খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে লিজের জমি না ছাড়ায় পানের বরজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে লিজের জমি না ছাড়ায় পানের বরজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে লিজের জমি না ছাড়াকে কেন্দ্র করে পানের বরজে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দুই পানচাষী। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান আতু শেখ (৬০) ও তার ছেলে সুজন শেখ (৩০) পলাতক রয়েছেন। গত ৩০ মার্চ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ডহরনগর গ্রামে।

এ ঘটনায় তপন গুহ ও আকরাম শেখ রবিবার (৫ এপ্রিল) ফরিদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এদিকে সব হারিয়ে হতাশায় ভুগছেন পানচাষী তপন গুহ ও আকরাম শেখ। তারা বলেন, “মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ডহরনগর গ্রামের তপন গুহ ও আকরাম শেখ। তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লিজ নেওয়া জমিতে পান চাষ করে আসছিলাম। কিন্তু একই এলাকার আতু শেখ বারবার জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তারা লিজ বাতিল না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে পানের বরজে আগুন দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকার পানের বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাঁশের খুঁটি, শুকিয়ে যাওয়া পানগাছ এবং ছাইয়ের স্তূপ এখন ধ্বংসস্তপে পরিনত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এটি ছিল এলাকার অন্যতম বড় পানের বরজ, যেখানে নিয়মিত ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করতেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ দুপুরের দিকে হঠাৎ আগুন লেগে পুরো পানের বরজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। আগুনের ঘটনায় পুরো বরজ পুড়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকার প্রধান উৎস ধ্বংস হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তপন গুহ বলেন, এই বরজটাই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। এখন পান ভাঙার মৌসুম চলছে। সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। শুধু আমি না, আমার সঙ্গে কাজ করা শ্রমিকরাও এখন বিপদে পড়েছে।

অন্য কৃষক আকরাম শেখ বলেন, আমাদের দুই পরিবারের ১০০ শতাংশ বরজ পুড়ে গেছে। কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো, তা বুঝতে পারছি না। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ শেখসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আগুনের ঘটনার পর বিষয়টি আপস-মীমাংসার আলোচনা চলছিল। তবে এরই মধ্যে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়, ফলে সমাধান হয়নি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, পানের বরজে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা শুধু দুইটি পরিবারের ক্ষতিই নয়, পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত। এ সময় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় তপন গুহ ও আকরাম শেখ রবিবার ফরিদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বোয়ালমারী থানার ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মধুসূদন পান্ডে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উল্টে থাকা ডিমবোঝাই ট্রাকে বাসের ভয়াবহ ধাক্কা, নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উল্টে থাকা ডিমবোঝাই ট্রাকে বাসের ভয়াবহ ধাক্কা, নিহত ৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উল্টে থাকা একটি ডিমবোঝাই ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের সজোরে ধাক্কায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একটি ডিমবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডিম ও মালামাল সরিয়ে নিতে এবং ট্রাকটি উদ্ধারে সহযোগিতা করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছিল।

এমন সময় খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে উল্টে থাকা ট্রাক ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত লোকজনকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “আমাদের হাসপাতালে আনার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।”

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

ফরিদপুরে কমেছে হামের গতি, ২৪ ঘণ্টায় নেই নতুন রোগী

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কমেছে হামের গতি, ২৪ ঘণ্টায় নেই নতুন রোগী

ফরিদপুর জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় (১০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন কোনো সন্দেহভাজন হাম (মিজলস) রোগী শনাক্ত হয়নি। একই সময়ে হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে এটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও শিশুদের টিকাদান ও সতর্কতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুরে মোট ৩ হাজার ৫২৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১০ জনের শরীরে হাম রোগের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

এছাড়া চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯৯৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ৪০৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৭ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৪ জনসহ মোট ৭১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো নতুন রোগী ভর্তি হননি এবং কোনো রোগীকে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসারা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে র‌্যাশ হামের প্রধান উপসর্গ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত না হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক দিক। তবে এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে র‌্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এমপি হেলেন জেরিন খানের

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এমপি হেলেন জেরিন খানের

ফরিদপুরের মধুখালী প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৮টায় মধুখালী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মৃধা (মন্নু)।

সভা সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হোসেন পলাশ এবং সহ-সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান মিয়া।

সভার শুরুতে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হোসেন পলাশ। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রেস ক্লাবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ এবং প্রেস ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান বলেন, “আমি নিজে রাস্তার অবস্থা দেখেছি। রাস্তা নির্মাণে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। পাশাপাশি মধুখালী প্রেস ক্লাবের উন্নয়নেও আমি কাজ করব।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মধুখালী প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ, মো. হায়দার আলী মোল্লা, মো. আব্দুল আলিম মানিক, মো. ইয়াসিন বিশ্বাস, মো. মোক্তার হোসেন, মো. তারিকুল ইসলাম এনামুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রাকিবুল ইসলাম রিপনসহ প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।