খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে পাগলা ঘোড়ার কামড়ে আহত ২০

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:০৪ এএম
ফরিদপুরে পাগলা ঘোড়ার কামড়ে আহত ২০

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা পৌরসদরে পাগলা ঘোড়ার কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর বেশ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘোড়াটি যাকে পাচ্ছে তেড়ে গিয়ে তাকেই কামড়াচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে হঠাৎ করে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

রবিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে উপজেলা সদরের কলেজ রোড ও চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও গত দুইদিনে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ঘোড়াটির কামড়ে ও লাথিতে অন্তত বিশ জনের মতো আহত হন। এছাড়া আহত অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন, উপজেলার পৌর সদরের বাসিন্দা কাজী হাসান ফিরোজ (৬০), আতাউর রহমান (৫৫), মো. সিদ্দিক (৪৫), শহিদুল (২৫), মনিরা বেগম (৩৬), আলেয়া বেগম (৩৪)। বাকিদের প্রাথমিকভাবে নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও অনেকেই বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পৌর সদরের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস বাকের বলেন, গত দুই দিনে হঠাৎ করে মহিলা-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন ঘোড়ার কামড়ে আহত হন। রবিবার সকালে পাগলা ঘোড়ার কামড়ে আহত বেশ কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পৌরসভার আঁধারকোঠা মহল্লার বাসিন্দা মোঃ নিজাম উদ্দিন খান বলেন, পৌর সদরের বিভিন্ন স্থানে গত দুই দিনে মহিলাসহ কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন আহত হন। পাগলা ঘোড়াটি সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড়াচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে ঘোড়াটিকে কোন পাগলা কুকুর কামড়ানোর পর ঘোড়াটিও পাগলের মতো আচরণ করছে আর সামনে কাউকে পেলেই কামড়াচ্ছে। লাথি মারছে।

ঘোড়ার কামড়ে মারাত্মক আহত কাজী হাসান ফিরোজ বলেন, সকালে হাঁটার জন্য রেলস্টেশনে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে চৌরাস্তায় পৌঁছালে একটি পাগলা ঘোড়া দৌঁড়ে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিছনের কোমড়ে কামড় দেয়। তাৎক্ষণিক লোকজন এসে উদ্ধার করে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে এখন বাড়িতে আছি। তবে আক্রান্ত স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভব হচ্ছে। আমার জানা মতে আজ সকালেই কমপক্ষে ছয় জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোর্শেদ আলম বলেন, সকালে ঘোড়ার কামড়ে আহত বেশ কয়েকজন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। আহতদের ব্যাথানাশক ওষুধ ও টিটিনাস ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। আহতদের ভাষ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে ঘোড়াটিকে কোন পাগলা কুকুড় কামড়িয়েছে। যার কারণে ঘোড়াটি এমন আচরণ করছে।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।