খুঁজুন
, ,

“ভেজা চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক পৃথিবীর কান্না”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
“ভেজা চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক পৃথিবীর কান্না”

ফরিদপুর রেলস্টেশন। গভীর রাতের এক অদ্ভুত নিরবতা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। দিনের কোলাহল, মানুষের ব্যস্ততা, ট্রেনের শব্দ—সব যেন কোথাও মিলিয়ে গেছে।

প্ল্যাটফর্মের লাইটগুলো মৃদু আলো ছড়াচ্ছে, যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তারাও। দূরে কোথাও একটি কুক চড়ুই ডাকছে, তার সেই একঘেয়ে শব্দ যেন রাতের নিস্তব্ধতাকে আরও গভীর করে তুলছে। আর মাঝেমধ্যে কয়েকটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠছে, যেন তারা এই নির্জনতার একমাত্র প্রহরী।

আমি হাঁটছিলাম আনমনে। কোনো গন্তব্য ছিল না, কোনো তাড়া ছিল না। শুধু হাঁটছিলাম, নিজের ভেতরের অজানা ভাবনাগুলোর সঙ্গে। হঠাৎ চোখ পড়লো স্টেশনের এক কোণের পুরোনো একটি বেঞ্চে। সেখানে শুয়ে আছে একজন মানুষ। উসকোখুসকো চুল, এলোমেলো দাড়ি, শরীরজুড়ে একটি মলিন চাদর। প্রথমে মনে হলো তিনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ পড়ে থাকা ভঙ্গি যেন অন্য কিছু বলছিল।

আকাশে তখন মেঘ জমেছে। দূরে কোথাও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। মনে হচ্ছিল, বৃষ্টি নামতে আর দেরি নেই। অথচ মানুষটি তবুও নিশ্চুপ। যেন এই পৃথিবীর কোনো পরিবর্তনই তার কাছে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার শরীরের উপর জড়ানো চাদরটি বাতাসে একটু নড়ছে, কিন্তু তার ভেতরের মানুষটি যেন স্থির—একেবারে পাথরের মতো।

মনে হলো, তার কোনো ঘর নেই। মাথা গোঁজার মতো একটুখানি আশ্রয়ও নেই। তাই হয়তো এই রেলস্টেশনই তার ঠিকানা হয়ে গেছে। এই বেঞ্চই তার বিছানা, এই খোলা আকাশই তার ছাদ। রাতে সে খেয়েছে কি না—তার খবর রাখার মতো কেউ নেই। তার জীবনের হিসাব রাখারও কেউ নেই।

একটু দূরে দাঁড়িয়ে আমি তাকে দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই মানুষটির জীবন যেন এক অজানা গল্পে ভরা। হয়তো একসময় তারও একটা পরিবার ছিল। কেউ তাকে ভালোবাসতো, কেউ তার জন্য অপেক্ষা করতো। হয়তো তারও ছিল স্বপ্ন—একটা ঘর, একটু শান্তি, একটু নিশ্চিন্ত জীবন। কিন্তু সময়ের নির্মমতায় সেই সবকিছুই হারিয়ে গেছে।

হঠাৎ ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামলো। বড় বড় ফোঁটা এসে পড়তে লাগলো প্ল্যাটফর্মে। কিছু মানুষ দৌড়ে আশ্রয় নিলো ছাদের নিচে। কিন্তু সেই মানুষটি—তিনি নড়লেন না। বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে ভিজিয়ে দিলো তার চাদর, তার শরীর, তার চুল। তবুও কোনো শব্দ নেই, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম। একজন মানুষ কতটা কষ্ট পেলে এমন নির্বিকার হয়ে যেতে পারে? কতটা অভিমান জমে থাকলে নিজের ভিজে যাওয়াটাও আর গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না? মনে হলো, তার ভেতরের অনুভূতিগুলো যেন অনেক আগেই মরে গেছে। অথবা হয়তো এতটাই ব্যথা জমেছে যে, আর নতুন করে কোনো অনুভূতি জাগে না।

বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিলো তার নীরবতা। আশেপাশে কিছু মানুষ তাকে দেখে গেলো, কেউ একটু তাকালো, কেউ আবার তাকানোরও প্রয়োজন বোধ করলো না। যেন সে এই পৃথিবীর একজন মানুষ নয়—একটি অবহেলিত ছায়ামাত্র।

আমি ভাবলাম, আমরা কত সহজেই এমন মানুষদের পাশ কাটিয়ে যাই। তাদের কষ্ট, তাদের ক্ষুধা, তাদের অভাব—এসব যেন আমাদের চোখেই পড়ে না। অথচ তারাও আমাদের মতোই মানুষ। তাদেরও আছে অনুভূতি, আছে স্বপ্ন, আছে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

বৃষ্টি থামলো কিছুক্ষণ পর। প্ল্যাটফর্মে জমে থাকা পানিতে আলো পড়ে চিকচিক করছে। সেই মানুষটি তখনো শুয়ে আছেন, ভেজা শরীর নিয়ে। হয়তো তিনি ঠান্ডায় কাঁপছেন, হয়তো তার শরীর ক্লান্তিতে অবশ হয়ে গেছে। কিন্তু তার মুখে কোনো অভিযোগ নেই, কোনো চাওয়া নেই।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাত আরও গভীর হলো। ট্রেনের কোনো শব্দ নেই, মানুষের কোলাহল নেই। শুধু সেই মানুষটি, আর তার নিঃসঙ্গতা। মনে হচ্ছিল, এই পুরো স্টেশনটাই যেন তার জীবনের প্রতিচ্ছবি—শূন্য, নির্জন, আর অবহেলায় ভরা।

হয়তো মাঝেমধ্যে তার মনে প্রশ্ন জাগে—কেন এমন হলো জীবন? কোথায় হারিয়ে গেলো সবকিছু? কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কেউ নেই। কেউ তার পাশে বসে শোনে না তার গল্প, কেউ তার চোখের জল দেখে না।

তার জীবনের মানে এখন হয়তো খুব ছোট হয়ে গেছে—এক মুঠো ভাত, এক মগ পানি, আর একটি রাত পার করার মতো একটি আশ্রয়। তবুও সে বেঁচে আছে। কারণ মানুষ বাঁচতে চায়, যত কষ্টই থাকুক না কেন।

আমি ধীরে ধীরে সেখান থেকে চলে আসছিলাম। কিন্তু সেই দৃশ্যটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, আমরা কতটা ভাগ্যবান—যাদের মাথার ওপর একটা ছাদ আছে, যাদের পাশে কিছু মানুষ আছে, যারা খোঁজ নেয়।

আর সেই মানুষটি? তিনি হয়তো এখনো শুয়ে আছেন সেই বেঞ্চে, আরেকটি রাত পার করার অপেক্ষায়। হয়তো আগামীকালও একইভাবে কাটবে তার দিন, একইভাবে কাটবে তার রাত।

এই পৃথিবীতে কত গল্পই না ছড়িয়ে আছে—যেগুলো আমরা দেখি, কিন্তু বুঝি না। অনুভব করি না। অথচ সেই গল্পগুলোই আমাদের মানুষ হতে শেখায়, আমাদের হৃদয়কে নরম করে, আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন, আর সামান্য সহানুভূতি একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

হয়তো আমরা সবাই মিলে একটু করে এগিয়ে এলে, সেই মানুষটির মতো আর কেউ একা পড়ে থাকবে না কোনো রেলস্টেশনের বেঞ্চে। হয়তো কোনো একদিন, এই পৃথিবীটা একটু হলেও বেশি মানবিক হয়ে উঠবে।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাট ধোয়ার সময় পুকুরে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাট ধোয়ার সময় পুকুরে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় পাট ধোয়ার সময় পুকুরে পড়ে আলামিন শেখ (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকালে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের রেনিনগর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলামিন ওই গ্রামের শামসুল শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আলামিন শেখ বাড়ির পাশের পুকুরে পাট ধোয়ার কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে মাথায় থাকা পাটের বোঝা পুকুরপাড়ে নামানোর সময় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে অচেতন হয়ে যান। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আলামিন দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পানিতে পড়ে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল মোল্লাসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তি মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

সালথায় ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরের সালথায় মো. আক্কাস মাতুব্বর (৪৮) নামে এক ইউপি সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

যদিও দেড় বছর আগে জোর করে তাকে দিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে ভিডিওটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্য আক্কাস। এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আক্কাসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

আক্কাস মাতুব্বর সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি একই ইউনিয়নের গৌড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি টিনের ঘরের খাটের ওপর খালি গায়ে বসে সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন জ্বালিয়ে তিনি ইয়াবা সেবন করছেন। এ সময় তার সামনে বসে থাকা অপর এক অজ্ঞাত ব্যক্তির পা দেখা যায়। ধারনা করা হচ্ছে- তিনিই ভিডিওটি ধারণ করেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আক্কাস মাতুব্বর বলেন, ভিডিওটি প্রায় দেড় বছর আগের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাশ্ববর্তী জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের হুগলাকান্দি এলাকায় তাকে কয়েকজন ব্যক্তি আটকে রেখে হয়রানি করেন। এ সময় জোরপূর্বক তার হাতে ইয়াবা দিয়ে সেবন করানো হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। তবে কারা তাকে আটকে রেখেছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নজরে আসার পর ওই ইউপি সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুরে পূবালী ব্যাংক পিএলসির হাট কৃষ্ণপুর উপ-শাখার উদ্যোগে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। “লেনদেন হবে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কৃষ্ণপুর বাজারে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের হাট কৃষ্ণপুর উপ-শাখার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ব্যাংকের উপ-শাখা কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হাট কৃষ্ণপুর উপ-শাখার ব্যবস্থাপক মো. আল-আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির সদরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. শাহাদাত হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী আবুল কাইয়ুম হিরু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কোরমান আলী কুটি, মোকাদ্দেস ফকিরসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, গ্রাহক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিকতায় ক্যাশলেস লেনদেন সময় সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের মোবাইল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক লেনদেনে উৎসাহিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।