ফরিদপুরে পরকীয়ার অপবাদে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটলো দুই যুবক, ভিডিও ভাইরাল
পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে আটকে রেখে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর সেই দৃশ্য ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ঘটনাটি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের। নির্যাতিতা গৃহবধূ রিক্তা বেগম (২৮) ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিক্তা বেগমকে একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তাঁর দু’হাত চেপে ধরে রেখেছেন। আর চেক টি-শার্ট পরা অন্য এক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে তাঁর মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন। এ সময় ওই নারী আকুতি-মিনতি ও চিৎকার করে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত যুবকরা তা উপেক্ষা করে চুল কাটতে থাকেন। ভিডিওর শেষ দিকে গৃহবধূর মুখে থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।
১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে ওই নারী ও এক যুবককে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ওই সময়ও গৃহবধূকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তাঁর কক্ষে এক যুবককে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দুজনকে আটক করেন। তখন ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলেন।
পরদিন রবিবার বিকেলে গৃহবধূর চুল কেটে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং আটক যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। রিক্তা বেগমের বাবার বাড়ি পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা নির্যাতনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নির্যাতনে সরাসরি জড়িত হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামে দুই যুবকের নাম উঠে এসেছে।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে একাধিক পুলিশ দল অভিযানে নেমেছে।
ওসি বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য প্রচলিত আইন রয়েছে। ভিডিও ধারণকারী ও নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন
Array