খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে ৩৬ বছর ধরে চলছে টিনের ঘরে পাঠদান, সরকারি হলেও জুটেনি ভবন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:০৬ পিএম
ফরিদপুরে ৩৬ বছর ধরে চলছে টিনের ঘরে পাঠদান, সরকারি হলেও জুটেনি ভবন

ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাজনডাঙ্গা এলাকায় ১৯৮৯ সালে ৮২টি ঘর বসতি নিয়ে গঠিত হয় গুচ্ছগ্রাম। যে গুচ্ছগ্রামটি ১৯৯০ সালে উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই গুচ্ছগ্রামের অবহেলিত ও শিক্ষাবঞ্চিত কোমলমতি ছেলেমেয়েদের শিক্ষামুখী করতে ১৯৮৯ সালে গড়ে তোলা হয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার নাম রাখা হয় ‘ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এরপর এ বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। তবুও বিদ্যালয়টিতে মিলেনি ভবন, টিনের জরাজীর্ণ ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার মধ্যে গুচ্ছগ্রামের মানুষের জন্য একমাত্র বিদ্যাপীঠ ‘১১৯ নং ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই টিনের ঘর দিয়ে শুরু করে শিক্ষা কার্যক্রম। এখনো ওই ঘরেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন না থাকায় পূর্বের টিনের ঘরেই ঝুঁকির মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নেই, তাইতো কোমলমতি শিশুরা সবসময় আতঙ্ক আর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনগ্রসর গুচ্ছগ্রামের কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কথা মাথায় রেখে ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ৩৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও টিনের জরাজীর্ণ ঘরে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে পাঠদান। বৃষ্টি আসলে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে। কখনো-বা ভাঙাচোরা জিনিসপত্র মাথায় এসে পড়ে শিক্ষার্থীদের। ভয়ে শিক্ষার্থীরা আসতে চায়না স্কুলে। তাইতো কমে গেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আশেপাশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত একমাত্র এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টিতে একসময় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করলেও জরাজীর্ণ টিনের ঘর আর সাথে ভবন না থাকায় বর্তমানে মাত্র শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। নানা কারণে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে নিয়মিত।

অভিভাবক হানিফ হোসেন জানান, ‘ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরের কারণে আমাদের ছেলে মেয়েদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে হচ্ছে। সরকার যদি নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমে যাবে।’

ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চঞ্চলা রানী সরকার বলেন, ‘ভবন সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মান ব্যাহত হচ্ছে। ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও কাজ হচ্ছে না। এ ছাড়া ২০২৪ সালে সরকার থেকে একটি ভবন বরাদ্দ হলেও অদৃশ্য কারণে সেটা বাতিল হয়ে গেছে। অতিশ্রীঘ্রই বিদ্যালয়টিতে ভবন নির্মাণ করা সময়ের দাবি হয়ে গেছে।’

ফরিদপুর সদর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘ওই স্কুলের ভবন নিয়ে বারবার উপর মহলে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু, এখনও ভবন হয়নি। তবে, এর আগে গত বছর ওই স্কুলের জন্য একটি ভবন পাশ হলেও ঠিকাদার কাজ না করায় ভবনটি অন্য জায়গায় দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত এক মাস আগে ওই স্কুলের ভবনের জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘প্রচুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে, ওই স্কুলের ভবন এখনও না হওয়া দুঃখজনক। আমাদের পিডিপি-০৪ ফাইল আগামী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। তখন আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই স্কুলের ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা নিব।’

ফরিদপুর-২: ভোটের মঞ্চে অঝোর কান্না—বাবার স্মৃতিতে ভেঙে পড়লেন শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৬ এএম
ফরিদপুর-২: ভোটের মঞ্চে অঝোর কান্না—বাবার স্মৃতিতে ভেঙে পড়লেন শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) নির্বাচনী এলাকার নগরকান্দায় এক আবেগঘন জনসভায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। ভোট চাওয়ার মুহূর্তে তাঁর চোখের জল ছুঁয়ে যায় হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের হৃদয়।

রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা সদরের মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমী (এমএন একাডেমী) মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে এ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪ টার আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীদের স্লোগান ও উপস্থিত জনতার ভিড়ে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আজীবন কাজ করেছেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নগরকান্দা-সালথার মানুষকে আগলে রেখেছিলেন। এই এলাকার মানুষ তাঁকে তাদের সর্বোচ্চ ভালোবাসা দিয়ে সম্মান করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি আপনাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে বাবার আদর্শ বুকে ধারণ করে সবার সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।”

বিএনপির সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সেবা পাবেন। কোনো দুর্নীতিবাজ যেন আপনাদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

নিজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমি নগরকান্দাকে দুর্নীতিমুক্ত নগরকান্দা, দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা এবং চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়বো।”

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাত ১২টার পর যারা গ্রামে ঢোকে, তারা ভালো উদ্দেশ্যে আসে না। আপনারা নিজ নিজ গ্রাম ও ঘর পাহাড়া দেবেন। আমি আপনাদেরই একজন বোন। যদি আমি বিজয়ী হই, আমি একা সংসদে যাব না—আপনারাও আমার সঙ্গে সংসদে যাবেন।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে বাবার স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন শামা ওবায়েদ। এ সময় মাঠজুড়ে নেমে আসে নীরবতা, অনেকের চোখেও জল দেখা যায়।

জনসভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, যুগ্ম-আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবি এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরীফ।

জনসভা শেষে নেতাকর্মীরা বলেন, শামা ওবায়েদের এই আবেগঘন বক্তব্য নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

গাড়ির ভেতরেই মাথা ঘোরে, বমি আসে? এর আসল কারণ জানেন কী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৯ এএম
গাড়ির ভেতরেই মাথা ঘোরে, বমি আসে? এর আসল কারণ জানেন কী?

ধরুন আপনি কোথাও ভ্রমণে যাচ্ছেন। গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরে বমি বমি ভাব দেখা দিল। এমন অনেকের ক্ষেত্রেই হয়, যদিও সবার এমন হয় না।

এমন অনেকেই আছেন, গাড়িতে ওঠার পরই শুরু হয় অস্বস্তি। কেউ কেউ দীর্ঘযাত্রার পর বমি বমি ভাবে ভোগেন। উঁচু-নিচু সড়ক, পাহাড়ি পথ, যানবাহনে ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং যানবাহনের ভেতরে থাকা বাজে গন্ধ এ সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যদিও গাড়িতে চলার সময়ে বমি হওয়া খুব পরিচিত একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটিকে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। ভ্রমণ করার সময়ে এমনটি কেন হয়? মন, চোখ ও শরীরের ভারসাম্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? এটি কী প্রতিরোধ করা সম্ভব?

আমাদের মস্তিষ্কে ফ্লুইড রয়েছে। ভ্রমণের সময়ে এই ফ্লুইড যখন নাড়া খায়, তখন এটিতে কম্পন তৈরি হয়, যা গলায় পৌঁছায়। গলা নড়াচড়ার ফলে সেই কম্পনগুলো চলে যায় মাথার খুলিতে। এ প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ব্যালেন্স বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে বমি বমি ভাব, মাথাঘোরা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি করে। যখন তা সহ্য করার মতো থাকে না, তখন বমি হয়।

এ বিষয়ে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, ভ্রমণের সময়ে পাকস্থলীর অবস্থাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যারা খালি পেটে বা কিছু না খেয়ে ভ্রমণ করেন, পাকস্থলীতে থাকা ভেগাস নার্ভ (যেটি হৃৎপিণ্ড ও গলার নার্ভের সঙ্গে সম্পৃক্ত) আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারি খাবারের পর যারা ভ্রমণ করেন, তাদের বমি হতে পারে।

তিনি বলেন, মোশন সিকনেস সব সময় কেবল ভ্রমণ সম্পর্ককৃত সমস্যা নয়। কখনো কখনো এটি হতে পারে মস্তিষ্কের কোনো ব্যাধির একটি উপসর্গ কিংবা ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ব্রেন টিউমারের উপসর্গ পর্যন্ত হতে পারে মোশন সিকনেস।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মোশন সিকনেস কী? মোশন সিকনেস হচ্ছে— এমন এক অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময়ে মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা বা অস্থিরতায় ভোগেন ও বমি করেন। এ সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় কার, বাস, ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ে। কিছু মানুষ এ সমস্যায় আরও বেশি ভোগেন পাহাড়ি রাস্তায়। আর সাগর কিংবা আকাশে ভ্রমণের সময়ে যে ধরনের সমস্যা হয়, সেটির সঙ্গে যানবাহনে সৃষ্ট সমস্যার মিল রয়েছে।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, আপনি যদি গাড়ি বা বাসে বসে থাকেন, নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিংবা কোনো বই পড়তে থাকেন, তাহলে আপনার চোখ মস্তিষ্ককে বোঝাবে যে আপনি নড়ছেন না। কিন্তু আপনার কানের ব্যালেন্স সিস্টেম মস্তিষ্ককে ঠিকই জানাবে যে শরীরটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরছে। এ ধরনের সংকেতগুলো শরীরকে বোঝায় যে, বিষাক্ত কিছু শরীরে প্রবেশ করেছে। আর শরীর জানে যে বিষাক্ত কিছু বের করার একমাত্র উপায় হলো বমি করা। আর এটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো জানালা দিয়ে বাইরে দূরে তাকানো। এটি চোখ ও কান থেকে পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মেলে এবং অস্বস্তি কমায়।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, প্রাথমিক কারণটি হলো রক্তচাপ। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় রক্তচাপ বেশি। অনেক নারী গৃহস্থালী কাজে, বিশেষ করে রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এভাবে টানা দাঁড়িয়ে থাকা রক্তচাপ কমার কারণ হতে পারে। এটিকে পোশ্চারাল হাইপোটেনশন বলা হয়ে থাকে। এর ফলে মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব এবং মোশন সিকনেসের উপসর্গ বাড়তে পারে। নারীদের শরীরে নিয়মিত হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এটিও অন্যতম একটি কারণ। মেন্সট্রুয়েশন বা মাসিকের সময়ে শরীরে লবণ, পানি ও ইলেকট্রলাইটের ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। মাসিকে বেশি রক্ত গেলে শরীরে রক্তচাপ আরও কমতে পারে। এতে মোশন সিকনেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তিনি বলেন, নারীদের মস্তিষ্ক পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১৫০ মিলিলিটার ছোট। তিনি মনে করেন, এটি সম্ভবত মস্তিষ্কে বাইরের প্রভাবে নারীদের সহজেই প্রভাবিত করে। নিম্ন রক্তচাপ, পোশ্চারাল হাইপোটনেশন, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের গঠন – সবকিছুই নারীদের মধ্যে মোশন সিকনেসের প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণ।

এ বিষয়ে বিবিসির সংবাদদাতা কাটিয়া মস্কভিচের করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোশন সিকনেস একটি ব্যাধি। এতে ভোগেন প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন। মোশন সিকনেসে কে, কখন প্রভাবিত হবেন সেটির ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয় এবং এর কোনো নিরাময় নেই। আর মোশন সিকনেসের কারণ হলো— আমাদের শরীরের ব্যালেন্স সিস্টেম সঠিকভাবে সমন্বয় বা তাল মেলাতে পারে না। মূলত কানের অভ্যন্তরে থাকা ব্যালেন্স অরগানের (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) সঙ্গে শরীরের এই ব্যালেন্স সিস্টেম সংযুক্ত।

আবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ডা. মানজারি ত্রিপাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, যখন আমরা বাস, কার, ট্রেন বা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করি, সে সময়ে চোখ, কান ও শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে যে তথ্য যায়, সেগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি মেলে না। এ বিষয়টি ব্যালেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত রিসেপটরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপিত হয় এবং এতে করে মাথা ঘোরায় ও বমি হয়।

তিনি বলেন,  আপনার শরীরের নড়াচড়া বোঝে যে, রিসেপটরগুলো, সেগুলোর সঙ্গে কানের অভ্যন্তরীণ ব্যালেন্স সিস্টেমে ব্যাঘাতই হলো মোশন সিকনেসের কারণ। আপনার চোখ যা দেখছে এবং ভেতরের কান ও পেশি থেকে আসা সংকেতের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আমাদের শরীরের বিশেষ কিছু সেন্সর রয়েছে, যেগুলোকে আমরা রিসেপটর বলি। রিসেপটরগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলো বুঝে নিয়ে মস্তিষ্ককে সেগুলো জানায়।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আর পুরুষদের চেয়ে নারীরা মোশন সিকনেসে বেশি ভোগেন। এর নেপথ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। নারীদের জীবনযাত্রা পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন এবং এই কারণে এই সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি।

ভ্রমণের সময়ে আপনার যা করণীয়

১. খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না। সামান্য হালকা খাবার বা স্ন্যাক্স খান।

২. ভারি খাবার এড়িয়ে চলা। ডা. মহসীন ওয়ালি ভ্রমণের একদম আগ দিয়ে খুব বেশি না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. সামনে দেখা যায় এমন আসনে বসুন কিংবা সামনের আসন পছন্দ করুন; যদি সম্ভব হয় নিজে গাড়ি চালান।

৪. শরীরের অবস্থান স্থিতিশীল রাখুন। মাথা, কাঁধ, কোমর ও হাঁটুর নড়াচড়া কমান।

৫. প্রয়োজনে বমি প্রতিরোধকারী ওষুধ সেবন করুন।

৬. বমি বমি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন– সড়কের পাশে যানবাহন থামান। উল্টো দিকে যান এবং এরপর পুনরায় যাত্রা শুরু করুন।

৭. চলন্ত যানবাহনে ঘুমাবেন না। ঘুমন্ত অবস্থায় ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে না এবং বমির আশঙ্কা বাড়ে।

৮. নিকোটিন এড়িয়ে চলুন। যারা ধূমপান করেন, বমি করার সম্ভাবনা তাদের বেশি।

এমন অনেকেই আছেন, গাড়িতে ওঠার পরই শুরু হয় অস্বস্তি। কেউ কেউ দীর্ঘযাত্রার পর বমি বমি ভাবে ভোগেন। উঁচু-নিচু সড়ক, পাহাড়ি পথ, যানবাহনে ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং যানবাহনের ভেতরে থাকা বাজে গন্ধ এ সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যদিও গাড়িতে চলার সময়ে বমি হওয়া খুব পরিচিত একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটিকে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। ভ্রমণ করার সময়ে এমনটি কেন হয়? মন, চোখ ও শরীরের ভারসাম্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? এটি কী প্রতিরোধ করা সম্ভব?

আমাদের মস্তিষ্কে ফ্লুইড রয়েছে। ভ্রমণের সময়ে এই ফ্লুইড যখন নাড়া খায়, তখন এটিতে কম্পন তৈরি হয়, যা গলায় পৌঁছায়। গলা নড়াচড়ার ফলে সেই কম্পনগুলো চলে যায় মাথার খুলিতে। এ প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ব্যালেন্স বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে বমি বমি ভাব, মাথাঘোরা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি করে। যখন তা সহ্য করার মতো থাকে না, তখন বমি হয়।

এ বিষয়ে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, ভ্রমণের সময়ে পাকস্থলীর অবস্থাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যারা খালি পেটে বা কিছু না খেয়ে ভ্রমণ করেন, পাকস্থলীতে থাকা ভেগাস নার্ভ (যেটি হৃৎপিণ্ড ও গলার নার্ভের সঙ্গে সম্পৃক্ত) আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারি খাবারের পর যারা ভ্রমণ করেন, তাদের বমি হতে পারে।

তিনি বলেন, মোশন সিকনেস সব সময় কেবল ভ্রমণ সম্পর্ককৃত সমস্যা নয়। কখনো কখনো এটি হতে পারে মস্তিষ্কের কোনো ব্যাধির একটি উপসর্গ কিংবা ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ব্রেন টিউমারের উপসর্গ পর্যন্ত হতে পারে মোশন সিকনেস।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মোশন সিকনেস কী? মোশন সিকনেস হচ্ছে— এমন এক অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময়ে মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা বা অস্থিরতায় ভোগেন ও বমি করেন। এ সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় কার, বাস, ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ে। কিছু মানুষ এ সমস্যায় আরও বেশি ভোগেন পাহাড়ি রাস্তায়। আর সাগর কিংবা আকাশে ভ্রমণের সময়ে যে ধরনের সমস্যা হয়, সেটির সঙ্গে যানবাহনে সৃষ্ট সমস্যার মিল রয়েছে।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, আপনি যদি গাড়ি বা বাসে বসে থাকেন, নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিংবা কোনো বই পড়তে থাকেন, তাহলে আপনার চোখ মস্তিষ্ককে বোঝাবে যে আপনি নড়ছেন না। কিন্তু আপনার কানের ব্যালেন্স সিস্টেম মস্তিষ্ককে ঠিকই জানাবে যে শরীরটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরছে। এ ধরনের সংকেতগুলো শরীরকে বোঝায় যে, বিষাক্ত কিছু শরীরে প্রবেশ করেছে। আর শরীর জানে যে বিষাক্ত কিছু বের করার একমাত্র উপায় হলো বমি করা। আর এটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো জানালা দিয়ে বাইরে দূরে তাকানো। এটি চোখ ও কান থেকে পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মেলে এবং অস্বস্তি কমায়।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, প্রাথমিক কারণটি হলো রক্তচাপ। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় রক্তচাপ বেশি। অনেক নারী গৃহস্থালী কাজে, বিশেষ করে রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এভাবে টানা দাঁড়িয়ে থাকা রক্তচাপ কমার কারণ হতে পারে। এটিকে পোশ্চারাল হাইপোটেনশন বলা হয়ে থাকে। এর ফলে মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব এবং মোশন সিকনেসের উপসর্গ বাড়তে পারে। নারীদের শরীরে নিয়মিত হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এটিও অন্যতম একটি কারণ। মেন্সট্রুয়েশন বা মাসিকের সময়ে শরীরে লবণ, পানি ও ইলেকট্রলাইটের ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। মাসিকে বেশি রক্ত গেলে শরীরে রক্তচাপ আরও কমতে পারে। এতে মোশন সিকনেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তিনি বলেন, নারীদের মস্তিষ্ক পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১৫০ মিলিলিটার ছোট। তিনি মনে করেন, এটি সম্ভবত মস্তিষ্কে বাইরের প্রভাবে নারীদের সহজেই প্রভাবিত করে। নিম্ন রক্তচাপ, পোশ্চারাল হাইপোটনেশন, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের গঠন – সবকিছুই নারীদের মধ্যে মোশন সিকনেসের প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণ।

এ বিষয়ে বিবিসির সংবাদদাতা কাটিয়া মস্কভিচের করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোশন সিকনেস একটি ব্যাধি। এতে ভোগেন প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন। মোশন সিকনেসে কে, কখন প্রভাবিত হবেন সেটির ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয় এবং এর কোনো নিরাময় নেই। আর মোশন সিকনেসের কারণ হলো— আমাদের শরীরের ব্যালেন্স সিস্টেম সঠিকভাবে সমন্বয় বা তাল মেলাতে পারে না। মূলত কানের অভ্যন্তরে থাকা ব্যালেন্স অরগানের (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) সঙ্গে শরীরের এই ব্যালেন্স সিস্টেম সংযুক্ত।

আবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ডা. মানজারি ত্রিপাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, যখন আমরা বাস, কার, ট্রেন বা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করি, সে সময়ে চোখ, কান ও শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে যে তথ্য যায়, সেগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি মেলে না। এ বিষয়টি ব্যালেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত রিসেপটরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপিত হয় এবং এতে করে মাথা ঘোরায় ও বমি হয়।

তিনি বলেন,  আপনার শরীরের নড়াচড়া বোঝে যে, রিসেপটরগুলো, সেগুলোর সঙ্গে কানের অভ্যন্তরীণ ব্যালেন্স সিস্টেমে ব্যাঘাতই হলো মোশন সিকনেসের কারণ। আপনার চোখ যা দেখছে এবং ভেতরের কান ও পেশি থেকে আসা সংকেতের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আমাদের শরীরের বিশেষ কিছু সেন্সর রয়েছে, যেগুলোকে আমরা রিসেপটর বলি। রিসেপটরগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলো বুঝে নিয়ে মস্তিষ্ককে সেগুলো জানায়।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আর পুরুষদের চেয়ে নারীরা মোশন সিকনেসে বেশি ভোগেন। এর নেপথ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। নারীদের জীবনযাত্রা পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন এবং এই কারণে এই সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি।

ভ্রমণের সময়ে আপনার যা করণীয়

১. খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না। সামান্য হালকা খাবার বা স্ন্যাক্স খান।

২. ভারি খাবার এড়িয়ে চলা। ডা. মহসীন ওয়ালি ভ্রমণের একদম আগ দিয়ে খুব বেশি না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. সামনে দেখা যায় এমন আসনে বসুন কিংবা সামনের আসন পছন্দ করুন; যদি সম্ভব হয় নিজে গাড়ি চালান।

৪. শরীরের অবস্থান স্থিতিশীল রাখুন। মাথা, কাঁধ, কোমর ও হাঁটুর নড়াচড়া কমান।

৫. প্রয়োজনে বমি প্রতিরোধকারী ওষুধ সেবন করুন।

৬. বমি বমি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন– সড়কের পাশে যানবাহন থামান। উল্টো দিকে যান এবং এরপর পুনরায় যাত্রা শুরু করুন।

৭. চলন্ত যানবাহনে ঘুমাবেন না। ঘুমন্ত অবস্থায় ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে না এবং বমির আশঙ্কা বাড়ে।

৮. নিকোটিন এড়িয়ে চলুন। যারা ধূমপান করেন, বমি করার সম্ভাবনা তাদের বেশি।

সিগারেট টানছেন? নীরবে গ্রাস করছে আপনার যে মানসিক স্বাস্থ্য?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৮ এএম
সিগারেট টানছেন? নীরবে গ্রাস করছে আপনার যে মানসিক স্বাস্থ্য?

ধূমপান কেবল ফুসফুস বা হৃদরোগের কারণ নয়, এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। 

নতুন এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের মধ্যে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষকরা দাবি করছেন, তামাকের মধ্যে থাকা নিকোটিন মস্তিষ্কের ডোপামিন নিঃসরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদের জন্ম দেয়।

গবেষণাটিতে বলা হয়েছে যে অনেক ধূমপায়ী সাময়িক মানসিক প্রশান্তি বা স্ট্রেস কমানোর অজুহাতে ধূমপান শুরু করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়। নিকোটিনের প্রভাব যখন শরীর থেকে কমতে শুরু করে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আরও বেশি দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা অনুভব করেন। এর ফলে তারা পুনরায় ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েন, যা একটি ভয়াবহ চক্রের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে, যারা মানসিক চাপ মোকাবিলায় ধূমপানকে সমাধান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে ধূমপান ত্যাগের মাধ্যমে কেবল শারীরিক সুস্থতাই নয়, বরং মানসিক প্রশান্তিও ফিরে পাওয়া সম্ভব। যারা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কেবল ক্যানসার বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির ওপর গুরুত্ব না দিয়ে, ধূমপানের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের এই গভীর সম্পর্কের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: সামা টিভি