খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মধুখালীতে নকল কীটনাশক জব্দ, প্রস্তুতকারককে ১ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
মধুখালীতে নকল কীটনাশক জব্দ, প্রস্তুতকারককে ১ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরে অবৈধভাবে নকল সার, কীটনাশক তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগে দাউদ মোল্লা (৩৫) নামে এক যুবককে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলার মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের বাগাট গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে মো. দাউদ মোল্লাকে এ দণ্ড প্রদান করা হয়।

মধুখালী কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী বলেন, গ্রাম পুলিশকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে সোমবার দুপুরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এসময় প্রায় লক্ষাধিক টাকার নকল সার ও কীটনাশক জব্দ করা হয় এবং প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন কৃষি উপকরণে (বালাইনাশক ও অনুখাদ্য) মোড়ক জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় দাউদ মোল্লাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু রাসেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বাগাট দাখিল মাদরাসার পূর্ব পাশে গোরস্থানসংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে দাউদ মোল্লা বিভিন্ন পরিচিত কোম্পানির লোগো ও প্যাকেট ব্যবহার করে নকল সার–কীটনাশক প্রস্তুত ও বাজারজাত করছেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মধুখালী থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর তন্ময় সাহা সঙ্গীয় ফোর্সসহ স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

‘উপলব্ধি’

মোহাম্মদ নূরুল্লাহ্
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
‘উপলব্ধি’

তত্ত্বের ভারে শিক্ষা যে দিগ্বিদিক।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক পাচ্ছেনা সঠিক দিক।

চুয়ান্ন বছর ধরে কতো কী যে হলো!
শতকোটি, হাজারকোটি টাকার
কেবল লোপাট হলো।

তথাকথিত এ শিক্ষার ফল।
কী পেলাম কেউ এসে
বুঝিয়ে আমায় বল।

রাষ্ট্র যেখানে শিক্ষকদের করে কথায় কথায় অপমান।
এই যে কয়দিন আগে দেখলাম
কোনো এক অনুষ্ঠান।

পাতি নেতারা চেয়ারে বসে
ভিসি এবং অধ্যক্ষ রয়েছেন দাঁড়িয়ে সটান।
সমাজে এই হলো বর্তমানে শিক্ষকদের অবস্থান।

শিক্ষকদের যদি দেন যথার্থ সম্মান
স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধান;
তবেই হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এই দেশ ,
শিক্ষকগণ ফিরে পাবেন তাঁদের যথার্থ মান।

অভুক্ত রেখে শিক্ষকদের যতোই দাও
প্রশিক্ষণ,
তাতে হিতে বিপরীত হয়ে ;
হয়ে যাবে সব বুমেরাং।

বছরের পর বছর ধরে মিথ্যে আশ্বাসের
আর নয় কোনো আস্ফালন।

তথাকথিত আভিজাত্যের ক্যাডার
আমলা সেজে কামলা করে
দেশটাকে করে ফেলছে জাহান্নাম।

তাইতো আজ ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে হতে চায় কেবল ক্যাডার প্রশাসন!

এ জাতির দুর্ভাগ্য যে
অচিরেই হতে যাচ্ছে —
দেশটা এক মহাশ্মশান।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ফরিদপুর।

মধুখালীতে ৩০০ ফুট রাস্তার ইটের সলিং নির্মাণকাজের উদ্বোধন, বদলে যাবে বৈকুন্ঠপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
মধুখালীতে ৩০০ ফুট রাস্তার ইটের সলিং নির্মাণকাজের উদ্বোধন, বদলে যাবে বৈকুন্ঠপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোড়কদী ইউনিয়নের বৈকুন্ঠপুর গ্রামে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩০০ ফুট রাস্তার ইটের সলিং নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের চলাচল দুর্ভোগ নিরসনে নেওয়া এ উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বৈকুন্ঠপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখের বাড়ি থেকে সোহরাব শেখের বাড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লার পক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মধুখালী উপজেলা শাখার আমির মাওলানা আলীমুজ্জামান নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী থাকায় এলাকাবাসীকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠত।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে, কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমবে এবং এলাকার সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এলাকাবাসী জানান, বহুদিনের প্রত্যাশিত এ সড়ক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তারা উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে মধুখালীর বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরের চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন, পুরস্কৃত এডিশনাল এসপি আজমীর হোসেনের টিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন, পুরস্কৃত এডিশনাল এসপি আজমীর হোসেনের টিম

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা ও কন্যাশিশু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ফরিদপুর জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেনের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী টিমকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ফরিদপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এ পুরস্কার প্রদান করেন। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় জাহানারা বেগম (৩০) ও তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নিহত জাহানারা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

ঘটনার পরপরই ফরিদপুর জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্তকারী টিম তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে।

তদন্তে উঠে আসে, ঢাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারার সঙ্গে মো. উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে। পরে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে নির্মমভাবে জাহানারা ও তার শিশুকন্যাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেয়।

তদন্তকারী টিমের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকা থেকে অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল, ধারালো অস্ত্র, মোবাইল ফোন এবং নিহতদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। কালিতলার এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সদর সার্কেলের টিম দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের এই সাফল্য অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।