খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরের কুমার নদে ১২৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:১৯ পিএম
ফরিদপুরের কুমার নদে ১২৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী এলাকায় কুমার নদে ১২৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী ও আরডিডি গ্রুপের কর্নধার আজিজুল আকিল ডেভিড শিকদার। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আগত নদের দুই পাড়ে ও নৌকায় চড়ে নদে বিভিন্ন শ্রেণির পেশার নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলায় কমপক্ষে চল্লিশ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সকাল থেকেই সারাদিন ব্যাপী চলে গ্রামীণ মেলা। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় নৌকা বাইচ। সব মিলিয়ে এই উৎসব ঘিরে অত্র অঞ্চলের মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ছোটবড় মিলিয়ে বাইচে অন্তত ১৫ টি নৌকা অংশ নেয়। এছাড়াও ট্রলার ও ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের কমপক্ষে এক হাজারের মতো নৌকায় চড়ে মানুষ এ উৎসব উপভোগ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার তেলজুড়ি বাজার সংলগ্ন কুমার নদের দুই পাড়ে অসংখ্যক নারী-পুরুষ বিভিন্ন সাজে দাঁড়িয়ে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করছেন। অনেকেই স্থানীয়ভাবে নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করে এই উৎসবে মেতে ওঠেন। কয়েকদিন আগে থেকে আগত দোকানীরা গ্রামীণ মেলায় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির দোকান, ইলিশের দোকান, খেলনা ও বিভিন্ন খাবার দোকানের পসরা সাজিয়েছে। অত্র অঞ্চলের কমপক্ষে দশ গ্রামের মেয়েদের জামাইরা বউ,ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন নিয়ে মেতে ওঠেন পুরনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলার উৎসব-আনন্দে।

নৌকা বাইচ ও মেলায় আগত চতুল ইউনিয়নের বাইখীর গ্রামের সুইট মন্ডল বলেন, ছোটকাল থেকে এই নৌকা বাইচ ও মেলায় আসি। গেন্ডারী কুশর (আখ) জিলাপি, আমিত্তি এ মেলার খুব জনপ্রিয় খাবার। এবারও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এসেছি। নৌকা বাইচ দেখে মেলা থেকে কেনাকাটা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সজল শরীফ বলেন, নৌকা বাইচ ও মেলা উপলক্ষে অত্র অঞ্চলের কমপক্ষে দশ গ্রামের মেয়েদের জামাইরা বউ,ছেলে-মেয়েদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন নিয়ে মেতে ওঠেন। এটা অত্র অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহীতে রুপ নিয়েছে। এবার মেলায় প্রায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫ টি বাইচের নৌকা ছাড়াও ট্রলার ও বিভিন্ন ধরনের কমপক্ষে এক হাজারের মতো নৌকায় চড়ে মানুষ এ উৎসব উপভোগ করেন। মেলায় এবার কমপক্ষে চল্লিশ হাজারের মতো মানুষের সমাগম ঘটেছে।

মিষ্টি ব্যবসায়ী জব্বার মোল্লা বলেন, কয়েক যুগ ধরে এ নৌকা বাইচের মেলায় মিষ্টি বিক্রি করতে আসি। এবারও দোকান দিয়েছি। দোকানে জিলাপি, রসগোল্লা, আমৃত্তি, সন্দেশ, চমচমসহ বিভিন্ন মিষ্টি সামগ্রী রয়েছে। তবে আমিত্তি বেচাকেনাও বেশি হয়।

নৌকাবাইচ-মেলা আয়োজন কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রইসুল ইসলাম পলাশ মিয়ার সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, আজিজুল আকিল ডেভিড সিকদার। নৌকা বাইচে অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মাঝে ফ্রিজ এবং এলইডি টেলিভিশন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল নৌকাকে সান্ত্বনা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।