খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১৩ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েদীর মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি

পান্না বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৩ পিএম
ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েদীর মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি

ফরিদপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক কয়েদীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে তিনি মারা যান।

মৃত কয়েদীর নাম বিমল কুমার দাস (৬২)। তাঁর কয়েদী নম্বর ২৫২৫। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার কদমতলী আমিরাবাদ গ্রামের গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাসের ছেলে।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাদারীপুর কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মাদারীপুর কারাগার থেকে ফরিদপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। ফরিদপুরে পৌঁছানোর পরপরই তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, নিহত বিমল কুমার দাস একটি চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছিলেন। তিনি ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরে গণকবরে শ্রদ্ধা জানালেন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনকারী শাহ আবু জাফর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
ফরিদপুরে গণকবরে শ্রদ্ধা জানালেন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনকারী শাহ আবু জাফর

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টা থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের গোয়ালচামট শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ পৃথকভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, র‌্যাব, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ফরিদপুর প্রেস ক্লাব, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়, যা দিবসটির তাৎপর্য আরো বাড়িয়ে তোলে।

এদিকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেলার বোয়ালমারীতে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ করেন শাহ মো. আবু জাফর। তিনি ১০ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুরের অম্বিকা ময়দানে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন, যা মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দিবসটি উপলক্ষে তিনি বোয়ালমারী পৌর সদরের কলেজ রোডে অবস্থিত শহীদদের গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

শাহ মো. আবু জাফর মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ফিল্ড কমান্ডার (বি.এল.এফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্যা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফরসহ উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে জেলাসহ ৯টি উপজেলায় লাঠিখেলা, আলোচনা সভা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৫টায় মুক্তিযোদ্ধা বনাম সাংবাদিক এবং পৌরসভা বনাম প্রশাসনের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

পদ্মায় বাসডুবি: ঢাকার ডুবুরি প্রত্যাহার, কাজ করছে ফরিদপুর ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম
পদ্মায় বাসডুবি: ঢাকার ডুবুরি প্রত্যাহার, কাজ করছে ফরিদপুর ইউনিট

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে ফরিদপুরের ডুবুরি ইউনিট কাজ করছে, আর ঢাকার ডুবুরি ইউনিট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ফায়ার সার্ভিসের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, এ পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যে বাস থেকে ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে চারজন ছেলে ও একজন মেয়ে।

উদ্ধারকারীদের তথ্যমতে, ফায়ার সার্ভিস ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং স্থানীয় জনতা উদ্ধার করেছে আরও দুইজনকে।

এছাড়া নৌবাহিনীর ডুবুরিরা একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর রাতেই পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারকারী যান ‘হামজা’র ক্রেনের সহায়তায় পানির নিচ থেকে তোলা হয়। বাসটি উদ্ধারের পর থেকেই মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ঘটনার শুরুতেই স্থানীয় লোকজন পদ্মা নদী থেকে দুই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়।

পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ধারণা, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই নারী প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। ফায়ার সার্ভিসও প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। রাজবাড়ী জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।

 

সালথায় মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে সালথা প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা নিবেদন

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম
সালথায় মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে সালথা প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা নিবেদন

ফরিদপুরের সালথায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সালথা প্রেসক্লাব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সালথা প্রেসক্লাবের সদস্যরা বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন সালথা প্রেসক্লাবের সদস্য মনির মোল্লা, মোশাররফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম মারুফ, জাকির হোসেন, পারভেজ মিয়া সহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

স্বাধীনতার এই মহান দিনে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণ করে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।