খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

ডিসেম্বরের শুরুতে পদত্যাগ করতে পারেন মাহফুজ ও আসিফ

আমজাদ হোসেন হৃদয়
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২৯ এএম
ডিসেম্বরের শুরুতে পদত্যাগ করতে পারেন মাহফুজ ও আসিফ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তার আগে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বহুল আলোচিত এই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমন প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা পরিষদের রদবদল এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এরই মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কয়েকজন উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও তোলা হয়েছে। বিশেষ করে দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘ঘনিষ্ঠ’ আখ্যা দিয়ে তাদের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বা ‘ছাত্র উপদেষ্টা’ হিসেবে থাকা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম উপদেষ্টার পদ ছেড়ে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন কি না, সেটাই এখন রাজনৈতিক আড্ডা থেকে টিভির টকশো, রাজধানী থেকে গ্রাম সবখানে অন্যতম আলোচিত জিজ্ঞাসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ছাত্র উপদেষ্টাদের দুজনই পদত্যাগের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন বলে কালবেলাকে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও এনসিপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র। সব ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এ দুই উপদেষ্টা পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। এ ছাড়া দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যে সরকারের ২৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদে বর্তমানে রয়েছেন দুজন ছাত্র প্রতিনিধি। শুরুর দিকে এনসিপি গঠনের আগে দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামও ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে। তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি পরিচালনার দায়িত্ব নেন। মাহফুজ আলম প্রথমে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, পরে ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের পর তিনি তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া—উভয় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি নির্বাচন সামনে রেখে উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে কয়েকজন উপদেষ্টার বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ‘দল ঘনিষ্ঠ’ ব্যক্তিদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। যদিও তারা প্রকাশ্যে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা—ইঙ্গিত করা হয়েছে দুই ছাত্র উপদেষ্টার দিকেই। অন্যদিকে, এনসিপি অভিযোগ করেছে, উপদেষ্টা পরিষদের অনেক সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ (সম্পর্ক) গড়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাকে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তখন তারা আরও সময় নেওয়ার কথা জানান। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারা আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করবেন, এটা অনেকটাই চূড়ান্ত। গত ১৪ আগস্ট আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন। তারপর ২৮ সেপ্টেম্বর মাহফুজ আলম এ প্রসঙ্গে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দুই মাস ধরে অনিশ্চয়তায় আছি, কখন পদত্যাগ করব, তা জানি না।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কালবেলা জানতে পেরেছে, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম দুজনই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন। আসিফের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। এই উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৩ আসন। তবে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-কলাবাগান-নিউমার্কেট-হাজারীবাগ) বা ঢাকার অন্য একটি আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে এনসিপির হয়ে কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রেও এনসিপির সমর্থন থাকবে তার প্রতি। যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ওই আসনে প্রার্থী দেবে না এনসিপি।

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। জোটগত কারণে বিএনপি এবারও আসনটি ছেড়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মাহফুজ আলমই জোটগত কিংবা এনসিপির প্রার্থী হতে পারেন। আরেকটি সূত্র বলছে, মাহফুজ সরাসরি বিএনপির প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনাও এগিয়েছে বলে জানা গেছে।

মাহফুজ আলমের ভাই এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম কালবেলাকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করলে আগামী সংসদ নির্বাচনে মাহফুজ আলমের রামগঞ্জ থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে দুই মাস ধরে উপদেষ্টা পদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। কারণ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মে মাস থেকে ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চাওয়ার কথা জানান। সেদিন তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দুই মাস ধরে আমি অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি যে, আমি কখন নেমে যাই। মানে আমি কখন নামব আমি জানি না।’

মাহফুজ আলম বলেন, মে মাস থেকে রাজনৈতিক দলগুলো বলা শুরু করল যে, ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চাই। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্লোগান তার সরকারি বাসভবন থেকে শুনতে পেতেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে পদত্যাগের পর এনসিপিতে যোগ দেবেন, এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গত ১৪ আগস্ট সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, ‘উপদেষ্টা বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছেন, এমন যে কারও রাজনীতি কিংবা নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকলে তাদের সবার পদত্যাগ করা উচিত। যেন কোনোভাবেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। নির্বাচনে নিরপেক্ষতার স্বার্থে এমনটি করা উচিত।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যেহেতু প্রধান উপদেষ্টা বারবারই বলছেন যে, আমরা ইতিহাসের একটা শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে চাই, আর সেটা আমরাও চাই। যেহেতু আমরা এই সরকারের অংশ। এই ঐতিহাসিক দায় তো আমাদের ওপরে থাকবে, যদি নির্বাচনটা সুষ্ঠু না হয়।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই সরকারে তো আরও অনেকে আছেন, যাদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিচয় আছে। এখনো হয়তো আছে এবং সামনেও রাজনীতি করবেন কিংবা নির্বাচনও করবেন। সরকারের বিভিন্ন জায়গায় হয়তো আরও অনেকে এ রকম আছেন। আমি মনে করি যে, সবারই তপশিলের আগে পদত্যাগ করা উচিত—একটা স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু, কোনো প্রকার প্রভাবমুক্ত নির্বাচন আয়োজনের জন্য।’

এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে আমি রাজনীতিতে যুক্ত। রাজনীতিতে আছে—এমন কারও নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা উচিত নয়। তাই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই সরকার থেকে সরে যাব।’

দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করলে সে ক্ষেত্রে এনসিপিতে যোগ দেবেন কি না, কিংবা দল থেকেই নির্বাচন করবেন কি না—সে বিষয়ে পরিষ্কার করেননি। এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা কালবেলাকে বলেন, পদত্যাগ করেই এই উপদেষ্টা তাদের দলে যোগ না-ও দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের পর হয়তো তারা সরাসরি এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। এনসিপিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকেই। এ ছাড়া নভেম্বরের মধ্যে ১০০-১৫০ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারে এনসিপি। সেই তালিকায় থাকবে না আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের নাম। তবে তারা নির্বাচন করলে এনসিপি পূর্ণ সমর্থন দেবে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার কালবেলাকে বলেন, ‘যে কোনো উপদেষ্টা যদি রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চান, তাহলে তাকে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এরপর এনসিপিতে তারা যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপি অবশ্যই চাইবে ছাত্র উপদেষ্টারা, যারা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে আছেন, তারা যদি এনসিপিতে যোগ দিতে চান, এনসিপি তাদের স্বাগত জানাবে।’

দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিষয়ে এখনো এনসিপিতে আলোচনা হয়নি। তবে যদি তারা পদত্যাগ করে এনসিপিতে যুক্ত হতে চান, আমরা সাদরে বরণ করব। অবশ্য এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দলে যোগ দিলে তারপর তাদের নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হবে।’

দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করলেও অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র উপদেষ্টা থাকা উচিত বলে মনে করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদের বিষয়। তবে আমাদের মনে হয়, সরকারে যদি ছাত্র উপদেষ্টারা না থাকেন, তাহলে এর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না, গণঅভ্যুত্থানের লেজিটিমেসিও ক্ষুণ্ন হবে।’

পদত্যাগের পর দুই ছাত্র উপদেষ্টার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া বা নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন এনসিপির এই সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে ফরিদপুরে উৎসবের আমেজ, শহরজুড়ে মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, গণতন্ত্র বাঁচছে’, ‘স্বাগতম তারেক রহমান’সহ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। জনসভাকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ফরিদপুরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়।”

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

মিছিল নিয়ে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। সদর উপজেলার বিএনপি কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এমন সরাসরি বার্তা শোনার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা আশা করছি, তিনি দেশ ও দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেবেন।” একই কথা জানান ছাত্রদলের নেতা রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, “তরুণদের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের জনসভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।”

এদিকে মহিলা দলের নেত্রী নাজমা বেগম বলেন, “নারীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তারেক রহমানের বক্তব্যে আমরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চাই।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিচ্ছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য একাধিক গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ তুঙ্গে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এই সমাবেশ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং আগামীর আন্দোলনে দিকনির্দেশনা দেবে।

ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি, শেষরক্ষা হলো না সাদ্দামের

ফরিদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম শেখ (২৪)। তিনি ফরিদপুর শহরের খোদাবক্স রোড, কসাই বাড়ি সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শেখ শহিদের ছেলে।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোতয়ালী থানার জিআর মামলা নম্বর- ৫৫৬/১৪ এর আলোকে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিল ২২(গ) অনুযায়ী ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সাজা এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। র‌্যাবের নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মাদকদ্রব্য সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

 

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।