খুঁজুন
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

সালথায় তীব্র গরমে বাড়ছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ৮:০৯ পিএম
সালথায় তীব্র গরমে বাড়ছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ
ফরিদপুরের সালথায় গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিহীন আকাশ। প্রচণ্ড গরমে কাটছে দিনরাত। সব সময়ই বইছে ভাবস্যা গরম হাওয়া। ওষ্ঠাগত মানুষসহ প্রাণিকুলের জীবন। গ্রীষ্মের দ্বিতীয় মাস জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি থেকে চলছে খরা। আষাঢ়ের খুব কাছাকাছি ৩১ জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত তা বর্তমান। এদিকে তীব্র গরমে উপজেলায় ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
তীব্র এ গরমে বিপদে পড়েছেন মাঠে কাজ করা কৃষক। অন্যদিকে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। রোদে বাইরে থাকা যায় না বেশিক্ষণ। আবার কাজ শেষ না করলেও সমস্যা। সেক্ষেত্রে কাজ রেখে বারবার বিশ্রাম নিতে হয়। তৃষ্ণা মেটাতে খেতে হচ্ছে পানি। এক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারছেন না। পাশাপাশি তারা আক্রান্ত হচ্ছেন সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায়।
অতিরিক্ত গরমে কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন ঐসব রোগে। এছাড়া সম্প্রতি করোনার বিস্তারে এতে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা।
সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এই গরমে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছে সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে এ জাতীয় রোগীর সংখ্যা। বেশির ভাগই আউটডোরে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। কেউ হাসপাতালে থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলমান দাবদাহে নিজেকে রক্ষায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়াই ভালো। থাকতে হবে ছায়াযুক্ত স্থানে। বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। বার বার হাত, মুখ ধুতে হবে। অনেকেই স্যালাইন খেয়ে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে ডায়রিয়া না হলে তা খাওয়ার দরকার নেই। এ দাবদাহে রয়েছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি। রোদে কাজ করতে গিয়ে যদি কারো প্রচুর ঘাম ঝরে, অস্বস্তি লাগে। তাহলে দ্রুত তাকে ছায়াযুক্ত স্থানে যেতে হবে। যোগাযোগ করতে হবে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

ফরিদপুরে শ্রমজীবীদের সঙ্গে একই কাতারে ইফতার, মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ফরিদপুরে শ্রমজীবীদের সঙ্গে একই কাতারে ইফতার, মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক অনন্য মানবিক ও সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়। পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে দৈনিক সমকাল-এর সহযোগী সংগঠন ‘সমকাল সুহৃদ সমাবেশ, ফরিদপুর’ উদ্যোগে শ্রমজীবী মানুষের সম্মানে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার মাহফিল।

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ৯ম রমজানে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। দিনভর রোজা রাখার পর ইফতারের আগে থেকেই সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। আয়োজকদের আন্তরিকতা, সম্মান ও ভালোবাসায় সবাই যেন এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ইফতারে অংশগ্রহণকারী শতাধিক শ্রমজীবী মানুষ একই কাতারে বসে ইফতার করেন, যা ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সাম্য ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এসময় উজ্জ্বল বিশ্বাস নামে এক রিকশাচালক বলেন, “আমরা সাধারণত আলাদা আলাদা জায়গায় ইফতার করি। কিন্তু এখানে সবাই একসাথে বসে ইফতার করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য।”

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সাবেক সভাপতি সৌমিত্র মজুমদার পলাশ। তিনি বলেন, “রমজান আমাদের সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। আজকের এই আয়োজন সেই শিক্ষারই বাস্তব প্রতিফলন। এখানে সবাই একই কাতারে বসে ইফতার করছে, যা সমাজে সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।”

ইফতার মাহফিলে রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশ, ফরিদপুরের সভাপতি হারুনার রশিদ। তিনি বলেন, “রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাস। এই মাস আমাদের শেখায় কিভাবে অন্যের কষ্ট অনুভব করতে হয় এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। এ ধরনের আয়োজন সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সকলের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহমর্মিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ফরিদপুরের সাধারণ সম্পাদক আবরাব নাদিম ইতুর নেতৃত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুল ইসলামের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে শিক্ষক সাহানা জলি, শামীমা শিমু, প্রভাত সিং, সাংবাদিক মফিজুর রহমান শিপন, অপূর্ব অসীম, হারুন-অর-রশীদসহ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

সৌদি আরবে ফরিদপুরের প্রবাসীর মৃত্যু: লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি পরিবারের

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
সৌদি আরবে ফরিদপুরের প্রবাসীর মৃত্যু: লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি পরিবারের

সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া রবিউল মোল্যা (২৭)-এর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের বন্ডপাশা গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন নিহতের পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রবিউল মোল্যা বন্ডপাশা গ্রামের মৃত আউল মোল্যার ছেলে। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা করে মাত্র কিছুদিন আগে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন রবিউল। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রেখে গেছেন ২৮ মাস বয়সী এক শিশু সন্তান, স্ত্রী, মা ও ভাইবোনদের। পরিবারের দাবি, অর্থাভাবে তারা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছেন না।

নিহতের মা চিনি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সন্তানদের মানুষ করেছি। ধার করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম, যেন সংসারের অভাব দূর হয়। এখন তার লাশটা দেশে আনার সামর্থ্যও আমাদের নেই। আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি, যেন আমার ছেলের লাশটা দেশে এনে শেষবারের মতো দেখতে পারি।”

স্ত্রী তাপসী বেগম (২১) ও ছোট ভাই আইয়ুব মোল্যা (২৫) বলেন, “আমাদের একটাই চাওয়া—রবিউলের মরদেহ যেন দেশে আনা হয়। তার ছোট্ট সন্তানটি যেন অন্তত বাবার মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারে।”

মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাই প্রবাসীদের যেকোনো বিপদে রাষ্ট্রের এগিয়ে আসা উচিত। তারা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এ সময় বক্তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে অসহায় পরিবারটি শেষ বিদায় জানাতে পারে তাদের প্রিয়জনকে।

ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মা থেকে বালি কাটায় দুইজনকে আটক, ড্রেজার পাইপ ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মা থেকে বালি কাটায় দুইজনকে আটক, ড্রেজার পাইপ ধ্বংস

ফরিদপুরের সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে নেওয়ার সময় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় পাঁচশত মিটার ড্রেজার কাজে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করা হয়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে এ অভিযানে পরিচালনা করা হয়।

সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজ উদ্দিন মুন্সির ডাংগী হতে রাজাই ব্যাপারীর ডাঙ্গী পর্যন্ত সড়কে এ অভিযান চলে। এ সময় বালু কাটার কাজে অংশ নেওয়া দুই শ্রমিক ফরহাদ শেখ (৩০) ও রুবেলকে (৩১) হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মফিজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী হতে মমিন খার হাটে চলাচলের সড়কে অভিযান পরিচালনা করে চালু অবস্থায় একটি অবৈধ ড্রেজারের প্রায় ৫০০ মিটার পাইপ ধ্বংস করি।

এ সময় অবৈধ ড্রেজারে বালুকাটার কাজে নিয়োজিত দুইজন শ্রমিককে আটক করা হয়। আটকৃতরা জানান, রাকিব নামে একজন এই ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করেন, সে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলা সংলগ্ন মগরব মাতুব্বরের পাড়ার জয়নাল মাতব্বরের ছেলে। অবৈধ ড্রেজার মালিককে অফিসে এসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অবৈধ ড্রেজারসহ যেকোনো বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।

অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিশেষ সহকারি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, স্থানীয় মেম্বার মো. ইউনুস আলী বেপারী, আনসার সদস্য ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশেরা।