খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ, ১৪৩২

‘চাঁদাবাজি করলে বিন্দু পরিমান কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ — ওসি বাবলু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:০৬ পিএম
‘চাঁদাবাজি করলে বিন্দু পরিমান কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ — ওসি বাবলু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে পুলিশের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা করে সালথা থানা পুলিশ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান। মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন সালথা থানার এএসআই শাহবুদ্দীন খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালথা থানার ওসি বলেন—
“সালথা থেকে মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। কোনো দলের আতি নেতা বা পাতি নেতা যদি চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকে, তাহলে বিন্দু পরিমাণ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এসব অন্যায়ের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদেরকে সালথার বুকে থাকতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

কৃষি ও সামাজিক শান্তি প্রসঙ্গে ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন— “সালথা উপজেলা কৃষিতে ভরপুর একটি এলাকা। আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কৃষিজমি। কাইজ্যা-মারামারি বাদ দিয়ে সবাই যদি কৃষি কাজে মন দেয়, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে সালথা উপজেলা ‘সোনার সালথা’ হিসেবে গড়ে উঠবে।”

তিনি আরও বলেন—“আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সালথা গড়তে চাই। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর রহমান, প্রচার সম্পাদক নাসির মাতুব্বর, সালথা উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফ, সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সালথা উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, আটঘর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রবিউল মাতুব্বর, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মিঠু, যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম বিশু, মুরাদুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খান, শিমুল মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আটঘর ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা শওকত ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন আটঘর ইউনিয়নের সভাপতি কারী ওবায়দুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ভুট্টো মাতুব্বর, মাজেদ মাতুব্বর, ফিরোজ মাতুব্বর, সালথা উপজেলা গণধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ইতিহাসের পাতায় তৃতীয়বার—আওয়ামী লীগ ছাড়া সংসদ নির্বাচন

শামীম খান ও মহিউদ্দিন মাহমুদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৬ এএম
ইতিহাসের পাতায় তৃতীয়বার—আওয়ামী লীগ ছাড়া সংসদ নির্বাচন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয়বার আওয়ামী লীগকে ছাড়াই হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন। এর আগের দুইবার অবশ্য আওয়ামী লীগ নিজে থেকে সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। পরবর্তীতে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে দলটির নাম ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ রাখা হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। এর আগে ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচার এরশাদের অধীনে এবং ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার অধীনে সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল দলটি।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন:

প্রতিষ্ঠার পর সর্বপ্রথম ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। ১৯৫৪ সালের ৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন অর্জন করে। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৪৩টি, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ১৯টি, গণতন্ত্রী দল ১৩টি এবং কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি আসন পায়।

সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য ৭২টি আসন সংরক্ষিত ছিল।

এগুলোর মধ্যে কংগ্রেস ২৪টি, কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, শিডিউল্ড কাস্ট ফাউন্ডেশন ২৭টি, গণতন্ত্রী দল ৩টি এবং ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ পার্টি ১৩টি আসন লাভ করে। মোট আসন ছিল ৩০৯টি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন (১৯৬৫):

১৯৬৫ সালের পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তবে ওই নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহ জয়ী হতে পারেননি।

১৯৭০-এর নির্বাচন:

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচন।এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পূর্ব পাকিস্তানে ১৬২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানের বাকি দুটি আসনের মধ্যে একটিতে জয়ী হন নুরুল আমিন এবং অপরটিতে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়। অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ১৩৮টি আসনের মধ্যে ৮১টি আসনে জয়লাভ করে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে পাকিস্তান পিপলস পার্টি।

সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় প্রাদেশিক নির্বাচন। এ নির্বাচনেও পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ।

স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচন:

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ১২টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করে।

প্রথম সংসদ নির্বাচন:

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় লীগের ১ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ১ জন এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর ছয় মাস।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন:

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল তিন বছর।

এই নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়ী হয়। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি, জাসদ ৮টি, মুসলিম ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৬টি আসনে জয়ী হয়।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন:

১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১৭ মাস।
এ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয়ী হয় স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি।

অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৬টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পাঁচটি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩২টি আসনে জয়ী হন। বিএনপি এ নির্বাচন বয়কট করে।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন:

১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল দুই বছর সাত মাস।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। এটি ছিল আওয়ামী লীগের প্রথমবার কোনো নির্বাচনের বাইরে থাকা। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। ১৯টি আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয় সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন:

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশে সংসদ নির্বাচন হয়। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয়ী হয়। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়ী হয়। এই সংসদের মেয়াদ ছিল চার বছর আট মাস।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন:

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন।

তৎকালীন সরকারি দল বিএনপির অধীনে হওয়া এ নির্বাচন বয়কট করে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এটি ছিল আওয়ামী লীগের দ্বিতীয়বার নির্বাচনের বাইরে থাকা।

এ নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে ৪৯টি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ১টি আসনে ফ্রিডম পার্টি, ১০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন, ১০টি আসনের ফলাফল অসমাপ্ত ছিল এবং একটি আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হয়।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন:

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ১১৬টি, জাতীয় পার্টি ৩২টি এবং জামায়াতে ইসলামী তিনটি আসনে জয়ী হয়।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন:

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে ১৯৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অন্য দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৬২টি, জামায়াতে ইসলামী ১৭টি এবং জাতীয় পার্টি ও ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১৪টি আসনে জয়ী হয়।

নবম সংসদ নির্বাচন:

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ভোট। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি এবং জামায়াতে ইসলামী ২টি আসনে জয়ী হয়।

দশম সংসদ নির্বাচন:

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। এই নির্বাচন ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন’ নামে পরিচিত।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

এ নির্বাচনে মোট ১২টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ একাই ২৩৪টি আসন পায়, যার মধ্যে ১৫৩টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ (ইনু) ৫টি, তরীকত ফেডারেশন ২টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২টি, বিএনএফ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে।

একাদশ সংসদ নির্বাচন:

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। এই সংসদ নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত।

এ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের সবাই অংশ নেন। নিবন্ধন না থাকায় অংশ নিতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসন পায়। জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়। অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বয়কট করেছিল (জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ছিল না)।

২০১৪ সালের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা যাতে জয়ী না হয়, সে জন্য অভিনব কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ। ডামি প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায় দলটি। এই নির্বাচনটি ‘ডামি নির্বাচন’ নামে পরিচিত।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২২টি আসন, জাতীয় পার্টি (জাপা) ১১টি আসন এবং জাসদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে আসন জয়ী হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ৬২ জন, যাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ নেতা।

এই সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকে দেশ পরিচালনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

সূত্র : বাংলানিউজ২৪

‘সুষ্ঠু ভোট হলেই ক্ষমতায় বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান’— শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৬ এএম
‘সুষ্ঠু ভোট হলেই ক্ষমতায় বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান’— শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ‘শামা ওবায়েদ ইসলাম’ বলেছেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং কোনো ধরনের কারচুপি না হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করবে। সে ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানই হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী— এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, আজ ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত জনসভায় জনাব তারেক রহমান বৃহত্তর ফরিদপুরের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ফরিদপুর বিভাগ গঠন এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে সামনে রেখে নতুন করে ভাবতে হবে। একটি উন্নয়নশীল সালথা উপজেলা গড়তে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে হবে এবং খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ তৈরি করতে হবে। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে এবং নির্বাচনে বিজয়ী হলে এসব উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হবে। আধুনিক মাদরাসা ও মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি ছাত্র ও যুবসমাজের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ক্রীড়া সেন্টার স্থাপন করা হবে।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, তাঁর বাবা প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমান সততার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন। সেই আদর্শ ধারণ করেই তিনি সালথা ও নগরকান্দাকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে চান। এই এলাকায় চাঁদাবাজি, দালালচক্র ও টেন্ডারবাজির কোনো স্থান হবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, মনিরুজ্জামান মোল্যা, মজিবর সরদার, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এনটিআরসিএতে বড় নিয়োগ: ১৩,৫৯৯ পদে আবেদন শুরু আজ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৭ এএম
এনটিআরসিএতে বড় নিয়োগ: ১৩,৫৯৯ পদে আবেদন শুরু আজ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সুপারসহ ১৩ হাজার ৫৯৯টি প্রশাসনিক পদে ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬’- এর অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে।

নতুন প্রকাশিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের প্লাটফরম হালনাগাদ করার সুবিধার্থে এ সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

এনটিআরসিএ’র পরিচালক (পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটি মঙ্গলবার এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর সংশ্লিষ্ট নতুন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে।

জারিকৃত এ নতুন নীতিমালার আলোকে এনটিআরসিএ’র নিয়োগ পরীক্ষার অনলাইন আবেদন গ্রহণের প্লাটফরমটি হালনাগাদ করার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

অনিবার্য কারণে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এনটিআরসিএ’র তথ্য অনুযায়ী, মাউশির স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে মোট শূন্যপদ ১০ হাজার ২৭৮টি। এরমধ্যে স্নাতক (পাস) কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪, উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ পদে শূন্যপদ রয়েছে ৭৬৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ তিন হাজার ৯২৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ তিন হাজার ৮৭২টি। এছাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ ৫০৪টি।

এনটিআরসিএ আরো জানিয়েছে, মাদরাসা অধিদফতরের আওতাধীন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষের শূন্যপদ ৩৪টি এবং উপাধ্যক্ষ পদে শূন্য রয়েছে ৫৩টি। ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ পদ ২০২টি, ফাজিলের উপাধ্যক্ষ পদ ৩৪৩টি, আলিমের অধ্যক্ষ পদ শূন্য ২১৯টি, উপাধ্যক্ষ পদ ৩৭৭টি। এছাড়া দাখিল মাদরাসায় সুপার পদ শূন্য ৮৯১টি এবং সহকরী সুপারের এক হাজার চারটি শূন্যপদ রয়েছে। সবমিলিয়ে মাদরাসায় অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্যপদ তিন হাজার ১৩১টি।

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীন ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য অধ্যক্ষ পদ ১১০টি, ভোকেশনালে শূন্য সুপার পদ ৪০টি এবং সহকারী সুপার ৪০টি। সবমিলিয়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদ শূন্য ১৯০টি বলে জানায় এনটিআরসিএ।

এনটিআরসিএ’র অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যোগ্য ও আগ্রহী প্রার্থীদের http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট https://ntrca.gov.bd এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে।