খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

দারিদ্র্য থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায়: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্থানের গল্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
দারিদ্র্য থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায়: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্থানের গল্প

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের একটি ধর্মীয় পরিবারে ১৯৩৯ সালের ১৯শে এপ্রিল জন্ম হয়েছিল আলী খামেনির। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত একজন শিয়া পণ্ডিত। মা খাদিজে মির্দামাদীও একজন ধার্মিক নারী ছিলেন।

শৈশবে মায়ের কাছেই কোরআন শিক্ষাসহ ইসলাম ধর্মের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রাথমিক জানাশোনা হয় আলী খামেনির।

মি. খামেনির বিভিন্ন স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, তার মা খাদিজে মির্দামাদী কোরআন তেলাওয়াতের কণ্ঠ ‘খুব ভালো’ ছিল। তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে, শৈশবে তার চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা ছিল ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

আলী খামেনির বয়স যখন চার বছর, তখন বড় ভাই মোহাম্মদের সঙ্গে তিনি স্থানীয় একটি মক্তবে যাওয়া শুরু করেন। নিজের স্মৃতিকথায় মি. খামেনি বলেছেন যে, তিনি মক্তবের শিক্ষককে ভয় পেতেন।

কারণ ওই শিক্ষক প্রতি শনিবার শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পেটাতেন।

আলী খামেনির শৈশব কেটেছে অভাবের সংসারে। দারিদ্র্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলায় তাকে ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝে মধ্যেই ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হতো।

এছাড়া মলিন ও পুরোনো পোশাকের জন্য শৈশবে মি. খামেনিকে তার মাদ্রাসার সহপাঠীরা প্রায়ই কটাক্ষ করতো। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদও লেগে যেতো।

স্মৃতিকথায় মি. খামেনি উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলায় তার একজোড়া ‘ফিতাওয়ালা জুতা’র খুব শখ ছিল।

মক্তবের পর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন আলী খামেনি। যদিও তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি পাশ্চাত্যের শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করতেন।

ছোট থেকেই আলী খামেনি চোখে কম দেখতেন। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে তিনি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড ও শিক্ষকদের ঠিকমত দেখতে পেতেন না।

কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিষয়টি কেউ ধরতে পারেনি। ফলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া পর্যন্ত তাকে ‘ভীষণ বোকা ও অলস ছাত্র’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো।

দুর্বল দৃষ্টিশক্তির বিষয়টি ধরা পড়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, মি. খামেনি চশমা ব্যবহার শুরু করেন।

এরপর তিনি লেখাপড়ায় নিজের উজ্জ্বল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের শীর্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীদের একজন হয়ে ওঠেন।

তবে বাবার বিরোধিতার মুখে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি আলী খামেনি। তখন ধর্মীয় শিক্ষার জন্য তাকে শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে পাঠানো হয়।

স্মৃতিকথায় আলী খামেনি বলেছেন যে, কৈশোরে সাহিত্যের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ জন্মেছিল, বিশেষত উপন্যাস ও কবিতার প্রতি।

পরবর্তীতে তিনি কবিদের বিভিন্ন সভা ও কবিতার আসরে যোগ দিতে শুরু করেন।

সাহিত্যের প্রতি অনুরোগ এতটাই বেশি ছিল যে, কোমে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগেই তিনি এক হাজারেরও বেশি উপন্যাস পড়ে ফেলেছিলেন বলে স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন মি. খামেনি।

সেসব উপন্যাসের মধ্যে লিও টলস্টয়, ভিক্টর হুগো এবং রোমা রোলার মতো বিখ্যাত লেখকদের বইও ছিল।

যৌবনে আলী খামেনি ‘আমিন’ ছদ্মনামে কবিতাও লেখা শুরু করেন।

ছাত্র থাকাকালে মি. খামেনি ১৯৫৫ সালে কোমে একটি সভায় যোগ দেন। সেখানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সঙ্গে তার দেখা হয়, যার নেতৃত্বে পরে ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।

কোমে পড়াশোনা করার সময় আলী খামেনি ইরানের তৎকালীন শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেন।

১৯৬২ সালে তিনি আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন।

এরপর তরুণ আলী খামেনি ধীরে ধীরে মি. খোমেনির একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। মৃত্যুর আগে বিভিন্ন স্মৃতিকথায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জীবনে যা কিছু শিখেছেন এবং যা বিশ্বাস করেন, সবই খোমেনির ইসলামী ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত।

শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন।

বিপ্লবের আগ পর্যন্ত আলী খামেনির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত মাশহাদ শহরকেন্দ্রিক ছিল।এরপর ১৯৭৭ সালে তিনি সপরিবারে তেহরানে চলে যান।

একই বছরের ডিসেম্বরে গ্রেফতার এড়াতে আলী খামেনি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বৃহত্তম প্রদেশ সিস্তান ও বেলচিস্তানে চলে যান।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি পুনরায় তেহরানে ফিরে আসেন। সেসময় বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পান আলী খামেনি।

পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন।

এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

১৯৮১ সালের জুন মাসে, তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল দেশটির বামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর। এই ঘটনায় তার ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

দুই মাস পর, একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে।

রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি।

ওই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন।

১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে।

যদিও তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মগুরুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ উপাধি অর্জন করতে পারেননি।

পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনীনে বলা হয়েছিল যে, সর্বোচ্চ নেতাকে “ইসলামী পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলী খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল।

ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের হাতে অধিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।

নিজের শাসনামলে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন। যাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত শনিবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সালথায় হামলার অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন: ‘মিথ্যা অপপ্রচার’ দাবি বিএনপি নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
সালথায় হামলার অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন: ‘মিথ্যা অপপ্রচার’ দাবি বিএনপি নেতার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একদিকে ভুক্তভোগীরা হামলার বিচার দাবি করেছেন, অন্যদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড়গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মুরাদুর রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, “আমি ও আমার সহকর্মীরা কোনো ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত নই। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।”

এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে গোয়ালপাড়া গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত তাদের গ্রামে হামলা চালায়। তারা বিএনপি নেতা মুরাদ মাতুব্বর ও যুবদল নেতা শাফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। হামলায় একাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং কয়েকটি পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মুরাদুর রহমান বলেন, আটঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল খান, আওয়ামী লীগ নেতা কাওছার মাতুব্বর, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রব্বান মাতুব্বরসহ একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক ইউপি সদস্য হাসান আশরাফের মদদে এসব ঘটনা সাজানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “আমরা ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের নেতৃত্বে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে চলছি। কিন্তু একটি চক্র এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আটঘর ইউনিয়নে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

‘পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে’, মেয়েদের কাছে পেয়ে সালমা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
‘পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে’, মেয়েদের কাছে পেয়ে সালমা

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। গানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন নিজের মত করেই আছেন তিনি।

সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুই মেয়ের সঙ্গে নিজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে হৃদয়ের কথা শেয়ার করেছেন এই সংগীতশিল্পী। জানিয়েছেন, ব্যক্তি জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দুই সন্তান নিয়ে অনেক ভালো আছেন তিনি।

দুই মেয়ের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে সালমা লেখেন, ‘আমার দুনিয়াতে আমার সন্তানদের নিয়ে ভালো আছি। আমি মা- এটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তার বড় মেয়ে স্নেহার কথা, যাকে তিনি নিজের কাছে ফিরে পাওয়াকে জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

তিনি লেখেন, ‘আল্লাহ পাক তার বান্দাকে বেশি দিন কষ্টে রাখেন না।

আমার পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে হৃদয় থেকে। আমার স্নেহা আমার কাছে চলে এসেছে।’
বাকি জীবন দুই মেয়ের সঙ্গে কাটিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শেষে সালমা লেখেন, ‘কাজে মনোযোগ নেই। আমি সন্তানকে পেয়ে সব ভুলে গেছি। বাকি জীবনটা তোদের জন্য উৎসর্গ করলাম। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সালমার। তাদের সংসারে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান স্নেহা। তবে ২০১৬ সালে দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন এই দম্পতি।

প্রথম সংসারের বিচ্ছেদের সাড়ে তিন বছর পর ২০১৮ সালের শেষ দিনে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরেকে বিয়ে করেন সালমা। কিন্তু সাত বছরের মাথায় এই সংসারও ভেঙে যায়। সালমা-সানাউল্লাহ দম্পতির সাইফা নামে এক মেয়ে রয়েছে।

বিশ্রামে মোস্তাফিজ-তাসকিন-নাহিদ, নতুন মুখ সাকলাইন-রিপন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্রামে মোস্তাফিজ-তাসকিন-নাহিদ, নতুন মুখ সাকলাইন-রিপন

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে নতুন এক কৌশল গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

অভিজ্ঞ পেসারদের বিশ্রাম দিয়ে তরুণদের পরখ করে দেখার লক্ষ্যে প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে আনা হয়েছে বড় চমক।

এই সিরিজে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন সাকলাইন।

তার বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে কার্যকর ব্যাটিং করার সক্ষমতা নির্বাচকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ পেস আক্রমণের তিন স্তম্ভ মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে এই সিরিজে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
পেস ইউনিটে সাকলাইনের সঙ্গী হিসেবে দলে ফিরেছেন তরুণ পেসার রিপন মণ্ডল। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে দেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও মূল জাতীয় দলে নিজেকে থিতু করার জন্য এই সিরিজটি রিপনের সামনে বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির এই স্কোয়াডে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন লিটন কুমার দাস, আর তার ডেপুটি হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সাইফ হাসান।

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াড:

লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), মোহাম্মদ পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, মোহাম্মদ সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, কাজী নুরুল হাসান সোহান, শেখ মাহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মণ্ডল, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন।