খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ধানের চেয়ে খড়ের ‘দাম বেশি’, গো-খাদ্যের সংকটে বিপাকে কৃষক

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ধানের চেয়ে খড়ের ‘দাম বেশি’, গো-খাদ্যের সংকটে বিপাকে কৃষক

ফরিদপুরে ধানের চেয়ে খড়ের দাম বেশি। তাইতো গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কৃষক পড়ছে বিপাকে। স্থানীয় বাজারগুলোতে এ দৃশ্য চোখে পড়ছে হরহামেশাই।

গ্রামের কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে ৮-১০ বিঘা জমি নিয়ে ইটের ভাটা। কৃষি জমি আটকিয়ে কেউ করছেন মুরগির ফার্ম। কেউবা কৃষি জমিতে পুকুর কেটে করছেন মাছের চাষ।

পুকুরের উপর মাচায় করছে সোনালি মুরগী বা বয়লার পালন। কেউ করছেন কোয়েল পাখি, কেউ করছেন কবুতর। মাচার নিচে পানিতে মাছ, সাথে হাঁসও পালন করছেন।

এ কারণে ফরিদপুরে চর এলাকা ও গ্রামগুলোতে দিন দিন কমে আসছে আবাদি জমি। গেরস্তের ক্ষেত-খোলা কমে যাওয়া গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। সংকীর্ণ হয়ে আসছে ফসলের মাঠ। সাথে গ্রামগঞ্জেও অপরিকল্পিতভাবে পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠছে পাকা ইমারত। ফলশ্রুতিতে, কমে আসছে চাষের জমি। হ্রাস পেয়েছে মাঠের ঘাঁস। ফলে একমাত্র ধানের বিচালি খড় এবং শুকনা ও কাঁচা খড় নির্ভর হয়ে উঠছে গবাদি পশুর মালিকরা।

এদিকে, পদ্মার পানি দ্রতই কমে আসছে। জেগে উঠছে চর। পদ্মা শুকিয়ে জেগে উঠছে চর, তীব্র তাপদহনে মরে গেছে চরের ঘাস। বোরো মৌসুমে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ খড় ঘরে তুলতে পারেননি। ফলে বাজারে খড়ের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। বর্তমানে ফরিদপুর শহর -উপশহর এবং চর এলাকা পর্যন্ত গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। অথচ সেই ধানের খড় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা মণে। কি আজব।

সরেজমিনে ফরিদপুর সদরের কবিরপুর চরের হাট-টেপাখোল গো-হাটে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় খড় বিক্রেতা মো. ইসলাম পাবনা থেকে এক ট্রাক খড় এনে প্রতিটি আটি ১১ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি করছেন। যারা হাতে কেটে খুচরা গেরস্তের কাছে বিক্রি করছেন তারা আরেকটু বেশি দামে।

ফরিদপুর নৌ-বন্দরঘাট এলাকায় খড় বিক্রি করে মো. এনায়ত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘খড় বিক্রিতে সামান্য কিছু লাভ থাকে, কিন্তু চাহিদা এত বেশি যে- পাইকাররা আমার কাছ থেকে কিনে বিভিন্ন হাটবাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি করছে। ফলে সেই অতিরিক্ত দামের বোঝাটা চাপে কৃষকদের উপর।

নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের আক্কাসের হাটের (চর এলাকা) কৃষক জলিল মৌলভি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম ধান বিক্রি করে কিছু লাভ হবে। গবাদি পশুর খাওয়ানোর জন্য খড় কিনতে হবে না। এখন আমরা ভাত খাবো না গরুকে খড় খাওয়াবো সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। যে হারে দাম বাড়ছে তাতে কিভাবে এই খড় কিনব ভবিষ্যতে সেটাই এখন ভাবছি।

ডিক্রীরচর গেন্দু মোল্যা খেয়া ঘাট এলাকার গো- খামারী মো. রহমান জানান, আমার ৮টি গরু আছে। কিন্তু বোরো মৌসুমে খড় সংগ্রহ করতে না পারায় এখন বাজার থেকে বেশি দামে খড় কিনে খাওয়াতে হচ্ছে। এতে গরু লালন-পালনে খরচ বেড়ে গেছে বহুগুণে। নিজেরা খাবো নাকি গরু খাওয়াবো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খড় ব্যবসায়ী বলেন, ‘ইদানীং যারা তোষক গদি, ছোপা তৈরি করেন তারাও প্রচুর পরিমানে খড় কিনছেন।

তিনি বলেন, গরুর পাইকার এবং খামারিরাই খড় কিনবে না-কি লেপ তোষক বানানো লোকের খড় কিনবে। সব মিলে এখন খারাপ অবস্থা।

ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হেসেন জানান, গবাদি পশুর খাদ্যের ঘাটতি এবং খামারি সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খড়ের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার শোভাযাত্রা

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার শোভাযাত্রা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আকাশি-সাদা জার্সি, হাতে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা আর প্রিয় দলের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের বিভিন্ন সড়ক।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে শতাধিক মোটরসাইকেল এবং একাধিক প্রাইভেট কার অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকদের অধিকাংশের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনা দলের জার্সি। কেউ জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন, কেউ আবার প্রিয় খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানার ও পতাকা বহন করেছেন। পুরো আয়োজনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যা পথচারীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আয়োজকদের দাবি, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতেই তাদের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। তারা বলেন, গত বিশ্বকাপের মতো এবারও আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে শিরোপা জিতবে বলে তারা আশাবাদী।

সমর্থকদের অনেকেই জানান, বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যকার একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখতে চান তারা। তাদের ভাষায়, ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুই দলের মধ্যে, আর এমন একটি ফাইনাল বিশ্বকাপকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।

শোভাযাত্রা ঘিরে শহরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এমন আয়োজন আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কালেমা খচিত সাদা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী চেতনা আরও উজ্জীবিত হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সদরপুর সর্বস্তরের মুসলিম জনতার ব্যানারে উপজেলা সদরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি সদর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে বিভিন্ন বয়সী প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। তাদের হাতে কালেমা খচিত সাদা পতাকা ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

সভায় উপজেলা পরিষদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালিমার পতাকা অবমাননা হয়েছে। কোন ভাবেই এ পতাকার অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না।

কর্মসূচির আয়োজক মুফতি মোহাম্মদ জাকির হুসাইন ফরিদী বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কালেমার গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও উজ্জীবিত করবে।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি, ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর দুই হাত কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
টাকা দিতে অস্বীকৃতি, ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর দুই হাত কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোড়কদী এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) বিকেলে আহত ব্যবসায়ী রনি শেখের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে মধুখালী থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কোড়কদী গ্রামের বাসিন্দা রনি শেখ (৩০) স্থানীয় কোড়কদী বাজারে বিকাশ, নগদ, ফ্লেক্সিলোড ও কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোড়কদী এলাকার ভেজাল মণ্ডল ও গোসাই চন্দ্র সরকারের বাড়ির মাঝামাঝি সরকারি পাকা সড়কে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা প্রথমে রনির কাছে থাকা টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ডান ও বাম হাতের ওপর এলোপাতাড়ি কোপ দেওয়া হয়। পরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

একপর্যায়ে রনি শেখ মাটিতে লুটিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আকাশ বিশ্বাস (২৫), পিতা- মৃত নিপেন্দ্র বিশ্বাস, সাং- কোড়কদী মাঝিপাড়া এবং জিহাদ শেখ (২৭), পিতা- আক্কাচ শেখ, সাং- কোড়কদী বাবুপাড়াকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছুক্ষণ পর ওই সড়ক দিয়ে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দা মিলন বিশ্বাস আহত রনি শেখকে রাস্তার পাশে ঘাসের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রনি শেখকে উদ্ধার করে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হলে রনি শেখ তার ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনার বিস্তারিত পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শুক্রবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানান বাদী।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”