খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

সালথায় গরু চুরির হিড়িক, সর্বস্বান্ত হচ্ছেন কৃষক ও খামারিরা

নুরুল ইসলাম নাহিদ, সালথা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫, ২:২৫ পিএম
সালথায় গরু চুরির হিড়িক, সর্বস্বান্ত হচ্ছেন কৃষক ও খামারিরা

ফরিদপুরের সালথায় গত এক সপ্তাহ ধরে একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে। সম্প্রতি উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চন্ডীবরদী, চরবল্লভদী ও খালিশা বল্লভদী গ্রামে এসব চুরির ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। সংঘবদ্ধ চোরের রাতের আঁধারে খামারি ও কৃষকদের গোয়ালঘর থেকে অন্তত ৯টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। চোরেরা বল্লভদী ইউনিয়নের সীমান্তে থাকা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ব্যবহার করে চুরি করা গরুগুলো খুব সহজেই ট্রাক ও পিকআপে করে গন্তেব্যে নিয়ে যাচ্ছে। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা।

অন্যদিকে, একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় পুরো ইউনিয়নবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে রাত জেগে গরু পাহারা দিতে শুরু করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটতে থাকলে এ এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পথে বসে যাবে। এমন অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার জন্য ও পুলিশের টহল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহে শুধু চন্ডীবরদী গ্রাম থেকেই চুরি হয়েছে অন্তত ৬টি গরু। সর্বশেষ সোমবার (০৭ জুলাই) গভীররাতে চন্ডিবরদী গ্রামের কৃষক সেলিম শেখের গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী সেলিম শেখ বলেন, সারাজীবনের জমানো টাকায় কেনা আমার তিনটি গরু চোরেরা নিয়ে গেছে। এই গরুর দুধ বিক্রি করেই চলে আমার সংসার। চোরেরা আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। এখন আমি কী করব?

এর আগে গত ২ জুলাই গভীররাতে চন্ডীবরদী গ্রামের গ্রাম পুলিশ মিলন মিয়ার গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি হয়। ভুক্তভোগী মিলন মিয়া বলেন, কিছুদিন আগে আমার তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। চোরের দল আমাকে একেবারে সর্বস্বান্ত ও নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে। এই তিনটি গরু ছাড়া আমার আর কোনো সম্বল ছিল না। আমি এখন কিভাবে সংসার চালাবো? কে আমার এই ক্ষতি পুষিয়ে দেবে?

এ ছাড়াও সম্প্রতি চন্ডীবরদী গ্রামের শাজাহান সরদারের তিনটি গরু, পিলি মুন্সির একটি গাভী এবং চরবল্লভদী গ্রামের হাসেম মোল্যার দুটি গরু ও খালিশা বল্লভদী গ্রামের কোবাদ মোল্যার দুটি গরু চুরি হয়েছে। ভুক্তভোগী কোবাদ মোল্যা বলেন, আমার দুটি গরু চুরি হওয়ার পর থেকে গরু পালন বাদ দিয়েছি। এত কষ্ট করে গরু বড় করার পর যখন চোরে নিয়ে যায়, সেই কষ্টের কোনো সীমা থাকে না।

চন্ডীবরদী গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান শরিফ বলেন, আমাদের এলাকাটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে হওয়ায় চোরেরা পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকে করে গরু নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় খুব সহজেই। এরা কোনো ছিঁচকে চোর নয়, এরা সংঘবদ্ধ বড় কোনো চোর চক্র। এদের হাত থেকে আমাদের সম্পদ রক্ষা করা জরুরী। নইলে মানুষ তাদের আয়ের মাধ্যম হারিয়ে পাগল হয়ে যাবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিনুর শিকদার বলেন, কৃষকরা তাদের গরুকে সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। সেই গরু চুরি হলে সন্তান হারানোর মতোই কষ্ট পায়। এমন অবস্থায় চুরি প্রতিরোধে চন্ডীবরদী স্ট্যান্ড, চরবল্লভদী মোড় ও বাউশখালির মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কঠোর পাহারার ব্যবস্থা করার দাবি জানাই। একইসাথে মহাসড়কে ওঠার প্রধান পথ চন্ডীবরদী স্টান্ডে একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের করা হলে চোর শনাক্তে সহায়ক হবে।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, গত রাতের গরু চুরির ঘটনাটি জানার পর ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। কিছুদিন আগেও গ্রাম পুলিশ মিলন মিয়ার গরু চুরির ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। এসব চুরির ঘটনায় পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইতোমেধ্য ওই এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুতই চোর শনাক্ত করতে পারবো।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩০ পিএম
বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৭ সালের ২১ মার্চ ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেএম ওবায়দুর রহমান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৬২-৬৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও নগরকান্দা থানা নিয়ে গঠিত আসন থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার  পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী হন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও সরকারের মন্ত্রী হন। এরপর তিনি বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের ৭ম জাতীয় সংসদ ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর -২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশে মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান একজন গণসম্পৃক্ত জাতীয় নেতা হিসেবে সবার নিকট সমাদৃত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু পরবর্তীতে জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র তথা সকল আন্দোলন -সংগ্রামে সোচ্চার থেকে তিনি আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। ‘

কেএম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের নির্ভীক সৈনিক। তার আদর্শ, সততা মানুষের জন্য কাজ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে আছে এবং থাকবে।

কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা বিএনপি, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টায় নগরকান্দার লস্করদিয়ায় কে এম ওবায়দুর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা অর্পণ ও আগামী ২৩ মার্চ বিকালে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন