খুঁজুন
, ,

তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদল নেতা অনুকে দেখতে এভার কেয়ারে ডা. বিটু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদল নেতা অনুকে দেখতে এভার কেয়ারে ডা. বিটু

ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে (AMI with Cardiogenic Shock with Acute LVF) আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুকে দেখতে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু)।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনুর বর্তমান শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। বিএনপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশেই তিনি অসুস্থ এই ছাত্রনেতাকে দেখতে হাসপাতালে যান।

চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ তীব্র হার্ট অ্যাটাকের পর কার্ডিওজেনিক শক ও অ্যাকিউট লেফট ভেন্ট্রিকুলার ফেইলিউর (LVF) দেখা দেওয়ায় অনুর অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে প্রথমে ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে একই দিন দুপুর প্রায় ১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (হেলিকপ্টার) যোগে তাকে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে (CCU) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন হলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে গিয়ে ডা. বিটু চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি তিনি রোগীর সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি অনুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদেরকে সান্ত্বনা দেন এবং তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত সুস্থতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে, অনুর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর কাছে অনুর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। স্থানীয় নেতারা জানান, ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে অনু দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার হঠাৎ অসুস্থতা নেতাকর্মীদের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তার শারীরিক অবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের চিকিৎসা প্রতিক্রিয়ার ওপরই তার সুস্থতার অগ্রগতি অনেকটা নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, তরুণ এই ছাত্রনেতার সুস্থতা কামনায় এখন ফরিদপুরসহ সারা দেশের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা প্রার্থনায় রয়েছেন।

মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), ফরিদপুরের সভাপতি শায়লা শারমীন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদ হাসান, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম নিবেদনের মাধ্যমে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানবী (স.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের ওপর আলোচনা করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ মহানবী (স.)-এর আদর্শ ও তাঁর অনুপম চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্বে বক্তারা মহানবী (স.)-এর আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তাঁর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

পরে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক কাজী দেলোয়ার হোসেন।

চরভদ্রাসনে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া: ঘাটের ইজারাদারকে জরিমানা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া: ঘাটের ইজারাদারকে জরিমানা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গোপালপুর-মৈনট নৌপথে স্পিডবোটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে ইজারাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ঘাটে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​আদালত সূত্র জানায়, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বপন ব্যাপারী নামে এক পাটনিকে ৬১ লাখ টাকায় গোপালপুর ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এতে স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ইজারাদার শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৮০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছিলেন। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ইজারাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

​অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে ঘাট মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আলি মৃধা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ১৭৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় খুচরা টাকা না থাকায় ভাংতি দিতে গিয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।’

ফরিদপুরে আকিকার অনুষ্ঠানের মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ ৮ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আকিকার অনুষ্ঠানের মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ ৮ শিশু

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডায় এক স্বজনের বাড়ির আকিকা অনুষ্ঠান থেকে কেনা মিষ্টি খেয়ে আট শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট মিষ্টি দোকানের মালিক।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বাখুন্ডা পূর্বপাড়ায় আকরাম খান ও মাসুদের বাড়িতে মিষ্টি খাওয়ার পরপরই শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসাধীন শিশুরা হলো— তাসফিয়া, তাওহিদ, সুমাইয়া, সামিয়া, সানভীর, শাহাদ, মাহাদি ও সাইম। তাদের সবার বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আকিকার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা স্বজন হারুন সরদার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় খলিল মন্ডলের হাটের ‘মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডার’ থেকে মিষ্টি কেনেন। খাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে শিশুরা একের পর এক বমি করতে শুরু করে। প্রথমে ওরস্যালাইন দিয়ে চেষ্টা করা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সন্ধ্যা সাড় ৭টার দিকে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়।

​দায় অস্বীকার করে মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারের মালিক জিয়ারত মোল্লা বলেন, “আমার দোকান থেকে নিয়মিত বহু মানুষ মিষ্টি নিচ্ছেন, কেউ অসুস্থ হয়নি। আপনারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। মিষ্টি কেনার পর অন্য কোনো কারণে বা ভেজালের কারণে এমনটা হতে পারে।”

​হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শিশু দুটিকে জরুরি সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

​ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই দোকানের মিষ্টি খেয়েই শিশুরা অসুস্থ হয়েছে। বাজার কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।