খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

শীতে ত্বকের যত্নে পেট্রোলিয়াম জেলি নাকি গ্লিসারিন, কোনটি সেরা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪২ এএম
শীতে ত্বকের যত্নে পেট্রোলিয়াম জেলি নাকি গ্লিসারিন, কোনটি সেরা?

শীত এলেই ত্বক টানটান, রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়। তাই শীতকালীন স্কিনকেয়ারে ময়েশ্চারাইজার যেন ঘরের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতো হয়ে দাঁড়ায়।

এ ক্ষেত্রে বাজারে অসংখ্য ব্র্যান্ডের লোশন, ক্রিম ও সিরাম থাকলেও বছরের পর বছর আমাদের মা-খালাদের কাছে দুটি উপাদানই ছিল অটল ভরসার নাম—পেট্রোলিয়াম জেলি (ভ্যাসলিন) ও গ্লিসারিন।

কিন্তু প্রশ্ন থাকে, ত্বকের জন্য আসলে কোনটি বেশি কার্যকর? বিশেষ করে শীতকালে? উত্তর খুঁজতে গেলে জানা দরকার দুটির কাজের ধরন।

ভ্যাসলিন ও গ্লিসারিন আসলে কী?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডার্মাটোলজিস্ট ডা. শ্বেতা ত্রিপাঠি বলেন, ‘গ্লিসারিন আর ভ্যাসলিনকে আলাদা কিছু না ভেবে দল হিসেবে ভাবুন। গ্লিসারিন পানি টেনে আনে, আর ভ্যাসলিন সেই পানি ত্বকে ধরে রাখে।’ অর্থাৎ দুটিই ময়েশ্চারাইজার হলেও কাজের পথ ভিন্ন।

ভ্যাসলিন

পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকের ওপর এক ধরনের সুরক্ষাচাদর তৈরি করে। এটি নিজের ভেতর আর্দ্রতা যোগ করে না, বরং ত্বকের ভেতরে থাকা পানিকে আটকে রাখে। তাই এটি ঠোঁট ফাটা, গোড়ালি ফাটা, কনুই-হাতের রুক্ষতা, ক্ষতস্থান বা প্রক্রিয়া-পরবর্তী ত্বক সুরক্ষায় দারুণ কার্যকর।

অসুবিধা : একটু ভারী বা তেলতেলে অনুভূতি।

গ্লিসারিন

গ্লিসারিন একটি শক্তিশালী হিউমেকট্যান্ট। এটি বাতাস বা ত্বকের গভীর স্তর থেকে পানি টেনে এনে উপরের স্তরকে নরম, টানটান ও হাইড্রেটেড রাখে। হালকা, অ-তেলতেলে হওয়ায় প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী।

অসুবিধা : শুষ্ক আবহাওয়ায় একা ব্যবহার করলে ত্বক থেকে পানি টেনে নিয়ে আরও শুষ্ক করতে পারে।

শীতে কার কাজ কোনটায় বেশি?

গ্লিসারিন ত্বকে আর্দ্রতা টানে, কিন্তু সিল না করলে দ্রুত উবে যেতে পারে। আবার ভ্যাসলিন সিল করে, কিন্তু নিচে আর্দ্রতা না থাকলে কাজ করে না।

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লিসারিন-ভিত্তিক লোশন লাগিয়ে তার ওপরে অল্প ভ্যাসলিন দিলে সেরা ফল পাওয়া যায়। এটিকেই আধুনিক স্কিনকেয়ারে ‘Slugging’ বলা হয়।

তৈলাক্ত বা ব্রণ-প্রবণ ত্বক হলে গ্লিসারিন

গ্লিসারিন হালকা। তাই এটি ব্রণ সৃষ্টি করে না। আর ভ্যাসলিন বৈজ্ঞানিকভাবে পোর-ক্লগিং না হলেও তৈলাক্ত ত্বকে ভারী মনে হতে পারে।

সংবেদনশীল বা একজিমা-প্রবণ ত্বকে ভ্যাসলিন এগিয়ে

ভ্যাসলিনে কোনও সুগন্ধি নেই, সংরক্ষক নেই, একেবারে নিরাপদ। ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক রক্ষা করতে এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। গ্লিসারিন উপকারী হলেও মারাত্মক শুষ্ক ত্বকে হালকা চুলকানি বা স্টিং করতে পারে।

খুব শুষ্ক আবহাওয়া বা কনকনে শীতে ভ্যাসলিন

এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। একা গ্লিসারিন লাগালে ত্বকের ভেতর থেকে পানি টেনে নিয়ে উল্টো শুষ্ক করতে পারে। ভ্যাসলিন এই পানি ধরে রাখে ও ত্বকের ব্যারিয়ার রক্ষা করে।

তাহলে শীতে কে সেরা, ভ্যাসলিন নাকি গ্লিসারিন?

সবার ত্বক এক নয়, তাই একক কোনো বিজয়ী নেই। তবে সহজভাবে বললে, সুরক্ষা ও হিলিং চাইলে ভ্যাসলিন। অন্যদিকে নরম, হাইড্রেটেড ত্বক চাইলে গ্লিসারিন। আর একসঙ্গে দুটি সুবিধাই চাইলে গ্লিসারিনের পর ভ্যাসলিন।

ডা. ত্রিপাঠির পরামর্শ, ‘গ্লিসারিন-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার লাগান আগে, তারপর যেখানে বাড়তি সুরক্ষা চাই সেখানে ভ্যাসলিন দিয়ে সিল করে নিন।’

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।