খুঁজুন
, ,

ভালো নেই সবার প্রিয় শিক্ষক ‘বকুল আপা’, শরীরে বেঁধেছে নানা রোগ!

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ভালো নেই সবার প্রিয় শিক্ষক ‘বকুল আপা’, শরীরে বেঁধেছে নানা রোগ!

‘একসময় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নেচে-গেয়ে পাঠদান করাতেন। আনন্দ আর বিনোদনের মাধ্যমে আয়ত্ত করাতেন পড়ালেখা। তাইতো সবার মুখে মুখে বকুল আপার কথা শুনা যেত। মাঝেমধ্যে অন্য শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি দিলেও বকুল আপার ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতোনা কোনো শিক্ষার্থী। ভালোবাসা আর আদর দিয়ে পড়াতেন কোমলমতি শিশুদের। তাইতো, তার সুনাম গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরা স্কুলমুখী হতে শুরু করে। অবসরে যাওয়ার পর এখন টাকার অভাবে দু’টি চোখ হারাতে বসেছে এই শিক্ষক। শরীরও তার ভালো নেই, বেঁধেছে নানা রোগ।’

এতক্ষণ যার কথা বলছি তিনি হলেন- ফহমিদা খাতুন বকুল (৬৪)। যিনি ফরিদপুর শহরের ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ২০২০ সালে তিনি অবসরে যান। তবে, তিনি বকুল আপা নামেই অধিক পরিচিত। যাকে, সবাই বকুল আপা নামেই ডাকেন। কিন্তু, অবসরে যাওয়ার পর এ শিক্ষিকা পেনশনের ১৬ লাখ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৮ লাখ টাকা। অদৃশ্য কারণে বাকী ৮লাখ টাকা আজও ভাগ্যে জুটেনি।’

জানা যায়, ‘১৯৮৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৮২টি ঘর নিয়ে ‘ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম’ প্রতিষ্ঠিত করেন। অবহেলিত ও শিক্ষাবঞ্চিত কোমলমতি শিশুদের জন্য সে বছরই ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরু থেকেই এই স্কুলটিতে শিক্ষকতা করছেন ফাহমিদা খাতুন বকুল। এরপর ২০১৩ সালে স্কুলটি জাতীয়করণ করে সরকার। এরপর ২০২০ সালে অবসরে যান শিক্ষিকা বকুল।’

স্কুল সূত্রে জানা যায়, ‘শিক্ষিকা বকুল আপা খুবই আন্তরিক একজন মানুষ। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। তাইতো শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যন্য সহকর্মীদেরও কাছে ছিলেন জনপ্রিয়। কখনো ক্লাস ফাঁকি দিতেন না তিনি। কোমলমতি শিশুরা আগ্রহের সঙ্গে তার ক্লাস করতেন। গান, নাচ আর গজলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতেন। যার, কারণে তিনি অন্যন্য শিক্ষকদের তুলনায় ভিন্ন ছিলেন।’

এসব বিষয়ে কথা হয় স্কুল শিক্ষিকা ফহমিদা খাতুন বকুলের সাথে।

তিনি বলেন, ‘একসময় ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেচে, গান গেয়ে ও গজলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে পাঠদান করেছি। আমি অবসরে যাওয়ার পর সেই স্মৃতি এখনও মনে পড়ে। দু’টো চোখে ছানি পড়ায় প্রাণের স্কুলটা দেখতেও যেতে পারিনা। খুব কষ্ট হয়। এখন দ্রুত চোখের অপারেশন করাতে না পারলে আমি হয়তো চিরতরে অন্ধ হয়ে যাবো। তাইতো কেউ যদি আমার চোখের ছানি অপারেশন করে দিতো, তবে আমি আবার চোখে দেখতে পারতাম।’

এই স্কুল শিক্ষিকা বলেন, ‘আমার পুরো শরীরে নানা রোগে বাসা বেঁধেছে। হয়তো যে কোনো সময় চলে যাব। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পেনশনে যাওয়ার পর কাগজ-কলমে ১৬ লাখ টাকা দেখানো হলেও আমাকে দিয়েছে মাত্র ৮ লাখ টাকা। আমার বাকি টাকা মেরে দিয়েছি। সেই টাকার হিসেব আজও পাইনি। আমি সরকারের কাছে পেনশনের বাকী ৮ লাখ টাকা চাই, যাতে চিকিৎসা করাতে পারি।’

ভাজনডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চঞ্চলা রানী সরকার বলেন, ‘বকুলের মতো স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এ বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমিও জড়িত। ৮০ ঘর গুচ্ছগ্রামের এলাকায় স্কুলটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বকুল আপা একজন জলি মাইন্ডের শিক্ষক। নাচ-গানসহ নানাভাবে শিক্ষার্থীদের তিনি ক্লাসে আনন্দ দিতেন। শিক্ষার্থী সংগ্রহ থেকে শুরু করে স্কুল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল তার। তার ক্লাসের ধরণ দেখে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়তো।’

ফরিদপুর সদর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার পে স্কেলের কারণে কম পেনশন পেতে পারে। এ ছাড়া স্কুলটি বেসরকারি ছিল, পরে জাতীয়করণ হয়। এ জন্য তিনি কম পেয়েছেন কি-না সেটা যাচাই-বাছাই করে জানাতে পারবো।’

ফরিদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘পেনশন নিয়ে ওই শিক্ষিকার কোনো জটিলতা রয়েছে কি-না বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।’

 

ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন তিন শতাধিক রোগী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে স্থানীয় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বুধবা​র (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলা​র পবনবেগ মোহাম্মাদিয়া নূরানী ও এতিমখানা মাদ্রাসায় এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ‘রাসু ফাউন্ডেশন’ (রাসু জুয়েলার্সের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান)।

​মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা। দিনভর সেবা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষদের শারীরিক পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও রক্তচাপ পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ‘আলফাডাঙ্গা ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’।

​ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি। এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই উদ্যোগ নিয়ে রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই তাগিদ থেকেই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় ​সার পাচারের খবর পেয়ে সড়কে ইউএনও, হাতেনাতে আটক ডিলার

ফরিদপুরের সালথায় সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিসিআইসি’র এক নিবন্ধিত ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান ও আদালত পরিচালিত হয়।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিসিআইসি মূল ডিলার সুভাষ দত্ত তাঁর নকুলহাটি বাজারস্থ দোকান থেকে গৌড়দিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা ওহিদের কাছে ২৪ বস্তা সার হস্তান্তর করেন বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে সার নির্ধারিত গন্তব্য গৌড়দিয়ার পরিবর্তে ফরিদপুর সদরের কানাইপুরের দিকে পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর সড়কে দুপুর ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে নসিমনটি সারসহ আটক করা হয়।

​আটক নসিমনের চালক এরশাদ কোনো বৈধ পরিবহন রশিদ দেখাতে পারেননি। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলার সুভাষ দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁর বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।

​সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ডিলার সুভাষ দত্তকে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

​অভিযানকালে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবীব আল আজাদ জনি উপস্থিত ছিলেন।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, কৃষকদের জন্য সরকার বরাদ্দকৃত সার সুষ্ঠু ও নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আসামির বাড়ির সামনে খেলা করছিল ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় অভিযুক্ত মিরাজ শেখ সুকৌশলে তাকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামি মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান।

​দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

​রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামি মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।