খুঁজুন
, ,

গণভোট-২০২৬: ফরিদপুরে সুজনের উঠান বৈঠকে নারীদের কণ্ঠে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
গণভোট-২০২৬: ফরিদপুরে সুজনের উঠান বৈঠকে নারীদের কণ্ঠে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি

দেশব্যাপী গণসচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গণভোট-২০২৬ বিষয়ে ফরিদপুরে প্রচারণা চালাচ্ছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা এলাকায় এক উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উঠান বৈঠকে স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সুজন বন্ধু ও সাংবাদিক সোহাগ মাতুব্বর।

উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গণভোট-২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা তুলে ধরা হয়। লিফলেটের মাধ্যমে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যটি জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট। এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে জনগণ সরাসরি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানাতে পারবেন।

বক্তব্যে সোহাগ মাতুব্বর বলেন, গণভোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখা, যাতে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের সুযোগ না থাকে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যেন একসঙ্গে দলীয় প্রধান বা সংসদ নেতা হতে না পারেন, সে বিষয়েও প্রস্তাব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সংসদ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য আনা, সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা এবং বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার করাও সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনা, বিতর্ক ও জবাবদিহি বাড়বে।

উঠান বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সোহাগ মাতুব্বর বলেন, “বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পায় না। তাই বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রস্তাব গণভোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।” একই সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধে রাষ্ট্রপতির নির্বিচার ক্ষমা প্রদানের সুযোগ সীমিত করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে নীতিনির্ধারণে নারীদের কণ্ঠ আরও শক্তিশালী হবে। এতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার সুরক্ষিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উঠান বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থানীয় নারীরা বলেন, এর আগে তারা গণভোট নিয়ে খুব বেশি জানতেন না। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো পরিষ্কার হওয়ায় এখন তারা ভোট দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হয়েছেন। রেবা বেগম নামে এক নারী বলেন, “এই গণভোট শুধু রাজনীতিবিদদের বিষয় নয়, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত।” সাথী আক্তার নামে আরেক নারী বলেন, “আমরা চাই দেশে সুশাসন থাকুক, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। তাই আমরা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমাদের মতামত জানাব।”

বৈঠকে ভোট প্রদানের নিয়মাবলিও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা, ভোটকক্ষে মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা ব্যবহার না করা এবং ব্যালটে সঠিকভাবে সিল দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। একই ব্যালটে একাধিক স্থানে সিল দিলে ভোট বাতিল হবে বলেও জানানো হয়।

সুজন সূত্র জানান, গণভোট-২০২৬ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভা অব্যাহত রয়েছে।

 

সালথায় কৃষকদলের আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
সালথায় কৃষকদলের আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল আটঘর ইউনিয়ন শাখার আংশিক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সালথা উপজেলা কৃষকদলের পক্ষ থেকে এই আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়।

​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সালথা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান (হাফিজ) এবং সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন স্বাক্ষরিত প্যাডে এই কমিটি অনুমোদিত হয়েছে।

​অনুমোদিত কমিটিতে মো. আতিকুর রহমান মোল্যাকে সভাপতি এবং মো. শফিকুল ইসলাম (সুফিকে) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

​কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যারা স্থান পেয়েছেন তারা হলেন— ​সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. ইউসুফ মাতুব্বর,​সহ-সভাপতিগণ মো. নাসির হায়দার দরজী, মো. মাহফুজুল রহমান, মো. লাল মিয়া খান, মো. হাফিজুর রহমান, মো. জাহিদ ফকির ও মো. বকুল খান

​সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: মো. ইউসুফ মোল্লা,​যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
​যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসান মন্ডল ও মো. লাভলু শেখ। ​সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ফজর আলী মাতুব্বর, মো. ছমির মোল্লা ও মো. এনায়েত মোল্লা,​সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গাউস হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকমো. রবিউল মাতুব্বর ও মো. রোকন মাতুব্বর।

​দপ্তর সম্পাদক মো. রাজিবুল ইসলাম সুমন, ​সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. শাকিল মোল্লা, ​প্রচার সম্পাদক মো. লিটন সরকার, ​প্রকাশনা সম্পাদক মো. রাজিব খান,​শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. রকিবউদ্দিন মোল্যা (মঞ্জুর), ​স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম,​কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. বিল্লাল শিকদার।

​এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মো. আসাদ মিয়া, মো. ইউনুস মোল্যা, মো. সেকেন মাতুব্বর, মো. জামাল শেখ, মো. ইলিয়াছ শেখ, মো. আব্দুল করিম, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. উজ্জ্বল মোল্যা ও মো. শাকিল মৃধাকে।

​সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

‘অসভ্যতার ভদ্রবেশ’

শাবলু শাহাবউদ্দিন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
‘অসভ্যতার ভদ্রবেশ’

মানুষের আত্মা আজ পচে গেছে স্তূপে স্তূপে,

সভ্যতার মুখোশটা সে পরে নেয় রোজ খুব মাপে।

রক্তের স্রোত বয়ে যায় মানুষের ভেতরেই সুপ্ত,
মানুষ তো অমানুষ হলো, হৃদয়টা পুরোপুরি লুপ্ত।

শিক্ষার আলোয় আজ চারপাশ ঝলমল করে,

হিসাবের খাতা খোলে শিক্ষিত মানুষ স্বার্থের ঘরে।
ডিগ্রির পাহাড় জমে, সার্টিফিকেট ওড়ে বাতাসে,
কিন্তু মনটা যে পড়ে থাকে পশুপাখি কিংবা লাশের পাশে!

কত না বুলি আওড়ায়, কত নীতি, কত শত বাণী,

ভিতরটা হাহাকার, লোভের আগুনে পুড়ে ছাই জানি।
বইয়ের পাতায় শেখা বিদ্যা মুখে শুধু বুলি ফোটায়,
বিবেকটা মারা গেছে, স্বার্থের মোড়কে মন মোড়ায়।

তবে কি মানুষ তবে সভ্য হলো নাকি হলো অসভ্য?

এই পচা যুগে মানবতা আজ বড়ই নিঃস্ব ও লভ্য।
পোশাকে পরিপাটি, ঠোঁটে হাসি, মনে হিংসার বিষ,
এই আধুনিক পশুপাট্টা—আমাদের বর্তমান দিশা নিশি!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এইচএসসিতে ফেল দুই-তৃতীয়াংশ, শীর্ষে মহিলা কলেজ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এইচএসসিতে ফেল দুই-তৃতীয়াংশ, শীর্ষে মহিলা কলেজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার চারটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬৯২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৪৪৮ জন। এতে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

​তবে ফলাফলের এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও ৭০.৯৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ।

​প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার চারটি কলেজ থেকে এবার মোট ৬৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৪৪ জন। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

​ফলাফলের চিত্রে দেখা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

​অন্যদিকে উপজেলার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের ফলাফলের চিত্র ছিল হতাশাজনক। এই কলেজ থেকে ৪৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৫৭ জন, পাসের হার ৩২.০৪ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

​এছাড়া আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজ থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে (পাসের হার ৩৯.৫২% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন)। হাজী আফিজউদ্দিন আলেকজান কলেজ থেকে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৬ জন (পাসের হার ৩৪.০৪%), এই প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

​চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ হলেও আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাসের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৬.৮৬ শতাংশ কম। এমন ফলাফলে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং পারিবারিক তদারকির অভাবে এমন বিপর্যয় ঘটেছে।

​উপজেলা পর্যায়ে পাসের হারে শীর্ষে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ ফাতেমা অনন্যা বলেন, “সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত পাঠদান, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ায় আমাদের এই সাফল্য এসেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।”

​সার্বিক বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব জানান, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আগামীতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ মনিটরিং জোরদার করা হবে।