ফরিদপুরের হঠাৎ দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন, আতঙ্কে মানুষ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা ভিডাব্লিউবি (Vulnerable Women Benefit) চালের বস্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামসংবলিত স্লোগান থাকায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপকারভোগীদের মাঝে ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তা বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেন। তবে বিতরণকৃত চালের বস্তায় লেখা ছিল— “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ”।
শুধু ইউনিয়ন পরিষদেই নয়, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলা খাদ্য গুদামেও একই স্লোগানযুক্ত শত শত চালের বস্তা মজুদ রয়েছে। বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
জানা যায়, ভিডাব্লিউবি কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র ও দুস্থ নারীদের প্রতি মাসে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এটি পূর্বের ভিজিডি (VGD) কর্মসূচির উন্নত সংস্করণ হিসেবে চালু করা হয়েছে।
গুনবহা ইউনিয়নের উপকারভোগী মো. সরোয়ার শেখ বলেন, “আমি একজন দরিদ্র মানুষ। শিশু কার্ডের মাধ্যমে ৩০ কেজি চাল পেয়েছি। তবে চালের বস্তায় শেখ হাসিনার নাম লেখা দেখে অবাক হয়েছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, “চালের বস্তায় এখনো পুরনো স্লোগান রয়েছে, যা আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবো, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের স্লোগান আর না থাকে।”
অন্যদিকে বোয়ালমারী এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, “উচ্চ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বস্তার ওপর লেখা রং দিয়ে মুছে দেওয়ার কাজ করছি। তবে যেখান থেকে চাল পাঠানো হচ্ছে, সেখান থেকেই বিষয়টি সমাধান করা উচিত।”
সময়ের চাকা ঘুরলো ঠিকই, কিন্তু থমকে গেছে প্রাণ,
আমাদের সম্পর্ক যেন এক বিষণ্ণ, অসমাপ্ত গান।
যেখানে শেষ হয়েছিল আমাদের সেই শেষ গোধূলি-বেলা,
সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে আমার একলা মনের খেলা।
তুমি চলে গেলে অন্য ঠিকানায়, হয়তো অন্য কোনো ছায়ায়,
আমি আজও আঁটকে আছি তোমার ফেলে যাওয়া ধূসর মায়ায়।
অনেকদিন তোমাকে দেখিনা, ঝাপসা স্মৃতির ভিড়ে—
খুঁজে-ফিরি সেই পুরনো রোদ, আমাদের নীল সাগরের তীরে।
শহুরে কোলাহলে আজও তোমার চেনা গলার স্বর খুঁজি,
তুমি নেই জেনেও কেন বারবার স্মৃতির জানালা বুজি?
অনেকদিন তোমাকে দেখা হয় না, সেই মায়াবী প্রিয় মুখ,
একলা ঘরের দেয়াল জানে— আমার কতটা গোপন অসুখ।
ক্যালেন্ডারের পাতা ওড়ে, পাল্টে যায় ঋতুর শরীরি রঙ,
শুধু আমার ভেতরটা জুড়ে চলে বিরহের নিঠুর ঢং।
অপেক্ষা আজ একবিংশ শতাব্দীর এক নিঃসঙ্গ বিলাস,
তোমার অভাবে গুমরে মরে আমার সকল সুপ্ত আশ্বাস।
মানুষ কি আসলেই পারে এতটা অনায়াসে দূরে চলে যেতে?
যেখানে কোনো আলো নেই, শুধু অন্ধকার বিচ্ছেদের পথে।
একটিবার কি আসা যায় না? মিটিয়ে দিতে সকল ঋণ?
অনেকদিন তোমাকে দেখিনা, বড্ড বেশি বিবর্ণ প্রতিটি দিন।
অভিমানী সেই চোখের তারায় আজও কি তুমি কাজল মেখো?
নাকি নতুন কোনো ভিড়ে আমাকে একাই ভুলে সুখে থাকো?
ফিরে না আসো, অন্তত একপলক দূরত্বটুকু মিটিয়ে দিও—
অনেকদিন তোমাকে দেখা হয় না, আমার চির-অপ্রিয় প্রিয়।
লেখক: গোলাম কিবরিয়া, সহকারী অধ্যাপক
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরগুনা সরকারি কলেজ।
পবিত্র রমজান মাসে নগরবাসীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফরিদপুর পৌর এলাকায় যানজট নিরসনে মাঠে নেমেছে একদল স্বেচ্ছাসেবী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এই টিম, যার তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন- জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন মিঠু, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা গেছে, রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতার পূর্ব মুহূর্তে শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এ সমস্যা নিরসনে স্বেচ্ছাসেবী দলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করবে। তারা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করবে।
এ বিষয়ে সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “রমজান মাসে মানুষ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইফতারের আগে অপ্রয়োজনীয় যানজট মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। তাই আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করেছি, যারা পুলিশের পাশাপাশি সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ মানবিক ও জনসেবামূলক। আমরা চাই ফরিদপুর শহরকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত করতে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
জুয়েল বলেন, রমজানের পরে শহরের যানজট স্থায়ীভাবে সমাধান করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জনসেবামূলক এই উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। স্বেচ্ছাসেবীদের এমন কার্যক্রম শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন
Array