খুঁজুন
, ,

‘ছোট্ট রামিসার শেষ কান্না’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
‘ছোট্ট রামিসার শেষ কান্না’

রাত তখন গভীর। ঢাকার পল্লবীর আকাশে ঝুলে ছিল একরাশ কালো মেঘ। চারদিকে নিস্তব্ধতা। রাস্তার বাতিগুলোও যেন কাঁপছিল ভয়ে। সেই রাতেই ছোট্ট রামিসা হারিয়ে যায়। রামিসা ছিল এক ফুটফুটে শিশু। তার হাসিতে ভরে উঠতো পুরো মহল্লা। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে বেড়াতো গলির একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে। মা ডাকলে মিষ্টি কণ্ঠে বলতো, “এই তো আসছি আম্মু!” তার ছোট্ট চোখে ছিল হাজার স্বপ্ন। একদিন ডাক্তার হবে, গরিব মানুষকে চিকিৎসা দেবে, মায়ের জন্য লাল শাড়ি কিনবে, বাবার জন্য পাঞ্জাবি আনবে। কিন্তু মানুষরূপী এক পশু সব স্বপ্ন শেষ করে দিল।

সোহেল রানা—নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নৃশংস অন্ধকার। যে শিশুর নিষ্পাপ মুখ দেখেও থামেনি। যার হৃদয়ে ছিল না কোনো মায়া, ছিল না মানবতা। সেদিন বিকেলে রামিসা খেলছিল বাড়ির সামনে। হাতে ছিল একটি ভাঙা পুতুল। পুতুলটার নামও দিয়েছিল সে—“মিনি”। বন্ধুদের সাথে খেলতে খেলতে কখন যে দূরে চলে যায়, কেউ খেয়াল করেনি। মা ভেবেছিলেন একটু পরই ফিরে আসবে। কিন্তু সন্ধ্যা নামলো, আজানের ধ্বনি ভেসে এলো, তবুও রামিসা ফিরলো না। মায়ের বুক কেঁপে উঠলো। তিনি ছুটলেন গলির পর গলি। প্রতিটি দরজায় কড়া নেড়ে বললেন, “আমার মেয়েকে দেখেছেন?” কেউ দেখেনি। কেউ জানেনি। চারদিকে শুধু আতঙ্ক।

রাত বাড়তে লাগলো। বাবার চোখে তখন ভয়। কাঁপা গলায় তিনি বললেন, “আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিন।” মানুষ খুঁজতে বের হলো। মাইকিং হলো। পুলিশ এলো। পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠলো কান্নায়। তারপর এলো সেই ভয়ংকর মুহূর্ত। একটি নির্জন স্থানে পাওয়া গেল ছোট্ট রামিসাকে—নিথর, নীরব, রক্তাক্ত। চারপাশে তখন মানুষের আর্তনাদ। মায়ের চিৎকারে আকাশ ভারী হয়ে গেল। তিনি মেয়েকে বুকে জড়িয়ে বলছিলেন, “একবার চোখ খোল মা!” কিন্তু রামিসা আর চোখ খোলেনি। যে শিশুটি একটু আগেও হাসছিল, সে এখন সাদা কাপড়ে মোড়ানো।

পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লো ক্ষোভ। মানুষ লিখলো—“এই হত্যার বিচার চাই।” স্কুলের শিশুরাও কেঁদেছে। মায়েরা সন্তানকে বুকে চেপে ধরেছে। বাবারা আতঙ্কে কেঁপে উঠেছেন। কারণ রামিসা শুধু একটি নাম নয়, রামিসা ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর প্রতিচ্ছবি। এরপর গ্রেফতার হলো সোহেল রানা। পুলিশের হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। চোখে কোনো অনুতাপ ছিল না, ছিল না অপরাধবোধ। মানুষ তার ছবি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লো। সবাই বললো, “এমন মানুষ বাঁচার অধিকার হারিয়েছে।”

আদালতে নেওয়া হলো তাকে। সেখানে সে নিজের দায় স্বীকার করলো। জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর সত্য। আদালত কক্ষ নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেকের চোখে জল ছিল। কেউ মাথা নিচু করে কাঁদছিলেন। একজন বৃদ্ধ বললেন, “শিশুরা যদি নিরাপদ না থাকে, তবে সমাজ বেঁচে থাকে কিভাবে?” একজন মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আজ রামিসা গেছে, কাল আমার সন্তানও যেতে পারে।” মানুষ রাজপথে নেমে এলো। মানববন্ধন হলো। মিছিল হলো। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।” কেউ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, কেউ মোমবাতি জ্বালিয়েছিল, কেউ চুপচাপ চোখ মুছছিল।

একটি ছোট শিশু মায়ের হাত ধরে জিজ্ঞেস করেছিল, “আম্মু, আপুটাকে কেন মেরে ফেললো?” মা উত্তর দিতে পারেননি। শুধু শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে কেঁদেছেন। রামিসার ঘর এখন নিস্তব্ধ। তার বইগুলো টেবিলে পড়ে আছে। স্কুলব্যাগে এখনও খাতা রাখা। খাতার পাতায় আঁকা ছোট্ট ফুল। মা প্রতিদিন সেই খাতা খুলে দেখেন, কাঁদেন, আবার বন্ধ করেন। রাতে তিনি এখনও মেয়ের কণ্ঠ শুনতে পান। মনে হয় রামিসা বলছে, “আম্মু, আমি এসেছি।” কিন্তু দরজা খুললে কেউ থাকে না।

বাবা আর আগের মতো কথা বলেন না। চুপচাপ বসে থাকেন। মেয়ের পুরোনো জামা হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। একদিন তিনি বললেন, “আমার মেয়ের কী অপরাধ ছিল?” কেউ উত্তর দিতে পারেনি। পল্লবীর সেই গলি আজও রামিসাকে খোঁজে। যেখানে সে খেলতো, যেখানে সে হাসতো। শিশুরা এখন সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরে যায়। মায়েরা আতঙ্কে দরজা বন্ধ করে রাখেন। কারণ একটি ঘটনা পুরো সমাজকে বদলে দিয়েছে।

সোহেল রানার বিচার চেয়ে মানুষ এখনও সোচ্চার। কারণ তারা জানে—এই বিচার শুধু রামিসার জন্য নয়, এই বিচার প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তার জন্য। যখন আদালতে বিচার শুরু হয়, মানুষ টিভির সামনে বসে খবর দেখেছে। প্রতিটি আপডেট শুনেছে। প্রতিটি তথ্য শুনে কেঁপে উঠেছে। একজন শিক্ষক বললেন, “যে শিশুদের ভালোবাসতে শেখেনি, সে মানুষ হতে পারে না।” একজন কবি লিখলেন—“রামিসার কান্না রাত জাগে।” একজন সাংবাদিক লিখলেন—“এই হত্যাকাণ্ড আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

মানুষ বিচার চায়। দ্রুত বিচার। দৃষ্টান্তমূলক বিচার। কারণ দেরি মানে অপরাধীদের সাহস বাড়ানো। রামিসার কবরের পাশে প্রায়ই মানুষ যায়। ফুল রেখে আসে। দোয়া করে। এক বৃদ্ধা সেখানে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “আল্লাহ, আর কোনো মায়ের কোল খালি কইরেন না।” বাতাস তখন ভারী হয়ে উঠেছিল। ছোট্ট একটি জীবন, কত স্বপ্ন ছিল, কত আশা ছিল—সব শেষ হয়ে গেল নির্মমতার কাছে।

সোহেল রানার ছবি আজ মানুষের ঘৃণার প্রতীক। মানুষ তার দিকে তাকিয়ে অভিশাপ দেয়। কারণ সে শুধু একটি শিশুকে হত্যা করেনি, সে হত্যা করেছে মানবতাকে। রামিসার মা এখনও মাঝরাতে জেগে ওঠেন। মনে হয় মেয়ে পানি চাইছে। তিনি দৌড়ে যান। তারপর মনে পড়ে—রামিসা আর নেই। এই শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হবে না।

একটি শিশুর হাসি হারিয়ে গেছে। একটি পরিবারের পৃথিবী ভেঙে গেছে। একটি সমাজ লজ্জিত হয়েছে। তবুও মানুষ আশায় বুক বাঁধে। বিচার হবে। অপরাধীর শাস্তি হবে। যাতে আর কোনো রামিসাকে এভাবে হারাতে না হয়। আজও পল্লবীর আকাশে রাত নামলে মানুষ সেই ঘটনার কথা মনে করে। কেউ চুপ হয়ে যায়, কেউ চোখ মুছে। আর দূরে কোথাও যেন ভেসে আসে এক শিশুর কান্না—“আমাকে বাঁচাও…”

রামিসা আর ফিরবে না। কিন্তু তার স্মৃতি বেঁচে থাকবে। তার জন্য মানুষের ভালোবাসা বেঁচে থাকবে। তার জন্য ন্যায়বিচারের দাবি বেঁচে থাকবে। যতদিন এই দেশের মাটিতে শিশুরা হাসবে, ততদিন মানুষ রামিসার কথা মনে রাখবে। আর বলবে—“শিশু হত্যাকারীদের কোনো ক্ষমা নেই।”

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রেন টিউমার হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রেন টিউমার হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

ভূমিকা বর্তমান যুগে আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত হাতছাড়া হয় না এই প্রযুক্তি। কিন্তু এই অফুরন্ত ফোন ব্যবহারের সাথে সাথেই আমাদের মনের কোণে উঁকি দেয় একটি বড় সংশয়; দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করলে কি ব্রেন টিউমার হতে পারে? কিংবা বাড়ির পাশে থাকা মোবাইল টাওয়ার কি আমাদের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে ফেলছে?

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিতর্ক ও সাধারণ মানুষের মনের ভয় দূর করতে সম্প্রতি ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর লাইফস্টাইল বিভাগে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ভারতের ফরিদাবাদের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর এবং মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. সানি জৈন।

তার মতে, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন বা মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি থাকার কারণে ব্রেন টিউমার বা ক্যান্সারের আশঙ্কাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত ভুল ধারণা বা ‘মিথ’।

তিনি বলেন, মোবাইল টাওয়ার বা সেলফোনের দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে ব্রেন টিউমার হতে পারে—এমন দাবির সপক্ষে আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানসম্মত তত্ত্ব বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসা পরিভাষায় একে তিনি ‘করিডোর নলেজ’ বা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসকের দাবি, সমাজের এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়া এই মনগড়া তথ্যগুলোই কালক্রমে মানুষের মনে অবৈজ্ঞানিক ভয়ের জন্ম দেয়, যার সাথে বাস্তব বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই।

রেডিয়েশনের প্রকারভেদ: আয়নাইজিং বনাম নন-আয়নাইজিং

ড. জৈনের মতে, রেডিয়েশনের সব ধরন এক নয় এবং আমাদের ভয়ের মূল কারণ হলো সব ধরনের রেডিয়েশনকে এক পাল্লায় মাপা। ক্ষতিকারক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে রেডিয়েশনকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. আয়নাইজিং রেডিয়েশন: এই ধরনের রেডিয়েশনের শক্তি অত্যন্ত বেশি থাকে। এটি মানবদেহের কোষ ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে এবং সরাসরি ডিএনএ বা জিনগত কাঠামো ভেঙে ফেলতে সক্ষম। এই ডিএনএ মিউটেশন বা বিকৃতির ফলেই পরবর্তীতে ক্যান্সার বা টিউমার সৃষ্টি হয়।

২. নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন: মোবাইল ফোন এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে যে রেডিয়েশন নির্গত হয়, তা মূলত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (Radiofrequency energy) তরঙ্গ, যা সম্পূর্ণভাবে নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত।

মোবাইল রেডিয়েশন কি ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারে?

ড. সানি জৈন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, মোবাইল ফোন বা টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের শক্তি অত্যন্ত দুর্বল। মানবদেহের কোষে প্রবেশ করে ডিএনএ ভেঙে ফেলার মতো কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশনের নেই। সুতরাং, এই দুর্বল রেডিও তরঙ্গ আমাদের শরীরের ডিএনএ বা জিনের কোনো ক্ষতি করতে পারে না, যার ফলে ক্যান্সার বা ব্রেন টিউমার হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না।

বৈশ্বিক গবেষণা ও ডব্লিউএইচও-র মতামত

মোবাইল রেডিয়েশনের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বছরের পর বছর ধরে ব্যাপক গবেষণা চালানো হয়েছে। ড. জৈন উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণমূলক ট্র্যাকিং, যেমন—‘কসমস’ স্টাডি, নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাসের সাথে ব্রেন টিউমারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক বা কারণ খুঁজে পায়নি। বিজ্ঞানের বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী, সব রেডিয়েশনের কার্যকারিতা ও শক্তির মাত্রা ভিন্ন হওয়ায় মোবাইল ফোন নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ফরিদপুরের গোপালপুর-মৈনট ঘাটে ইজারা কম, ভাড়া বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের গোপালপুর-মৈনট ঘাটে ইজারা কম, ভাড়া বেশি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর-মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটে ইজারা মূল্যে ধস নামলেও উল্টো বেড়েছে যাত্রী পারাপারের ভাড়া। সেই সঙ্গে ঘাটের চৌহদ্দি বা সীমানা অস্বাভাবিকভাবে সম্প্রসারণ করা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও বিতর্ক। ২০২২ সালে যেখানে এই ঘাটটির ইজারা মূল্য ছিল ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, সেখানে চলতি বছরে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

গত তিন বছর ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া এই ঘাটটি এবার নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেওয়া হলেও কমেনি যাত্রী পারাপারের মাশুল, বরং বাড়ানো হয়েছে ভাড়া।

​২০২৫ সাল পর্যন্ত স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা এবং লঞ্চে ৭০ টাকা। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পিডবোটে ১৭৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণের কথা বলা হলেও স্থানীয়ভাবে ১৮০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

অন্যদিকে লঞ্চে ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০ টাকা। শুধু ভাড়াই নয়, ঘাটের সীমানা বাড়িয়ে দুই পাড় মিলিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার পদ্মা পারকে গোপালপুর-মৈনট ঘাটের আওতায় আনা হয়েছে। এতে হাজীডাঙ্গী, এমপি ডাঙ্গী ও টিলারচরসহ আশপাশের একাধিক ঘাটের কার্যক্রম ও সরকারি রাজস্ব আদায় মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

​ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে কম দামে ইজারা নিয়েছেন এবং সীমানা বাড়িয়ে সরকারের অন্যান্য ঘাটের রাজস্ব কমিয়ে দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদারের অংশীদার মো. আজিজ মাষ্টার দাবি করেন, তাঁরা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত হারেই ভাড়া আদায় করছেন।

​এদিকে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, ঘাটটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সেখান থেকেই স্পিডবোটে ১৭৫ টাকা ও লঞ্চে ৮০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া যাত্রী পারাপার করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে ইজারা মূল্য হ্রাসের পেছনে প্রকৃত কারণ ও সীমানা বৃদ্ধির বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরে জিয়া ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে জিয়া ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত জিয়া খাল ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে শহরের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনের মহাসড়কে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাল দুটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ও মাচ্চর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য জলাবদ্ধ পানিতে মিশে কুড়িগাড়া বিল, টেংরামারা বিল, তলাপত্তর বিল ও বাঁশগাড়ি খাদের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।

​বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরাসরি উপস্থিত হয়ে খাল দুটি পুনঃখনন করেছিলেন। এর ফলে অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে গতি এসেছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল দুটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করার দাবি জানান তারা।

​কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে খাল পুনঃখননের পাশাপাশি ফরিদপুরে পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল স্থাপনসহ আট দফা দাবি জানানো হয়।

​কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ফরিদপুর জেলা কমিটির সভাপতি সুধীন সরকার মঙ্গল, সহ-সভাপতি আবু হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত বিশ্বাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আব্দুল্লাহ্ সাঈদ, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খাঁন রেজাউল কবীর বাচ্চু, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি জাহানারা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মল্লিকসহ স্থানীয় কৃষকরা।