খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

শারীরিক অবস্থা বুঝতে যেসব লক্ষণের ওপর নজর দেওয়া উচিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম
শারীরিক অবস্থা বুঝতে যেসব লক্ষণের ওপর নজর দেওয়া উচিত

আপনার যদি খুব অল্প সিঁড়ি ওঠার পরই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় নেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। যদি আগে কখনো এমন সমস্যা দেখা না দেয়, তবে হঠাৎ সিঁড়িতে ওঠা কষ্টকর মনে হয়, তাহলে এটি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে কয়েক ধাপ পরেই যদি বুক ধড়ফড় করতে থাকে কিংবা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তখন বুঝতে হবে, আপনার শরীরে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে। তবে আদৌ কি সিঁড়ি ভাঙার পর হাঁপিয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু, নাকি এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া? এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত নর্থ-ওয়েস্টার্ন মেডিসিন ক্যানিং থোরাসিক ইনস্টিটিউটয়ের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাথরিন মায়ার্স।

‘দ্য স্কিম ডটকম’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, সিঁড়ি ভাঙার সময় সাময়িকভাবে শ্বাসকষ্ট হওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এটি হতে পারে শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার লক্ষণ।

কারণ চিকিৎসক সাধারণত নিচের কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন—

১. শ্বাসনালিতে প্রদাহ কিংবা সংকোচন হলে বুজতে হবে আপনার অ্যাজমা কিংবা হাঁপানি হয়েছে।

২. আপনার দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ হচ্ছে— ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ।

৩. হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

৪. অক্সিজেন পরিবহনে রক্তাল্পতা কিংবা রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি থাকলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

 

সিঁড়িতে ওঠা সহজ করতে যা করা উচিত:

যদি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, আপনার শরীরে কোনো বড় সমস্যা নেই, তবে সিঁড়ি ভাঙা সহজ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো— অভ্যাস তৈরি করা। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সহনশীলতা বাড়াতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো— আরও সিঁড়িতে ওঠা। সে জন্য আপনার শরীরকে ধীরে ধীরে পরিশ্রমের সঙ্গে অভ্যস্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে ড. মায়ার্স বলেন, নিয়মিত হাঁটা কিংবা হালকা দৌড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যদি ঢালু পথে ওঠার (ইনক্লাইন) অভ্যাস করা যায়, তাহলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর সহজে অক্সিজেন গ্রহণে অভ্যস্ত হয়। এতে সিঁড়ি ভাঙার সময় শ্বাসকষ্ট অনেকটাই কমে যায়।

শরীরচর্চার পাশাপাশি জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আপনি সিঁড়ি ভাঙা সহজ করতে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি কিছু সাধারণ অভ্যাসও সহায়ক হতে পারে। শরীর সবসময় সংকেত দেয়। যদি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, বুক ধড়ফড় করে কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। কারণ অনেক সময় সাধারণ শ্বাসকষ্টের আড়ালে লুকিয়ে থাকে ফুসফুস কিংবা হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা, যা আগে থেকেই শনাক্ত করা গেলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো।

যদিও সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হাঁপিয়ে যাওয়া সবসময়ই বড় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে যদি নিয়মিত ব্যায়াম করা না হয়। তবে যদি এই শ্বাসকষ্ট বারবার হয় বা আগের তুলনায় বাড়ে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে।

ডা. ক্যাথরিন মায়ার্স বলেন, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় সামান্য হাঁপানো একদম স্বাভাবিক, তবে যখন এটি অল্পতেই হয় এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, তখন সেটিই সংকেত যে শরীরের কোথাও সমস্যা রয়েছে।

যে কারণে সিঁড়ি দিয়ে উঠলে শ্বাসকষ্ট হয়:

যখন কেউ দুই-তিন তলার বেশি সিঁড়ি দিয়ে ওঠেন, তখন শরীরকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কারণ তখন শরীরের অনেক অংশ একসঙ্গে কাজ করে— পা, পেশি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র—সবকিছুর ওপর চাপ পড়ে।

সিঁড়ি ভাঙা মানেই শরীরের অনেক শক্তি ব্যয় হওয়া। হাঁটার সময় যেসব পেশি ব্যবহার হয়, সিঁড়ি ভাঙার সময় সেগুলোর সঙ্গে আরও কিছু গভীর পেশি সক্রিয় হয়। তাই শ্বাস দ্রুত হয়, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়— যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তিনি বলেন, যদি কয়েক ধাপ সিঁড়ি ভাঙার পর সামান্য হাঁপান আর অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যান, তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর