খুঁজুন
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরের হঠাৎ দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন, আতঙ্কে মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ৪:২৮ পিএম
ফরিদপুরের হঠাৎ দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন, আতঙ্কে মানুষ
হঠাৎ করে তিন সপ্তাহ যাবত পদ্মা নদীর ভাঙনের দুশ্চিন্তায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে চরাঞ্চলের নদীর পাড়ের মানুষ। ফরিদপুর সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার কয়েকটি এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। নদীরপাড় সংলগ্ন বেশ কয়েকটি রাস্তা ইতোমধ্যেই ভেঙে গিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় আবার নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। পদ্মার ভাঙনে অনেকেই বসতভিটা হারাতে বসেছেন। কেউ কেউ তাদের পৈত্রিক বাপ-দাদার ভিটে থেকে ঘর সরিয়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। তবে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রতিবছরই জুন ও জুলাই মাসে নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন দেখা যায়। গত কয়েক সপ্তাহে ভাঙনের শিকার হয়েছে সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার শয়তান খালি ঘাট, খোকারাম সরকারের ডাঙ্গী, গোপালপুর ঘাট সহ বেশ কয়েকটি এলাকা।
সোমবার (১৭ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙন ঝুঁকিতে আছে সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের মুন্সীরচর, পিয়াজখালির চর, আকোট, আকোটেরচর, ছলেনামা ও খোকারাম সরকারের ডাঙ্গীতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর। এই ঘরগুলো কয়েকগজ দূরেই পদ্মা, এ ছাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর, নুরুদ্দিন সরদারকান্দি, কাচিকাটা গ্রাম, নন্দলালপুর, ফকির কান্দি, তালপট্টির চর, কাড়ালকান্দি, জঙ্গিকান্দি, জামাল শিকদার কান্দি এবং চরমানাইর ইউনিয়ন ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী ঘাট, কাজীরসুরা, দূর্বারটেক, মফিজদ্দিনের কান্দি, হাফেজ কান্দি, রাড় চরগজারিয়া ও গিয়াস উদ্দীন মুন্সীর কান্দি গ্রাম ভাঙছে। এতে কমপক্ষে ৬০টির বেশি ঘর অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। অনেকে খোলা জায়গায় বসবাস করছে। অনেকে নদীর পাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। অনেকে বাড়িঘর ভেঙে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাড়ির চাল খুলে অন্য জায়গায় রাখলেও খুঁটি ও বেড়া লাগিয়ে রাখছে, যদি ভাঙন থামে সেই আশায়।
অন্যদিকে, চরভদ্রাসন উপজেলার উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের সবুল্লা শিকদারের ডাঙ্গী গ্রাম, সদর ইউনিয়নের টিলারচর ও এমপি ডাঙ্গী গ্রাম, চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরকালকিনিপুর, চরমির্জাপুর, চরতাহেরপুর, চরকল্যাণপুর, দিয়ারা গোপালপুর গ্রামে ভাঙন অব্যাহত আছে।
নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন কাচিকাটা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব শেখ বলেন, নদীর পাশেই আমার ঘর ছিল। হঠাৎ দেখি ফাটল, রাতে নদীর ভাঙন বেশি হয়, ঘর ডুবে যাওয়ার ভয়ে আমি সরিয়ে নিয়েছি। যদি না সরাতাম এখন আমার বাড়ি নদীতে।
আকোটের চর ইউনিয়ন খোকারাম সরকারের ডাঙ্গী গ্রামের গুছগ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম জানান, এখান থেকে প্রতি বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। বালু উত্তোলন যারা করেন তারা প্রভাবশালী, তাই কোনো ব্যক্তি প্রতিবাদ করতে পারত না, প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি দিত। এখন নদী ভাঙ্গনে তার খেসারত দিচ্ছে এলাকাবাসী।
ঢেউখালি ইউনিয়নের শয়তান খালি ঘাট এলাকার বাসিন্দা কাজী নজরুল জানান, পদ্মা নদীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনও দেখা দিয়েছে। কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি যতদ্রুত সম্ভবত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। তা না হলে ফসলি জমির সঙ্গে বেশকিছু ঘরবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
আকোটের চর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকার কৃষক ইসমাইল মুন্সি বলেন, প্রতি বছর নদীর পাড় কেটে নিচ্ছে কিছু ভূমিখেকো। তাই নদীভাঙনে অনেক ঘরবাড়ি ভাঙার আশংকা রয়েছে। এখনো নদীর পাড় কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে। মাটিগুলো বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
রিনা বেগম নামে এক নারী বলেন, কে করে দেবে আমাদের ঘরবাড়ি? সরকার একটি ঘর দিয়েছে আমি সেখানে থাকি। নদী যেভাবে ভাংছে হয়তো আর বেশিদিন থাকতে পারব না। ঘর ভেঙে নিয়ে যাবে নদীতে। কীভাবে থাকব, কীভাবে চলব, কে আমাদের খাওয়াবে বলতে পারছি না।
চর ঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা বলেন, গত দুই সপ্তাহে পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার ইউনিয়নের ৪টি পরিবারের ঘর-বাড়ি বিলিন হয়ে গিয়েছে। ৩ হাজার বিঘা বাদামের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করেছি, এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
আকোটের চর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলেন, শুধু এবছর নয়, প্রতি বছরই নদীভাঙন হচ্ছে। এখন চরাঞ্চলের মানুষের নদী ভাঙন নিত্য দিনের নিত্য দিনের সঙ্গী। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।
আশা করছি দ্রুত তারা ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, গত বিশ দিনে যে স্থান গুলোতে ভাঙন হয়েছে সেখানে নদীর গভীরতা অনেক বেশি, তাই সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে আমাদের একটি টিম ভাঙন রোধে কাজ করছে, তারা একটি রিপোর্ট তৈরি করে আমাদের নিকট সাবমিট করবেন। এরপর ভাঙন রোধে টেকসই স্থায়ী প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পাঠাবো।

বোয়ালমারীতে সরকারি চালের বস্তায় ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান, বিতরণ ঘিরে আলোচনা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম
বোয়ালমারীতে সরকারি চালের বস্তায় ‘শেখ হাসিনা’ স্লোগান, বিতরণ ঘিরে আলোচনা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা ভিডাব্লিউবি (Vulnerable Women Benefit) চালের বস্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামসংবলিত স্লোগান থাকায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপকারভোগীদের মাঝে ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তা বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেন। তবে বিতরণকৃত চালের বস্তায় লেখা ছিল— “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ”।

শুধু ইউনিয়ন পরিষদেই নয়, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলা খাদ্য গুদামেও একই স্লোগানযুক্ত শত শত চালের বস্তা মজুদ রয়েছে। বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।

জানা যায়, ভিডাব্লিউবি কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র ও দুস্থ নারীদের প্রতি মাসে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এটি পূর্বের ভিজিডি (VGD) কর্মসূচির উন্নত সংস্করণ হিসেবে চালু করা হয়েছে।

গুনবহা ইউনিয়নের উপকারভোগী মো. সরোয়ার শেখ বলেন, “আমি একজন দরিদ্র মানুষ। শিশু কার্ডের মাধ্যমে ৩০ কেজি চাল পেয়েছি। তবে চালের বস্তায় শেখ হাসিনার নাম লেখা দেখে অবাক হয়েছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, “চালের বস্তায় এখনো পুরনো স্লোগান রয়েছে, যা আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবো, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের স্লোগান আর না থাকে।”

অন্যদিকে বোয়ালমারী এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, “উচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বস্তার ওপর লেখা রং দিয়ে মুছে দেওয়ার কাজ করছি। তবে যেখান থেকে চাল পাঠানো হচ্ছে, সেখান থেকেই বিষয়টি সমাধান করা উচিত।”

“অনেকদিন তোমাকে দেখা হয়না”

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম
“অনেকদিন তোমাকে দেখা হয়না”

সময়ের চাকা ঘুরলো ঠিকই, কিন্তু থমকে গেছে প্রাণ,
আমাদের সম্পর্ক যেন এক বিষণ্ণ, অসমাপ্ত গান।
যেখানে শেষ হয়েছিল আমাদের সেই শেষ গোধূলি-বেলা,
সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে আমার একলা মনের খেলা।

তুমি চলে গেলে অন্য ঠিকানায়, হয়তো অন্য কোনো ছায়ায়,
আমি আজও আঁটকে আছি তোমার ফেলে যাওয়া ধূসর মায়ায়।
​অনেকদিন তোমাকে দেখিনা, ঝাপসা স্মৃতির ভিড়ে—
খুঁজে-ফিরি সেই পুরনো রোদ, আমাদের নীল সাগরের তীরে।

শহুরে কোলাহলে আজও তোমার চেনা গলার স্বর খুঁজি,
তুমি নেই জেনেও কেন বারবার স্মৃতির জানালা বুজি?
অনেকদিন তোমাকে দেখা হয় না, সেই মায়াবী প্রিয় মুখ,
একলা ঘরের দেয়াল জানে— আমার কতটা গোপন অসুখ।

​ক্যালেন্ডারের পাতা ওড়ে, পাল্টে যায় ঋতুর শরীরি রঙ,
শুধু আমার ভেতরটা জুড়ে চলে বিরহের নিঠুর ঢং।
অপেক্ষা আজ একবিংশ শতাব্দীর এক নিঃসঙ্গ বিলাস,
তোমার অভাবে গুমরে মরে আমার সকল সুপ্ত আশ্বাস।

মানুষ কি আসলেই পারে এতটা অনায়াসে দূরে চলে যেতে?
যেখানে কোনো আলো নেই, শুধু অন্ধকার বিচ্ছেদের পথে।
​একটিবার কি আসা যায় না? মিটিয়ে দিতে সকল ঋণ?
অনেকদিন তোমাকে দেখিনা, বড্ড বেশি বিবর্ণ প্রতিটি দিন।

অভিমানী সেই চোখের তারায় আজও কি তুমি কাজল মেখো?
নাকি নতুন কোনো ভিড়ে আমাকে একাই ভুলে সুখে থাকো?
ফিরে না আসো, অন্তত একপলক দূরত্বটুকু মিটিয়ে দিও—
অনেকদিন তোমাকে দেখা হয় না, আমার চির-অপ্রিয় প্রিয়।

 

লেখক: গোলাম কিবরিয়া, সহকারী অধ্যাপক
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরগুনা সরকারি কলেজ।

রমজানে ফরিদপুর শহরের যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবীদের নতুন উদ্যোগ, নেতৃত্বে জুয়েল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম
রমজানে ফরিদপুর শহরের যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবীদের নতুন উদ্যোগ, নেতৃত্বে জুয়েল

পবিত্র রমজান মাসে নগরবাসীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফরিদপুর পৌর এলাকায় যানজট নিরসনে মাঠে নেমেছে একদল স্বেচ্ছাসেবী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এই টিম, যার তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন মিঠু, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জানা গেছে, রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতার পূর্ব মুহূর্তে শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এ সমস্যা নিরসনে স্বেচ্ছাসেবী দলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করবে। তারা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করবে।

এ বিষয়ে সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “রমজান মাসে মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইফতারের আগে অপ্রয়োজনীয় যানজট মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। তাই আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করেছি, যারা পুলিশের পাশাপাশি সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ মানবিক ও জনসেবামূলক। আমরা চাই ফরিদপুর শহরকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত করতে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

জুয়েল বলেন, রমজানের পরে শহরের যানজট স্থায়ীভাবে সমাধান করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জনসেবামূলক এই উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। স্বেচ্ছাসেবীদের এমন কার্যক্রম শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।