খুঁজুন
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে আ.লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ব্যানারসহ গ্রেফতার ৮

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:২৮ এএম
ফরিদপুরে আ.লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ব্যানারসহ গ্রেফতার ৮
ফরিদপুরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আওয়ামী লীগের একটি দলীয় ব্যানার সহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদউজ্জামান।
তিনি জানান, সোমবার ভোরে ফরিদপুরের সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের চন্ডীপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত জেলা আওয়ামী লীগ লেখা একটি ব্যানার জব্দ করা হয়।  এ ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খলিশাডুবি গ্রামের ফাহিম মাতুব্বর (১৯), হাসিবুল (১৯), আকাশ (১৯), বিল্লাল হোসেন (১৯), রবিউল ইসলাম (২০), চন্ডীপুর গ্রামের বিমল কুমার সরকার (৪৬), মধুখালী উপজেলার বাবু মোল্যা (১৯) এবং গন্দাখালী গ্রামের সোয়াদ (১৯)।
জব্দকৃত ওই ব্যানারে লেখা ছিল অবৈধ দখলদার স্বৈরাচার ইউনুস সরকারের আইসিটি আদালতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী  শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের চার্জশিট প্রদান কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করে, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ। তবে এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের কোন দলীয় পদপদবী বা পরিচয় জানা যায়নি।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান জানান, সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ব্যানারে সমবেত হয়ে তারা রেললাইন সহ মহাসড়কে মিছিলের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

“একলা পথেই নিজেকে ফিরে পাওয়া”

রেহেনা ফেরদৌস
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
“একলা পথেই নিজেকে ফিরে পাওয়া”

এখন আমি আর গুছিয়ে সংসার করি না। এক সময় আমি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে মন দিয়ে সংসার করতাম। কাজে আনাড়ি হওয়া সত্ত্বেও চেষ্টা করে যেতাম। কিন্তু যখন আমি বুঝেনিলাম…যার সাথে আমার এই সংসার..তার এই সংসারের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই…তখন থেকে আর সংসার গুছিয়ে করি না।

এখন আমি আর রান্নায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি না। আগে রান্নার শুরুতে ভাবতাম..কেমন করে এতে এক অনন্য স্বাদ আনা যায়। ভাবতাম..সে এসে আমার রান্নার প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন থেকে বুঝে নিলাম, রান্না যেমনই হোক তাতে তার প্রশংসা কখনোই পাওয়া যাবে না…তখন থেকে আমি যতনে রান্না করা ছেড়ে দিলাম।

এখন কিন্তু আমি ওর জন্য আর নিজেকে সাজাতে বসি না। আগে সাজতে বসলে…হাত কাঁপতে থাকতো। মনে হতো, এই বুঝি ও পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলবে, তোমায় পরীর মতো লাগছে! হাত ভরে কাঁচের চুড়ি পড়ো, চুলে লাল গোলাপ গুঁজে দিয়ে বলবে…এই বার বেশ লাগছে! কিন্তু এখন আমি বুঝি, ওর তো আমায় দেখার ইচ্ছে নেই! তখন থেকে আমি শুধু আমার জন্য নিজেকে সাজাই।

এখন আর এগুলো নিয়ে কথা বলতে বা প্রশ্ন করতেও ভালো লাগে না। আগে মনে কোন প্রশ্ন বা কিন্তু আসলেই তাকে জিজ্ঞেস করতাম। বার বার সে বিষয় জানতে চেয়ে অভিমানের চূড়ায় নিজেকে তুলে রাখতাম। কিন্তু এখন আমি জানি, অভিমান ভাঙানোর মতো কেউ নেই আমার পাশে, কেউ নেই যে আমার ভেজা চোখে আকাশ পানে চেয়ে থাকা দেখে…পাশে এসে দাঁড়াবে..বলবে,“কি নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা তোমার! আমি আছি তো!”

ছোটবেলা থেকেই আমি খুব হাস‍্যজ্বল একজন মানুষ। অফিস থেকে সে বাসায় ফিরতেই আমি সারাদিনের গল্প নিয়ে বসতাম। অনবরত বলতেই থাকতাম…অবেগহীন শ্রোতার কাছে সব বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে এক পর্যায়ে অনুধাবন করলাম…আমার আবেগগুলো তার কাছে সস্তা গল্পের মতো, তখন আমি কথা বলা বন্ধ করে দিলাম। শুধু দেখতাম, পৃথিবীর সবার প্রতিটি কথা শোনার মতো বিমুগ্ধ এক শ্রোতাকে, যার কাছে আমার কথা…মূর্খতার প্রলাপ। এখন অবশ্য আমি বিশেষ কারণ ছাড়া কোন কথা বলি না, আর প্রতুত্তর!

বাহিরে ঘুরে বেড়াতে, ছবি তুলতে আমার খুব শখ ছিলো। প্রকৃতির সাথে মিশে, পাখির কলতানে তার কাঁধে মাথা রেখে চুপটি করে বসে থাকবো…এমন অনেক স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু যখন অনুভব করলাম…আমার হাতে হাত রেখে, দু’পা মিলিয়ে হাঁটতে ওর আর ভালো লাগে না, তখন থেকে তার সাথে বাহিরে যেতেই আমার আর ভালো লাগে না। তার পাশে কেমন যেন একটা অস্বস্তি অনুভূত হয়, বিব্রত লাগে। রাস্তার অপরিচিত মানুষ অতিক্রম করে গেলেও এতোটা বিব্রত বোধ করি লাগে না যতটা না তার সাথে প্রয়োজনে বের হলে…যেমনটি অনুভূত হয়।

নিজের এই পরিবর্তনে আমি লজ্জিত নই বরং আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ…কেননা সে আমায় শিখিয়েছে…কিভাবে একা নিজের পথ তৈরি করতে হয় এবং সে পথে দৃঢ় ভাবে এগিয়ে যেতে হয়।

জীবনে সম্ভাবনার সকল পথ বন্ধ হয়ে গেলে…মানুষ হয়ে পড়ে নিঃসঙ্গ, দ্বিধাগ্রস্থ। শূন্যতা ঘিরে ফেলে তার চারপাশ। কিন্তু সে শূন্যতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলা যাবে না। নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করতে হবে…প্রতিক্ষার একটি জানালা কোথাও না কোথাও রয়েছে উন্মুক্ত।

ফরিদপুরে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৫ এএম
ফরিদপুরে বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগ যাচাই–বাছাইয়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহিষ্কারাদেশ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান বাবু এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বিশ্বজিৎ রাজবংশী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক যোগাযোগ না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়।

জানা গেছে,ফরিদপুর-(বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, মধুখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যক্রমে অসহযোগিতা করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ না করে ভিন্ন অবস্থান নেন। বহিষ্কৃতদের একজন শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ওই আসনে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে সংগঠন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবাইকে নির্দেশনা মানার আহ্বান জানান তিনি।

“আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে” : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৫ এএম
“আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে” : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম নির্বাচনী মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে শান্ত, সংযত ও সংগঠিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ধৈর্য, ঐক্য ও জনগণের ওপর আস্থা রাখাই বিএনপির মূল শক্তি।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বাউষখালী বাজার মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এলাকার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “১২ তারিখে আপনারা সকাল সকাল ভোট দিতে যাবেন। ১১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রতিটি ভোট পাহারা দিতে হবে। কেউ উসকানি দিয়ে ঝগড়া করতে এলে তাতে জড়ানো যাবে না। মাথা ঠান্ডা রেখে মানুষের কাছে যাবেন, ভোট চাইবেন—এটাই আমাদের কাজ।” তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপির রাজনীতি শান্তিপূর্ণ ও জনগণকেন্দ্রিক, এখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা মুসলমান। ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি অংশের সঙ্গে জড়িত। কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করে ভালো মানুষ ও ভালো মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু জান্নাত–জাহান্নামের নিশ্চয়তা দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কেউ যদি নিজেকে সেই নিশ্চয়তার মালিক মনে করে, তবে তা নাফরমানির শামিল।” তিনি আরও বলেন, ইসলাম ধারণ করার বিষয়, বিক্রির কোনো পণ্য নয়।

নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু নির্বাচনের নয়—এ সম্পর্ক মাটি, হৃদয় ও আত্মার। নির্বাচন একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক থাকবে আজীবনের।” গত ১৭ বছর ধরে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের কাছে একবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সালথা উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

বাবা বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ন্যায় ও সত্যের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। সেই আদর্শ ধারণ করেই তিনি রাজনীতি করছেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় বল্লভদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান লিপু মিয়া, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বর, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।