খুঁজুন
সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৬ চৈত্র, ১৪৩২

কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই যেভাবে তাড়াবেন মশা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই যেভাবে তাড়াবেন মশা?

গরমের শুরুতেই মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের ভেতরে আর বাইরে বেড়ে যায় মশার উৎপাত। ছোট এই পোকাটি শুধু বিরক্তিই করে না, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।

মশা তাড়ানোর জন্য বেশিরভাগ মানুষ রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করেন।

তবে অনেকে এসব জিনিস ব্যবহার করতে চান না। কীভাবে স্প্রে, কয়েল ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়াতে পারবেন, চলুন জেনে নিই-

ঘরের আশেপাশে পানি জমতে দেবেন না:

মশা স্থির বা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই, ঘরের আশেপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না। টব, বালতি, কুলার এবং নর্দমায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

এতে মশার লার্ভা বা ডিম থেকে বংশবৃদ্ধি হবে না।

রসুনের স্প্রে:

রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যার গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। পানিতে রসুন ফুটিয়ে খুব সহজেই একটি রসুনের স্প্রে তৈরি করে নিতে পারেন। পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে তা জানালা, গাছপালা কিংবা ঘরের বাইরের বিভিন্ন জায়গায় ছিটিয়ে দিন।

এটি মশাকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

এসেনশিয়াল অয়েল:

এসেনশিয়াল অয়েল বা সুগন্ধি তেলও মশা তাড়াতে সাহায্য করে। লেমনগ্রাস অয়েল, ইউক্যালিপটাস অয়েল এবং টি-ট্রি অয়েলের গন্ধ পছন্দ করে না মশা। এই তেলগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে আপনার ঘরের ভেতরে স্প্রে করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে, এই মিশ্রণে তুলোর বল ডুবিয়ে দরজা ও জানালার কাছাকাছি রেখে দিতে পারেন।

নিম পাতা:

প্রাচীনকালে মানুষ মশা তাড়ানোর জন্য শুকনো নিম পাতা পোড়াতেন। কারণ মশা এই গন্ধ একদমই সহ্য করতে পারে না। মশা দূরে রাখতে বারান্দা, বারান্দার বাইরের অংশ কিংবা বাগানে নিম পাতা পোড়াতে পারেন।

জানালা ও দরজায় নেট লাগান:

ঘরে মশা প্রবেশ রোধ করার একটি সহজ উপায় হলো জানালা ও দরজায় মিহি জালি বা নেট লাগিয়ে নেওয়া। এতে ঘরের ভেতরে সতেজ বাতাস চলাচল করতে পারে এবং মশা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

মশা তাড়ানোর গাছ :

কিছু কিছু গাছের তীব্র গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। বাড়িতে রাখতে পারেন সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার এবং পুদিনার মতো গাছগুলো। দরজা, জানালা কিংবা বারান্দার কাছাকাছি এই গাছগুলো লাগাতে পারেন। এই গাছগুলো যে কেবল মশাই তাড়াবে তা নয়, বরং আপনার ঘরের চারপাশের পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলবে এবং বাতাসের গুণমানও উন্নত করবে।

পরিচ্ছন্নতা:

মশা তাড়াতে চাইলে ঘরের ভেতরে এবং আশেপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবর্জনা কিংবা ঘন ঝোপঝাড় মশা বংশবিস্তারের উপযুক্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই, ঘর এবং চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। এভাবে মশার উপদ্রব বা সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভাঙ্গায় বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও ইলিশ পরিবহনের সংঘর্ষে আহত ৫

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও ইলিশ পরিবহনের সংঘর্ষে আহত ৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও ইলিশ পরিবহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (২৯ মার্চ) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বেসুমপুরদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস মাদারীপুরে বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কয়েকজন যাত্রী ভাঙ্গা হয়ে ফেরার পথে ওই এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ইলিশ পরিবহনের একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে ইলিশ পরিবহনের গাড়ির চালক ও মাইক্রোবাসের যাত্রীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারাও হামলার শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা কয়েক যাত্রী আহত হন কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

জ্বালানি সংকট: বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট: বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বা কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

এর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আপাতত তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলে যাবে সরকার।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম, আমদানিতে বাড়তি খরচ ও ডলার সংকটের কারণে সরকার এই কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা অন্তত আটটি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহার করা ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে।

তবে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আমাদের স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের বাইরেও চিন্তা করতে হতে পারে। সূত্রগুলো জানায়, বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া তৈরি শুরু করেছে।

জ্বালানি মজুত রোধে সরকার ইতোমধ্যে গত কয়েক দিনে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, চাপ কমাতে এখন চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে।

চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ বা ডিএসএম হলো ইউটিলিটি-চালিত এমন কিছু কৌশল, যার লক্ষ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনকে প্রভাবিত করা, কমানো বা সরিয়ে নেওয়া। বিশেষ করে যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে।

এই প্রতিবেদনের জন্য যোগাযোগ করা কর্মকর্তাদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তি দেন যে, আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, কোভিড আমলের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সিদ্ধান্তগুলো আরও আগেই নেওয়া যেত। প্রয়োজনে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক ডাকা যেতে পারে।

আরেকজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন যে, বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকেই সরকার পরিচালনায় নতুন, যা সংকটের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। তিনি অতীতের সংকট মোকাবিলা করেছেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।

গতকাল রবিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন ধরেননি। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল অফিসগুলোকে চলতি মাসের শুরুর দিকে দেওয়া জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং ব্যবহার না করলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা।

অফিসগুলোকে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি অফিসে এই নিয়মগুলো তদারকি করতে সরকার একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠন করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশও এর আঁচ পাচ্ছে, কারণ জ্বালানি ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা তেল ও এলএনজি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে যেকোনো বিঘ্ন বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কারণ এখানকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ব্যাপকভাবে বিদেশি গ্যাস ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় আমদানি কমিয়ে স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে দাম অনেক চড়া। যুদ্ধের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

কর্মকর্তারা জানান, এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খাত ফার্নেস অয়েলের মতো ব্যয়বহুল বিকল্পের ওপর নির্ভর করছে। পাশাপাশি দেশের সীমিত শোধন ক্ষমতার কারণে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোবাংলা সতর্ক করেছে যে আগামী মাসগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরও যোগ করেন, তবে সম্প্রতি কেনা এলএনজি যদি সময়মতো পৌঁছায়, তাহলে এপ্রিল মাসে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সূত্র: ডেইলি স্টার

ইরান যেভাবে ইসলামের অধীনে আসে? জানুন এক নজরে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
ইরান যেভাবে ইসলামের অধীনে আসে? জানুন এক নজরে

ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু অধ্যায় রয়েছে, যা কেবল যুদ্ধ-বিজয়ের কাহিনি নয়, বরং এক সভ্যতার রূপান্তরের গল্প। ইরান বিজয়ের ইতিহাস তেমনই এক অনন্য অধ্যায়, যেখানে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক সমাজ ধীরে ধীরে আলোর পথে এগিয়ে আসে ইসলামের সুশীতল ছায়ায়।

শ্রেণিবৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন আর নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত পারস্যভূমি যখন মানবতার মুক্তির পথ খুঁজছিল, ঠিক তখনই ইসলামের ন্যায়, সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক বার্তা সেখানে পৌঁছে যায় সাহাবায়ে কেরামের হাত ধরে।

তাওহিদের আহ্বান, ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদার পুনর্জাগরণের মধ্য দিয়ে ইরান হয়ে ওঠে ইসলামি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে তরবারির ঝলকানির পাশাপাশি দাওয়াত, আদর্শ ও নৈতিকতার শক্তিই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়।

ইরানে ইসলামের ভিত্তি

ইসলাম বিজয়ের পূর্ববর্তী সময়ে ইরানে ধর্ম হিসেবে জরথুষ্ট্র মতবাদ ছিল সরকারিভাবে স্বীকৃত। তখন দেশটি শ্রেণিবৈষম্য, অবিচার, দুর্নীতি ও নির্যাতনের আখড়ায় পরিণত এক ভূমি ছিল। সাধারণ জনগণ দেশের স্বীকৃত ধর্মীয় কাঠামো থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে।

এরই মধ্যে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে, সাহাবি মুসান্না ইবনে হারিসা (রা.)-এর নেতৃত্বে ইরানে ইসলাম বিজয়ের প্রথম ধাপ সূচিত হয়। তিনি সাওয়াদ অঞ্চলের আশপাশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমি জয় করে ইসলামি পতাকা উড্ডীন করেন, যা ছিল এক বৃহৎ পরিবর্তনের সূচনা।

হজরত উমরের শাসনামলে নতুন গতি

খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলে ইরানে ইসলামি বিজয় নতুন গতি পায়। সাহাবি আবু উবাইদ আস-সাকাফি (রা.) ১৩ হিজরিতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে পারস্যে অভিযান শুরু করেন। তিনি সেতুর যুদ্ধে পারস্য সেনাপতি জাবানকে পরাজিত ও বন্দী করেন। এরপর কাসকারে নরসির এবং গ্যালেনের সাথেও সফলভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তবে এক পর্যায়ে পারস্য বাহিনীর আকস্মিক হামলায় মুসলিম বাহিনী চাপে পড়ে। অনেক সৈন্য নিহত ও পানিতে ডুবে যায়, আর এই যুদ্ধেই শহীদ হন আবু উবাইদ আস-সাকাফি (রা.)। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা ৪২১)

ইতিহাসের মোড় ঘোরানো যুদ্ধ

১৪ হিজরীতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ইরান বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করে। ঐতিহাসিক আল-কাদিসিয়া যুদ্ধে পারস্য বাহিনী মুসলমানদের কাছে নির্মমভাবে পরাজিত হয়। এই যুদ্ধ ছিল ইসলামের অন্যতম বড় বিজয়, যা ইরানে ইসলামি শাসনের পথ সুগম করে।

ঐতিহাসিকদের মতে, কাদিসিয়া যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার, আর পারস্য সেনাপতি রুস্তুম নেতৃত্ব দেন প্রায় ৬০ হাজার সৈন্যের। ১৪ হিজরির মহররম মাসের এক সোমবার প্রবল ঝড়ে পারস্য বাহিনীর তাঁবু উড়ে যায়, এমনকি রুস্তুমের বিছানাও ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। তিনি পালাতে চেষ্টা করলে মুসলিমরা তাকে ধরে হত্যা করে। পারস্য বাহিনীর আরেক নেতা আল-জালানুসও নিহত হন।

এই যুদ্ধে মুসলমানরা পারস্যদের পরাজিত করে। উপর্যুপরি হামলায় তাদের ৩০ হাজার সদস্য নিহত হয়। আর কয়েক দিনে দুই হাজার পাঁচ শ মুসলিম শহীদ হন। এরপর মুসলমানরা পরাজিত পারস্য সেনাদের ধাওয়া করতে করতে মাদায়েন শহরে প্রবেশ করে, যা ছিল পারস্য বাদশাহর রাজধানী এবং খোসরোর প্রাসাদ ‘ইওয়ান’-এর অবস্থান। কাদিসিয়া যুদ্ধে মুসলিমরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও অস্ত্রশস্ত্র লাভ করার পর গনিমতের মাল একত্র করে ভাগ করা হয়, যার এক-পঞ্চমাংশ খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাছে সুসংবাদের সঙ্গে পাঠানো হয়। ( আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা ৬৩০)

মুসলিমরা ইরানের ভূখণ্ডে তাদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত রেখে দক্ষিণ ইরান দখল করে। ১৮ হিজরিতে জালুলার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী ও ইয়াজদেগার্দের সেনারা সম্মুখসমরে লড়াই করেন, যেটি ইয়াজদেগার্দ ও তার বাহিনীর পরাজয়ে শেষ হয় এবং তিনি ইসফাহানের দিকে পশ্চাদ গমন করেন।

আল্লামা তাবারি (রহ.) লিখেছেন, ‘সেদিন আল্লাহ এক লাখ সৈন্যকে নিহত করেছেন, যার মৃতদেহ মাঠসহ তার আশপাশ সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়েছিল। এ কারণে ওই স্থানটির নাম হয় জালুলা।’ (তারিখুত তাবারি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬)

বিজয়ের বিজয়

২১ হিজরীতে নাহাওয়ান্দের চূড়ান্ত যুদ্ধে মুসলিমরা ইয়াজদেগারদের পরাজিত করে এক মহা বিজয় অর্জন করে। এর পর সাসানীয় শাসকরা আর কখনও পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। গনিমতের বিপুল সম্পদের কারণে এই যুদ্ধে মুসলিমরা ‘বিজয়ের বিজয়’ নামে সমাদৃত হয়।

বিখ্যাত তাফসিরবিদ ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, ‘এই যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর। মুসলিমরা এটিকে ‘বিজয়ের বিজয়’ বলে অভিহিত করেছিল’ (আল-বিদায়া ওয়াল-নিহায়া, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১১১)।

দেশটির বিস্তৃতি ও দুর্গমতার কারণে পুরো ইরান নিয়ন্ত্রণে নিতে মুসলমানদের প্রায় এক দশক সময় লেগেছিল। অতঃপর ইসলামের প্রচার-প্রসার সহজ হয় আরব গোত্রের অভিবাসন, বসতি স্থাপন ও ইরানিদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মিশ্রণের মাধ্যমে।

৯০৬ হিজরিতে শিয়া সাফাভিরা ক্ষমতা গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত প্রায় নয় শতাব্দী ধরে ইরান সুন্নি মতবাদ অনুসরণ করে আসছিল। এটি শুধু সামরিক নয়; বরং এক ঐতিহাসিক বিপ্লব, যার মাধ্যমে ইরান ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক ও বিশ্বব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন এনেছিল।