খুঁজুন
, ,

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

আবহমান গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, উৎসব আর প্রাণের উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। একই সঙ্গে বসবে গ্রামীণ মেলা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সুর আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠবে মালঞ্চ নদীর মোহনা সংলগ্ন বটতলার আষাঢ়ের বিল।

আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে অনুষ্ঠিত হবে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। খোয়াড় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণবন্ত আয়োজন। একসময় বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-খাল ও বিলাঞ্চলে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসত মানুষের মিলনমেলা। কালের পরিবর্তনে এবং নৌপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় এ আয়োজন এখন আর তেমন দেখা যায় না। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই স্থানীয়দের এ উদ্যোগ।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলায়ও থাকবে উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হবে আনন্দের মিলনমেলায়। মেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য, খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন। দর্শকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং উৎসবস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের আশা, নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল কয়েক হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগানে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে আবহমান বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য।

“বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপত্তা ও পূর্ণ স্বাধীনতায় উৎসব পালন করে”: শামা ওবায়েদ

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
“বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপত্তা ও পূর্ণ স্বাধীনতায় উৎসব পালন করে”: শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে দেশের সকল ধর্মের মানুষ সমঅধিকার, পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​তিনি সন্ধ্যায় রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

​মণ্ডপ পরিদর্শনকালে শামা ওবায়েদ বলেন, “বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

​বিগত ১৭ বছর দেশের মানুষকে অত্যন্ত কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সকল ধর্মের মানুষ এক হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উৎসব উদযাপন করছেন। এটাই বাংলাদেশের আসল সৌন্দর্য ও মাধুর্য।”

​পরিদর্শনকালে মণ্ডপে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে বিগত সরকারের বরাদ্দের সাথে বর্তমান সরকারের বরাদ্দের তুলনা করে তিনি জানতে চান, এ বছর তাঁরা আগের চেয়ে বেশি সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন কি না। জবাবে উপস্থিত সকলেই ইতিবাচক সাড়া দেন।

​এ সময় ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মিয়াজী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ এবং নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

​এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, সহ-সভাপতি মাহাবুব আলী মিয়া, যুবদলের আহ্বায়ক তৈয়াবুর রহমান, রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল সত্তার মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সালাম বেপারী, সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মাতুব্বর, প্রচার সম্পাদক হাকিম মুন্সি, যুবদল নেতা তুষার মন্ডল, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক টগড় মন্ডলসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা সুইচগেট সংলগ্ন নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩২ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নদীর পশ্চিম পাশে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে।

​খবর পেয়ে একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিআইডি পুলিশের সদস্যরা। মরদেহটি উদ্ধারের পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ ও নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে নৌপুলিশ নিহতের মরদেহ হেফাজতে নেয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে।

​তবে নিহত ব্যক্তি কীভাবে মারা গেছেন এবং তাঁর পরিচয় কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, আমরা নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে নৌপুলিশের সহায়তায় সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখ (২৭) নামে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​দণ্ডিত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।

​পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর চারটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত ক্যানটিনের তালা ভেঙে এসব মালামাল চুরি হয়। হাসপাতালটিতে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির বিষয়টি ধরা পড়েনি। পরদিন শনিবার সকালে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

​পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত মান্না শেখকে শনাক্ত করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে।

​এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। রোববার বিকেলে আসামিকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের পর মালামাল উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

​এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানকারী কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।