খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

‘কৌতূহলবশত সাইবার অপরাধে জড়াচ্ছে যুবসমাজ’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪১ পিএম
‘কৌতূহলবশত সাইবার অপরাধে জড়াচ্ছে যুবসমাজ’

বন্ধুদের প্ররোচনায় বা কৌতুহলবশত যুবসমাজ সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। যা থেকে বের হতে না পেরে আত্মহত্যা বা নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে যুবসমাজ। সাইবার ক্রাইমের এমন ভয়াবহ দিক তুলে ধরে ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি এগুলো থেকে প্রতিকার ও সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন অতিথিবৃন্দ।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোস্যাল অর্গানাইজেশন নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়৷ এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য, লিডারশীপ, শিক্ষা ও ক্যারিয়ার, তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল, বিশেষ অতিথি ছিলেন- সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ এম এ আব্দুল হালিম ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আল আমিন সরোয়ার।

বক্তারা জানান, দিনদিন সাইবার অপরাধের পরিধি বিস্তৃতিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। স্ক্যামিং, বুলিং, ফিশিং, হ্যাকিং, ডিজিটাল প্রতারণা, অনলাইন জুয়া মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। এ ধরনের অপরাধের কেউ শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনশট বা পোস্টটি সেভ করে নিকটস্থ থানায় অবগত করতে হবে কিংবা বিশ্বস্ত কারো সাথে শেয়ার করতে হবে। এছাড়া অজানা লিংকে প্রবেশ করার বিষয়ে নিষেধ করা হয়। কারণ, এমন এসব লিংকের মাধ্যমে বা ফিশিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হতে হয় বলে সতর্কতা করা হয়। এছাড়া এআইয়ের নেতিবাচক দিক নিয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

আয়োজিত এ কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন তরুণ প্রতিনিধি ও সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী রিয়াজ। তিনি বলেন- সাইবার অপরাধ সংশ্লিষ্ট যারা কার্যক্রম করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাথমিক দিক দিয়ে কৌতুহলবশত ঝুঁকে পড়ে। পরবর্তীতে যেখান থেকে আর বের হতে পারে না। সমাজে অনলাইন জুয়া একই পদ্ধতিতে গেঁথে যাচ্ছে। প্রথমে বন্ধুদের প্ররোচণা কিংবা নিজে কৌতুহল বশীভূত হয়ে অনলাইনে খুব দ্রুত টাকা ইনকামের নেশায় একবার জড়িয়ে পড়ে আর বের হতে না পেরে নিজে তো ধ্বংস হচ্ছে পাশাপাশি পরিবারকেও ধ্বংস করছে। এক পর্যায়ে কোনো না কোনোভাবে ট্রাপে পড়ে যায় সে, তখন পরিবারকে না জানিয়ে বা আইনের আশ্রয় না নিয়ে ট্র্যাপ থেকে বাঁচতে আরও ঘনিষ্ঠতায় চলে যায়। যার কারণে নেশায় জড়িয়ে পড়ে বা আত্মহত্যার করে থাকে।

এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল। তিনি সাইবার অপরাধের প্রতিকারের দিক তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার বলেন- “সাইবার সুরক্ষার নতুন আদেশ হয়েছে, যেখানে অনলাইন জুয়ার জরিমানা এক কোটি টাকা ও দুই বছরের কারাদণ্ড। যদি কারো মোবাইলে জুয়ার অ্যাপ পাওয়া যায় তাহলে এই ধারা প্রযোজ্য। এছাড়া ফিশিংয়ের মাধ্যমে একজনের তথ্য ব্যবহার করে অন্যজন একজন অপরাধ করে যাচ্ছে বলে পুলিশ সুপার সতর্ক করেন। এক্ষেত্রে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের অনুরোধ জানান পুলিশ সুপার।

তিনি আরও বলেন- এসব অপরাধের কারণে একবার যদি মামলায় কারও নাম উঠে যায় তাহলে তাহলে নিষ্পত্তি হতে ১৪ থেকে ২০ বছর সময় লেগে যাবে। এই ২০ বছর সময়ের মধ্যে কেউ যদি সরকারি চাকরি পায় তাহলে ভেরিফেকেশনের ক্ষেত্রে সুপারিশ করা যাবে না বলে পুলিশ সুপার জানান।

এছাড়া কর্মশালায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আল আমিন সরোয়ার। তিনি সকলকে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠার অনুরোধ জানান। এছাড়া লিডারশীপ, শিক্ষা ও ক্যারিয়ার, তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন- সংস্থাটির সদস্য কাজী জেবা তাহসিন, উপদেষ্টা শামসুদ্দিন করিম ও রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মামুন রহমান।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।