খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

চার প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

শিক্ষা ডেস্ক:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চার প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সরকারের তিনজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ (ইউএনও) ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আল মামুন মামলাটি করেছেন। তবে এখনো তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি।

মামলার আসামিরা হলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা টুকটুক তালুকদার, নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হায়াত এবং কালাই উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান। তারা সবাই আইভিএ কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

অন্য আসামিরা হলেন, ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস)’ এর নির্বাহী পরিচালক মোছা. আয়েশা আক্তার, ‘এসো গড়ি, সোনার বাংলা’র নির্বাহী পরিচালক গাউসুল আজম ও সাবেক উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোখছেদ আলী; কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটির সাবেক সদস্য সচিব কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান, কালাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য হাসান আলী, নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য নীলিমা জাহান, গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য আনোয়ার আলী, কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য অরুণ চন্দ্র রায় ও কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও আইভিএ কমিটির সাবেক সদস্য তৌহিদা মোহতামিম।

যে কারণে দায়ের করা হয় মামলাটি :

জানা যায়, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রাথমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের একটি প্রকল্পে ১ হাজার ৩৫৬ জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে দুদকে পেয়েছে মাত্র ১১ জন। অথচ এই বিষয়ে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এর মাধ্যমে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর এ সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮-১৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া ও বিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই না করে, প্রকৃত ঝরে পড়া ও বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী না নিয়ে ১ হাজার ৬৫৭ জন ভুয়া ঝরে পড়া ও বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখানো হয়। তাদের নিয়ে ৫৫টি ভুয়া উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা দেখানো হয়। ভুয়া শিক্ষার্থীদের নামে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়।

কত টাকা আত্মসাৎ?

প্রকল্পের চুক্তিপত্রের ৫ম অ্যাপেনডিক্স অনুসারে, ৫৫ টি শিক্ষণকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ প্রত্যেক শিক্ষকের বেতন ৫ হাজার টাকা হারে বার্ষিক ৩৩ লাখ টাকা, অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচাদি প্রতিটির জন্য ২২ হাজার ৬৯০ টাকা হারে মোট ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫০ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষক ও অন্যান্যদের ট্রেনিংয়ের খরচাদি প্রতিটির জন্য ৬২ হাজার ৩৯২ টাকা হারে মোট ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৬০ টাকা, ৫৫টি শিক্ষণকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পোশাকের খরচাদি প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ৮০০ টাকা হারে মোট ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং স্কুল ব্যাগের খরচাদি প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা হারে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্র) রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ব্যবস্থাপনা খরচাদি ও অন্যান্য খরচসহ ওই প্রকল্পের মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এর সঙ্গে বাস্তবায়ন সহায়ক সংস্থা/লিড এনজিও জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের (এসডিএস) একটি চুক্তিপত্র হয়। যার পঞ্চম অ্যাপেনডিক্স অনুযায়ী, কালাই উপজেলার ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিখনকেন্দ্রে ২ হাজার ৯৮ জন শিক্ষার্থীর যাবতীয় খরচাদির জন্য ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ কোটি ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাস্তবায়ন সহায়ক সংস্থা/লিড এনজিও চুক্তির আলোকে সব কাজ সম্পন্ন করবে বলে চুক্তিতে বলা হয়।

তবে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস) তাদের কৌশলগত প্রয়োজনে নির্ধারিত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা সম্পন্ন স্থানীয় একটি এনজিও ‘এসো গড়ি, সোনার বাংলা’কে সহযোগী সংস্থা হিসেবে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে। তাদেরকে ওই প্রকল্পের কালাই উপজেলার ৭০টি শিখনকেন্দ্রের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্নের দায়িত্ব দেয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামি আয়েশা আক্তার, গাউসুল আজম ও মোখছেদ আলী ১ হাজার ৬৫৭ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলেও অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ওই শিক্ষার্থীদের নাম জরিপের তালিকায় দেখান। তারা ৫৫টি উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) প্রতিষ্ঠা করেননি।

প্রথম ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি কমিটির কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান, টুকটুক তালুকদার, ডা. মো. হাসান আলী, নীলিমা জাহান ও মো. আনোয়ার আলী শুরু থেকেই দায়িত্বরত থেকে বিধিমালা অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) স্থাপনের তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়, শিক্ষক, সিএমসি সদস্য, শিক্ষা উপকরণ এবং ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের যথাযথ ভ্যালিডেশন করার কথা থাকলেও তারা তা করেননি। এছাড়া দায়িত্বে চরম অবহেলা, ভুয়া-অগ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্র তৈরিতে সহযোগিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জরিপ তালিকায় ক্যাম্পেইন কমিটির সভাপতি অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়ন/এনওসি থাকা বাধ্যতামূলক থাকার পরও সভাপতির প্রত্যয়ন ব্যতীত-ই শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন ও ভ্যালিডেশন কার্যক্রমে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

জরিপের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দুদক জানায়, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ জন, অথচ রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে, কালাই উপজেলায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থী মাত্র ১১ জন পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে কোনো আপত্তি না জানিয়ে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পিইডিপি-৪ এর সাব কম্পোনেন্ট ২.৫ আউট অব চিলড্রেন এডুকেশন কার্যক্রমের শিখন কেন্দ্র মাঠ পর্যায়ে ভ্যালিডেশন ও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতিবেদন ছাড়া উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোনো বিলের অর্থ ছাড় অনুমোদন করেন না। অথচ তিনিসহ তাদের কমিটি এসব বিষয় যাচাই বাছাই ছাড়াই সমস্ত কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এছাড়াও, পরবর্তী ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি কমিটির জান্নাত আরা তিথি, আবুল হায়াত, শামিমা আক্তার জাহান, অরুণ চন্দ্র রায়, তৌহিদা মোহতামিম বিধিমালা অনুযায়ী, উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় (উপানুষ্ঠানিক শিক্ষনকেন্দ্র) প্রতিটি উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়, শিক্ষক, সিএমসি সদস্য, শিক্ষা উপকরণ এবং ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের যথাযথ ভ্যালিডেশন করার কথা থাকলেও তা ওই কমিটি করেনি। এছাড়া দায়িত্বে চরম অবহেলা, ভুয়া-অগ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্র তৈরিতে সহযোগিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন তারা।

 

তিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও এক ইউএনও ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটির সভাপতি ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর টুকটুক তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বাক্ষরে কোনো টাকা তো যায়নি। উপজেলায় মনিটরিং টিমে ছিলাম শুধু। দুদক তো আমাকে আসামি করার কথা নয়। সাক্ষী করেছে কিনা, ভালো করে দেখুন।’

শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘কালাই উপজেলায় আমি যোগ দেওয়ার আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর কালাইতে যোগ দিয়েছিলাম। আগের ইউএনও স্যারের রিপোর্ট অনুযায়ী আমি শুধু প্রকল্প সমাপনী প্রত্যয়ন প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছি। দুদক আমার কোনো বক্তব্য নেয়নি।’

জান্নাত আরা তিথি বলেন, ‘দুদকের মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। দুদক বলতে পারবে কেন আমাকে আসামি করছে।’

অপর আসামি আবুল হায়াত কল রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তথ্য সূত্র : দৈনিক শিক্ষা ডটকম

সালথায় রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
সালথায় রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে গ্রামের বাসিন্দা রব্বান মাতুব্বরের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে হামলা চালায়। তাদের দাবি, বিএনপি নেতা মুরাদ মাতুব্বর ও যুবদল নেতা শাফিকুলের নেতৃত্বে এ হামলা সংঘটিত হয়। হামলাকারীরা টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু স্থানীয় লোকজন নয়, পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও লোকজন এনে সংঘবদ্ধভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়। এতে অন্তত কয়েকটি বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি অনেক পরিবার রাতেই নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, মোটরসাইকেল মহড়া এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

এ সময় গোয়ালপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, “হামলার সময় পুরো গ্রামজুড়ে টর্চলাইটের আলো দেখা যায়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংগঠিতভাবে বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। বহিরাগত লোকজনও এতে অংশ নেয়।” তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম ও সামাদ মাতুব্বরের নেতৃত্বেই এ হামলা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপি নেতা রব্বান মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার সময় আমি গ্রামের বাইরে ছিলাম। পরে ফিরে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার দাবি করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হাসিব লিঠু, আটঘর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কাওসার মাতুব্বর, যুবদল নেতা রব্বান মাতুব্বর, বিএনপি নেতা আদেল মাতুব্বর, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ফরিদপুরে আসামীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত

চরভদ্রাসন প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আসামীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীবেষ্টিত চরশালেহপুর এলাকার ছোরমান খাঁর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক রিপন হোসেন, মোজাম্মেল হক, মো. রফিকুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক গাজী সোহেল এবং কনস্টেবল উজ্জল হোসেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরশালেহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির খাঁর বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে আটক করতে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ পোশাকে এলাকায় অভিযান চালায়। একপর্যায়ে বাজার এলাকা থেকে কবির খাঁকে আটক করা হলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কবির খাঁকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, আহত চার পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আরেকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি লুঙ্গি ও ট্রাউজার পরে এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন এবং কবির খাঁকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে চান। এ সময় উপস্থিত স্বজনরা বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হাতকড়া ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার (ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রফিকুজ্জামান বলেন, কবির খাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তার লোকজন হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি চরাঞ্চলে প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে ধরতে ছদ্মবেশে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ পোশাকে গেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন।

এদিকে, সম্প্রতি কবির খাঁর বিরুদ্ধে চরাঞ্চলের শতাধিক মানুষের ভুট্টাখেত ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে শিক্ষকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে ‘গুলির মতো’ আঘাত, ভাঙল কাঁচ—চরম আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিক্ষকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে ‘গুলির মতো’ আঘাত, ভাঙল কাঁচ—চরম আতঙ্ক

ফরিদপুরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষকদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসে ‘শর্টগানের গুলির মতো’ আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসটির পেছনের কাঁচ ভেঙে যায় এবং কাঁচের টুকরো ভেতরে থাকা শিক্ষকদের ওপর ছিটকে পড়ে। যদিও কেউ গুরুতর আহত হননি, তবে আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের চাঁনমারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাইক্রোবাসটিতে রাজেন্দ্র কলেজের একাধিক শিক্ষক শহর ক্যাম্পাস থেকে বায়তুল আমান ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, চাঁনমারি ঈদগাঁ মোড় অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই মাইক্রোবাসটির পেছনের কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পরে কাঁচে গুলির মতো একটি চিহ্ন দেখা যায়, যা দেখে তারা ধারণা করছেন এটি কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি হতে পারে।

মাইক্রোবাসে থাকা এক শিক্ষক বলেন, “ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাঁচ ভেঙে ভেতরে পড়ে। আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। প্রথমে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

আরেকজন শিক্ষক জানান, “আমরা নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করি। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এটি পরিকল্পিত নাকি আকস্মিক—তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

এ বিষয়ে রাজেন্দ্র কলেজ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক মো. শাহিনুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জরুরি বৈঠক ডেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।”

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে শর্টগানের গুলির মতো মনে হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এদিকে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”