খুঁজুন
, ,

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন স্কুল শিক্ষার্থী ফারজানা

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন স্কুল শিক্ষার্থী ফারজানা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত স্কুল শিক্ষার্থী ফারজানা (১১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ দিন পর ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ফারজানা।

নিহত স্কুলছাত্রী ফারজানা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গার পাড় গ্রামের ফিরোজ শেখের মেয়ে ও ভাঙ্গা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বছর লটারিতে বিজয়ী হয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ পায়।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা পৌর এলাকার কৈডুবী রেলক্রসিংয়ে একটি বাস ও ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জন নিহত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ইজিবাইকে থাকা স্কুলছাত্রী ফারজানা ও তার মা শান্তা খন্দকার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ ১৭ দিন চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরেও ফারজানাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘারুয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হায়দার হোসেন জানান, ওইদিনের দুর্ঘটনায় ইজিবাইকে থাকা স্কুলছাত্রী ফারজানা ও তার মা শান্তা খন্দকার গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ১৭ দিন চিকিৎসার পর ফারজানা মারা গেছে। সোমবার বাদ জোহর গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, ওইদিনের বাস ও ইজিবাইকের দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

ফরিদপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, থানায় গিয়ে বিচার চাইলেন কলেজছাত্রী

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, থানায় গিয়ে বিচার চাইলেন কলেজছাত্রী

সাংবাদিক পরিচয়ে এক কলেজছাত্রীকে ফোন করে অশ্লীল কথাবার্তা, কুপ্রস্তাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বর্ষা ইসলাম (১৯) নামে ওই কলেজছাত্রী ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে থানায় অভিযোগটি দেন বর্ষা। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।

অভিযোগপত্রে বর্ষা উল্লেখ করেন, তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটি কোচিং সেন্টারে ক্লাস করছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়, গোলাম মোস্তফা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে বর্ষাকে অশ্লীল কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দেন। এতে তিনি আপত্তি জানালে গোলাম মোস্তফা তাকে নিয়ে বিভিন্ন বাজে ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে ফেসবুকে লাইভ করেন। এসব কর্মকাণ্ডে তার সামাজিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বর্ষা।

বর্ষার আরও অভিযোগ, তাকে নিয়ে ফেসবুকে লাইভ ও প্রচার বন্ধের বিনিময়ে টাকা দাবি করেন গোলাম মোস্তফা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরও লাইভ করে তার বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বর্ষা ইসলাম বলেন, “আমি একজন ছাত্রী। আমাকে ফোন করে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় টাকা দাবি ও আরও ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চাই।”

এদিকে গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে পাওয়া গেছে। এছাড়া ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের নাম ভাঙানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ নামে এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও সম্মানহানির অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে গোলাম মোস্তফাসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, ওই কলেজছাত্রীর অভিযোগে নাম আসা গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, নারীদের হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংবাদিকতার পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করেছেন। এমনকি কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে বিষয়টি দলীয় নেতাদের কাছে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অভিযোগকারীকেই হয়রানির মুখে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরকান্দার এক প্রবাসী অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে গোলাম মোস্তফা বিভিন্নভাবে আমার ও স্ত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছেন। পরে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কোথাও লিখিত অভিযোগ করার সাহস পাইনি। এতে আমি আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। এখন আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়েছি। আল্লাহ যেন তার বিচার করে।”

নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ বলেন, “গোলাম মোস্তফা নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সদস্য নন। তার ব্যক্তিগত কোনো অপকর্মের দায় প্রেসক্লাব নেবে না। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল বলেন, “অনেকেই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্মে জড়াচ্ছেন। এদের সঙ্গে মূলধারার সাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

দলীয় পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে দেখব। কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায় দল বহন করবে না। আমি ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আমাদের অভিভাবক মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকেও বিষয়টি জানাব।”

অভিযোগের বিষয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তিনি কোনো কলেজছাত্রীকে কুপ্রস্তাব, ব্ল্যাকমেইল বা টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে হয়রানি করতে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “বর্ষা ইসলাম নামে একজন কলেজছাত্রী সাংবাদিক পরিচয়ে হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও হুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আধুনিক পৌরসভা হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
আধুনিক পৌরসভা হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিকল্পিত পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিষয়টি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে নিশ্চিত করেছেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও ‘মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি গত ২১ জুলাই জারি করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদীয় আসন-২১২, ফরিদপুর-২-এর সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর নির্বাচনী এলাকার নগরকান্দা পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে বিনির্মাণে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, নগরকান্দা পৌরসভাকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পৌরসভার উন্নয়নে যেসব অবকাঠামোগত ও নাগরিকসেবা-সংক্রান্ত প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী বিবেচনায় নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, নগরকান্দা পৌরসভাকে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হলে সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, নাগরিক সেবা ও অন্যান্য পৌর অবকাঠামোর উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পৌর এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও জনসেবার মানও বাড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে ডিও (আধা-সরকারি) পত্র অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠির অনুলিপি শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরও সুখী হতে চাইলে আজ থেকেই গড়ে তুলুন এই ৮ অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
আরও সুখী হতে চাইলে আজ থেকেই গড়ে তুলুন এই ৮ অভ্যাস

আমরা অনেকেই জীবনকে আরও সুন্দর ও গোছানো করতে বড় বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করি। যেমন: এক মাসের মধ্যে ডায়েট পরিবর্তন করে ফেলা কিংবা প্রতি সপ্তাহে একটি করে বই শেষ করা। কিন্তু দেখা যায়, কয়েকদিন পরই সেই অনুপ্রেরণা হারিয়ে যায় এবং আমরা আগের অভ্যাসে ফিরে যাই। মার্কিন থেরাপিস্ট ইসরা নাসির এই বিষয়ে বলেন, মানুষ প্রায়ই অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলে যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাথে খাপ খায় না, ফলে তারা ব্যর্থ হয়। এই সমস্যার সমাধান হতে পারে ‘মাইক্রো-হ্যাবিট’ বা ক্ষুদ্র অভ্যাস।

বিখ্যাত গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো আমাদের মস্তিষ্ককে বড় ধরনের ধকল ছাড়াই ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

মাইক্রো-হ্যাবিট হলো এমন ছোট কাজ যা করতে খুব সামান্য পরিশ্রম লাগে কিন্তু নিয়মিত করলে এর প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী। এই অভ্যাসগুলো মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন’ নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা আমাদের ভালো লাগার অনুভূতি দেয় এবং অভ্যাসটি ধরে রাখতে সাহায্য করে। আপনার জীবনকে আরও আনন্দময় ও স্বাস্থ্যকর করতে হাফিংটন পোস্টের পরামর্শ অনুযায়ী এই ৮টি ক্ষুদ্র অভ্যাসের চর্চা শুরু করতে পারেন:

১. প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে একটি দীর্ঘ শ্বাস নিন: অনেক সময় আমরা রাগের মাথায় বা উত্তেজনার বশে এমন কিছু বলে ফেলি বা সিদ্ধান্ত নেই যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়। বিশেষজ্ঞ জিনা ক্লিও জানান, যেকোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে মাত্র একটি দীর্ঘ গভীর শ্বাস নিলে তা আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে।

২. সকালে উঠেই বিছানা গোছান: সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গোছাতে মাত্র এক থেকে দুই মিনিট সময় লাগে। এটি একটি অতি ক্ষুদ্র কাজ হলেও এটি আপনার দিনটি একটি শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে শুরু করতে সাহায্য করে। থেরাপিস্ট এমা মাহোনি মনে করেন, এটি দিনটি সফলভাবে শুরু করার একটি চমৎকার সংকেত।

৩. প্রতিদিন একটি কৃতজ্ঞতার কথা লিখুন: সারাদিনের শত ব্যস্ততা বা সমস্যার মাঝেও অন্তত একটি ভালো জিনিসের কথা চিন্তা করুন যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। প্রতিদিন সকালে বা রাতে ঘুমানোর আগে একটি ডায়েরিতে সেই বিষয়টি লিখে রাখুন। এটি আপনার মস্তিষ্ককে ইতিবাচক বিষয়ে ফোকাস করতে প্রশিক্ষণ দেয় এবং শরীরে ‘সেরোটোনিন’ নিঃসরণ করে তৃপ্তির অনুভূতি জাগায়।

৪. প্রতি ঘণ্টায় শরীর একটু স্ট্রেচ করুন: একটানা ডেস্কে বসে কাজ করলে শরীরে স্থবিরতা চলে আসে। প্রতি এক ঘণ্টায় মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য হাত-পা ছড়িয়ে একটু স্ট্রেচ করুন বা পায়ের আঙুল স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।

৫. সকালে কিছুটা সময় মুক্ত বাতাস নিন: দিনের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত কিছুক্ষণ বাইরের প্রাকৃতিক বাতাস গায়ে লাগানোর চেষ্টা করুন। এটি হতে পারে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অথবা জানালা খুলে দিয়ে। এটি আপনার দিনটি সতেজভাবে শুরু করতে সাহায্য করে এবং প্রকৃতির সাথে সংযোগ স্থাপন করে।

৬. স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার সময় নির্ধারণ করুন: সারাক্ষণ ফোনের নোটিফিকেশনে ডুবে না থেকে দিনের কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকুন। বিশেষ করে খাবার সময় বা পরিবারের সাথে গল্প করার সময় ফোনটি অন্য ঘরে রেখে দিন। এটি আপনার মানসিক উপস্থিতিকে প্রখর করে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

৭. পর্যাপ্ত জল পান করুন: সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত জল পানের বিকল্প নেই। কিন্তু একবারে অনেক জল পানের লক্ষ্য না নিয়ে প্রতিটি খাবারের সাথে অন্তত এক গ্লাস জল খাওয়ার অভ্যাস করুন। যদি গতকাল আপনি মোটেও জল না খেয়ে থাকেন, তবে আজ অন্তত এক গ্লাস বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৮. ঘুমানোর আগে অন্তত এক পৃষ্ঠা বই পড়ুন: অনেকে মনে করেন বই পড়তে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু হাফপোস্টের পরামর্শ হলো, রাতে ঘুমানোর আগে ফোনের স্ক্রল না করে যেকোনো বই বা ম্যাগাজিনের মাত্র একটি পৃষ্ঠা পড়ুন। এটি মস্তিষ্ককে শান্ত করে এবং ফোনের নীল আলোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

মনে রাখবেন

যেকোনো বড় অভ্যাস তৈরি করতে হলে তাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১০০টি ভাগে ভাগ করে নিন। নিজের প্রতি দয়ালু হোন এবং একবারে খুব বেশি পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না। আপনি আজ ঠিক যতটুকু করতে সক্ষম, ততটুকু দিয়েই শুরু করুন। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই একদিন আপনার জীবনকে আরও পরিপূর্ণ ও সুখী করে তুলবে।

তথ্যসূত্রহাফিংটন পোস্ট