খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কুষ্টিয়ায় ‘দরবারে’ হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় ‘দরবারে’ হামলা চালিয়ে কথিত পীরকে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে?

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে একটি দরবার বা আস্তানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ওই দরবারের কথিত প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এ এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে।

হামলায় আরো দুইজন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

তার দাবি, তিন বছর আগের একটি ভিডিও’র সূত্র ধরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে দুপুরের দিকে স্থানীয় একদল লোক একত্রিত হয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পরে আহত অবস্থায় তিনজনকে দৌলতপুরের থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে নেওয়া হয়।

সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছে, আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মি. শামীম।

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার কিছু ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এতে দেখা যায়, হাতে লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকশ লোক প্রথমে হামলা ও ভাঙচুর চালায় ওই দরবারে। পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ রাজু। ঘটনাস্থল থেকে তিনি জানান, হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

দুপুর থেকে চলা এই হামলা ও ভাংচুরের পর বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে পুলিশ জানায়।

নিহত শামীম ২০২১ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তিন মাস কারাগারে ছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

এই ঘটনা নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক, পুলিশ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেছে সাংবাদিকরা।

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরিফ’। ওই এলাকার সামসুল ইসলাম মাষ্টারের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নিজেকে ওই দরগার পীর দাবি করেন বলে জানান দৌলতপুরের গণমাধ্যমকর্মী আহমেদ রাজু।

শামীমের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয় বলেও জানান মি. রাজু।

“শামীমের ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায়। পরে শনিবার দুপুর একটার দিকে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ফিলিপনগরে অবস্থিত শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করেন,” বলছিলেন মি. রাজু।

এদিকে, পুলিশের দাবি, যেই ভিডিওটি ঘিরে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে সেই ভিডিওটি এখন থেকে অন্তত তিন বছর আগের, ২০২৩ সালের।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “২০২৩ সালের তার একটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে আগেও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তারপর ওনার এরকম কার্যক্রম চোখে পড়েনি। আজকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়”।

“সেই আগের ভিডিও দেখে স্থানীয়রা উত্তেজিত অবস্থায় আসে। যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা সবাই স্থানীয়,” বলছিলেন মি. উদ্দিন।

পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা

ওই হামলার ঘটনার বেশ কয়েকটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, হাতে লাঠিসোটা নিয়ে শত শত মানুষ ফিলিপনগরের ওই দরবারটিতে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে।

হামলায় স্থানীয় তরুণ, শিশু ও কিশোরদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। হামলার এক পর্যায়ে তাদের সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দিতেও দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক আহমেদ রাজু বলেন, “প্রথমে স্থানীয়রা ওই দরবার শরিফ ঘেরাও করে। সে সময় দরবার শরিফের ভেতরেই ছিলেন মি. শামীম ও তার দুইজন অনুসারী”।

তিনি জানান, হামলাকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে শামীমসহ তিনজনকে আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশের পাশাপাশি সেখানে আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

পুলিশ সুপার জানান, দুপুর একটা থেকে প্রায় পৌনে তিনটা পর্যন্ত সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, “পুলিশ ঘটনার সাথে সাথে গিয়েছিল। তারা ঠেকানোরও চেষ্টা করেছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালেও নিয়ে গেছে পুলিশ”।

পুলিশের দাবি, তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা ছিল কথিত পীর শামীমের। তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল।

আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে যখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তখন বিকেল তিনটা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “কথিত পীর শামীমকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখনও তিনি জীবিত ছিলেন। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতালে মারা যায়”।

ওই চিকিৎসক জানান, নিহত শামীমের শরীরে জখমের চিহ্ন ছিল।

মি. তুহিন বলেন, “আমাদের ধারণা তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বাকি যে দুইজন আহত অবস্থায় ভর্তি রয়েছে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত”।

পুলিশ ও পরিবার যা বলছে

বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ওই দরবার এলাকায় শত শত মানুষ দরবার শরিফ এলাকায় অবস্থান করছিল। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

তখনও সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে দরবারের জিনিসপত্র ভাংচুর চালাতে দেখেছেন স্থানীয় সাংবাদিক আহমেদ রাজু।

তিনি জানান, পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতেও সেখানে দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। আমরা সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি।

এখন আবারো এই ধরনের হামলার ঘটনা কেন পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো না সেই প্রশ্নও করা হয়েছিল পুলিশ সুপারের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, “সেখানে সবাই ছিল স্থানীয়। তারা প্রচণ্ড আক্রশ নিয়ে কাজটি করেছে। কোরআন নিয়ে কথাবার্তা বলেছে সে কারণে হয়তো স্থানীয়রা খুব ক্ষুব্ধ ছিল”।

তবে তিনি জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে নিহত শামীমের পরিবার জানিয়েছে এই ঘটনায় তারা মামলা করতে চাচ্ছে না।

নিহতের বড় ভাই গোলাম রহমান বলেন, “আমরা বুঝতে পারতেছি না আসলে কী করবো। আমার ভাই মারা গেছে। আপাতত এতটুকুই। আমরা খুব নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ। কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না বলে মামলাও করতে চাই না”।

তবে ঠিক কী কারণে মামলায় আগ্রহী নন সেটি তিনি বলতে চাননি।

শামীমের বিরুদ্ধে ২০২১ সালেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছিল এবং বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল বলে জানান দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মোর্তুজা। তিনি বলেন, “ওই সময় আমি এই থানায় ছিলাম না। তবে আমরা শুনেছি সে তিন মাস জেল খেটেছিল তখন”।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লোকসংগীত শিল্পী লাইলী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবহার অনুপযোগী বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম। 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের বাংলোবাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইলী আক্তারের হাতে আর্থিক সহায়তার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “লাইলী আক্তার আমাদের জেলার গর্ব। তার কণ্ঠে গ্রামীণ সংস্কৃতির যে আবেগ ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে, তা ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। একজন শিল্পীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, লাইলী আক্তারের বসতবাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাড়ি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এসময় জেলা প্রশাসক জানান, লাইলীর বিষয়টি সরকারের সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দুষ্টিগোচর হয়েছে। ঈদের পরে যে কোন সময়ে তার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লাইলী আক্তার জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি আমার গান এত মানুষের ভালোবাসা পাবে। জেলা প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ানোয় আমি অনেক খুশি।”

এদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে একটি তাবুর নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে গাছচাপায় জিয়াউর রহমান বাঘা (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মহিষা গ্রামের আমির হোসেন বাঘার ছেলে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাইশরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউর রহমান বাঘা জাকের পার্টির সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের সঙ্গে থাকা হাজী মো. মনির হোসেন জানান, সকালে তারা দুজন একসঙ্গে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী তাবুর নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে প্রবল বাতাসে পাশের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে তাবুর ওপর পড়ে। এতে জিয়াউর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় দ্রুত তাকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

সারা দেশে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০ গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ধারাবাহিকতায় জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমরা, রাখালতলি, গঙ্গানন্দপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামের কিছু মানুষ চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও এসব এলাকায় ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে ঈদ উদযাপন করছেন।

সহস্রাইল দায়রা শরীফে নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন মসজিদ কমিটি। সেখানে জামায়াতে ইমামতি করেন ধলেরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাঁটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, “চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফ ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এবারও চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।”

তিনি আরো বলেন, বোয়ালমারীর পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের কিছু মানুষও এ জামায়াতে অংশ নেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কার জানান, আগে ধলেরচর মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠে আলাদা জামায়াত হতো। কিন্তু ইমাম অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর সেখানে আর জামায়াত হচ্ছে না। এখন ধলেরচরের কয়েকজন মুসল্লি সহস্রাইল দায়রা শরীফে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা বহু বছরের পুরোনো। সংখ্যায় কম হলেও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করেই তারা প্রতি বছর আলাদা দিনে ঈদ পালন করে থাকেন।