খুঁজুন
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

চার প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

শিক্ষা ডেস্ক:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৫ এএম
চার প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সরকারের তিনজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ (ইউএনও) ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আল মামুন মামলাটি করেছেন। তবে এখনো তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি।

মামলার আসামিরা হলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা টুকটুক তালুকদার, নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হায়াত এবং কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান। তারা সবাই আইভিএ কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

অন্য আসামিরা হলেন, ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস)’ এর নির্বাহী পরিচালক মোছা. আয়েশা আক্তার, ‘এসো গড়ি, সোনার বাংলা’র নির্বাহী পরিচালক গাউসুল আজম ও সাবেক উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোখছেদ আলী; কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটির সাবেক সদস্য সচিব কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান, কালাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য হাসান আলী, নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য নীলিমা জাহান, গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য আনোয়ার আলী, কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য অরুণ চন্দ্র রায় ও কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য তৌহিদা মোহতামিম।

যে কারণে দায়ের করা হয় মামলাটি :

জানা যায়, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের একটি প্রকল্পে ১ হাজার ৩৫৬ জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে দুদকে পেয়েছে মাত্র ১১ জন। অথচ এই বিষয়ে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এর মাধ্যমে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর এ সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮-১৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া ও বিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই না করে, প্রকৃত ঝরে পড়া ও বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী না নিয়ে ১ হাজার ৬৫৭ জন ভুয়া ঝরে পড়া ও বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখানো হয়। তাদের নিয়ে ৫৫টি ভুয়া উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা দেখানো হয়। ভুয়া শিক্ষার্থীদের নামে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়।

কত টাকা আত্মসাৎ?

প্রকল্পের চুক্তিপত্রের ৫ম অ্যাপেনডিক্স অনুসারে, ৫৫ টি শিক্ষণকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ প্রত্যেক শিক্ষকের বেতন ৫ হাজার টাকা হারে বার্ষিক ৩৩ লাখ টাকা, অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচাদি প্রতিটির জন্য ২২ হাজার ৬৯০ টাকা হারে মোট ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫০ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষক ও অন্যান্যদের ট্রেনিংয়ের খরচাদি প্রতিটির জন্য ৬২ হাজার ৩৯২ টাকা হারে মোট ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৬০ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পোশাকের খরচাদি প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ৮০০ টাকা হারে মোট ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং স্কুল ব্যাগের খরচাদি প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা হারে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্র) রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ব্যবস্থাপনা খরচাদি ও অন্যান্য খরচসহ ওই প্রকল্পের মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এর সঙ্গে বাস্তবায়ন সহায়ক সংস্থা/লিড এনজিও জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের (এসডিএস) একটি চুক্তিপত্র হয়। যার পঞ্চম অ্যাপেনডিক্স অনুযায়ী, কালাই উপজেলার ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্রে ২ হাজার ৯৮ জন শিক্ষার্থীর যাবতীয় খরচাদির জন্য ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাস্তবায়ন সহায়ক সংস্থা/লিড এনজিও চুক্তির আলোকে সব কাজ সম্পন্ন করবে বলে চুক্তিতে বলা হয়।

তবে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস) তাদের কৌশলগত প্রয়োজনে নির্ধারিত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা সম্পন্ন স্থানীয় একটি এনজিও ‘এসো গড়ি, সোনার বাংলা’কে সহযোগী সংস্থা হিসেবে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে। তাদেরকে ওই প্রকল্পের কালাই উপজেলার ৭০টি শিখনকেন্দ্রের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্নের দায়িত্ব দেয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামি আয়েশা আক্তার, গাউসুল আজম ও মোখছেদ আলী ১ হাজার ৬৫৭ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলেও অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ওই শিক্ষার্থীদের নাম জরিপের তালিকায় দেখান। তারা ৫৫টি উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করেননি।

প্রথম ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি কমিটির কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান, টুকটুক তালুকদার, ডা. মো. হাসান আলী, নীলিমা জাহান ও মো. আনোয়ার আলী শুরু থেকেই দায়িত্বরত থেকে বিধিমালা অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) স্থাপনের তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়, শিক্ষক, সিএমসি সদস্য, শিক্ষা উপকরণ এবং ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের যথাযথ ভ্যালিডেশন করার কথা থাকলেও তারা তা করেননি। এছাড়া দায়িত্বে চরম অবহেলা, ভুয়া-অগ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্র তৈরিতে সহযোগিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জরিপ তালিকায় ক্যাম্পেইন কমিটির সভাপতি অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়ন/এনওসি থাকা বাধ্যতামূলক থাকার পরও সভাপতির প্রত্যয়ন ব্যতীত-ই শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন ও ভ্যালিডেশন কার্যক্রমে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

জরিপের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দুদক জানায়, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ জন, অথচ রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে, কালাই উপজেলায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থী মাত্র ১১ জন পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পিইডিপি-৪ এর সাব কম্পোনেন্ট ২.৫ আউট অব চিলড্রেন এডুকেশন কার্যক্রমের শিখন কেন্দ্র মাঠ পর্যায়ে ভ্যালিডেশন ও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতিবেদন ছাড়া উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোনো বিলের অর্থ ছাড় অনুমোদন করেন না। অথচ তিনিসহ তাদের কমিটি এসব বিষয় যাচাই বাছাই ছাড়াই সমস্ত কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এছাড়াও, পরবর্তী ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি কমিটির জান্নাত আরা তিথি, আবুল হায়াত, শামিমা আক্তার জাহান, অরুণ চন্দ্র রায়, তৌহিদা মোহতামিম বিধিমালা অনুযায়ী, উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) প্রতিটি উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়, শিক্ষক, সিএমসি সদস্য, শিক্ষা উপকরণ এবং ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের যথাযথ ভ্যালিডেশন করার কথা থাকলেও তা ওই কমিটি করেনি। এছাড়া দায়িত্বে চরম অবহেলা, ভুয়া-অগ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্র তৈরিতে সহযোগিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তারা।

 

তিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও এক ইউএনও ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটির সভাপতি ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর টুকটুক তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বাক্ষরে কোনো টাকা তো যায়নি। উপজেলায় মনিটরিং টিমে ছিলাম শুধু। দুদক তো আমাকে আসামি করার কথা নয়। সাক্ষী করেছে কিনা, ভালো করে দেখুন।’

শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘কালাই উপজেলায় আমি যোগ দেওয়ার আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর কালাইতে যোগ দিয়েছিলাম। আগের ইউএনও স্যারের রিপোর্ট অনুযায়ী আমি শুধু প্রকল্প সমাপনী প্রত্যয়ন প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছি। দুদক আমার কোনো বক্তব্য নেয়নি।’

জান্নাত আরা তিথি বলেন, ‘দুদকের মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। দুদক বলতে পারবে কেন আমাকে আসামি করছে।’

অপর আসামি আবুল হায়াত কল রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তথ্য সূত্র : দৈনিক শিক্ষা ডটকম

ফরিদপুরে শ্রমজীবীদের সঙ্গে একই কাতারে ইফতার, মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ফরিদপুরে শ্রমজীবীদের সঙ্গে একই কাতারে ইফতার, মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক অনন্য মানবিক ও সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়। পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে দৈনিক সমকাল-এর সহযোগী সংগঠন ‘সমকাল সুহৃদ সমাবেশ, ফরিদপুর’ উদ্যোগে শ্রমজীবী মানুষের সম্মানে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার মাহফিল।

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ৯ম রমজানে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। দিনভর রোজা রাখার পর ইফতারের আগে থেকেই সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। আয়োজকদের আন্তরিকতা, সম্মান ও ভালোবাসায় সবাই যেন এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ইফতারে অংশগ্রহণকারী শতাধিক শ্রমজীবী মানুষ একই কাতারে বসে ইফতার করেন, যা ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সাম্য ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এসময় উজ্জ্বল বিশ্বাস নামে এক রিকশাচালক বলেন, “আমরা সাধারণত আলাদা আলাদা জায়গায় ইফতার করি। কিন্তু এখানে সবাই একসাথে বসে ইফতার করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য।”

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সাবেক সভাপতি সৌমিত্র মজুমদার পলাশ। তিনি বলেন, “রমজান আমাদের সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। আজকের এই আয়োজন সেই শিক্ষারই বাস্তব প্রতিফলন। এখানে সবাই একই কাতারে বসে ইফতার করছে, যা সমাজে সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।”

ইফতার মাহফিলে রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশ, ফরিদপুরের সভাপতি হারুনার রশিদ। তিনি বলেন, “রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাস। এই মাস আমাদের শেখায় কিভাবে অন্যের কষ্ট অনুভব করতে হয় এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। এ ধরনের আয়োজন সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সকলের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহমর্মিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ফরিদপুরের সাধারণ সম্পাদক আবরাব নাদিম ইতুর নেতৃত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুল ইসলামের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে শিক্ষক সাহানা জলি, শামীমা শিমু, প্রভাত সিং, সাংবাদিক মফিজুর রহমান শিপন, অপূর্ব অসীম, হারুন-অর-রশীদসহ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

সৌদি আরবে ফরিদপুরের প্রবাসীর মৃত্যু: লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি পরিবারের

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
সৌদি আরবে ফরিদপুরের প্রবাসীর মৃত্যু: লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি পরিবারের

সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া রবিউল মোল্যা (২৭)-এর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের বন্ডপাশা গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন নিহতের পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রবিউল মোল্যা বন্ডপাশা গ্রামের মৃত আউল মোল্যার ছেলে। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা করে মাত্র কিছুদিন আগে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন রবিউল। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রেখে গেছেন ২৮ মাস বয়সী এক শিশু সন্তান, স্ত্রী, মা ও ভাইবোনদের। পরিবারের দাবি, অর্থাভাবে তারা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছেন না।

নিহতের মা চিনি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সন্তানদের মানুষ করেছি। ধার করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম, যেন সংসারের অভাব দূর হয়। এখন তার লাশটা দেশে আনার সামর্থ্যও আমাদের নেই। আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি, যেন আমার ছেলের লাশটা দেশে এনে শেষবারের মতো দেখতে পারি।”

স্ত্রী তাপসী বেগম (২১) ও ছোট ভাই আইয়ুব মোল্যা (২৫) বলেন, “আমাদের একটাই চাওয়া—রবিউলের মরদেহ যেন দেশে আনা হয়। তার ছোট্ট সন্তানটি যেন অন্তত বাবার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাই প্রবাসীদের যেকোনো বিপদে রাষ্ট্রের এগিয়ে আসা উচিত। তারা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এ সময় বক্তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে অসহায় পরিবারটি শেষ বিদায় জানাতে পারে তাদের প্রিয়জনকে।

ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মা থেকে বালি কাটায় দুইজনকে আটক, ড্রেজার পাইপ ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মা থেকে বালি কাটায় দুইজনকে আটক, ড্রেজার পাইপ ধ্বংস

ফরিদপুরের সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে নেওয়ার সময় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় পাঁচশত মিটার ড্রেজার কাজে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করা হয়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে এ অভিযানে পরিচালনা করা হয়।

সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজ উদ্দিন মুন্সির ডাংগী হতে রাজাই ব্যাপারীর ডাঙ্গী পর্যন্ত সড়কে এ অভিযান চলে। এ সময় বালু কাটার কাজে অংশ নেওয়া দুই শ্রমিক ফরহাদ শেখ (৩০) ও রুবেলকে (৩১) হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী হতে মমিন খার হাটে চলাচলের সড়কে অভিযান পরিচালনা করে চালু অবস্থায় একটি অবৈধ ড্রেজারের প্রায় ৫০০ মিটার পাইপ ধ্বংস করি।

এ সময় অবৈধ ড্রেজারে বালুকাটার কাজে নিয়োজিত দুইজন শ্রমিককে আটক করা হয়। আটকৃতরা জানান, রাকিব নামে একজন এই ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করেন, সে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলা সংলগ্ন মগরব মাতুব্বরের পাড়ার জয়নাল মাতব্বরের ছেলে। অবৈধ ড্রেজার মালিককে অফিসে এসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অবৈধ ড্রেজারসহ যেকোনো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।

অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিশেষ সহকারি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, স্থানীয় মেম্বার মো. ইউনুস আলী বেপারী, আনসার সদস্য ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশেরা।