খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে শিশু হত্যাসহ এক মাসে ৮ খুন, উদ্বেগ বাড়ছে

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু হত্যাসহ এক মাসে ৮ খুন, উদ্বেগ বাড়ছে

ফরিদপুরে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে শিশু ও নারীসহ আটটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ নভেম্বর থেকে চলতি মাসের ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত এসব ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দু’টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করা হয়েছে। বাকি ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মাত্র দুটি ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আলোচিত একটি শিশু হত্যাকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও এখনও রহস্য উদঘাটন হয়নি।

🟥 আলোচিত শিশু জায়ান হত্যাকাণ্ড

গত ২০ নভেম্বর আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে সাত বছর বয়সী শিশু জায়ান মোল্যার মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় পাঁচ দফা মানববন্ধন হলেও এখনও হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটিত হয়নি। এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলেও পুলিশ রহস্য জানাতে পারেনি।

🟥 ডাব ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ড

২২ নভেম্বর বোয়ালমারীর রামচন্দ্রপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে ডাব ব্যবসায়ী ইব্রাহিমের মরদেহ উদ্ধার হয়। এক মাস পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়নি।

🟥 চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

২৩ নভেম্বর নগরকান্দায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে শাহীন শিকদার নামে এক যুবক নিহত হন। শতাধিক অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

🟥 মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকার হত্যার রহস্য উদঘাটন

৪ ডিসেম্বর সালথার কালীতলা ব্রিজ এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। পরকীয়া ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

🟥 যৌনপল্লী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

১৪ ডিসেম্বর ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লী থেকে নাসরিন নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।

🟥 কলাবাগান থেকে রিকশাচালকের গলাকাটা মরদেহ

১৮ ডিসেম্বর কোতোয়ালী থানাধীন এলাকায় রিকশাচালক টিপু সুলতানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার হয়। সম্প্রতি এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

🟥 হাত বাঁধা বিবস্ত্র নারীর মরদেহ

১৯ ডিসেম্বর সদরপুরে এক নারীর হাত বাঁধা বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার হয়। পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

🟥 বঁটির কোপে ভাশুর নিহত

ভাঙায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর বঁটির কোপে টুকু মোল্লা নিহত হন। অভিযুক্ত নারী পলাতক, মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এব্যাপারে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শামছুল আজম বলেন, “সালথা ও কোতয়ালীর দু’টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। অন্যান্য ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে। দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

এক মাসে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ফরিদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সালথায় সংঘাত থামাতে সংবাদ সম্মেলন, সম্প্রীতি চান জাহিদ মাতুব্বর

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
সালথায় সংঘাত থামাতে সংবাদ সম্মেলন, সম্প্রীতি চান জাহিদ মাতুব্বর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বালিয়া ও গট্টি এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধ, দাঙ্গা ও সংঘর্ষের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ মাতুব্বর। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আর কোনো কাইজ্জা-মারামারী নয়, সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করুন।”

সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, বিএনপির নেতাকর্মী ও তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, তিনি ২০০১ সালে সাবেক মন্ত্রী মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের নির্বাচনে কাজ করেছিলেন। পরে ২০০৭ সালে ইউরোপে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে ফরিদপুরে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, কোনো সময়ই আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না, তবে নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত আখ্যা দিয়ে একাধিক মামলায় জড়িয়েছে। সম্প্রতি গট্টি এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও রাজিব মাতুব্বরের ওপর হামলার ঘটনায়ও তাকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার দিন সকাল থেকেই আমি অসুস্থ ছিলাম এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। টানা চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ফরিদপুরে চলে যাই। অথচ আমাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”

তিনি মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এলাকায় তার একটি সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব রয়েছে। গ্রামের মানুষ তাকে একটি পক্ষের প্রধান হিসেবে দেখলেও তিনি কোনো সংঘাত চান না। বরং এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেই কাজ করতে চান।

এ সময় তিনি তার সমর্থক ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে যারা ভালোবাসেন, তারা আর কোনো সংঘর্ষে জড়াবেন না। সবাই ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবেন—এটাই আমার অনুরোধ।”

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শামা ওবায়েদ ইসলাম মরহুম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি এলাকায় শান্তি চান। আমরাও তার নির্দেশনা মেনে চলবো। আগামী দিনেও শামা ওবায়েদ আপার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো, ইনশাল্লাহ।”

কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

শুধু অতিরিক্ত খাওয়ার ফলেই শরীরে মেদ জমে না। চিনি, হরমোন, ঘুম, মানসিক চাপ থেকে শুরু করে জীবনযাত্রা পর্যন্ত—এই সবকিছুই প্রতিদিন সূক্ষ্মভাবে ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরে কেন সহজে চর্বি জমে এবং ওজন বাড়ে, তা বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের দেখতে হবে শরীরে কীভাবে চর্বি তৈরি হয়। জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের প্রাপ্তবয়স্ক পুষ্টি পরীক্ষা ও পরামর্শ বিভাগের প্রধান ড. ত্রান চৌ কুয়েনের মতে, এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ‘ব্যয়ের চেয়ে বেশি গ্রহণ’ করার পরিস্থিতি।

যখন খাবার ও পানীয় থেকে গৃহীত ক্যালোরির পরিমাণ শরীর দ্বারা ব্যয়িত শক্তির চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন অতিরিক্ত ক্যালোরি বিপাকিত হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়।

চর্বি জমার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসল সত্য:

ডঃ কুয়েনের মতে, এই প্রক্রিয়ায় চিনির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রহণ করা চিনি যখন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহৃত হয় না, তখন শরীর সেটিকে ট্রাইগ্লিসারাইডে—যা চর্বির প্রাথমিক রূপ—রূপান্তরিত করে এবং ফ্যাট কোষে জমা রাখে। এ কারণেই অনেকে সুন্দর ত্বকের আশায় প্রচুর ফল খেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ওজন বেড়ে যায়। যদি ফলের মধ্যে থাকা চিনির পরিমাণ শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই অতিরিক্ত অংশও চর্বিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার, বিশেষ করে যেগুলোতে চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেশি, তা শরীরে চর্বি জমাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং উচ্চ-চর্বিযুক্ত নাস্তা গ্রহণের ফলে সময়ের সাথে সাথে শরীরে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা হতে থাকে।

এছাড়াও, সারাদিনে খাবার গ্রহণের ধরণও বিপাক ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত খাওয়া বা গভীর রাতে খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে, বিপাকীয় দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে এবং শরীরে চর্বি জমার কারণ হতে পারে,” বিশেষজ্ঞ বলেছেন।

হরমোনগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি খাবারের পর, শরীর ইনসুলিন নিঃসরণ করে যা কোষগুলোকে গ্লুকোজ শোষণ করতে এবং তা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। যখন কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তখন গ্লুকোজ দক্ষতার সাথে শোষিত হয় না এবং এর পরিবর্তে তা চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে জমা হয়। এছাড়াও, লেপটিন এবং ঘ্রেলিনের মতো হরমোনগুলো ক্ষুধা এবং তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, তবে খাদ্য গ্রহণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যেতে পারে।

অলস জীবনযাপনও এর আরেকটি সাধারণ কারণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শক্তি ব্যয় কমে যায়, অথচ ক্যালোরি গ্রহণ অপরিবর্তিত থাকে, যার ফলে শরীরে চর্বি জমতে থাকে।

এছাড়াও, ঘুম এবং মানসিক চাপও এই প্রক্রিয়াটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাওয়া বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় – এই হরমোনটি চর্বি জমার সাথে সম্পর্কিত, বিশেষ করে পেটের অংশে।

ডঃ চৌ কুয়েন মনে করেন যে আচরণগত এবং পরিবেশগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেগপ্রবণ খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত খাওয়া, অথবা বৈজ্ঞানিক খাদ্যতালিকার উপর আস্থার অভাব সহজেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণের দিকে পরিচালিত করে। অন্যদিকে, সুবিধাজনক দোকান থেকে শুরু করে বাড়িতে ফাস্ট ফুড মজুত করার অভ্যাস পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যাপক সহজলভ্যতা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে।

উপরে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও, জিনগত কারণও প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে মেদ জমার প্রবণতাকে প্রভাবিত করে। বিজ্ঞান বিপাকের হার, মেদ বণ্টন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু জিন শনাক্ত করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, FTO জিনের বিভিন্ন রূপ উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং স্থূলতার ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং পরিবেশগত কারণসমূহ জিনের প্রকাশকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে বিপাক এবং চর্বি সঞ্চয়ও প্রভাবিত হয়।

প্রতিদিন শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন:

অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে শুধু ওজনই বাড়ে না, বরং এটি স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিছু ধরণের ক্যান্সারের মতো অসংখ্য স্বাস্থ্য সমস্যার সাথেও জড়িত। তাই, এর প্রতিরোধে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রথমত, ডঃ কুয়েনের মতে, সমস্ত খাদ্য গোষ্ঠীর পর্যাপ্ত পরিমাণ সহ একটি সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে সবুজ শাকসবজি, তাজা ফল, শস্যদানা এবং মাছ, শিম ও বাদাম থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সাথে, সম্পৃক্ত চর্বি, পরিশোধিত চিনি এবং ফাস্ট ফুড সীমিত করা উচিত। বিচক্ষণতার সাথে খাবার বেছে নিলে তা কেবল ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, বরং শরীরকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজও সরবরাহ করে।

এর পাশাপাশি, একটি সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখা অপরিহার্য। হাঁটা, সাইকেল চালানো, নাচ বা যোগব্যায়ামের মতো কার্যকলাপ অতিরিক্ত শক্তি পোড়াতে, বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

“প্রত্যেকেরই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়ামের সুযোগগুলো কাজে লাগানো উচিত, যেমন—সিঁড়ি ব্যবহার করা, কেনাকাটার সময় হাঁটা, অথবা কাজের বিরতিতে স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম করা,” বলেছেন ড. কুয়েন।

ঘুমও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালে তা হরমোন নিয়ন্ত্রণে, খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমাতে এবং শক্তি বিপাকে সহায়তা করে। এছাড়াও, ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্যান্য আরামদায়ক কার্যকলাপের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করলে আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে।

সূত্র: https://znews.vn/vi-sao-an-it-van-beo-can-nang-tang-post1626550.html

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।