খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে স্বামীকে হারিয়ে কাঁদছে নবীরণ বেগম, মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না থামছে না শিশু সন্তানদের!

সিকদার সজল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ জুন, ২০২৫, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বামীকে হারিয়ে কাঁদছে নবীরণ বেগম, মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না থামছে না শিশু সন্তানদের!

  1. স্বামীকে হারিয়ে কাঁদছে নবীরণ বেগম। মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না থামছে না শিশু সন্তানদের। আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীরাও শোকাচ্ছন্ন। মা ও সন্তানদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা কারও নেই! হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখা গেল ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামে ইজ্জল শেখের বাড়িতে।

মোবাইলে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ইজ্জল শেখকে মারপিট ও বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমন অভিযোগ স্বজনদের।

রোববার (৮ জুন) সন্ধ্যায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে তার। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ইজ্জল শেখের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।


শনিবার (৭ জুন) পবিত্র ঈদুল আজহার দিন দুপুরে হোগলাকান্দি বাজারের পাশে নদীর তীরে বসে ইজ্জল শেখ মোবাইলে জুয়া ধরে লুডু খেলতে বসেন স্থানীয় হানিফ শেখের সঙ্গে। খেলা শেষ হলে বাড়ি ফিরে যান ইজ্জল শেখ। পরবর্তীতে হানিফ শেখ তার মোবাইল খুঁজে না পেলে ইজ্জল শেখকে ডেকে আনেন এবং মোবাইল সে নিয়েছে বলে তাকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে যেখানে বসে খেলছিল সেখান থেকে মোবাইল এনে হানিফ শেখকে দেন ইজ্জল শেখ।

এঘটনা নিয়ে বিকেলে ইজ্জল শেখকে পুনরায় মারপিট করে হানিফ শেখ ও তার লোকজন। এরপর কিছু সময় পর হোগলাকান্দি বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ইজ্জল শেখকে পরে থাকতে দেখে এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। সেখানে এসে হানিফ শেখের লোকজন ইজ্জল শেখকে অসুস্থ অবস্থায় তুলে নিয়ে বাজারের পাশে নদীর পানির মধ্যে চুপিয়ে অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে যায়। পরে রাত ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ইজ্জল শেখের পরিবারের দাবি, তাকে মারপিট ও বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি নিহতের স্বজনদের।

নিহতের স্ত্রী নবীরন বেগম বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। স্বামী কোনো কাজ করতো না। সে মাঝে মধ্যে জুয়া খেলতো, তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু শোনে না। ঈদের দিন আমি ফরিদপুর গেছিলাম মাংস জোগাড় করতে। বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে গিয়ে মাংস নিয়ে বাড়িতে আসি। এরপর বাড়ি এসে শুনতে পারি আমার স্বামীকে হানিফসহ তার লোকজন মারপিট করেছে। আমি বিষয়টি জানতে গেলে আমাকেও মারপিট করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মারপিট করার পর আমার স্বামীর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। তারপর তাকে নদীতে নিয়ে চুবানো হয়, এক পর্যায়ে তার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে সেখান থেকে হানিফ ও তার লোকজন চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আমার স্বামীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

নবীরন বেগম বলেন, ‘এঘটনার পর আমাকে অর্থের লোভ দেখানো হচ্ছে। মিটমাট করতে বলা হচ্ছে। এমনকি হুমকি ধামকিও দেওয়া হচ্ছে আমাকে মিটমাট করার জন্য। কিন্তু আমি মিটমাট চাই না, স্বামী হত্যার বিচার চাই। যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করা হোক। আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই, গরিব মানুষ বলে স্বামীর হত্যার বিচার পাব না?’

নিহতের বোন ফরিদা খাতুন বলেন, ‘আমার ভাই মারা যাওয়ার আগে একটি কাগজে তাকে কারা মারছে তাদের নাম উল্লেখ করে লিখে রেখে গেছে। ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। সন্তানরা এতিম হয়ে গেল, ওদের দেখবে কে। ভাইকে যারা মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই।’

কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আলতাফ হুসাইন বলেন, ‘হোগলাকান্দি এলাকায় মাদক ও জুয়ায় সয়লাব হয়ে গেছে। যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কতিপয় ব্যক্তি এলাকায় মাদক ও জুয়ার ব্যবসা করছে। আমি অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু রোধ করতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ইজ্জল শেখের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশের সহায়তা কামনা করেন এবং যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতারের অনুরোধ জানান তিনি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ইজ্জল শেখের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার মৃত্যু বিষক্রিয়ায় হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তবে মোবাইলে জুয়া খেলা নিয়ে তাকে মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অন্য কোনো কারণ পেলে সেই হিসেবে মামলা নেওয়া হবে।

বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
বাঙ্গালী আমৃত্য জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে : শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতন উপলক্ষে বিএনপির বিজয় র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর বিএনপির(একাংশ) আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বোয়ালমারী রেলস্টেশন থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে পৌরসদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‍্যালীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। র‍্যালী শেষে বোয়ালমারী চৌরাস্তায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

র‌্যালী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে বাঙালি যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করবে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না। আর কোনোদিন যাতে জুলাইয়ের জঘন্যতম দিন না আসে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, মফিজুর কাদের খান মিল্টন, জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিনাজুর রহমান লিপন, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেন, জাসাসের সাবেক সভাপতি শাইন আনোয়ার, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব হাসান সজীব, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক যাকারিয়া মোল্লা সুমন, জুয়েল প্রমুখ।

ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শহীদদের প্রতি সর্বস্তরের শ্রদ্ধা, বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ফরিদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনার পাশাপাশি জেলা বিএনপির উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (০৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের হাসিবুল হাসান লাভলু সড়কে অবস্থিত ‘শহীদ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ সর্বপ্রথম শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বিএনপি এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকারীদের অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বন বিভাগ, জেলা তথ্য অফিস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নির্বাচন অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় যুব শক্তি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ‘ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংক মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।

র‌্যালিতে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, দেলোয়ার হোসেন দিলা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান সবুজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ বিজয়ের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশে যাতে আর কোনো স্বৈরাচার বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।

এছাড়া ফ্যাসিবাদ পতন দিবস (৫ আগস্ট) উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির আয়োজনে বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের থানা রোড়ে (ফলপট্রি) এক বিশাল গন সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রেলস্টেশনে হারিয়ে যাওয়া শিশুর অপেক্ষায় দিন গুনছে মা

ফরিদপুরে রেলস্টেশন থেকে মানুষের ভিড়ের মধ্যেই হারিয়ে যাওয়া তিন বছরের মো. বাপ্পি নামে এক সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন মা শারমীন আক্তার। ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি তার কোনো খোঁজ। শেষ আশ্রয় হিসেবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সন্তানকে ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন শিশুটির মা।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় বুধবার (৫ আগস্ট) করা জিডি সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিশু মো. বাপ্পির (৩) গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সিংহ প্রতাপ গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর (কি পাইলাম মোড়) এলাকায় বসবাস করছিল সে।

শিশুটির মা শারমীন আক্তার বনানী জিডিতে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ফরিদপুর রেলস্টেশনে মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে তার একমাত্র ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জিডিতে শিশুটির শারীরিক বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাপ্পির গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখম-ল গোলাকার, মাথার চুল কালো ও ছোট এবং উচ্চতা প্রায় ২ ফুট ৩ ইঞ্চি। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল একটি হাফ প্যান্ট ও বেগুনি রঙের হাফহাতা গেঞ্জি। বয়স কম হওয়ায় সে নিজের নাম ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় বলতে পারে না শিশুটি।

মা শারমীন আক্তার বনানী বলেন, “আমার একমাত্র সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য সব জায়গায় খুঁজেছি। এখনও কোনো খোঁজ পাইনি। কেউ যদি আমার ছেলেকে দেখে থাকেন বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে দয়া করে আমাকে (মোবাইল নম্বর ০১৭২৭-৪৬৬৩৫৪) বা নিকটস্থ থানায় জানাবেন।”

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, জিডি গ্রহণের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুটির সন্ধান পেতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি শিশুটির সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।