনলে বিরক্তি জাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের মাথা ঠান্ডা রাখা কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নয়, বরং এটি একটি চর্চানির্ভর দক্ষতা।

মনোবিজ্ঞানীরা এমন কিছু কার্যকরী কৌশলের কথা বলেন যা আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরকে পরিস্থিতির সাথে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

চলুন জেনে নিই চাপের মুখে শান্ত থাকার ১০টি বৈজ্ঞানিক উপায়-

১. শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (বক্স ব্রিদিং)

আতঙ্কিত হলে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস অগভীর হয়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে বিপদের সংকেত দেয় [৩]। এটি কাটাতে ‘বক্স ব্রিদিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করুন—৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন, ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়ুন এবং আবার ৪ সেকেন্ড বিরতি দিন। এটি হৃদস্পন্দন কমিয়ে মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।

২. নিয়ন্ত্রণের গণ্ডি ছোট করে আনা

যেসব বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই (যেমন- অন্যের খারাপ মেজাজ বা বাজারের পরিস্থিতি) তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করলে উদ্বেগ আরও বাড়ে। তাই আপনার মনোযোগ কেবল সেই কাজে দিন যা আপনি এই মুহূর্তে করতে পারেন। ছোট কোনো কাজ, যেমন: টেবিল গুছানো বা একটি জরুরি ইমেল পাঠানো, আপনার অসহায়ত্বের বোধ কমিয়ে দেবে।

৩. বর্তমানের সাথে সংযোগ স্থাপন (৫-৪-৩-২-১ পদ্ধতি)

চাপের সময় মন প্রায়ই ভবিষ্যতের খারাপ চিন্তায় ডুবে যায়। মনকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনতে এই পদ্ধতিটি কার্যকর: চারপাশে দেখুন এবং মুখে নাম বলুন ৫টি দেখার মতো জিনিসের, ৪টি স্পর্শ করা যায় এমন জিনিসের, ৩টি শোনার মতো শব্দের, ২টি গন্ধের এবং ১টি স্বাদের। এটি আপনার মস্তিষ্ককে কাল্পনিক বিপদ থেকে সরিয়ে বাস্তবের তথ্যে নিবদ্ধ করে।

৪. মনের নেতিবাচক বয়ান বদলে ফেলা

নিজের সাথে নেতিবাচক কথা বলা বন্ধ করুন। ‘সব শেষ হয়ে গেল’—এমনটি না ভেবে নিজেকে বলুন, ‘পরিস্থিতি কিছুটা জটিল, তবে আমি ধাপে ধাপে এটি সামাল দিতে পারব’ । একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’ বলা হয়, যা আপনাকে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো ভীতি থেকে রক্ষা করে।

৫. দশ সেকেন্ডের বিরতি

বিপদের সময় আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাই, যা প্রায়শই ভুল হয়। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা উত্তর দেওয়ার আগে অন্তত ১০ সেকেন্ডের একটি বাধ্যতামূলক বিরতি নিন । এই সামান্য সময় আপনাকে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার বদলে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

৬. শরীরের যত্ন নেওয়া

যদি আপনার শরীরে ঘুম, পানি বা পুষ্টিকর খাবারের অভাব থাকে, তবে ছোটখাটো সমস্যাও পাহাড়ের মতো মনে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং হাইড্রেটেড থাকা বিলাসিতা নয়, বরং মানসিক স্থিরতার জন্য অপরিহার্য। একটি সুস্থ শরীর স্বাভাবিকভাবেই কম স্ট্রেস হরমোন তৈরি করে।

৭. তথ্যের জোয়ার নিয়ন্ত্রণ

চাপের সময় সারাক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা নিউজ পোর্টাল স্ক্রল করা আগুনের ওপর পেট্রোল ঢালার মতো কাজ করে। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য কঠোর সীমানা নির্ধারণ করুন। তথ্য যত কম প্রবেশ করবে, মনের স্বচ্ছতা তত বাড়বে।

৮. কঠোর আত্ম-সমালোচনা বন্ধ করুন

নিজের ভেতরের নেতিবাচক সমালোচককে বিদায় দিন। নিজেকে দোষারোপ করলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একজন ভালো কোচের মতো নিজেকে সমর্থন করুন এবং মনে করিয়ে দিন যে আপনি এর আগেও অনেক কঠিন সময় পার করেছেন।

৯. বিশ্বস্ত মানুষের সাথে কথা বলা

মানুষের সাথে সংযোগ স্ট্রেসের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে [৮]। এমন কোনো বন্ধু বা মেন্টরের কাছে মনের ভার নামিয়ে ফেলুন যিনি আপনাকে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে না গিয়ে কেবল মন দিয়ে শুনবেন। এটি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং সমস্যাকে ছোট করে দেখতে সাহায্য করে।

১০. ছোট ছোট রুটিন মেনে চলা

পারিপার্শ্বিক অবস্থা যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন ছোট ছোট রুটিন আপনাকে মানসিকভাবে নিরাপদ রাখবে। সকালে নিয়ম করে কফি বানানো, দুপুরের বিরতিতে ১০ মিনিট হাঁটা বা ঘুমানোর আগে ডায়েরি লেখা—এই ছোট কাজগুলো আপনার মস্তিষ্ককে মনে করিয়ে দেয় যে আপনি এখনও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আছেন। মনে রাখবেন, বাইরের বিশৃঙ্খলা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও, নিজের ভেতরের শান্তি ধরে রাখার চাবিকাঠি কিন্তু আপনার হাতেই।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া