খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২৪ চৈত্র, ১৪৩২

সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা না হওয়ায় সরকারি সংবাদ বর্জনের ঘোষণা

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
সদরপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা না হওয়ায় সরকারি সংবাদ বর্জনের ঘোষণা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন দিন পার হলেও মামলা দায়ের না হওয়ায় সব ধরনের সরকারি সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা সাংবাদিক মহল আয়োজিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, গত শনিবার (০৪ এপ্রিল) এক ডিলারের তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করায় থানা চত্বরে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস,এম আলমগীর হোসেন ও তোফাজ্জেল হোসেন টিটু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো পর্যন্ত মামলা রুজু করেনি সদরপুর থানা পুলিশ। ফলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাংবাদিকদের মধ্যে।

উপজেলার সাংবাদিক নেতারা জানান, একটি গুরুতর ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা গ্রহণ না করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এতে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তারা আরও বলেন, অবিলম্বে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতিবাদ হিসেবে উপজেলার সাংবাদিকরা সরকারি সব ধরনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সদরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সদরপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিমুল তালুকদার, দৈনিক মানবজমিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাব্বির হাসান, দৈনিক সমকাল,​ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবুল বাসার মিয়া, দৈনিক ভোরের ডাক, সোবাহান সৈকত, দৈনিক আমার দেশ, মোঃ নূরুল ইসলাম, দৈনিক জনকন্ঠ, সাঈদুর রহমান লাবলু, দৈনিক দিনকাল, প্রভাত কুমার সাহা, দৈনিক আমাদের সময়, মোঃ কবির হোসাইন, দৈনিক ইনকিলাব প্রমুখ।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হবে আর প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে—তা মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনের গড়িমসির প্রতিবাদে আমরা আজ থেকে উপজেলা প্রশাসন, এসিল্যান্ড ও থানা কর্তৃপক্ষের কোনো সংবাদ প্রচার করব না।

​যতদিন না পর্যন্ত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে, ততদিন এই বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সুধী সমাজের মাঝেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জাটকা নিধন বন্ধে কঠোর বার্তা, চরভদ্রাসনে তিনদিনের কর্মসূচি শুরু

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
জাটকা নিধন বন্ধে কঠোর বার্তা, চরভদ্রাসনে তিনদিনের কর্মসূচি শুরু

“জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বেলুন উড়িয়ে তিনদিনব্যাপী (৭-৯ এপ্রিল) এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল।

উদ্বোধনের পর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. যায়েদ হোসাইন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, একসময় দেশের নদী-নালা, খাল-বিল ছিল মাছের অফুরন্ত ভাণ্ডার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জলধারা কমে যাওয়া, অবৈধ দখল ও পরিবেশগত নানা কারণে মাছের অভয়ারণ্য বিলুপ্তির পথে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার খাল-বিল খননসহ বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, জাটকা সংরক্ষণ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই জাটকা নিধন বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। জাটকা সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ জোরদার করা জরুরি।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালনের মাধ্যমে মার্চ-এপ্রিল সময়ে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ছোট ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকতে জেলেদের উৎসাহিত করা হয়। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চরভদ্রাসনে সচেতনতামূলক র‌্যালি, লিফলেট বিতরণ এবং মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ফরিদপুর মেডিকেলে ডিবির হানা: দালাল চক্রের ১৫ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেলে ডিবির হানা: দালাল চক্রের ১৫ সদস্য গ্রেপ্তার

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে সমন্বিত অভিযানে হাসপাতাল দু’টি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তারা চিকিৎসা সেবা সহজ করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভুয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নির্দিষ্ট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে কমিশন নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। বিশেষ করে দরিদ্র ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরাই তাদের প্রধান টার্গেট ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— মনি (৩১), রেহানা (৩২), রুমা (৫০), হেলেনা (৪২), মামুন (৩৮), রাকিব (২৫), ইব্রাহিম (৩৮), লিটন শেখ (২৯), রিপন শেখ (৪০), খোদেজা (৫৫), রাশেদা (৪৮), সৈয়দ ফেরদৌস আহমেদ রনি (৩৭), মিন্টু (৩০), মাসুদ হাসান (২৯) ও কাউসার হোসেন (২৬)। তাদের অধিকাংশই ফরিদপুরের কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা, তবে কয়েকজন পাশ্ববর্তী জেলা থেকেও এসেছে বলে জানা গেছে।

ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আলমগীর হোসেন জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি হাসপাতাল এলাকায় একটি সক্রিয় দালাল চক্র রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এরপরই অভিযান চালিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১২ জন এবং জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের দালাল চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতাল এলাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য ছিল। অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, দালালরা তাদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে এবং চিকিৎসা ব্যয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়। ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল।

এ অভিযানের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা আশা করছেন, নিয়মিত তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে।

পুলিশ বলছে, হাসপাতাল এলাকায় দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বাড়ছে গরম, সাবধানতা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
বাড়ছে গরম, সাবধানতা জরুরি

দেশজুড়ে বাড়ছে গরম, অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ঝরে যাওয়ার ফলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্দ্রতা ও পরিবেশগত নানা কারণে শরীরে দেখা দেয় নানা রকম সমস্যা।

বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
গরমে সাধারণত ঘামাচি, সামার বয়েল, পানিশূন্যতা, ত্বকের নানা সমস্যাসহ লিভারের ইনফেকশন, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসের মতো পানিবাহিত রোগ বেড়ে যায়।

অপরিষ্কার পানি ও রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার এসব রোগের অন্যতম কারণ। তাই তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে দিনে কয়েকবার গোসল, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং প্রচুর পানি পান করা জরুরি।

ডাবের পানি, ফলের রস, ওরস্যালাইন ও লবণ-চিনি মেশানো পানি পান করলে শরীর আর্দ্র থাকে ও পানিশূন্যতা এড়ানো যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্যাকেটজাত জুসের পরিবর্তে তাজা ফলের রস খেতে হবে।
রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার, সানস্ক্রিন মাখা এবং হালকা রঙের ঢিলে কাপড় পরুন। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক হতে পারে। এর লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে ছায়ায় নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মোছাতে হবে। তবে মুখে কিছু খাওয়ানো যাবে না।

শিশুদের জন্য গরমকাল আরও বিপজ্জনক। তাদের অতিরিক্ত ঘাম, পাতলা পায়খানা, প্রস্রাব কম হওয়া বা চোখ বসে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মায়ের দুধ পানকারী শিশুদের ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানোই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার।

গরমে মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপও বাড়ে। তাই বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ব্যবহার ও মশা প্রতিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।

গরমকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে খাবার ও পানি পানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে ভালো মানের বোতলজাত পানি পান ও বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।