খুঁজুন
, ,

নগরকান্দায় ভাগ্নের হাতে খালা খুন—৪ দিনেই পুলিশের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ভাগ্নে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় ভাগ্নের হাতে খালা খুন—৪ দিনেই পুলিশের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ভাগ্নে

ফরিদপুরের নগরকান্দায় চাঞ্চল্যকর জামেলা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে এ সাফল্য আসে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দায় পুলিশের সার্কেল অফিসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, নিহত জামেলা বেগম (৬৫) জেলার সদরপুর উপজেলার জাকেরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোতালেবের বড় বোন। গত ২৭ মার্চ রাত থেকে ২৮ মার্চ ভোরের মধ্যে কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই শেখ মোতালেব বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমে ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাজমুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।

পুলিশ জানায়, ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য মোটিভ খোঁজা এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারির মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অবশেষে মূল আসামির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

অতঃপর মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাড়ীরটেক এলাকা থেকে মো. আলমগীর হোসেন (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিহত জামেলা বেগমের ভাগ্নে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আর্থিক সংকটে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় সে তার খালা জামেলা বেগমের কাছে টাকা ধার চায়। কিন্তু খালা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার প্রতি ক্ষোভ জন্ম নেয়।

তদন্তে জানা যায়, জামেলা বেগমের স্বামী মৃত এবং তার দুই মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিনি একাই বাড়িতে বসবাস করতেন। এছাড়া জমি বিক্রির কিছু টাকা স্থানীয় একটি এনজিওতে এফডিআর হিসেবে জমা ছিল, যা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে আলমগীর।

ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও সে নগরকান্দার কৃষ্ণপুর বাজারে অবস্থান নেয়। পরে রাত ৮টার দিকে খালার বাড়িতে গিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে কথা বলে। একপর্যায়ে খালা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাতে ঘুমানোর পর ভোররাতে আলমগীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাংকে ফেলে রেখে বাইরে তালা লাগিয়ে ফজরের নামাজের পরপরই পালিয়ে যায় সে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাজমুল ইসলাম জানান, মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২০

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে যাত্রীবাহী বাস ও ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর বাসটি খাদে উল্টে যায় এবং ট্রাকের ধাক্কায় পল্লী বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের (ফরিদপুর-ব-১১০৫২) সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি উল্টে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে, বেপরোয়া গতির ট্রাকটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের গেটসংলগ্ন খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

​ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালক-হেলপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। দুর্ঘটনায় সাময়িকভাবে ওই সড়কে যান চলাচল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

​বোয়ালমারী পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম উৎপল মণ্ডল জানান, দুর্ঘটনায় তিনটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

​বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কোবায়েদ হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় জামাল মোল্লা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল মোল্লা মধুখালী উপজেলার মাবকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি রাজবাড়ী সদর থানার বানিয়াবহু হুগলাডাঙ্গী গ্রামে।

​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ৩ মে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শিশুটি দর্জির বাড়ি থেকে জামা আনতে গিয়ে তা না পেয়ে আসামির বাড়ির উঠানে তার নাতনিসহ অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় জামাল মোল্লা শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

​একপর্যায়ে শিশুটি কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিঁড়ির ওপর পড়ে চিৎকার করতে থাকে। আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর আসামি জামাল মোল্লা এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

​আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই দণ্ডাদেশ দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সঠিক রায় দিয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে আমরা আশা করি।”

সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ফরিদপুরের সদরপুরে ইজিবাইকের ধাক্কায় ফারদিন (৭) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের কারীরহাট মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকার পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত ফারদিন একই এলাকার বাচ্চু মাতুব্বরের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কারীরহাট মধু মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি চলন্ত ইজিবাইক ফারদিনকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডিনঃ সুমাইয়া পারভেজ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।