খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১৩ চৈত্র, ১৪৩২

আলফাডাঙ্গায় সিগারেটের বাকি টাকা চাওয়ায় দোকান ভাঙচুর-গুলির হুমকি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫, ৯:০২ এএম
আলফাডাঙ্গায় সিগারেটের বাকি টাকা চাওয়ায় দোকান ভাঙচুর-গুলির হুমকি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামে সিগারেটের বাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মুদি দোকানে হামলা ও গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা শাহেদ মোল্লার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে রফিকুল শেখ আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গত সোমবার (০৯ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শাহেদ রফিকুলের দোকানে গিয়ে সিগারেট খান। রফিকুল পূর্বের বাকি টাকার কথা তুললে শাহেদ ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের ভেতর ভাঙচুর চালান এবং তাকে গুলি করে মারার হুমকি দিয়ে চলে যান।
ভুক্তভোগী রফিকুল শেখ (৩৫), পিতা দেলোয়ার শেখ—একজন মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত শাহেদ মোল্লা (৩০), পিতা জুয়েল মোল্লা—উভয়ের বাড়ি কামারগ্রামে। শাহেদ পৌর যুবদলের আহবায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমানের একনিষ্ঠ কর্মী।
রফিকুল বলেন, “সে অনেক দিন ধরে আমার দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে টাকা দেয় না। টাকা চাইলে আমাকে আগেও মারার চেষ্টা করেছে। কয়েকদিন আগে থানার এসআই মফিজুর স্যারকে মৌখিকভাবে জানাই। পরে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, তিনি মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এরপর সোমবার রফিকুল এ ঘটনা ঘটায়।”
তিনি আরও বলেন, “এসআই মফিজ স্যারকে  বলার পর সে আরও ক্ষেপে যায়। দোকানে এসে আবার হুমকি-ধামকি দিতে থাকে, একপর্যায়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। এরপর সিগারেট চায়, আমি না দিলে দোকানে ভাঙচুর চালায়, মালামাল ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তারপর বলে ‘তোকে গুলি করে মেরে ফেলবো’, এই হুমকি দিয়ে আমাকে দোকানের ভেতরে রেখেই সাঁটার টেনে দেয় এবং বাইরে থেকে লাঠিসোটা দিয়ে সাঁটারে আঘাত করে। আমি ভিতরে আতঙ্কে থাকি। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়।”
রফিকুল অভিযোগ করার কয়েক ঘণ্টা পরই দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হন তার আত্মীয় কাওছার খান। তিনি পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। কাওছার তার মামাতো ভাই মান্দার ও ৮ বছরের ছেলে আলিফকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে কামারগ্রামের দারোগা বাড়ীর সামনে শাহেদ ও তার দলবল তাদের গতিরোধ করে।
কাওছার খান জানান, “মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার পর শাহেদ ও তার লোকজন আমাকে ও আমার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। এতে আমরা গুরুতর আহত হই।”
এই হামলার ঘটনায় কাওছার খান মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেলে আলফাডাঙ্গা থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন যুবদল নেতা শাহেদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং অভিযুক্ত যুবদল নেতা শাহেদ মোল্যাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শাহিন মোল্লা বলেন, “শাহেদ নামে আমি কোনো যুবদল নেতাকে চিনিনা। ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনও কোনো কমিটি হয়নি। কেউ ওই পরিচয় ব্যবহার করলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়, এর দায় দল নেবে না।”
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, “আমরা রফিকুল শেখ ও কাওছার খানের দুটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‘ফ্যামিলি কার্ডের’ স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা! ফরিদপুরে যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
‘ফ্যামিলি কার্ডের’ স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা! ফরিদপুরে যুবক আটক

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কেশবনগর গ্রামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে কোতয়ালী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। আটক সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে সরকারি বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাইফুল ইসলাম কেশবনগর এলাকার কয়েকজন হতদরিদ্র মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তার মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো সরকারি খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা পেতে পারবে। এই প্রলোভনে পড়ে এলাকার অসহায় মানুষজন তার কাছে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল ইসলাম জনপ্রতি ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। অনেকেই শেষ সম্বল থেকে টাকা দিয়ে কার্ড পাওয়ার আশায় ছিলেন। তবে সময় গড়ালেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগীরা ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর হটলাইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক সত্যতা পায়। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, না বুঝে এ ধরনের কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আর এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ২:৫৪ পিএম
ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাহসিন ইসলাম ওরফে সিয়ামকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শহরের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে থেকে কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

গ্রেপ্তারকৃত সিয়াম ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী থানা ভাঙচুর সংক্রান্ত একটি মামলায় পূর্বে গ্রেপ্তার হয়ে সিয়াম জেলা কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে জামিনে বের হওয়ার পরই তিনি আবারও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সংঘবদ্ধ মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ একটি মারামারির ঘটনার সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সিয়ামকে আটক করা হয়। পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত সিয়ামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে মারামারি, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে শুক্রবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।”

সালথা বাজারে পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
সালথা বাজারে পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ফরিদপুরের সালথা বাজারে একটি পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ২৫ লাখ টাকার পাট ও অন্যান্য পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সালথা উপজেলা সদর বাজারের পুরুরা রোড এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গুদামের ভেতরে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে হঠাৎ গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো গুদাম এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ সময় আগুন পাশের দোকান ও গুদামে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় পুরো বাজার এলাকা।

সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার গুদামে থাকা অধিকাংশ পাট ও কিছু অন্যান্য পণ্য পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।